Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাজ্যে ৩৯ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়

    যুক্তরাজ্যে ৩৯ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়

    যুক্তরাজ্যের এক্সেসে লরি থেকে ৩৯ লাশ উদ্ধারের ঘটনা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। প্রথমে বেশিরভাগই চীনা নাগরিক সন্দেহ করা হলেও এবার তাদের মধ্যে ২০ জন ভিয়েতনামের নাগরিক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেখানকার একাধিক সংগঠন।

    এ ব্যাপারে ভিয়েতনামের বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সংগঠন ‘ভিয়েত হোম’ শনিবার জানিয়েছে, ভিয়েতনামের একটি সংস্থার থেকে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিখোঁজ প্রায় ২০ জনের ছবি পাওয়া গেছে। মনে করা হচ্ছে, নিখোঁজদের সবার লাশই ওই ট্রাকে রয়েছে। ভিয়েতনামের এক সংগঠন চোরা কারবারের সঙ্গে যুক্ত অভিবাসীদের ব্রিটেনে কাজ পাইয়ে দেয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তারাই ওই ছবি ভিয়েত হোমকে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
    অন্যদিকে, ব্রিটেনের ট্রাক থেকে উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে তার সন্তান রয়েছে বলে এদিনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আরও এক ভিয়েতনামবাসী। তার নাম নুইয়েন দিন গিয়া। ব্রিটেনে যাওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তার কাছে ফোন এসেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এর আগে, ফাম থি ত্রা মাই (২৬) নামে এক তরুণীর লাশ ওই ট্রাকে রয়েছে বলেও দাবি করেছে তার পরিবার।

    পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত তথা ট্রাক মালিক সন্দেহে ধৃত চারজনের মধ্যে একজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার লন্ডন থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে গ্রেজ এলাকার এক শিল্পাঞ্চল থেকে এক ট্রাকের ভিতরে রেফ্রিজারেটর কন্টেনার থেকে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে আটজন নারী। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

  • তুর্কিরা মানুষ হিসেবে কেমন?

    তুর্কিরা মানুষ হিসেবে কেমন?

    মুসলিমদের শেষ খেলাফতের দেশ তুরস্ক দেখতে কেমন? কেমন দেশটির মানুষের জীবনাচার। দেশটিতে সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়ার আগে কতো রকমারি কৌতূহল যে মনে এসে ভীড় জমায়।

    যেদিন বিমানে চেপে বসি সেদিন কৌতূল আরও বেড়ে যায়। দেখতে পরীর মতো, ইয়া লম্বা লম্বা বিমানবালাদের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।

    বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে আসার পর সেই মুগ্ধতা যেন খানিকটা ভয় আর বিস্ময়ে পরিণত হয়। মেয়েগুলো সমানে সিগারেট ফুঁকছে আর মাঝেমধ্যে আমাদের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিচ্ছে।

    ওমা এসব কী! একে তো মেয়ে মানুষ সিগারেট খাচ্ছে , সে আবার চোখ টিপ দেয়!

    ধার্মিক বাঙালির পিলে চমকে ওঠার মতো অবস্থা। হায়! হায়! একি! এই তুরস্ক তরুণ বীর ফাতিহ সুলতানের দেশ। এই দেশ সুলাইমান দ্যা ম্যাগনিফিশেন্ট গ্রেট সুলেমানের দেশ। বাঙালির কাছে এই দেশ হুররম সুলতানের দেশ!

    এই দেশে পা দিয়েই বুঝতে পারি, তুর্কিরা মানুষ হিসেবে উষ্ণ। বিদেশিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে দিয়ে তারা অভ্যস্ত। আমরাও উষ্ণ অভ্যর্থনা পাই। ওরা যাকে বুকে টেনে নেয় তাকেই আবার পশ্চিমাদের মতো পেছন থেকে পিঠ দেখায় না।

    তুর্কিদের পশ্চিমাদের মতো ‘ভণ্ড আর ষড়যন্ত্রকারী না’ এই ভেবে আনন্দ পাই।

    দেশে থাকতে ভেবেছিলাম তুর্কিরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ইংরেজি জানে। হয়তো সব মানুষই ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। তুরস্কে আসার পর ভুল পাল্টায়। এটা একটা জাতিরাষ্ট্র। এখানে টার্কিশই হচ্ছে একমাত্র ভাষা। ফলে প্রথম গিয়ে আমাদের পড়তে হয় এক মধুর সমস্যায়। টার্কিশরা ইংরেজি জানে না আর আমরা টার্কিশ। কিন্তু ওরা আমাদের এ দুর্বলতার সুযোগটা নেয়নি। দোকানে গিয়ে কিছু কেনে ওদের হাতে টাকা দিয়েছি, ওরা হিসেবে করে বাকিটা ফেরৎ দিয়েছে। বাঙালি হলে হয়তো ২ টাকার জায়গায় ৫ টাকা রেখে চিৎপটাং দিত। তুর্কিদের এই বিষয়টি ভাবলে আমার এখনো ভালো লাগে।

