Category: আন্তর্জাতিক

  • হরমুজে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা, ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

    হরমুজে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা, ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

    ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।

    এর আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানে বৈঠকের খবরের মধ্যে জুনে সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল।

    এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহও আটকে দিতে পারে।

    এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধ শেষ করার কোনো সমাধান না আসা এবং দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম বেশি থাকতে পারে। ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি ইঙ্গিত দেন।

    এদিকে, ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে ক্ষতির মূল্যায়নের কয়েকদিন পর সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে।

  • ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করায় এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু

    ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করায় এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্যের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শনিবার তিনি এ সমালোচনা করেন।

    একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইসরাইল।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এমন ‘সম্ভাব্য উসকানি ও নাশকতা’ হতে পারে যা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কারা চুক্তি ভঙ্গের চেষ্টা করতে পারে তা উল্লেখ করেননি।

    গতকাল শনিবার এরদোগানের এই মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু তুর্কি নেতার সমালোচনা করেন।

    তিনি এক্স-এ এক বার্তায় জানান, ‘আমার নেতৃত্বে ইসরাইল ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান ইরানকে ‘সহযোগিতা’ করছেন কুর্দি নাগরিকদের হত্যা করেছেন।’

    এরদোয়ান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘যে কোনো পরিস্থিতিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়’ এবং তুরস্ক এটি বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন দেবে।’

    তুরস্ক ইসরাইলের কড়া সমালোচক হলেও মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে এই সংঘাতে যুদ্ধবিরতি আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেয়।

    পরে শনিবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও এক্স-এ বার্তায় এরদোগানের সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেন।

    তিনি বলেন, এরদোগান ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় তুর্কি ভূখণ্ডে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি এবং এখন নিজেকে কাগুজে বাঘ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তিনি এখন ইহুদি বিদ্বেষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এবং তুরস্কে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তথাকথিত বিচার প্রক্রিয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এটা হাস্যকর। মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন ব্যক্তি, যিনি কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন, এখন ইসরাইলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন, যখন ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় লড়ছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইসরাইল শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে আত্মরক্ষা চালিয়ে যাবে এবং তার (এরদোগানের) উচিত চুপ থাকা।’

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ব্যর্থ : ভ্যান্স

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পর রোববার তিনি বলেন, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

    ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়,ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক অঙ্গীকার’ চাইছিল—যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব-এর পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকেও এমন অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি।

    তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সময় দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখা হবে।

    আলোচনার আয়োজক পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে এবং উভয় পক্ষকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এক বৈঠকেই চুক্তি হবে—এমন আশা কেউই করেনি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে।

    আলোচনায় দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়ে অংশ নেয়। হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়েও চাপ তৈরি হয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাঝেই দাবি করেন, ইরানি নেতাদের হত্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না—কারণ আমরা জিতেছি।’

    প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেন, এখনো কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি।

    ‘আমরা একটি সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি—এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়,’ বলেন তিনি।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ ভবিষ্যতেও সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা জরুরি।

    আলোচনায় ইরানের ৭০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মার্কিন দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

    চুক্তির পথে প্রধান বাধা

    যুদ্ধ শেষের যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, ইসলামাবাদে এসব বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

    শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালীতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে এবং সতর্ক করে দিয়েছে, এমন কিছু হলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ড জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা কেবল ‘নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক জাহাজের’ জন্য প্রযোজ্য।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিজেরা ব্যবহার না করলেও প্রণালী খুলে দেব, কারণ অনেক দেশ এটি ব্যবহার করে—তারা হয় ভীত, নয় দুর্বল, নয়তো কৃপণ।’

    লেবানন ইস্যুতে জটিলতা

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা সবসময়ই ‘ব্যর্থতা ও ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে চিহ্নিত।

    অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরান সদিচ্ছা দেখালে যুক্তরাষ্ট্রও আন্তরিকভাবে আলোচনা করবে, তবে ‘খেলতে চাইলে’ তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

    ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পৃথক আলোচনা করবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এমন একটি শান্তিচুক্তি চান, যা ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে’।

    তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বরং বৈরুতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।

  • যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছাল আরও ইরানি উড়োজাহাজ

    যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছাল আরও ইরানি উড়োজাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে আরও একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তানে এরই মধ্যে ইরানের কয়েকটি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে দুই পক্ষের সরাসরি আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এটি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আলোচনার মূল বিষয় এখন হরমুজ প্রণালি।

     

    সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদল কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও এখন পর্যন্ত মার্কিন দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেওয়া হয়নি।

    এদিকে, একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের কয়েকটি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছে।

    দুই পক্ষের আলোচনা এখনো চলছে এবং উভয়ই একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিজার আমেদি

    ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিজার আমেদি

    ইরাকের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সরকার গঠন নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিজার আমেদি। শনিবার (১১ এপ্রিল) পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি বিজয়ী হন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তিনি দেশটির ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবত আল-হালবুসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে কুর্দি দল প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তানের (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী আমেদি ২২৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পান, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসান্না আমিন পান মাত্র ১৫ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

     

    ৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি পিইউকে দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি পেশাগতভাবে একজন প্রকৌশলী এবং এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দেশের তিনজন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

    ইরাকের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদটি কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত। গত বছরের নভেম্বরে নির্বাচন হলেও কুর্দি দলগুলোর মতবিরোধের কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঝুলে ছিল। এই নির্বাচনকে দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    শপথের পর পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অঙ্গীকার করেন। তিনি সরকার, বিচার বিভাগ ও সংসদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পাশাপাশি ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের কথা জানান।

    তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘর্ষ চলাকালীন ইরাকে হওয়া হামলারও নিন্দা জানান। গত সপ্তাহ পর্যন্ত চলা উত্তেজনায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাল্টা আক্রমণে ইরাকের সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়েছে, এখন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ইরাকের ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কুর্দি, পার্লামেন্ট স্পিকার সুন্নি এবং প্রধানমন্ত্রী সাধারণত শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হন।

    শিয়া রাজনৈতিক জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিল। তবে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্টকে এখন ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের মনোনীত ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এরপর ওই প্রধানমন্ত্রীকে ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করে সংসদের আস্থা অর্জন করতে হবে।

  • ইরানকে অস্ত্র দিলে সমস্যায় পড়বে চীন: ট্রাম্প

    ইরানকে অস্ত্র দিলে সমস্যায় পড়বে চীন: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তাদের ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। ফ্লোরিডার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

    শনিবার সিএনএন তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র পুনরায় সক্রিয় করা বা মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    এদিকে, আগামী মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।