Category: আন্তর্জাতিক

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে নতুন দফার বৈঠকে বসছে ইসরাইল ও লেবানন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বৈরুত এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে।

    বৈঠকের আগে ইসরাইল জানায়, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর দ্বিমত’ নেই। একইসঙ্গে ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘একসঙ্গে কাজ’ করতে লেবাননকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার বাইরে রয়েছে এবং শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশ দুটি গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে প্রথম বৈঠকে বসে। ১৯৯৩ সালের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রথম বৈঠকের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, যার মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হতে যাচ্ছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৪৫৪ জন নিহত এবং ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    পূর্ববর্তী দফার মতো এবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে এএফপি-কে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

    যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও বুধবার লেবাননে ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলার’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের।

    লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানায়, বুধবার ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ পাওয়ার আগেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

    আমাল খলিলের কর্মস্থল লেবানিজ দৈনিক ‘আল-আখবার’ জানিয়েছে, হামলায় তাদের আরেক সাংবাদিক জয়নব ফারাজ আহত হয়েছেন।

    ওয়াশিংটনে লেবাননের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি’কে বলেন, ‘লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এক মাস বাড়ানোসহ ইসরাইলি বোমা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ এবং পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানাবে।’

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যোগাযোগ চলছে।

    প্রথম দফার বৈঠকের পর উভয় দেশ স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছিল। এই আলোচনার জন্য অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারামকে প্রধান করে একটি প্রতিনিধি দল নিয়োগ দিয়েছে বৈরুত। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বুধবার বলেন, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর বিরোধ’ নেই।

    গিডিওন সার বলেন, ‘শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে একমাত্র বাধা হলো হিজবুল্লাহ।’ উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।

    ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন গ্রামে অবস্থান করছে। তারা এই এলাকাটিকে ‘ইয়েলো লাইন’ বা ১০ কিলোমিটার গভীর একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় মঙ্গলবার তারা উত্তর ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর অন্যতম শর্ত হিসেবে তেহরান এই যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দুই দেশের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, যা বলল ইরান

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, যা বলল ইরান

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা ‘অর্থহীন’। পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

    মোহাম্মদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘অবরোধ অব্যাহত রাখা বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয় এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দিতে হবে। তাছাড়া, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিশ্চিতভাবেই একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় কেনার অপকৌশল। ইরানের পক্ষ থেকে পালটা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখন চলে এসেছে।’

    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতারা একটি প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী হামলা করবে না। তবে ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ চলতে থাকবে।

    পাকিস্তানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প জানান। তিনি বলেন, ‘আমি তাই আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে।’

    কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • ড্রোন দিয়ে যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণাই বদলে দিল ইরান

    ড্রোন দিয়ে যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণাই বদলে দিল ইরান

    কয়েক বছর আগে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর তৎপরতা সম্পর্কিত সামরিক প্রতিবেদনে প্রথম ইরানের ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে হুথিদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর উৎস খুজতে গিয়ে তার সাথেও ইরানের সম্পর্ক খুঁজে পান।

    তবে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইরান রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করে, তখন সারা বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।

    এর কিছুদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে জেরেনিয়াম-২ (শাহেদ-১৩৬) ড্রোন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছিল।

    গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক সংঘাতে খেলার নিয়ম বদলে দিতে সক্ষম হলো? ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর সাফল্যের মূল চালিকাশক্তিগুলো আসলে কী?

    প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান তাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। তখনকার ইরানের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের প্রকৌশলীদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদেরকেই উদ্ধুদ্ধ করেছিল।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশে একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা বেসামরিক প্রযুক্তিরও সহায়তা নিয়েছে।

    কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ইরানিরা সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করেছিল এবং তা ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে কাজ করে গেছে। যা তাদের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ধরা দেয়।

    ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে যখন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্ত্রের দিক এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। সে সময় ইরানের বিমানবাহিনীর কাছে এফ-১৪ টমক্যাটের মতো বিমান ছিল। যা সেই সময়ে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।

    তবে এই বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন মূলত ইরানে নিযুক্ত আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা। যন্ত্রাংশ সরাসরি আমেরিকান কোম্পানি সরবরাহ করত। ফলে, ইরানের বিমান বাহিনী অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

    রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, কেউ আবার গুপ্তহত্যা কিংবা কেউ কেউ কারাবন্দি হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরাও ইরান ত্যাগ করে এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

    তখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানের কেনা শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিমানগুলো অকেজো ধাতুতে পরিণত হয়েছিল।

    ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আট বছর ধরে চলে।

    এই যুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসের নৃশংসতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রও ছিল। এই দীর্ঘ ও বিভীষিকাময় যুদ্ধে প্রায় দশ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

    যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।

    ইরাকি সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে গোয়েন্দা বিমান ক্রয় করে এবং ইরানি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করত, যা তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করে।