    ওরা বেশ লম্বা গড়নের, সুন্দর। শিক্ষিত সবাই মোটামুটি প্রমিত উচ্চারণে কথা বলে। দেশটিতে বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর বাস। তবে তুর্কিরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের হাতে নীপিড়নের স্বীকার হচ্ছে এমন অভিযোগও শোনা যায়। তবে ওদের জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ রয়েছে এমন সব সমস্যা সমাধানের। তুর্কিরা তাদের জাতীয় উৎসবগুলো বেশ সাড়ম্বর করে পালন করে। কিন্তু ধর্মীয় উৎসব যেমন ঈদ নিয়ে তাদের কোন উৎসাহ দেখা যায় না। অন্য আট দশটা দিনের মতোই ঈদের দিনটা।

    কোন সাহায্য লাগলে তুর্কিরা এগিয়ে আসে। রাস্তায় কোন অসুবিধা হলে ওরাই এসে জানতে চাইবে কোন সাহায্য লাগবে কি না। বিশেষ করে বিদেশিদের সাহায্য করাটা ওরা দেখে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে।

    তুর্কিরা নিজেদের তার্কিশ-মুসলিম পরিচয় দিয়ে খুব গর্ববোধ করে। মুসলিম শব্দটির সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে তুর্কিদের মসজিদের আশপাশে খুব একটা দেখা যায় না। মোট নাগরিকের খুব অল্পসংখকই ব্যক্তি জীবনে ধর্ম পালন করে বলে মনে হয়েছে আমার। তবে তাদের মসজিদগুলো দৃষ্টিনন্দন। এক একটা মসজদি যেন এক একটা স্থাপত্য শিল্প। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তুরস্কে থাকতে মাঝেমধ্যেই ভাবতাম টানা ৬০০ বছর যারা এই পৃথিবী শাসন করল তাদের কেন আজ এই পরিণতি?

    নিচে নামতে নামতে এক আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হতে হলো!

    তুর্কিরা আসলে যুদ্ধ চর্চাটা ভালোই করছিল, কিন্তু বুদ্ধিমত্তার চর্চাটা সেভাবে করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে হেরে যায়। তুর্কিদের একটা বিশাল অংশকে দেখেই মনে হয়েছে ‘মাথা মোটা’। হুট করেই রেগে যাবে। রাগলে আর থামানো যায় না। এমন মাথা দিয়ে কিভাবে ৬ শতক পৃথিবী শাসন করেছে এটাই বিস্ময়ের।

    পৃথিবী সম্বন্ধে খুব কমই জানে তুর্কিরা। ওদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষের ধারণা নেই বাংলাদেশ কোথায়! যারা জানে তারা ভুল জানে। এ নিয়ে বহুবার বহুজনের সাথে তর্ক হয়েছে।

    গত দেড় দশক ধরে তুরস্ক শাসন করছে ধর্মপন্থী এরদোয়ান নেতৃত্বাধীন সরকার। তার শাসন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও জনগণের ভোটেই এখনো তিনি টিকে আছেন। তবে আমার মনে হয়, পশ্চিমাদের নাকের ডগায় একটা মানবিক তুরস্ক কিভাবে গড়ে তোলা যায়, যা হবে সব মানুষের জন্য নিরপাদ এ নিয়ে তুর্কিদের ভাববার সময় এসেছে।

    জীবনের বেশ কয়েকবছর তুর্কিতে কাটিয়ে যেদিন দেশে ফিরে আসে সেদিন আমার চোখে মুখে লেগে ছিল ওদের জন্য ভালোবাসা-মায়া। সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্নায় ভরা এক অম্ল-মধুর তুর্কি জীবন ছিল আমার। ইস্তানবুলের পথেঘাটে কতো স্মৃতি ছড়ানো ছিটানো।

    মনে পড়ে, ২০১৪ সালে তুরস্কে যাওয়ার পর ওদের প্রজাতন্ত্র দিবসে কয়েকজন বিদেশী বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হই। রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় আমরা ডর্মে ফিরতে পারছিলাম না। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ, পথও চিনি না। তখন একজন তুর্কি তার প্রাইভেটকারে করে আমাদের ডর্মে পৌছে দিয় গিয়েছিলেন। শুধু তাই না, পরে একদিন তিনি আমাদের দাওয়াত করে খাইয়েছিলেনও। তুর্কিদের এ উষ্ণতাকে ভালো না বেসে পারা যায় না। না চাইলেও বলতেই হয়, তুরস্ক দেশটা সত্যিই খুব অসাধারণ, যেন প্রাকৃতিক লীলাভূমির এক স্বর্গভূমি!

