Category: আন্তর্জাতিক

  • টানা তৃতীয় বছরের মতো কমলো চীনের জনসংখ্যা

    টানা তৃতীয় বছরের মতো কমলো চীনের জনসংখ্যা

    অনলাইন ডেস্ক : ২০২৪ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে চীনের জনসংখ্যা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি থাকায় গত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ১৩ লাখ ৯০ হাজার কমেছে। এতে বর্তমান জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৮২ লাখ। খবর, রয়টার্স।

    গত শতাব্দীর শেষ দুই দশক থেকেই ক্রমান্বয়ে কমছে দেশটির জনসংখ্যা। তবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা জন্মকেও ছাড়িয়ে যায়।

    সবশেষ বছর এক কোটি ৯৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে চীনে। এর আগের বছর সংখ্যাটি ছিল এক কোটি ১১ লাখ। এতে মৃত্যুর হার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে গত বছর চীন ৯৫ লাখ ৪০ হাজার নবজাতকের জন্ম তালিকাভুক্ত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার বেশি। তারপরও জন্মের এই সংখ্যা মৃত্যুকে ছাড়াতে না পারায় জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকছে।

    উল্লেখ্য, মৃত্যুহার বেশি থাকার তথ্য বেশ উদ্বেগজনক। কারণ এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির শ্রমিক এবং ভোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বৃদ্ধদের সেবা ও অবসরকালীন ভাতার বাড়তে থাকা খরচ অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

  • মালয়েশিয়ায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৭৬ বাংলাদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৭৬ বাংলাদেশি আটক

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৭৬ বাংলাদেশিসহ ১২১ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশটির পাহাড়ি এলাকা ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে টানা দুই দিন ধরে চলা যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার থেকে ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে শুরু হওয়া দুই দিনের যৌথ অভিযানে অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে মোট ১২১ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।

    আটককৃতদের মধ্যে ৭৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ইন্দোনেশিয়ান, ১৪ জন মিয়ানমারি, ৪ জন পাকিস্তানি ও ২ জন করে ভারতীয় ও নেপালি এবং একজন ভিয়েতনামি রয়েছে। আটকদের মধ্যে ১১১ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী রয়েছেন।

    ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা পুলিশের প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আজরি রামলি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পাহাড়ি পর্যটন ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে বিদেশিদের অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ জেলায় সেসব অপরাধীদের নির্মূল করতে মালয়েশিয়ার পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল, ইমিগ্রেশন বিভাগ, যানবাহন বিভাগ, কাস্টমস বিভাগ, শ্রম বিভাগ, রাজ্য প্রয়োগ বিভাগ, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা কাউন্সিল, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা ভূমি অফিস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরের ১৪৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

    অভিযানে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৬৮৬ জন স্থানীয় এবং ২ হাজার ৯০ জন বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২১ জন বিদেশিকে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৬(১)(সি) এবং ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

    সহ ১২১ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশটির পাহাড়ি এলাকা ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে টানা দুই দিন ধরে চলা যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার থেকে ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে শুরু হওয়া দুই দিনের যৌথ অভিযানে অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে মোট ১২১ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।

    আটককৃতদের মধ্যে ৭৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ইন্দোনেশিয়ান, ১৪ জন মিয়ানমারি, ৪ জন পাকিস্তানি ও ২ জন করে ভারতীয় ও নেপালি এবং একজন ভিয়েতনামি রয়েছে। আটকদের মধ্যে ১১১ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী রয়েছেন।

    ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা পুলিশের প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আজরি রামলি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পাহাড়ি পর্যটন ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে বিদেশিদের অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ জেলায় সেসব অপরাধীদের নির্মূল করতে মালয়েশিয়ার পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল, ইমিগ্রেশন বিভাগ, যানবাহন বিভাগ, কাস্টমস বিভাগ, শ্রম বিভাগ, রাজ্য প্রয়োগ বিভাগ, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা কাউন্সিল, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস জেলা ভূমি অফিস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরের ১৪৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