    এর বিপরীতে তখন ইরানের সামরিক বাহিনী এমন একটি যুদ্ধ লড়ছিল, যার জন্য তাদের কাছে না ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সামরিক সক্ষমতা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেমন অকেজো পড়েছিল তেমনি নিজেদের প্রযুক্তিকেও তখন আর উন্নত করতে পারেনি নানা নিষেজ্ঞার কারণে।

    ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্ববাজার থেকে সেই প্রযুক্তি কিনতে পারছিল না।

    যে কারণে ইরানি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নেওয়ার বদলে তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন ও তৈরি করবে।

    ভাবনাটি ছিল একেবারেই সহজ। যদি শত্রুর অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সীমান্ত পেরিয়ে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো একদিকে যেমন ছিল সস্তা অন্যদিকে সেগুলোকে শনাক্ত করাও ছিল বেশ কঠিন।

    ১৯৮১ সালের শুরুর দিকেই ইরানিরা এই ছোট ডিভাইসগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। সেগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কথাও চিন্তা করে। ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যেখানে শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীরা একসঙ্গে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন।

    তারা এই যন্ত্রগুলোর নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, পরীক্ষা এবং উন্নয়নমূলক পর্যায়গুলো সম্পন্ন করে পরে তা আইআরজিসি বা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে।

    ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি সাধারণ ওয়ার্কশপ ছিল। যেখানে দৃঢ় সংকল্পবব্ধ ও উজ্জীবিত তরুণরা কাজ করত। যাদের অনেকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ ছিল।

    বছরের পর বছর প্রচেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা এবং নিরন্তর সংগ্রামের পর ওই তরুণেরা ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওর্য়াকশপে একটি নকশা তৈরি করে। পরে খুজেস্তানের খোলা মাঠে তা উৎক্ষেপন করে পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।

    তাদের মধ্যে ছিলেন ফারশিদ নামের একজন বেসামরিক পাইলট, সাঈদ নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র এবং মাসুদ জাহিদী নামের একজন পেশাদার স্বর্ণকার।

    প্রথমবার যখন তারা তাদের প্রাথমিক মডেলটি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিল তখন কোন কোন কর্মকর্তা এটি নিয়ে উপহাস করেছিলেন।

    তারা যে মডেল তৈরি করেছিল তা দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের খেলনার মতো ছিল। তাতে যে জ্বালানি ট্যাঙ্ক হিসেবে যে বস্তটি ব্যবহার করা হয়েছিল তা মেডিকেল আইভি ব্যাগ। আর প্রপেলার বা পাখাটিও ছিল হাতে তৈরি।

    ১৯৮৩ সালে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে সেই ‘খেলনা বিমান’ বা ড্রোনটি প্রথমবারের মতো ইরাকি সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম হয়।

    সেখান থেকে খুব পরিস্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছবি নিয়ে ফিরে আসে। যেখানে ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এই সাফল্যের পর ‘থান্ডার ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং একটি নিয়মিত ড্রোন কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপে তৈরি এই বিষয়টি পরে আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে আসে। তখন তারা বিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে।

    পরে আইআরজিসি দুবাইতে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করে। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো ইসফাহানে নেওয়া শুরু হয়। সেখানেই যন্ত্রাংশগুলো জোড়া দিয়ে ড্রোন তৈরি শুরু হয়।

    ২০২২ সালে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে পাঠানো একটি শাহেদ ১৩৬ ড্রোন ভুপাতিত করে ইউক্রেন। যাতে একটি মার্কিন চিপও পাওয়া গিয়েছিল।

    ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপের সেই ড্রোনগুলো এক সময় গোয়েন্দা তৎপরতায় নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। ১৯৮৩ সালের পর আইআরজিসি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে।

    তবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘রাদ ব্যাটালিয়ন’এর প্রকৌশলী ও সামরিক সদস্যরা শুধু নজরদারির জন্য নয়, ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা নিয়েও কাজ শুরু করেন।

    যদি কোনো ড্রোন শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে তাদের গতিবিধির ভিডিও ধারণ করতে পারে, তাহলে সেটিতে অস্ত্র যুক্ত করলে তা সরাসরি আঘাত হেনেও শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব, এমন ধারণা থেকে পরবর্তীতে মোহাজের ড্রোন তৈরি করে।

    ১৯৮৮ সালে ইরান ছিল সেই প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা সশস্ত্র ও পাইলটবিহীন আকাশযান বা ইউএভি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল ড্রোন উদ্ভাবন ও ব্যবহারে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে ইরানই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে ইরানি ড্রোনগুলোর নকশা ছিল কিছুটা অপরিপক্ক। যেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারের বেশি উড়তে পারতো না। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে ইরান এমন উন্নত ড্রোন তৈরি করেছে যা ইরান থেকে উড়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ইসরাইল সামরিক উদ্দেশ্যে পাইলটবিহীন ড্রোন বা ইউএভি ব্যবহার করা প্রথম দেশ ছিল। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে তারা এগুলো ব্যবহার করেছিল মিশরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে। একই সাথে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করে তুলতে পারতো। পরবর্তীতে একই কায়দায় ইরানও ড্রোন কর্মসূচি শুরু করেছিল। এবং সেই প্রযুক্তি ছিল আরো উন্নত।