  • ৩৯ লাশ নিয়ে চীনের সংবাদপত্রে ক্ষোভ

    ৩৯ লাশ নিয়ে চীনের সংবাদপত্রে ক্ষোভ

    লরিতে ৩৯ লাশ পাওয়ার ঘটনার দায় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও নিতে হবে বলে চীনের সংবাদপত্রে মন্তব্য করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ওই দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে চীনের সংবাদপত্রে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে।

    যুক্তরাজ্যের একটি রেফ্রিজারেটেড লরিতে পাওয়া ৩৯ লাশের সবই চীনের নাগরিকদের বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিরা মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ শুক্রবার চীনের সরকার সমর্থিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, যুক্তরাজ্য ও অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৩৯ লাশের ব্যাপারে অবশ্যই কিছু দায়িত্ব নিতে হবে।

    গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পৌনে দুইটার দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের মধ্যাঞ্চল থেকে ২০ মাইল দূরে এসেক্সের গ্রেস শহরের শিল্প এলাকায় একটি লরির কনটেইনার থেকে ৩৯টি লাশ উদ্ধার করে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। এ ঘটনায় লরির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এসেক্স পুলিশের নতুন বিবৃতি অনুযায়ী, বেলজিয়াম থেকে ওই লরি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিল। আয়ারল্যান্ডের অন্যতম সমুদ্রবন্দর হোলিহেড দিয়ে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেলজিয়ামের জিব্রেগা থেকে এসেক্সের পারফ্লিটে আসে লরিটি। এ ঘটনার তদন্তে মানব পাচারের বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে পুলিশ।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাজ্যে এভাবে ট্রাকে করে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা ঘটছে। এর আগেও যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনের এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। ২০০০ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর ডোভারে টমেটোর ট্রাকে ৫৮ চীনা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছিল ব্রিটিশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

    চীনের বহুল পঠিত ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে বলা অসম্ভব যে এই মর্মান্তিক ঘটনার দায়িত্ব কতখানি হওয়া উচিত। তবে এই ধরনের গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় নাগরিকদের চোখের সামনে। এটা স্পষ্ট যে, যুক্তরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলো এই ধরনের মৃত্যু রোধে তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেনি।

    চীনের শাসক কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র এ সংবাদপত্রে আরও বলা হয়, ‘এমনকি যদি দেশে পাচার হতেও দেখা যায়, এর জন্য ভুক্তভোগীদের মৃত্যুর জন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না। আশা করি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলো মানবাধিকার রক্ষায় তাদের করা নানা প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবে এবং চীনের নাগরিকদের নির্যাতন ও হঠাৎ মৃত্যু থেকে বাঁচাতে সেই সব কার্যকর করবে। দুই দশক আগে ঘটা ডোভার দুর্ঘটনা থেকে ব্রিটেন শিক্ষা নেয়নি বলে মনে হচ্ছে।’

    সংবাদপত্রে বলা হয়, ‘ভাবুন তো, ইউরোপীয় নাগরিকেরা এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হলে ইউরোপীয় দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কতটা পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যবস্থা নিত। ব্রিটিশ ও ইউরোপীয়রা নিজেদের কি জিজ্ঞাসা করতে পারবে, কেন তারা কেন একই মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে পারল না…ঘটনাগুলো রোধে তারা যা করতে পারত সেসব গুরুতর ব্যবস্থা কি নিয়েছে?’

    চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহগুলো তাদের বলে নিশ্চিত করেনি। লন্ডনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস আজ জানিয়েছে, এসেক্সে পুলিশের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, নিহত লোকজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ করছে ব্রিটিশ পুলিশ। এই মুহূর্তে নিহত ব্যক্তিরা চীনের নাগরিক কি না, তা বলা সম্ভব না।

    এসেক্সের পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে নিহত লোকজনকে শনাক্ত করার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা কাজও করছে।
    বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে লরিটি কতক্ষণ সে দেশে ছিল, তারা এ বিষয়টি তদন্ত করছে।
    লরিটির সামনের দিকের কাচে সাঁটানো স্টিকারে লেখা ছিল, ‘আয়ারল্যান্ড’ ও ‘দ্য আলটিমেট ড্রিম’। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেছেন, আয়ারল্যান্ড হয়ে লরিটি যুক্তরাজ্যে গিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হবে।

  • সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরাকে ৪০ জনের প্রাণহানি

    সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরাকে ৪০ জনের প্রাণহানি

    সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন মানুষ। এর মধ্যে অর্ধেক মারা গেছেন সামরিক ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টাকালে। তারা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জনসেবার মান বৃদ্ধি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

