জীবন নিউজ ডেস্ক: ইরাক ও ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১১ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার স্থানীয় সময় রাতে ইরাকের হালাবজা শহর থেকে ২১ মাইল দক্ষিণে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এনডিটিভির। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কেরমানশা প্রদেশে অন্তত ২০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইরাকে ছয়জন মারা যান। ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েল ও কুয়েতেও কম্পন অনুভূত হয়। এ সময় আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের কমপক্ষে আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের জরুরি সহায়তা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শারপল-ই যাহাব শহরে। ইরানি নিউজ চ্যানেল আইআরআইএনএন জানায়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে পাঠানো হয়েছে উদ্ধারকারী দল। এই চ্যানেলকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান মোরতেজা সেলিম জানান, কমপক্ষে আটটি গ্রামে ক্ষতির খবর পেয়েছেন তারা। কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সেসব স্থানে টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত রয়েছে।
Category: আন্তর্জাতিক
-
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষার্থে ১০ প্রস্তাবনা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রস্তাবনায় বলেছে, মিয়ানমারকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফেরত নিতে হবে।
অন্যদিকে, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তাদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ ছাড়া তাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দেয়া ও নষ্ট হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।
সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এবং রোববার ম্যানিলায় ৩১তম আসিয়ান লিডার্স সামিটে (আসিয়ান নেতাদের সম্মেলন) রোহিঙ্গা সংকটকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ১০ প্রস্তাবনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করতে হবে। দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ শরণার্থী সহায়তা।
২। আশ্রয়দাতা দেশ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে যতটা সম্ভব মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
৩। বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৪। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আচরণবিধি মেনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা যাবে না।
৫। মিয়ানমারকে পালিয়ে আশা শরণার্থীদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৬। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে না চাইলে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না।
৭। শরণার্থী এবং বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে। নষ্ট হওয়া সমপদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৮। শরণার্থীদেরকে তালিকাভুক্ত করা অব্যাহত রাখতে হবে বাংলাদেশকে।
৯। শরণার্থী শিবিরগুলো টেকসই না হওয়ায় তাতে শরণার্থীদের বসবাস প্রলম্বিত করা যাবে না।
১০। আপৎকালীন সংকট নিরসনে রোহিঙ্গাদের নিজ আবাস ভূমিতে না পাঠিয়ে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলে সেখানে প্রত্যাবাসনের যে অভিপ্রায় মিয়ানমার ব্যক্ত করেছে, তা কোন গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।উল্লেখ্য, ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতি নিধনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানজুড়ে সে দেশের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যায়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছয় লাখ তেরো হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই নারকীয় বর্বরতাকে ইতিমধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
-

পাকিস্তানে তাবলিগ জামাতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ২৭
জীবন নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের চাকওয়ালে তাবলিগ জামাতে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনায় ২৭ আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৬৪ জন। বুধবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তাবলিগ জামাতে যোগ দিতে কোহাট থেকে রায়বন্দে যাচ্ছিলেন মুসল্লিরা। পথে চাকওয়াল এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে বাসটি। স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভোররাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৩ জনকে রাওয়ালপিন্ডি হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর জানানো হয়, বাসচালক এলাকাটি ভালোভাবে চিনতেন না বলেই অন্ধকারে গিরিখাদের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের রায়বন্দ এলাকায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ তাবলিগ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
-

ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ সৌদি যুবরাজের
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের’ জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি প্রেস এজেন্সি যুবরাজের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘হুতি বিদ্রোহীদের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ তেহরান সরকারের সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের শামিল।’ তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এসব কথা বলেন।যুবরাজ সালমান বলেন, ‘এটাকে যুদ্ধ হিসেবে দেখা যেতে পারে।’ উল্লেখ্য, শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর পাশে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেয় সৌদি বাহিনী। এ হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত বলে অভিযোগ করে সৌদি সরকার। এএফপি। -

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে সোপর্দ করুন: নিরাপত্তা পরিষদকে এইচআরডব্লিউ
জীবন নিউজ ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে সোপর্দ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রাখাইনে অপরাধের বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের পরামর্শ দেয় মানবাধিকার সংগঠনটি। শনিবার তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
এর আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনে সামরিক বাহিনীর রক্তাক্ত অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশমুখী শরণার্থী ঢল অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। মানবাধিকার সংস্থাটি জোর দিয়ে জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বহু মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
এইচআরডব্লিউর আন্তর্জাতিক বিচারবিষয়ক সহকারী পরিচালক পরম-প্রিত সিং বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের টার্গেট করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞের সুস্পষ্ট বিচার হওয়া উচিত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত আইসিসির কাছে মিয়ানমারে সংগঠিত হওয়া নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞের পরিস্থিতি তুলে ধরা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গুরুতর অপরাধের নথি দাখিল করা, যা মিয়ানমার সরকারকে আইসিসির মুখোমুখি করবে।
সিং আরও বলেন, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উচিত মিয়ানমারে সংগঠিত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ফাইল তৈরি করতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অপরাধীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা তাদের প্রাপ্য বিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ১৯৯৮ সালে রোম চুক্তি বলে প্রতিষ্ঠিত আইসিসির শর্তানুসারে, রোম চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশে এই যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আইসিসির কাছে পরবর্তী তদন্তের জন্য শুধু নথি দাখিল করতে পারে। -

বিমান থামিয়ে মাঝপথেই যাত্রীদের বলা হল ‘বাসে চলে যান’
ডেস্ক: গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশ থেকে নেমে গেল পাকিস্তানের একটি বিমান। ঝাপসা দৃষ্টির কারণে বিমানটি নামানো হয় বলে জানা গেছে।
এরপর সেই বিমানের যাত্রীদের বাসে করে নিজেদের গন্তব্যস্থলে চলে যেতে বলা হয়। জানা যায়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের একটি বিমান আবু ধাবি থেকে আসছিল। পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু সেটি লাহোরে নেমে পড়ে। যাত্রীদের জানান হয় দৃষ্টি স্পষ্ট না হওয়ার কারণে বিমানটি নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের অনুরোধ করা হয় তারা যেন নিজেদের গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য বাস ব্যবহার করেন। কিন্তু যাত্রীরা সেই অনুরোধ মেনে নিতে অস্বীকার করে। অনুরোধে কাজ না হওয়ায় বিমান কর্মীরা বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করে দেয়। ফলে বিমানের মধ্যে দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়।
অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক যাত্রী। তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। লাহোর থেকে রহিম ইয়ার খানের দূরত্ব ৬২৪.৫ কিলোমিটার। যাত্রীরা অনুরোধ করে, তাদের যেন রহিম ইয়ার খান বিমানবন্দরে না নামিয়ে অন্তত মূলতান বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। রহিম ইয়ার খান বিমানবন্দর থেকে মূলতান বিমানবন্দরের দূরত্ব ২৯২ কিলোমিটার।