    একইভাবে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল বেকা উপত্যকায় সিরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার চালানো এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাসটিফ’ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। যেটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ইরানের বিশেষজ্ঞরা লেবাননের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির ওপর গভীর নজর রাখেন। হিজবুল্লাহর ভেতরে থাকা তাদের মিত্ররা ইসরাইলি ড্রোন সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।

    পরবর্তীতে সেখানের পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরানি বাহিনী দেখে যে ইসরাইলি ড্রোনগুলো এতটা জটিল নয় যে তেহরান ও ইসফাহানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সেগুলোর অনুকরণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন না।

    একাধিক সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোন মডেলগুলোতে ইসরাইলি ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাসটিফ’ ড্রোনের সঙ্গে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তাদের মতে, ইরানি প্রকৌশলীরা এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসরাইলি নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

    ১৯৭০-এর দশক থেকে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে- সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর।

    একটি গাইডেড মিসাইল এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, তা শত শত আনগাইডেড অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হতো।

    ইরানিরা এই সামরিক সমীকরণে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করে। যদি একটি দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারে, তবে তাকে সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাই সেই মৌলিক ধারণা, যার ওপর ইরানি ড্রোন কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।

    যদি একটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ২০ হাজার ডলার খরচ হয়, তবে নির্ভুলতার দিক থেকে এটি ২০ লাখ ডলারের ক্রুজ মিসাইলের সমান কার্যকর হতে পারে না।

    কিন্তু যদি একসঙ্গে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করতে অন্তত ১০০টি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করতে হবে—এবং এই খরচটা কয়েকগুন বেশি।

    ড্রোন মূলত সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নয়, বরং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে এবং আর্থিক চাপ বাড়াতেই তৈরি করা হয়।

    ইরান দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রোন হামলা চালাতে পারে কারণ এগুলোর খরচ শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম।
    একটি সাধারণ হিসাব দেখায়, ১০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে একটি আক্রমণকারী রাষ্ট্রের প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হয়। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রকে সেই ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে ২০ কোটি ডলার মূল্যের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।

    ড্রোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রাডারের মাধ্যমে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কম গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে। এছাড়া একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন পাঠালে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারে না।

    ২০১৯ সালে সৌদি আরব আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা এই সক্ষমতার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ওই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও হামলার দায় হুতিরা স্বীকার করেছিল, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় যে এসব ড্রোন ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

    আরামকো স্থাপনায় হামলার ফলে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, অথচ ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মোট খরচ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই খরচের ব্যবধানই আসলে ড্রোন যুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণ করে দেয়।

  • নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ইঙ্গিত দিলেন হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী

    নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ইঙ্গিত দিলেন হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী

    হাঙ্গেরির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুদাপেস্ট সফরে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেতের মাগিয়ার বলেন, ‘যদি কোনো দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয় এবং কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই হেফাজতে নিতে হবে।’

    রয়টার্সের অনুবাদ অনুযায়ী তিনি আরও জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে হাঙ্গেরিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ব্যবস্থায় পুনরায় যুক্ত করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

    বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান পূর্বে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং ২০২৫ সালে নেতানিয়াহুকে বুদাপেস্টে স্বাগত জানানোর আগেই হাঙ্গেরিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে নিয়েছিলেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তবে উভয়ই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    সূত্র: সিএনএন

  • ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এলআর দলের প্রার্থী ব্রুনো রেতাইয়ো

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এলআর দলের প্রার্থী ব্রুনো রেতাইয়ো

    ফ্রান্সের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির আসন্ন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) ডানপন্থী রাজনৈতিক দল লে রিপাবলিক্যাঁ (এলআর)- এর অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি দলীয় মনোনয়ন অর্জন করেন।

    দলের বর্তমান সভাপতি এবং ফ্রান্সের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য রেতাইয়ো দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। অভ্যন্তরীণ এই নির্বাচনে প্রায় ৭৬ হাজার নিবন্ধিত সদস্য অংশ নেন, যেখানে তিনি প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এলআর দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেতাইয়োর এই প্রার্থিতা ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী ভোটব্যাংকের পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের প্রশ্নে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এলআর দলের ইতিহাসে সর্বশেষ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন নিকোলা সারকোজি, যিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দলটির নাম ছিল ইউনিয়ন ফর আ পপুলার মুভমেন্ট বা ইউএমপি।পরে ২০১৫ সালে দলটির পুনর্গঠন করে বর্তমান নাম লে রিপাবলিক্যাঁ রাখা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের নির্বাচনে রেতাইয়োকে শুধু বামপন্থী বা মধ্যপন্থী প্রার্থীদের সঙ্গেই নয়, বরং ডানপন্থী শিবিরের ভেতরেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে তার এই মনোনয়ন ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের জাহাজ

    মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের জাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামের এই জাহাজটির হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর দিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা তাসনিম নিউজের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে সমুদ্রযান চলাচল পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতেই অবস্থান করছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুজা ২-এর গন্তব্য ভারত।