Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে: ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

    গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে: ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধে গাজা উপত্যকায় ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এমনটি জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০,০৩৪।

    এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    এদিকে, স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে গাজায় গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন বলে জানিয়েছে একটি শীর্ষস্থানীয় সাহায্য সংস্থা।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (এমএপি) স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) জানায়, তাদের স্থানীয় সহযোগী সংস্থা আর্দ আল ইনসান দ্বারা স্ক্রিনিং করা গর্ভবতী মায়েদের ৪৪% ‘তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং তাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন’।

  • রুশ উপকূলে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-জাপানে সুনামি সতর্কতা

    রুশ উপকূলে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-জাপানে সুনামি সতর্কতা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    রাশিয়ার পূর্ব উপকূলের কামচাটকা উপদ্বীপে অনুভূত হয়েছে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৩০ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে করে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে অঞ্চলটিতে। এই ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-জাপানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পশ্চিম উপকূলে একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে— যদিও তা ভয়াবহ রূপ নেয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

    হাওয়াই এবং আলাস্কার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত উচ্চ ভূমিতে আশ্রয় নেয়ার মতো জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের পরামর্শ জারি করা হয়েছে। শক্তিশালী স্রোত ও বিপজ্জনক ঢেউয়ের বিষয়ে এসব অঞ্চলগুলোর জনসাধারণকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

    সাধারণত সুনামির প্রভাব কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে, তাই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার (৩০ জুলাই) ভোরের আগে পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা না গেলেও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরবর্তী তিন ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদফতর।

    এদিকে, জাপানে সুনামি সতর্কতা এখন দেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে শত শত কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে—উত্তরের হোক্কাইডো থেকে শুরু করে দক্ষিণের ওয়াকায়ামা প্রদেশ পর্যন্ত।

    জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, সুনামি ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কর্মীকে ইতিমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।

    উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর এই কেন্দ্রটি ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি সুনামি-আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এদিকে, ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স জানিয়েছেন, সুনামির কারণে হাওয়াই এবং সম্ভবত ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু বন্দরে ও উপকূলীয় স্থাপনায় ক্ষতি হতে পারে, তবে আমেরিকাসমূহে (উত্তর ও দক্ষিণ) ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই।

    হাওয়াইয়ে সুনামি ঢেউয়ের উচ্চতা ৩ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় ঢেউয়ের উচ্চতা হতে পারে ১ থেকে ২ ফুট। তুলনামূলকভাবে, ২০১১ সালে জাপানে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৪২ ফুট পর্যন্ত ছিল বলে জানান ড. জোন্স।

    তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটা আসলে কোনো ঢেউ নয়। এটি সাময়িকভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বেড়ে যায়, তা বোঝায়।’

    তিনি আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ক্রিসেন্ট সিটির বন্দরে প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

    ড. জোন্স বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া জায়গাটি দূরে হলেও সান্তা বারবারার জন্য ঢেউয়ের পূর্বাভাস কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বা ওয়াশিংটনের তুলনায় বেশি। এর কারণ সমুদ্রে সৃষ্ট তরঙ্গের ধরণ ও চলাচলের প্যাটার্ন।

  • ইসরায়েলি পর্যটকের কান ছিঁড়ে ফেললেন এক সিরীয়

    ইসরায়েলি পর্যটকের কান ছিঁড়ে ফেললেন এক সিরীয়

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    গ্রিসে এক ইসরায়েলি পর্যটকের কান ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সিরিয়ান এক নাগরিক গ্রিসের সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা ওই ইসরায়েলির কান ছিড়ে ফেলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর, টাইমস অব ইসরায়েলের।

    ভুক্তভোগী ইসরায়েলি নাগরিক স্টাভ বেন-সুসান ওই সিরিয়ানকে নিয়ে বর্ণবৈষম্যমূলক কথা বলায় গ্রিস পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমটি।

