Category: আন্তর্জাতিক

  • নবজাতককে গির্জার বাইরে ফেলে গেল দম্পতি

    নবজাতককে গির্জার বাইরে ফেলে গেল দম্পতি

    তিন সন্তানের পর আরও একটা সন্তান। সমাজে তো এ বার মুখ দেখানো যাবে না! আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সবাই ছিঃ ছিঃ করবে। তাহলে উপায়?

    উপায় অবশ্য বের করে ফেলেছিলেন স্বামী-স্ত্রী মিলে। পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুদের পরিহাস থেকে বাঁচতে তাই জন্মানোর পরই নবজাতককে রাতের অন্ধকারে ফেলে রেখে এলেন একটি গির্জার বাইরে। ওই দম্পতি ভেবেছিলেন, যাক রক্ষা পাওয়া গেল। আর কৈফিয়ৎ দিতে হবে না, পরিহাসের মুখোমুখি হতে হবে না। কিন্তু শেষ রক্ষা হল কোথায়! ‘একজন’ অলক্ষ্যে নজর রাখছিল তাদের ওপর। আর তা হলো গির্জার সিসিটিভি ক্যামেরা। সেই ক্যামেরার ফুটেজই রহস্য উদঘাটন করল।

    ঘটনাটা ভারতের কেরালার রাজ্যের কোচিন শহরের। ওয়াড়াক্কানচেরির বাসিন্দা বিট্টু ও তার স্ত্রী প্রতিভা। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। আবার গর্ভবতী হন প্রতিভা। ত্রিশূরের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। গত বুধবারই ফুটফুটে একটি সন্তানের জন্ম দেন তিনি। পরিবারে নতুন অতিথি আসায় আনন্দের থেকে আশঙ্কাই ঘিরে ধরে বিট্টু ও প্রতিভাকে। বাড়ি ফিরলেই বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনতে হবে নানা রকম কথা। তাই হাসপাতালে বসেই দুজনে শিশুটিকে কোথাও রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন- পুলিশের কাছে অন্তত তেমনটাই দাবি করেছেন বিট্টু।

    লোকলজ্জার হাত থেকে বাঁচতে তাই হাসপাতাল থেকে সকলের নজর এড়িয়েই শুক্রবার রাতে তারা সোজা চলে আসেন এরাপল্লির সেন্ট জর্জ ফোরেন গির্জায়। সে সময় গির্জায় আশপাশটা পুরো নির্জনই ছিল। সুযোগও এসে যায়। শিশুটিকে খুব সন্তর্পণে গির্জার সামনে রেখে দেন তারা। রাখার আগে শিশুটির কপালে ‘স্নেহভরা’ চুম্বনও করেন বিট্টু। তারপর নিঃশব্দে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    রাত তখন সাড়ে ৮টা। গির্জার নিরাপত্তরক্ষী হঠাৎই শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে আসেন। দেখেই চমকে ওঠেন। একটি সদ্যোজাত শিশুকে যত্ন করে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে শোয়ানো রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির মা-বাবার খোঁজ করে পুলিশ। তবে তাদের খোঁজ পেতে অবশ্য বেশি বেগ পেতে হয়নি পুলিশকে।

    গির্জার সিসিটিভি ফুটেজে সংগ্রহ করে সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তারা। তারপরই বিট্টু ও প্রতিভার খোঁজ পাওয়া যায় ত্রিশূরের ওয়াড়াক্কানচেরিতে। পুলিশ ওই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।

    বিট্টু জেরায় পুলিশকে জানিয়েছেন, বার বার গর্ভবতী হওয়ায় পাড়ায় প্রতিভাকে অনেকেই উপহাস করতেন। বন্ধু-বান্ধবরাও কটাক্ষ করতে ছাড়ত না। এসবের হাত থেকে মুক্তি পেতেই সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। কিন্তু শুধুই কি লোকলজ্জার কারণ, নাকি এর পিছনে আরও কোনও কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • ফিলিস্তিনিদের ‘আগুন ঘুড়িতে’ জ্বলছে ইসরায়েল

    ফিলিস্তিনিদের ‘আগুন ঘুড়িতে’ জ্বলছে ইসরায়েল

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে উড়ে আসা শত শত ‘ফায়ার কাইটস’ বা ‘জ্বলন্ত ঘুড়ির’ সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে দখলদার ইসরায়েল। ঘুড়ি মোকাবেলায় বিশেষ ড্রোন তৈরি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না তারা। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল থেকে এ বাস্তবতার কথা স্বীকার করেছে।

    রবিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের কিবুতজিম এলাকার ফসলি জমিতে আগুন জ্বলছে।

    ইসরায়েলের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, গাজা থেকে উড়ে আসা জ্বলন্ত ঘুড়িই এই আগুনের সূত্রপাত। দমকল কর্মী ও স্থানীয়রা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

    ইসরায়েলি টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে উড়ে আসা শত শত ঘুড়ি ধ্বংস করা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি ড্রোনগুলো আকাশেই ঘুড়িগুলোকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু সব ঘুড়ি ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ উড়ে আসা ঘুড়ির সংখ্যা অনেক।

    গাজার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন। এর পাশাপাশি গাজাবাসীরা ঘুড়ি উড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ঘুড়ির লম্বা লেজে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এসব ঘুড়ি কখনো কখনো সীমান্ত দেয়ালের ওপারে ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় গিয়ে পড়ে।

    ইসরায়েলের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিন থেকে উড়ে আসা ২৭০টি আগুন ঘুড়ি ইসরায়েলের ছয় হাজার ২০০ একর ভূমি পুড়িয়েছে।

    টাইম অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ঘুড়ি প্রতিহত করতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব ঘুড়ি আকাশেই ধ্বংস করতে ড্রোন ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সেনারা।

    গত ৩০ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় এ পর্যন্ত ১২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ হাজার ফিলিস্তিনি।

    সূত্র: পার্স টুডে ও টাইমস অব ইসরায়েল

  • থামছেই না সৌদি-কাতারের অনলাইন যুদ্ধ

    থামছেই না সৌদি-কাতারের অনলাইন যুদ্ধ

    গত বছর কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এর পেছনে মদদদাতা হিসেবে সৌদি আরবকেই দায়ী করে কাতার। সেই নিষেধাজ্ঞা তিনমার পর উঠে গেলেও মনোমালিন্য কমেনি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সৌদির পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কাতার। এরপরই দুই দেশের দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

    এই দ্বন্দ্বের প্রকাশ্য রূপ হিসেবে এবার অনলাইনে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের নাগরিকরা। তারা এ যুদ্ধের জন্য বেছে নিয়েছেন ইন্টারনেট বট, ভুয়া সংবাদ ও হ্যাকিং। ইন্টারনেট বট আসলে ওয়েব রোবট, যা আসলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।

    ২০১৭ সালের ২৪ মে কাতারের সরকারি বার্তা সংস্থা কিউএনএ ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় যাতে বলা হয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি একটি বিস্ময়কর বক্তব্য দিয়েছেন। পরে তার এই বক্তব্য কিউএনএ’র সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলেও ওই সংবাদের টিকার প্রচার হতে থাকে।  ওই বক্তব্যে কাতারের আমির ইসলামপন্থী গ্রুপ হামাস, হেজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রশংসা করছিলেন।

    কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এই রিপোর্ট কিউএনএ’র ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে যায় এবং কাতারের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতি দিয়ে এ ধরনের কোনো বক্তব্যের কথা প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া এখন পর্যন্ত এমন কোনো ভিডিও ফুটেজ আসেনি যাতে দেখা যায় কাতারের আমির আসলে কী বলেছেন।

    কাতার দাবি করেছে, কিউএনএ’র ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে এবং তারা এটাও বলেছে যে কাতারের আমির ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে এ ধরনের পরিকল্পিত বক্তব্য প্রচারের জন্যই ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে।

    আর এজন্য কাতার স্পষ্ট করে দায়ী করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্টও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে। কাতারের আমিরের বক্তব্য সম্বলিত ওই রিপোর্টটিই সব মিডিয়া প্রকাশ করতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সৌদি ও আরব আমিরাতের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল আল আরাবিয়া ও স্কাই নিউজ আরাবিয়া প্রচার শুরু করে। তারা কাতারকে উগ্রপন্থীদের অর্থায়ন ও ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য অভিযুক্ত করতে থাকে।

    আর এরপর আরও একটি হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবার ইমেইল হ্যাক হয়ে মিডিয়ার কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এরপর তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়।

