Category: আন্তর্জাতিক

  • মহাকাশচারীদের শরীর থেকে কমে যায় হাড় : নাসা

    মহাকাশচারীদের শরীর থেকে কমে যায় হাড় : নাসা

    মহাজাগতিক তেজস্ক্রিয়তার ফলে মহাকাশচারীদের শরীর থেকে কমে যায় হাড়। তবে তাদের পেশীর কোন ক্ষয় হয় না। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনই সত্য উদঘাটিত হয়েছে।

    সম্প্রতি গ্রহের কত কাছাকাছি পৌঁছলে শরীরের হাড় কমে যায়, তা নিয়ে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল নাসা। সেই পরীক্ষায় জানা গেছে, গ্রহের শূন্য অভিকর্ষে পৌঁছালে মহাকাশচারীদের এই ক্ষতি হচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানী স্কট কেলি দীর্ঘসময় কাটিয়েছেন মহাকাশযানে। যখন তিনি ফিরলেন, দেখা গেল তাঁর শরীরে ওজন বেড়েছে। কিন্তু হাড় কমেছে।

    মহাজাগতিক তেজস্ক্রিয়তাই যে এর কারণ সে ব্যাপারে নিশ্চিত নাসা। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চিন্তিত এই রিপোর্ট নিয়ে। শরীরের পেশির সঙ্গে হাড়ের সামঞ্জস্য না থাকলে নানা শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হতে পারে মহাকাশচারীদের। নাসা এর বিকল্প পন্থা নিয়ে আলোচনা করছে।

  • রাতে দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে ট্রাক চালকদের চা পান করাচ্ছে পুলিশ

    রাতে দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে ট্রাক চালকদের চা পান করাচ্ছে পুলিশ

    শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডায় ট্রাক ও লরি চালকদের চা পান করাচ্ছে পুলিশ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

    কলকতার সংবাদ পত্রিকা বর্তমান জানায়, রাতে চালকদের স্নায়ু সতেজ রাখতে বিনামূল্যে এ চা পান করাচ্ছে পুলিশ। দুর্ঘটনা এড়াতে চব্বিশ পরগনার পাঁচটি থানায় চালকরা পুলিশের হাতে মাটির ভাঁড়ে গরম চা পানের এ সুবিধা পাচ্ছেন।

    জানা যায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার দুটি জাতীয় সড়ক আছে। একটি চলে গেছে যশোর রোড হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত। আরেকটি রোড কলকাতা থেকে চলে গেছে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত। এছাড়াও এই জেলায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ টাকি রোড এবং বনগাঁ-চাকদহ রোড। এসব সড়কে সারারাত মালবাহী ট্রাক ও লরি যাতায়াত করে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এসব রোডে সারারাত গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন চালকরা। যার কারণে প্রতিদিনই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শীতের রাতে রাস্তার আশেপাশে চায়ের দোকানগুলোও বন্ধ থাকে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের গরম চা পান করাচ্ছেন তারা।

    স্থানীয় পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, দুই জাতীয় সড়কের আমডাঙা, হাবড়া ও বনগাঁ থানা এলাকায়, বনগাঁ-চাকদহ রোডের ধারে গোপালনগর থানা এলাকায় এবং টাকি রোডের ধারে দেগঙ্গা থানা এলাকায় গরম চা বিলি শুরু করা হয়েছে।

    পুলিশ প্রশাসনের এ উদ্যোগে চালকরাও খুশি। ভোর রাতে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে মামলার বদলে হাতে চা তুলে দিলে শুরুতে অনেকেই আশ্চর্য হন। কনকনে ঠান্ডায় দীর্ঘ পথ ভারি যান চালিয়ে গরম চা পেয়ে তাদের মধ্যেও ফিরে আসে সতেজতা। সূত্র: বর্তমান

  • সৌদি যুবরাজকে ইসরাইল সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ

    সৌদি যুবরাজকে ইসরাইল সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে ইহুদিবাদী ইসরাইল সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জেরুজালেম আল-কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে যখন বিশ্বব্যাপী তীব্র বিক্ষোভ চলছে তখন এই আমন্ত্রণ জানানো হলো।
    ইসরাইলের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসরায়েল কাট্য সৌদি দৈনিক ‘ইলাফ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি সৌদি যুবরাজকে তেল আবিব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মোহাম্মাদ বিন সালমানকে ইহুদিবাদীদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের আপোষ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করারও আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের গোয়েন্দামন্ত্রী।
    এর আগে খবর বেরিয়েছিল, মোহাম্মাদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাহমুদ আব্বাসকে ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন।

    তবে মাহমুদ আব্বাস বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।  ওই সম্মেলন থেকে জেরুজালেম আল-কুদসকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছে। সম্মেলনে সৌদি রাজা সালমান বা তার পুত্র মোহাম্মাদ বিন সালমান অংশগ্রহণ করেননি। সম্মেলনে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নীচু পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।
    মাহমুদ আব্বাস তার ভাষণে আরো বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কথিত শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার যোগ্যতা হারিয়েছে আমেরিকা।
    সম্প্রতি আরবি দৈনিক আল-আরাবি আল-জাদিদ খবর দিয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান কয়েক মাস  আগে গোপনে ইসরাইল সফর করেছেন বলে ইহুদিবাদী কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।
    পর্যবেক্ষকরা সৌদি যুবরাজের তেল আবিব সফরের খবরে অবাক হননি। তারা বলছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে জোর প্রচেষ্টা সৌদি আরব চালাচ্ছে তাতে এ ধরনের সফরে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

  • মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

    মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

    রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে আচরণ করছে মিয়ানমার, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্লোবাল ম্যাগনিৎস্কি আইনের অধীনে মিয়ানমারের দায়ীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা চিন্তা করছে তারা।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও দুর্নীতি করার দায়ে গ্লোবাল ম্যাগনিৎস্কি আইনের অধীনে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে সেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে না, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পদ তারা ভোগ করলে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটছে এবং রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের  বিরুদ্ধে সহিংস ও নির্যাতনমূলক যে আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বেসরকারি গোষ্ঠী ও নজরদারি কমিটিসহ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই নৃশংসতার জন্য দায়ী হলে তাদের নিশ্চিতভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’

    গত আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্বর অভিযান শুরু করলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখনো রোহিঙ্গারা আসছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি বিশ্বসম্প্রদায় আহ্বান জানালেও তাতে কান দেয়নি তারা।

    রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় বহু মানুষ মারা গেছে। গণহত্যা, ধর্ষণ চালানো হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যেন রাখাইনে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে না পারে, সেজন্য বিক্ষোভ-মিছিল করেছে স্থানীয় বৌদ্ধ জনতা।

    রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এই নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর দাবি, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, তারা বাঙালি। কিন্তু ইতিহাস বলছে, প্রায় সাড়ে ৭০০ বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমরা রাখাইনে বসবাস করছে।

    রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে তখন তিনি কিছু বলেননি। তবে এবার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানালো, নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে তারা।

    নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়া সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য। এমন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি নিঃসন্দেহে মিয়ানমারকে চাপে ফেলবে।

    কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন চললেও এবারই প্রথম মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় ‍হুঁশিয়ারি দিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বারাক ওবামার আমলে মিয়ানমারের ওপর থেকে তুলে নেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আবার বহালের মতো বড় কোনো পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ধীরগতির পদক্ষেপের সমালোচনা করছে আন্তর্জাতিক সমালোচকরা।

  • নেপালে বামজোটের জয়, চীনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে টেনশনে ভারত

    নেপালে বামজোটের জয়, চীনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে টেনশনে ভারত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে সাধারণ নির্বাচনে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিতি বামেজোটের ভূমিধস বিজয় হয়েছে। এতে ভারতের সীমান্ত রাষ্ট্র নেপালে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি।
    সম্প্রতি সাধারণ নির্বাচনে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত বামেজোট ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। আর ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত নেপালি কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে পি অলি।
    এ নিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন এখানে তুলে ধরা হলো।
    কয়েক বছর আগেও সম্পর্কটা মধুরই ছিল। এতটাই যে খক্ষপ্রসাদ ওলির কিডনি সংক্রান্ত সমস্ত চিকিৎসাই ভারতে হতো। নয়াদল্লির তত্ত্বাবধানে।
    কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে ভারতের সঙ্গে ওলির তিক্তটা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, তার নেতৃত্বে নেপালের নতুন বাম সরকার পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভরপুর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে চলেছে সাউথ ব্লকের সামনে।
    চীন-ওলি ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নটি নতুন নয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। কূটনীতির জগতের অনেক মনে করেন, নেপালে মাওবাদী এবং কমিউনিস্টদের একসঙ্গে নিয়ে এসে সরকার গড়ার যে নকশা, তার পিছনে বেইজিংয়ের প্রয়াস রয়েছে যথেষ্ট। সিপিএন-ইউএমএল নেতা ওলি নেপালে সরকার চালিয়েছেন ২০১৫-র অক্টোবর থেকে ২০১৬-র আগস্ট পর্যন্ত। ভারত-নেপাল সম্পর্কের খুবই অবনতি হয় সে সময়ে। ফের তার হাতেই যাচ্ছে নেপালের ভার। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই সরকার গড়া নিয়ে মঙ্গলবার মাওবাদী নেতা প্রচণ্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওলি। প্রচণ্ড আগেই জানিয়েছেন ওলি-র নেতৃত্বেই হবে নয়া সরকার। ওলির এই দফাতেও ভারতের সীমান্ত রাষ্ট্রটিতে চীনের প্রভাব আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি।

    এই পরিস্থিতিতেও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর কিন্তু ভারতের ধরাবাঁধা অবস্থানকেই ফের তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, প্রথমত, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যে সরকারই আসুক না কেন, তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক ভাবেই গড়াবে। দুই, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল নয়। এরই পাশাপাশি আরে একটি যুক্তিও খাড়া করছে সাউথ ব্লক। সেটা হলো, নেপালের সঙ্গে ভারতের যে আবহমান ধর্মীয় সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে, কখনোই তা অর্থ দিয়ে কিনতে পারবে না চীন। ভারতকে পরোপুরি বাদ দিয়ে কিছু করা সম্ভবও নয় নেপালের পক্ষে।