    গ্রিসের একটি হাসপাতাল থেকে ওই ইসরায়েলি পর্যটক বলেন, তারা অ্যাথেন্সিয়ান রিভেরার বলিভার সৈকতে গিয়েছিলেন। ওই সময় অপর এক ইসরায়েলি দম্পতির সঙ্গে তিনি ও তার স্ত্রী কথা বলছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাদের ভিডিও করা শুরু করে এবং ‘ফ্রি ফিলিস্তিন, ইসরায়েল নিপাত যাক, আমি হামাস’— এমন স্লোগান দিতে থাকে।

    এক পর্যায়ে ওই সিরিয়ান ব্যক্তি তাদের ওপর বালু ছুড়ে মারলে তিনি তাকে ধাক্কা দেন। এরপর নিরাপত্তা কর্মীরা এসে তাদের ছাড়িয়ে ওই সিরিয়ানকে সৈকত থেকে সরিয়ে দেন।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর স্ত্রীকে নিয়ে বের হলে দেখতে পান ওই সিরিয়ান তাদের কাছে আসছেন এবং তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি বাধা দিতে গেলে সিরিয়ান ওই ব্যক্তি তার কানের একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলে।

    উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে গ্রিসে ইসরায়েল-বিরোধী তৃতীয় ঘটনা এটি। বুধবার ভোরে গ্রীক দ্বীপ রোডসে ছুটি কাটানোর সময় ইসরায়েল-বিরোধী হামলাকারীদের একটি দল ইসরায়েলি কিশোরদের ওপর আক্রমণ করে। একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি ক্রুজ জাহাজকে গ্রীক দ্বীপ সাইরোসে নোঙ্গর করতে বাধা দেয়ার ঘটনাও ঘটে।

  • ভারতে গণকবরের অভিযোগে তোলপাড়, সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

    ভারতে গণকবরের অভিযোগে তোলপাড়, সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থালা প্রায় আটশো বছর ধরে পরিচিত তীর্থস্থান হিসেবে। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পূণ্যার্থী এই শহরে ভিড় জমায়। ধর্মাস্থালায় অবস্থিত আলোচিত ভগবান মঞ্জুনাথের মন্দির নিয়ে এক অভিযোগের জেরে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এমনকি গণকবর থাকার সন্দেহে আলোচিত এই ইস্যুর খবর ও তথ্য প্রচারেও এসেছে নিষেধাজ্ঞা।

    স্পর্শকাতর হওয়ায় ধর্মাস্থালার এই মামলা সংক্রান্ত ৮ হাজার ৮ শ’ অনলাইন পোস্ট, ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাঙ্গালুরুর একটি আদালত। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সংবাদ প্রচারেও। যা নিয়েও ক্ষোভ ছড়িয়েছে ভারতজুড়ে। এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে একটি ইউটিউব চ্যানেল। এদিকে, ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

    ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জুলাই। ধর্মস্থালায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন দাবি করে দলিত সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালীদের নির্যাতনের শিকার শতাধিক নারী ও শিশুর মরদেহ তিনি মন্দির চত্বরে মাটিচাপা দিয়েছেন। দেহগুলোতে নৃশংসতার স্পষ্ট চিহ্ন ছিল বলেও অভিযোগ তার। সেখান থেকে কয়েকটি কঙ্কালও উদ্ধার হয়েছে। এরইমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। আদালত তার নাম প্রকাশ করেনি।

    এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পর ভারতজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এতদিন পর কেন এই বিতর্ক উঠেছে সে প্রশ্ন। যদিও জবানবন্দী দাতার দাবি, ২০১৪ সালে পরিবারসহ ধর্মস্থালা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অপরাধবোধ থেকেই দিচ্ছেন সাক্ষ্য।

    আইনজীবী উমাপাথি এস বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় চলমান তদন্ত অসন্তোষজনক। সরকারের উচিত ছিল মামলাটি তদারকি করার জন্য একজন বিশিষ্ট এবং অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। এটি একটি বা দুটি মৃত্যু বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গণধর্ষণ, গণহত্যা এবং গণকবরের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে।

    সাবেক ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জবানবন্দীর পর, ২০০৩ সালে ধর্মাস্থালায় নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর পরিবার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, তোপের মুখে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক রাজ্য সরকার।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা থেকে সরে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

    গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা থেকে সরে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফ উইটকফ।