    ২০১৭ সালের ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশর এবং তাদের সহযোগী মোট নয়টি দেশ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারা কাতারের নাগরিকদের বহিষ্কার করে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে, কাতারের সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, সব বাণিজ্য স্থগিত করে এবং এমনকি তাদের আকাশসীমা কাতারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে স্বঘোষিত সন্ত্রাসবিরোধী জোট ১৩ দফা শর্ত দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য দশ দিনের সময় দেয় কাতারকে, যার মধ্যে ছিলো আল জাজিরা বন্ধ করা ও ইরানের সাথে সহযোগিতার অবসান ঘটানো। সৌদি জোটের এমন পদক্ষেপকে একাধিক টুইট বার্তায় স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি দাবি করেন এটা ছিল তার সন্ত্রাসবিরোধী নীতির একটি প্রমাণ।

    তার এমন বক্তব্য টুইটারে প্রোপাগান্ডা যুদ্ধকে উস্কে দেয় এবং হ্যাশট্যাগ দিয়ে কাতারের পক্ষে-বিপক্ষে সয়লাব হয়ে যায় টুইটার। আগেই বলা হয়েছে যে ইন্টারনেট বট আসলে ওয়েব রোবট, যা আসলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। কাতারের পক্ষ থেকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘তামিম দ্যা গ্লোরিয়াস’ কিংবা ‘কাতার একা নয়’ এমন বার্তা টুইটারে উপসাগরীয় অঞ্চলের হোমপেজে ভেসে আসতে থাকে। অন্যদিকে সৌদি ও আরব আমিরাত শেখ তামিমকে অভিযুক্ত করে ‘উপসাগরের গাদ্দাফি’ হিসেবে।

    এসব ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীর নজর রাখছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো বেন নিম্মো। তিনি দেখতে পান টুইটারে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার অর্থাৎ বটগুলো বিভিন্ন মেথডে কাজ করছে, যেমন -হঠাৎ করে কোন হ্যাশট্যাগ স্পাইক অ্যালার্ট হয়ে যাচ্ছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোস্টিং পরামর্শসহ।

    তিনি বলেন, ‘#তামিম_দ্যা_গ্লোরিয়াস- পোস্টটি যেই টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে আসে সেখানে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রি-টুইট হয় অন্তত দুশো বার, যা মোটেও স্বাভাবিক নয়।’

    পরে টুইটার ওই অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে আর বিবিসি আরব সার্ভিস অনেক চেষ্টা করেও ওই অ্যাকাউন্টের মালিকের সাথে কথা বলতে পারেনি। আর যখন এ ধরনের অনেক বট অ্যাকাউন্ট একযোগে কাজ করতে থাকে তখন তাকে বলা হয় বট নেট। যদিও বেন নিম্মো এ ধরনের বটস খুঁজে পেয়েছেন কাতার বিরোধীদের দিকেও। তারা সেখানে কাতারের আমিরের ছবি বিকৃত করে পোস্ট করেছে।

    আবার দেখা যায় কাতারবিরোধী বটগুলো যেগুলো টুইট বার্তাকে বুস্ট করছিল সেটা আসলে সব প্রকৃতপক্ষে একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই আসছিল। আর সেই অ্যাকাউন্টের মালিক ছিলেন সৌদ আল কাহতানি। তিনি সৌদি রাজকীয় আদালতের সুপরিচিতি সদস্য ও যুবরাজের পরামর্শক। টুইটারে অত্যন্ত সক্রিয় এ ব্যক্তির প্রায় দশ লাখের মতো ফলোয়ার রয়েছে অনলাইনে।

    হ্যাশট্যাগ ‘উপসাগরের গাদ্দাফী’ টুইটে যত রি-টুইট হয়েছে তার সর্বোচ্চ পাঁচটিই তার অ্যাকাউন্ট থেকে যা মোট ট্রাফিকের ৬৬ শতাংশ। ওই অ্যাকাউন্টেই কাতারকে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসের অর্থায়নের জন্য দায়ী করা হয়।

    বয়কট বা কাতারের অবরোধ- যাই হোক সেটির খুব শিগগিরই অবসান হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও। হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা এখনো চলছে পাশাপাশি চলছে হ্যাকিংয়ের চেষ্টাও। ওই অঞ্চলের টিভি চ্যানেলগুলো এখনও একে অন্যকে অভিযুক্ত করার লড়াইয়ে আছে। এ সংকটের জের ধরে কাতারের জীবনযাত্রায় কেমন প্রভাব পড়ছে তা নিয়েও পাল্টাপাল্টি খবর প্রকাশ করা হচ্ছে।

