Category: আন্তর্জাতিক

  • খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানে কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

    ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এ সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কয়েক দশকের বৈরী দুই দেশ পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে ইরান দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই খামেনি তার পরিবারের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যসহ নিহত হন।

    ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ও তার জন্মস্থান মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জনসমক্ষে এখনো না আসা তার ছেলে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি থাকে কি না, সেদিকে সবার নজর থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ‘অমানবিক’ ও ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: ইরান

    মাশহাদ থেকে এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় রেলসেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলাকে তারা ‘জঘন্য যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে ‘অমানবিক ও মানসিক বিকারগ্রস্ত’ উল্লেখ করে ‘অশালীনতা, মিথ্যাচার ও সামরিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ আনা হয়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে তিনজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার।

    অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাহরাইনের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ বলে তারা জানিয়েছে।

    এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে।

    এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বৃহস্পতিবার সকালে তৃতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানোর সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাতের বেলায় ইরান হামলা চালিয়েছিল।

    যুদ্ধবিমান পাহারায় মাশহাদে খামেনির কফিন

    আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র রেলসেতুতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    তেহরান, কুম এবং ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় পাঁচ দিনের শেষকৃত্য শেষে খামেনির কফিনবাহী বিমান বৃহস্পতিবার সকালে মাশহাদে পৌঁছায়।

    সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ইরান শাসনকারী খামেনির শেষকৃত্য নতুন নেতৃত্বের ঐক্য প্রদর্শনের সুযোগ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একসঙ্গে থাকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় তিনিও আহত হন।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে খামেনির কফিনবাহী বিমানকে অন্তত একটি যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে মাশহাদে নিয়ে যায় বলে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে।

    যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’

    বুধবার হামলা-পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে তিনি আলোচনার পথও খোলা রাখেন এবং বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হবে।

    বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি এখনো বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন ইরান এ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।

    বুধবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান কিছুক্ষণ আগে যোগাযোগ করেছে এবং তারা ‘খুবই আগ্রহের সঙ্গে একটি সমঝোতা করতে চায়’। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের ‘কিছুটা উন্মাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।

    ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘হরমুজ প্রণালূ কেবল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার অধীনেই খুলে দেওয়া হবে।’

    তিনি এক্সে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো শেখেনি যে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি আছে। স্পষ্ট করে বলছি—আপনারা হামলা করলে, পাল্টা হামলার মুখে পড়বেন।’

    গত কয়েক দিনে ইরান অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক আকারে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।

    তবে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)-এর বিশ্লেষক এলি জেরানমায়ে বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে’, কারণ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।

    তার মতে, ‘তবু তেহরান ও ওয়াশিংটনের সামনে কূটনৈতিক পথ ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই, আর সেই পথই এমওইউয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।’

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    রাতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে।

    ন্যাটো সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বুধবার আঙ্কারায় মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সমর্থন না দেওয়া ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে তার যুদ্ধের প্রভাব এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনকে ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আঙ্কারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, তিনি এখনও গ্রিনল্যান্ড চান।

    এ বিষয়ে ইউরোপের বিরোধিতাকে তিনি ‘বড় সমস্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো যা করেছে, তাতে আমি খুবই অসন্তুষ্ট আর সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক ইরানের বিরুদ্ধে তারা আমাদের সাহায্য করতে চায়নি।’

    স্পেনকে বিশেষভাবে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘ন্যাটোর জন্য ভয়াবহ অংশীদার।’

    এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘স্পেন ব্যর্থ, কারণ আমরা আর স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না।’
    প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে চলমান বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে ‘সব বন্ধ করে দিতে’ বলেন।
    ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি নিজের আগ্রহ আবারও প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
    তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সুরক্ষার জন্য আমাদের এটি দরকার। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়। এটি ডেনমার্ককে সাহায্য করে না, কিন্তু আমাদের করে।’

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের আগের দিনের মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয়।’

    মার্কিন নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগে মিত্র দেশগুলো উদ্বেগে ছিল। তবে এর আগে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জোটের প্রতি ওয়াশিংটনের ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

    মঙ্গলবার তুরস্কে পৌঁছে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
    ৭৭ বছরের এই ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সম্মেলনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    ট্রাম্প সদস্য দেশগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইউরোপ থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের পর জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে রাজধানী হারারের কিছু এলাকায় এখনও সংযোগ পুনরায় চালুর কাজ চলছে।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংস্থা এ তথ্য জানায়।