    শুক্রবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

    উইটকফের অভিযোগ, হামাসের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর কোনো আগ্রহ নেই। এ সময় তিনি বিকল্প উপায়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার হুঁশিয়ারিও দেন।

    এর আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তার প্রতিনিধিদের কাতার থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনেন। ফলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়ার পেছনে ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধে আগ্রহী নন।

  • ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের ‘গণহত্যা’ মামলায় যোগ দিচ্ছে ব্রাজিল

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের ‘গণহত্যা’ মামলায় যোগ দিচ্ছে ব্রাজিল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    সাউথ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল ঘোষণা করেছে যে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘গণহত্যা’ চলার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) যে মামলা দায়ের করেছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে। পশ্চিমা নয়—এমন দেশগুলোর চাপ বৃদ্ধির দাবি জোরালো হওয়ার মধ্যেই ব্রাজিল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জুলাই) জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপের প্রক্রিয়া তারা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ নিয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চলমান নৃশংসতার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। ব্রাজিলের বিশ্বাস, নৈতিক দ্বিধা বা রাজনৈতিক গাফিলতির আর কোনো স্থান নেই। দায়মুক্তি আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।’

    ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের খবর প্রথম প্রকাশ করে ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ফোলহা ডি সাও পাওলো। ইসরায়েলের গাজায় সহায়তা প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং গণদুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড ক্রমবর্ধিত সমালোচনার মুখে রয়েছে।

    ব্রাজিল সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশনের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনের বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সহিংসতার ঘটনায় ব্রাজিল গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে, যা কেবল গাজা নয়, পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে পড়েছে।’

    যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে খাদ্যাভাব: ব্রাজিলের তীব্র নিন্দা

    লাতিন আমেরিকার দেশটি বলেছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেসামরিক জনগণ ‘ক্রমাগত সহিংসতা’ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ‘যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে খাদ্যাভাবের ন্যক্কারজনক ব্যবহার’।

    স্পেন, তুরস্ক ও আয়ারল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশও ইতিমধ্যে এই মামলায় হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে আইসিজে-কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের রায় দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

    ইসরায়েলের সমালোচনায় ব্রাজিলের কণ্ঠস্বর সম্প্রতি তীব্র হয়েছে। গত ব্রিকস সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছিলেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মামলায় হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা থেকে সুরক্ষার অধিকার অপরিবর্তনীয়ভাবে লঙ্ঘিত হওয়ার যৌক্তিক সম্ভাবনা’-এর ভিত্তিতে।

    ইসরায়েল ও ব্রাজিলিয়ান ইহুদি সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

    ব্রাজিলিয়ায় ইসরায়েলের দূতাবাস বলেছে, ব্রাজিলের বিবৃতিতে ‘অতিরঞ্জিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত ভাষা’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে হামাসের ভূমিকা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। ব্রাজিলের জাতীয় ইহুদি সংগঠন কনিব এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেছে, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব ভেঙে দেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত, যা আমাদের পররাষ্ট্র নীতির চরমপন্থাকে প্রমাণ করে।’

    আইসিজে-এর সাম্প্রতিক রায় ও পরিস্থিতি

    আইসিজি এখনও গাজায় গণহত্যা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেননি। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদালত ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোসহ গণহত্যা রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই চাপ বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে—যদিও বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গাজায় ইসরায়েলের ‘ অধিকার লঙ্ঘন’ সম্পর্কে সতর্ক করছে।

    গত মার্চ মাসে, ইসরায়েল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ জারি করে কয়েক মাস ধরে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ রেখেছিল। পরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)-এর মাধ্যমে সীমিত সহায়তা পুনরায় শুরু করে।

    মে মাস থেকে জিএইচএফ-এর বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্যের জন্য অপেক্ষারত ১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে। এদিকে, গাজায় অনাহারে মৃত্যুর খবরও বাড়ছে।

    জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জিএইচএফ-এর কেন্দ্রগুলিকে ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেছেন, যা ইসরায়েলের নির্দেশে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে প্রতিস্থাপন করেছে।