    গতকাল শুক্রবার হাজার হাজার ইরাকি বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। এসময় তারা শহরের গ্রিন জোনের অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করেন। ওই এলাকায় সরকারি ভবন ও বিদেশি দূতাবাসগুলো অবস্থিত।
    ইরাকজুড়ে এ বিক্ষোভে প্রায় ২০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এ মাসের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান ১৫০ জন

  • তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে : আমেরিকাকে চীন, পাকিস্তান রাশিয়ার আহ্বান

    তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে : আমেরিকাকে চীন, পাকিস্তান রাশিয়ার আহ্বান

    আফগান তালেবানের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান, চীন এবং রাশিয়া। গতকাল (শুক্রবার) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর পাকিস্তান, চীন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিরা বৈঠক করার পর যৌথভাবে এই আহ্বান জানান।

    তারা বলেন আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ অবসানের জন্য তালেবানের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসা জরুরি। গতকালের বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিও অংশ নেন। বৈঠকে আফগানিস্তান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি জালমায় খালিলজাদসহ অন্য তিনদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
    খালিলজাদ দীর্ঘদিন ধরে তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছিলেন। কাতারের রাজধানী দোহায় বহুবার তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন। খালিলজাদ তালেবানের সঙ্গে প্রায় শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে আলোচনা স্থগিত করে দেয়ায় সে চুক্তি আর সম্ভব হয় নি

  • নিরাপত্তার সব সূচকে ভারতের শহরগুলি পিছিয়ে, প্রথম টোকিও

    নিরাপত্তার সব সূচকে ভারতের শহরগুলি পিছিয়ে, প্রথম টোকিও

    মোট ৫৭টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের ৬০টি শহরের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় জাপানের রাজধানী টোকিও আছে প্রথম স্থানে। আর ভালো অবস্থানে নেই ভারতের শহরগুলি।-খবর দ্য ইকনোমিস্ট। সূচকগুলির মধ্যে অন্যতম ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। আধুনিক শহুরে জীবনের জন্য এই দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বিভিন্ন নিরাপত্তার দিক দিয়ে জাপানের রাজধানী টোকিও বিশ্বে প্রথম। এরপর আছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর, ওসাকা, আমস্টারডাম ও সিডনি। তালিকায় ৪৫ নম্বর স্থানে আছে ভারতের মুম্বাই। আরও সাত ধাপ পিছিয়ে ৫২ নম্বর স্থানে জায়গা হয়েছে দিল্লির। শেষ স্থানে আছে লাগোস।

    ডিজিটাল নিরাপত্তার দিক দিয়ে তালিকার শীর্ষে টোকিও। এরপর প্রথম পাঁচে যথাক্রমে আছে সিঙ্গাপুর, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি এবং লস অ্যাঞ্জেলস ও সান ফ্রান্সিসকো যুগ্মভাবে পঞ্চম।

    আর ৪৭ নম্বর স্থানে আছে ভারতের দুটি শহর। মুম্বাই ও দিল্লি। তালিকার শেষ থেকে প্রথমে রয়েছে মিয়ানমায়ের রাজধানী ইয়াঙ্গুন।

    স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিক থেকে জাপানের শহরে ওসাকা। তারপরে প্রথম পাঁচে আছে যথাক্রমে টোকিও, সোল, আমস্টারডাম ও স্টকহোম যুগ্মভাবে চতুর্থ স্থানে, পঞ্চম স্থানে ফ্রাঙ্কফুর্ট।

    স্বাস্থ্য সুরক্ষার তালিকায় ভারতের দুটি শহর ৫০ এর কোঠায়। মুম্বাই রয়েছে ৫০ নম্বরে এবং দিল্লি আছে ৫১-এ। তালিকার সর্বশেষ শহর লাগোস।

    পরিকাঠামোগত নিরাপত্তার দিক দিয়ে প্রথম পাঁচের বাকি শহরগুলি হল ওসাকা, বার্সেলোনা, টোকিও ও মাদ্রিদ। ভারতের মুম্বাই ৫০ নম্বরে। আরও সাত ধাপ পিছিয়ে জায়গা পেয়েছে দিল্লি। শেষ স্থানে ক্যারাকাস।

    ব্যক্তিগত সুরক্ষার সূচকগত তালিকার প্রথমে আছে সিঙ্গাপুর। তারপর প্রথম পাঁচে আছে যথাক্রমে কোপেনহাগেন, হংকং, টোকিয়ো এবং ওয়েলিংটন।

    একমাত্র এই তালিকায় ভারতের দুটি শহরের স্থান তুলনামূলকভাবে ভাল। ৩৭ নম্বরে আছে মুম্বাই এবং ৪১-এ জায়গা পেয়েছে দিল্লি। তালিকার শেষ শহর লাগোস।