    আল আরাবিয়া টেলিভিশনে যেমন প্রচার হয়েছে কাতারের খাবার দোকানগুলোতে খাবার নেই। অন্যদিকে আল জাজিরা দেখাচ্ছে সংকট সত্ত্বেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার দৃশ্য।

    স্কুল অফ আফ্রিকান স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ডিনা মাটার যেমন বলছেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক যুদ্ধ নয়, এটা একটি মিডিয়া যুদ্ধও। পশ্চিমের মতো আরব বিশ্বেও নানা সমস্যা আছে। আর ভুয়া সংবাদ রয়েছ সর্বত্রই। আরব রাজনীতিক ও নেতারা মিডিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন আর সেটি হলো মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এটা প্রোপাগান্ডা চালানোর অস্ত্র। ব্যক্তি ও জনস্বার্থের জন্যও এটি একটি অস্ত্র।’

    সম্প্রতি আরও একটি হ্যাশট্যাগ দেখা যাচ্ছে যেটি আরবি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: #অ্যানিভার্সারি_অফ_দ্যা_মিডনাইট_ফেব্রিকেশন। এটির ট্রেন্ডিং দেখা যাচ্ছে কাতারে। এটা আসলে এক বছর আগে কাতার নিউজ এজেন্সি হ্যাকিংয়ের সেই অভিযোগের কথাই মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। প্রায় এক বছর হয়ে গেলো ওই ঘটনার কিন্তু এখনো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসার লক্ষণ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি

  • স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের শপথ

    স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের শপথ

    স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখোই পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে বরখাস্ত হওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পেদ্রো সানচেজ। শনিবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে ৩৫০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র ৮৪ আসন থাকায় আইন পাসের জন্য হিমশিম খেতে হবে সানচেজ সরকারকে৷

    গত দুই বছর ধরে মারিয়ানো রাখোই এবং তার দল কনজারভেটিভ পিপলস পার্টির (পিপি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে৷ কিন্তু সেগুলোর কোনোটাই স্বীকার করেনি মারিয়ানো সরকার৷ খবর ডয়চে ভেলের।

    মাদ্রিদের কনরাড আডেনাউয়ার ফাউন্ডেশন-এর ব্যুরো চিফ ভিলহেল্ম হোফমাইস্টার বলেন, ‘এরই মধ্যে দলের বেশ কয়েকজনকে নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ অনেকেই বিচারের মুখোমুখি হয়ে দণ্ড ভোগ করছেন৷ এদের মধ্যে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রদ্রিগে রাটো৷’

    গত সপ্তাহে দলটির একজন সাবেক কোষাধ্যক্ষের ৩৩ বছর কারাদণ্ড হলে দুর্নীতির খবরটি আবারো পত্রিকায় আসে৷ মাদ্রিদের হাইকোর্ট তাকে ঘুস গ্রহণ, অর্থপাচার এবং কর ফাঁকির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে৷ এরপরও প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে রাজি হননি মারিয়ানো৷ এবারই প্রথমবারের মতো বিচারকরা দলটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থায়ন, নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ আনে৷ কিন্তু মারিয়ানো বারবার বলেছেন, ‘তাঁর সরকারের কোনো সদস্যের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক নয়৷ তাই তাঁদের কিছু করার নেই৷’

    ব্যালটবাক্সে সোশ্যালিস্ট নেতা পেদ্রো সানচেজ পিপি দলের প্রার্থীদের কাছে বরাবরই হেরেছেন৷ সমালোচকরাও কখনো তার পক্ষে কোনো প্রশংসার বাণী শোনাননি৷ তবে তারা এখন এটা স্বীকার করবেন যে সানচেজ লড়তে জানেন৷ দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে মারিয়ানোর নাম জড়িয়ে পড়লে সানচেজই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন৷