    অভিযানে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৬৮৬ জন স্থানীয় এবং ২ হাজার ৯০ জন বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২১ জন বিদেশিকে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৬(১)(সি) এবং ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

    সূত্র যমুনা টিভি

  • ‘বাফার জোন’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যাওয়ার আহ্বান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর

    ‘বাফার জোন’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যাওয়ার আহ্বান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে অপসারণের পর ‘বাফার জোন’ দখল করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। তবে ধীরে ধীরে সিরিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অবিলম্বে সেখান থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার কার্যত শাসক আহমেদ আল-শারার সাথে কথা বলতে গিয়ে ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ।

    ইসরায়েলি দখলদারদের বাফার জোন দখল একটি বেপরোয়া কাজ এবং এটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

    আল-শারার হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) গ্রুপের নেতৃত্বে বিরোধী যোদ্ধাদের দ্বারা আসাদকে উৎখাত করার পর, ইসরায়েল গত মাসে গোলান হাইটসের পাশে অবস্থিত ‘বাফার জোন’ যা সিরিয়া ও ইসরায়েলকে পৃথককারী হিসেবে পরিচিত, সেখানে সামরিক ইউনিট মোতায়েন করে ইসরায়েল।

    মূলত, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ-মধ্যস্থতায় পরিচালিত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই অঞ্চলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সামরিক নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    ইসরায়েলের সেনারা যখন ‘বাফার জোন’ দখল করে নেয়, তখন সিরিয়া জুড়ে শত শত বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। তারা বলেছে যে তাদের বিমান হামলা ‘চরমপন্থীদের’ হাতে অস্ত্র পৌঁছানো বন্ধ করাই মূলত ওই অভিযানের অংশ।

  • নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা হচ্ছে ট্রাম্পের অভিষেকের মঞ্চ

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা হচ্ছে ট্রাম্পের অভিষেকের মঞ্চ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেয়া হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রাম্পের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে নিরাপত্তা কর্মীরা।

    এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ। গড়ে তোলা হচ্ছে ৩০ মাইল (৪৮ কিমি) লম্বা কালো রং এর অস্থায়ী বেষ্টনি। মোতায়েন হচ্ছে ২৫ হাজার বাড়তি আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা।

    অভিষেক অনুষ্ঠানে দর্শকশ্রোতাদের নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য বসানো হচ্ছে চেকপয়েন্ট। থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরাও।

    অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ করা হচ্ছে দেখভাল করার জন্য। দর্শকদেরও তল্লাশি করে তারপরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে শপথ অনুষ্ঠানে।

    ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে আগামী সপ্তাহে সোমবার শপথ নেয়ার পর হোয়াইট হাউজে যাত্রা করবেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের নিরাপত্তারক্ষীরা যথেষ্ট উদ্বিগ্নে রয়েছে। কেননা সম্প্রতি বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা এরই মধ্যে ঘটেছে।

    এদিকে ট্রাম্প বিরোধীরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার যাতে কোন ত্রুটি না থাকে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন।

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পও গতবছর নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই হুমকির মুখোমুখি হয়ে আসছেন। তাকে হত্যার চেষ্টা চলেছে একাধিকবার। তাই শপথ অনুষ্ঠানে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেইদিকে নজর রয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের। এর আগে ২০১৬-২০ মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন ট্রাম্প। ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি।

  • দক্ষিণ আফ্রিকার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতার

    দক্ষিণ আফ্রিকার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরবেলা রাজধানী সিউলে ইউনের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হযয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ইওলকে গ্রেফতারের কয়েক মিনিট পরেই দুর্নীতি তদন্ত অফিসে নেয়া হয়েছে।

    ইউনকে গ্রেফতারে তদন্তকারীদের প্রচেষ্টা প্রাথমিকভাবে রুখে দেন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর (প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস-পিএসএস) সদস্যরা। পরে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা।