    কিন্তু কঠোর বাস্তবের জমিতে এই যুক্তিগুলি যে তেমন জুতসই হচ্ছে না, সে কথা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বড় অংশ। ডোকলাম প্রশ্নে দীর্ঘ সংঘাত আপাত ভাবে মিটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্রাগন। এই অবস্থায় নেপালে তাদের আধিপত্য-বৃদ্ধি আদৌ কাক্সিক্ষত নয়।
    নয়াদিল্লি ভোলেনি যে গত বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে এই ওলি-ই চীন সফরে গিয়ে একটি চুক্তি সই করে দু’দেশের মধ্যে রেল আর বন্দর যোগাযোগ-সহ সামগ্রি ভাবে বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতাকে এক ধাপে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। মদেশীয় বিক্ষোভের সময়ে ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রফতানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অবরোধের কারণে।

    নয়াদিল্লির অভিযোগ, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চীনের প্রতি নির্ভরতা অনেকটাই বাড়িয়ে নেয় তৎকালীন ওলি সরকার। পাশাপাশি, ওই সময়ে উগ্র ভারত-বিরোধিতার রাজনৈতিক আবহ তৈরি করা হয় নেপালে। যা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।

  • জাতির কাছে ক্ষমা চান: মোদিকে মনমোহন

    গুজরাতে জমানা বদলের পাকিস্তানি চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ঘরে-বাইরে আক্রমণের মুখে নরেন্দ্র মোদী। রাহুল গাঁন্ধী তো বটেই, ভোটে পাকিস্তানকে টেনে আনায় সরব সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকও। বিজেপির শত্রুঘ্ন সিনহা থেকে শরিক শিবসেনা নেতৃত্বও মোদীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
    তবে মোদিকে এ দিন সব থেকে শাণিত আক্রমণটি করেছেন মনমোহন সিংহ। ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলে পূর্বসুরির মন্তব্য, ‘‘গুজরাতে হারের আতঙ্কে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চাইছেন।’’ মনমোহন বলেন, ‘‘আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদের যোগ্য পরিণতিবোধ ও গরিমা রাখবেন। জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী পদের হৃত সম্মান পুনরুদ্ধার করবেন।’’
    রবিবার গুজরাতের প্রচারে মোদি অভিযোগ করেন, ‘‘পাক সেনার প্রাক্তন ডিজি গুজরাতের ভোটে নাক গলাচ্ছেন। পাকিস্তানের লোকেরা মণিশঙ্কর আইয়ারের বাড়িতে বৈঠক করছেন। তার পরে মণিশঙ্কর আমাকে নীচ বলছেন। এতে কি সন্দেহ হয় না?’’ আজ গুজরাতের প্রচারে গিয়ে রাহুল গাঁন্ধী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কখনও পাকিস্তান নিয়ে বলেন, কখনও চিন-জাপান নিয়ে। গুজরাতের ভোটে গুজরাত নিয়ে কিছু বলুন!’’
    আইয়ারের বাড়িতে যে বৈঠকের দিকে মোদি আঙুল তুলেছেন, সে’টি ছিল প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মেহমুদ কাসুরির সম্মানে নৈশভোজ। একটি আলোচনা সভায় দিল্লি এসেছিলেন কাসুরি। ৬ ডিসেম্বরের নৈশভোজে মনমোহন সিংহ, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কপূর, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী নটবর সিংহেরা হাজির ছিলেন।
    মনমোহন বলেছেন, ‘‘নৈশভোজে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেই কথা সীমাবদ্ধ ছিল। গুজরাতের প্রসঙ্গই ওঠেনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানের মতো মানুষদের দিকেও কালি ছেটানোর বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করলেন মোদি।’’
    পাকিস্তানও আজ সরব হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়সল বলেন, ‘‘ভোটের তর্কে পাকিস্তানকে টানা বন্ধ করুক ভারত। চক্রান্তের বানানো অভিযোগও বন্ধ হোক।’’ আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের জবাব, ‘‘পাকিস্তান যে সন্ত্রাস ছড়ায়, তা গোটা দুনিয়ার জানা।’’
    এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনমোহন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আপসের কথা সর্বজনবিদিত। উধমপুর, গুরুদাসপুরে হামলার পরে বিনা আমন্ত্রণে মোদি পাকিস্তানে যান। পঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলার পর আইএসআই-কে সেখানে কেন ডাকা হয়, সেটাও উনি দেশকে জানান।’’
    মনমোহনের কড়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে সারা দিন দিল্লি সরগরম থাকার পরে রাতে অরুণ জেটলিকে জবাব দিতে নামায় বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য ক্ষমা না-চেয়ে কংগ্রেস নেতারা উল্টে প্রধানমন্ত্রীকেই ক্ষমা চাইতে বলছেন!’’
    শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় আজ লেখা হয়েছে, মোদি নাটক করছেন। আর বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার কটাক্ষ, ‘‘ভোটে জিততে কি রোজ নতুন নতুন গল্প বানাতে হবে?’’