    জিম্বাবুয়ে ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অথরিটি (জেসা) জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    বুলাওয়েও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জেসা জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার এসকমসহ চারটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রাত ১০টার মধ্যে দেশের অধিকাংশ প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে সফলভাবে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।’

    কম বৃষ্টিপাত এবং খরার কারণে জলাধারে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

  • চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে মঙ্গলবার ভূমিধসে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনও নিখোঁজ থাকা ১২ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গানসু প্রদেশের লংনান শহরের কাছে একটি গ্রামের এ ভূমিধসের ঘটনায় শুরুতে অন্তত ৩৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

    বেইজিং  থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, ‘উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ২১ জনকে খুঁজে বের করেছে। তাদের মধ্যে

    পাঁচজন জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও মারা গেছেন।’

  • ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন সামনে রেখে  রোববার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ বিদায়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় তেহরানে লাখো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

    আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন।
    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম জাফর সোবহানি। ৯৭ বছর বয়সী এই আলেম পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান করেন।
    ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। জানাজার নামাজেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
    তবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অন্য তিন ছেলে মাসুদ, মোস্তফা ও মেইসাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
    রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনের শেষ দিকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স থেকে খামেনির মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।

    এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রোববার সকালে বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স এবং আশপাশের সড়ক শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

    তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যে ইরানের পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে যাওয়া শোকাহত মানুষদের খাবার ও পানীয় দেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার ও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

    ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এবং তার কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনের পাশে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। তাদের মধ্যে তার এক শিশু নাতনিও ছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, তেহরানে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ১ কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে তারা আশা করছেন।

    মিত্রদের উপস্থিতি-
    টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো সময় আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

    জানুয়ারিতে যুদ্ধের আগে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কঠোর দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো মানুষ নিহত হন। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনির শেষকৃত্যকে সরকার কতটা জনসমর্থন পাচ্ছে, তারও একটি পরীক্ষা হিসেবে ইরানের বাইরে দেখা হচ্ছে।

    শনিবার দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আজ বিভিন্ন স্থানে মানুষের আবেগ, অশ্রু এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ইরানি জাতি ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে তার অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।’

    তিনি বিশেষ করে ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ বলে অভিযোগ করেন।
    তিনি আরও বলেন, ‘মুসলমানরা প্রমাণ করেছে, তারা নিপীড়ন ও দাদাগিরির কাছে মাথা নত করবে না।’

    খামেনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের নীতি অনুসরণ করেছেন। তেহরান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহও রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করেছে। শেষকৃত্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং হামাসের মিত্র ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সোমবারের শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার খামেনির কফিন কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

    রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

    আগামী কয়েক দিনে তেহরানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এ কারণে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে আয়োজকরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। শনিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে উপস্থিত জনতার ওপর পানি ছিটিয়ে তাদের শীতল রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

  • কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    শনিবার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ করল যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের মধ্যেই দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি। আর এ উপলক্ষকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেকে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।

    এবারের স্বাধীনতা দিবস এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন ভয়াবহ তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বড় ধরনের বা চরম তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে আয়োজিত প্যারেড, ব্লক পার্টি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান ব্যাহত হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    তবে, প্রচ- গরমও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করবেন।

    এ ছাড়াও, এ উপলক্ষে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকবে সামরিক যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনী এবং ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজন।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তাপমাত্রা প্রায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হবে। তারপরও আমি সেখানে যাব এবং অনেক দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দেবÑশুধু এটা দেখানোর জন্য যে, আমি সবকিছুই করতে পারি।’

    এর আগে শুক্রবার রাতে তিনি সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষণ দেন। সেখানে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী অর্জনের প্রশংসা করেন।

    ‘আমেরিকার পরিচয়ের ওপর নতুন আক্রমণ’

    ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থিদের’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আবারও কমিউনিস্ট হুমকির পুনরুত্থান ঘটছে।’

    সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সরকারবিরোধী অংশের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।

    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বামপন্থীদের উত্থানকে ‘কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি বলে দাবি করেন।

    শুক্রবারের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের ভেতর থেকে আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।’

    যদিও এ ভাষণে অতীতের কিছু বক্তব্যের মতো তীব্র অভিবাসীবিরোধী ভাষা তিনি ব্যবহার করেননি, তবে তার মূল বার্তা ছিল একই।

    তিনি বলেন, ‘আপনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে না-ও হতে পারে, কিন্তু আমরা যা গড়ে তুলেছি, সেটিকে অবশ্যই
    ভালোবাসতে হবে।’