    এর আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে একবার ইউনকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে কয়েক ঘণ্টার অভিযান চালান তদন্তকারীরা। তবে তার নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সেই অভিযান ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তাকে গ্রেফতার করা হলো।

    গত ৩ ডিসেম্বর আকস্মিক দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু তীব্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

    স্বল্পস্থায়ী এই সামরিক আইন জারির জেরে গত ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে দেশটির পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয়। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    রাষ্ট্রদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারীদের তলবে হাজির হতে ইউন অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে, গত ৩১ ডিসেম্বর ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দেশটির একটি আদালত।

  • একদিকে দাবানল, অন্যদিকে তুষারঝড় চলছে যুক্তরাষ্ট্রে

    একদিকে দাবানল, অন্যদিকে তুষারঝড় চলছে যুক্তরাষ্ট্রে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একদিকে দাবানল, অন্যদিকে তুষারঝড়; বিপরীতমুখী দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। কোনোভাবেই সামাল দেয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ুগত একাধিক পরিবর্তন কাজ করে এমন বিপরীতমুখী চরম ভাবাপন্ন অবস্থার পেছনে।

    এই সময়ে দেশটির দুই প্রান্তে আবহাওয়ার চরম ভাবাপন্ন দুই রূপের জন্য বায়ুমন্ডলীয় বিভিন্ন ঘটনাকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলোচিত জেট স্ট্রীম। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর-ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চগতির বায়ুপ্রবাহই জেট স্ট্রীম।

    একই সাথে একই অঞ্চলে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়ার কারণ মূলত এই বায়ুপ্রবাহের ঢেউ খেলানো গড়ন। এই গড়নের কারণে একদিকে তৈরি হয় উচ্চচাপ; অন্যদিকে নিম্নচাপ। ফলে, একই সাথে অঞ্চলের একদিকে দাবানল ও অন্যদিকে দেখা দেয় তুষারপাতের মতো ঘটনা।

    আবহাওয়াবিদ জিম ফোয়েরস্টার বলেন, ঢেউয়ের গড়নের উচু অংশকে বলা হয় রিজ আর নিচু অংশকে বলা হয় ট্রাফ। রিজ অংশে বাতাস উষ্ণ হয়ে দ্রুত গতিতে উঠতে শুরু করে উপরে। ফলে নিচের ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে হয় সংঘর্ষ। কমে যায় বাতাসের আর্দ্রতা। অন্যদিকে, ঢেউয়ের নিচু অংশে বায়ু উষ্ণতা হারিয়ে হতে শুরু করে আর্দ্র। দ্রুত গতিতে নামতে শুরু করে নীচে। ফলে তৈরি হয় নিম্নচাপ।

    জেট স্ট্রীমের কারণেই তৈরি হতে পারে জলবায়ুগত আরেক পরিস্থিতি; যার নাম অ্যাটমোস্ফিয়ারিক ব্লকিং। জেট স্ট্রীম এর ঢেউ খেলানো গড়ন যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তখন তাকে বলা হয় অ্যাটমোস্ফিয়ারিক ব্লকিং। এর কারণে, একই স্থানে দীর্ঘদিন বিরাজ করে উচ্চচাপ কিংবা নিম্নচাপ। যেকারণে, আরও বেড়ে যায় চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি।

    তাছাড়া, এল নিনো ও লা নিনার প্রভাবেও ঘটে এমন ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে এলো নিনো- লা নিনা। সর্বোপরি, জলবায়ু পরিবর্তনই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কারণ বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা।

    গত ৫ জানুয়ারি থেকে ভয়াবহ তুষারঝড়ে কুপোকাত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চল। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক দুর্ঘটনা, শিডিউল বিপর্যয়, প্রাণহানিসহ সব মিলিয়ে বিপাকে লাখ লাখ মানুষ।

    অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পুড়ছে হাজার হাজার একর জমি। ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলা হচ্ছে একে।