    শুক্রবার সকালে অনাস্থা ভোটে বাস্ক ন্যাশনাল পার্টিসহ ছোট ছোট কয়েকটি দলের সমর্থন পেয়ে সানচেজ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন৷ প্রস্তাবের পক্ষে ১৮০ জন এবং বিপক্ষে ১৬৯ জন সাংসদ ভোট দেন৷ ভোটে হেরে পদচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো৷ স্পেনে চার দশকের গণতন্ত্রের ইতিহাসে মারিয়ানো রাখোই পার্লামেন্টের ভোটে পদচ্যুত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী৷

    শুক্রবারের ভোটের আগে সানচেজ বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি নতুন পৃষ্ঠা স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি৷’

    ২০১১ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মারিয়ানো৷ শুক্রবার পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তিনি সাংসদদের বলেন, ‘আমি যা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, তার চেয়ে উত্তম একটি স্পেন রেখে যেতে পারা সম্মানের ব্যাপার৷’

  • আমেরিকার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ইরানের বড় সফলতা: রুহানি

    আমেরিকার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ইরানের বড় সফলতা: রুহানি

    পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে পাশে পেয়েছে ইরান। এ কারণে এ ঘটনাকে ইরানের বিরাট সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

    শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের সুন্নি আলেমদের এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন রুহানি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এখন মার্কিনীদের হাতে কোনো অজুহাত নেই। কারণ, তেহরান তার সব আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। খবর পার্সটুডের।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বের কয়েকটি দেশ ছাড়া আর কেউ আমেরিকাকে সমর্থন দেয়নি। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ বিরোধিতার মুখোমুখি হলো আমেরিকা।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করা হবে।

    অন্যদিকে ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা আমেরিকাকে ছাড়াই এ সমঝোতা এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • নিরাপত্তা পরিষদে হামাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    নিরাপত্তা পরিষদে হামাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বর্বরতায় শতাধিক নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যার জন্য হামাসকে দায়ী করে ওয়াশিংটনের এক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা বলতে গেলে পুরোপুরি একঘরে হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবটিতে নিজেদের ভোট ছাড়া আর কোনো ভোট পায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    হামাসকে দায়ী করে মার্কিন প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। রাশিয়া ও অন্য দুটি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। শুধু নিজেদের ভোটটি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    নিজেদের বাইরে অন্য কারো ভোট না পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আল জাজিরার জাতিসংঘ বিষয়ক প্রতিনিধি জেমস বেইস বলেছেন, ‘সর্বশেষ কবে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে একঘরে হয়েছিল তা মনে পড়ছে না। হামাসকে নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিজেদের বিরুদ্ধেই গেছে এবং এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই অপমানজনক।’

    গত ৩০ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকেরা নিহত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধকে আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি হামাসকে দায়ী করে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানায়।

    এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, গাজা থেকে যে হামলা চালানো হচ্ছে তার জন্য ফিলিস্তিনের নেতাদের দায়ভার নিতে হবে। তার মতে, ওই অঞ্চলে শান্তির জন্য হামাস একটি বড় বাধা।

    এর আগে ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়ে কুয়েতের উঠানো এক প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভেটো দেয় ওয়াশিংটন।

    শুক্রবার কুয়েতের তোলা এই খসড়া নিন্দা প্রস্তাবে রাশিয়া, চীন, ফ্রান্সসহ ৯টি সদস্য দেশ সমর্থন জানালেও ওয়াশিংটনের আপত্তিতে তা কার্যকর করা যায়নি।

    যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ইথিওপিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই কুয়েতের প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

    দুই ভোটের এই বৈসাদৃশ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, একতরফাভাবে কেবল ইসরায়েলের ওপর দোষ চাপাতে গিয়ে জাতিসংঘ হামাসের দায় দেখছেই না। জতিসংঘ যে ইসরায়েলের সঙ্গে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, এটা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট।

    মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে গাজা সীমান্ত বরাবর শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ দমনে তেল আবিবের সহিংস আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এর আগেও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের শক্ত অবস্থানের কথা প্রকাশ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে হামাসসহ বেশ কয়েকটি দল ও গোষ্ঠী ৩০ মার্চ থেকে ‘মার্চ অব রিটার্নের’ডাক দিয়েছিল।

    ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠিকতার সময় চলতি মাসের মাঝামাঝি বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠেছিল। এসময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে কেবল ১৪ মে ৬০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। এরপর থেকে সহিংসতার পরিমাণ কমে এলেও বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ চলছেই।

    মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত বরাবর এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১১৬ ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।