Category: আন্তর্জাতিক

  • ভোটে এবারও বিজেপির ভরসা সেই জাতীয়তাবাদ

    ভোটে এবারও বিজেপির ভরসা সেই জাতীয়তাবাদ

    বিরোধীরা ছত্রখান। রাজ্যে রাজ্যে ক্রমাগত দলত্যাগে জেরবার কংগ্রেস। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভার ভোটে জিততে শাসক বিজেপির হাতিয়ার সেই জাতীয়তাবাদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রচারে সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ছাড়া বাকি সব গৌণ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রচারে গিয়ে কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছেন, হিম্মত থাকলে রাহুল বাবা বলুন, কার স্বার্থে তাঁরা জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বলবৎ রাখার পক্ষে। কংগ্রেস জবাব দিচ্ছে না। মোদি বলছেন, ওদের ডুবে মরা উচিত। কংগ্রেস চুপ। দশেরার দিন প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান হাতে পেল ভারত। রীতিমতো পূজা–অর্চনা সেরে রাজনাথ সিং তা গ্রহণ করলেন। মোদি বললেন, শত্রু এবার বুঝবে কত ধানে কত চাল। রাজনাথ সিংয়ের সগর্ব ঘোষণা, এবার ঘরে বসেই পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেব। অমিত শাহর উবাচ শোনা গেল, ৫৬ ইঞ্চি ছাতি আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরকে বাকি দেশের সঙ্গে জুড়তে পেরেছেন। কংগ্রেস বিরোধিতা করছে তাদের স্বার্থে, যারা এত বছর কাশ্মীরকে নিজেদের কুক্ষিগত করে রেখেছিল। কংগ্রেস পাকিস্তানের দালাল…। আর বলছেন, ২০২৪ সালের মধ্যে অবৈধভাবে থাকা সব বিদেশিকে খুঁজে বের করে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠাব। সারকথা, লোকসভা ভোটের মতোই মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা জিততে জাতীয়তাবাদ এবারও ফের বিজেপির একমাত্র হাতিয়ার।

    লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী শিবিরের অঙ্ক ছিল শরিকদের ওপর বিজেপির নির্ভরতা বাড়ানো। অতি বড় আশাবাদীরা ভেবেছিলেন, বিজেপিকে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার নিচে নামানো সম্ভব। রাহুল গান্ধী তেড়েফুঁড়ে নেমেছিলেন। হাতিয়ার ছিল রাফাল, দুর্নীতি, বেকারত্ব ও চৌপাট হয়ে যাওয়া অর্থনীতি। কিন্তু সবকিছু টেক্কা দিয়ে মোদি ও জাতীয়তাবাদ কেল্লাফতে করায় কংগ্রেস শুয়ে পড়ে। রাহুলের পশ্চাদপসরণ এবং অনিচ্ছুক সোনিয়ার ফের হাল ধরার ক্ষীণ চেষ্টার মধ্যে রাজ্যে রাজ্যে নেতাদের কংগ্রেস ত্যাগের ধুম পড়ে যায়। এই অবস্থায় মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় কংগ্রেস লড়ছে স্রেফ লড়াইয়ের ময়দানে থাকার জন্য। কেননা, জনপ্রিয় ধারণা, দুই রাজ্যেই দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি এবার একাই সরকার গড়ার অধিকার অর্জন করবে। হরিয়ানায় কংগ্রেস ও মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি জোট হারের লজ্জা কীভাবে লুকোবে, সেটা দ্বিতীয় জনপ্রিয় জল্পনা।ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: এএফপিঅর্থবল, লোকবল, সাংগঠনিক শক্তি—সবেতেই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে কংগ্রেস ভোট-প্রচারে যতটুকু রয়েছে, তাতে বড় করে তুলে ধরছে বেহাল অর্থনীতি, বেকারত্ব, সামাজিক অসন্তোষের মতো জরুরি বিষয়গুলো। এই প্রচারে চিড়ে ভেজার কথা নয়। তবু মূল বিষয় থেকে কংগ্রেস কিন্তু সরছে না। কংগ্রেস প্রচারাভিযানের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘আমরা জানি, লড়াইটা এই মুহূর্তে অসম। কিন্তু এটাও জানি, সত্য থেকে চোখ ফিরিয়ে বেশি দিন থাকা সম্ভব নয়। গোটা দেশে পেটে টান পড়েই চলেছে। এভাবে জাতীয়তাবাদ ধুয়ে বেশি দিন চলা সম্ভব নয়।’

    বিজেপির জাতীয়তাবাদের মোকাবিলায় কংগ্রেসের হাতিয়ারে আচমকাই শাণ দিয়েছেন নোবেলজয়ী বঙ্গসন্তান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থনীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় অমর্ত্য সেনের সঙ্গী হয়ে তিনি শুধু সরবই হননি, জানাজানি হয়ে গেছে, লোকসভায় কংগ্রেসের ‘ন্যায়’ প্রকল্পের জনকও ছিলেন এই নোবেলজয়ী। কংগ্রেসের ভোট-প্রতিশ্রুতি ‘ন্যায়’ মানুষ গ্রহণ করেনি। সে অন্য কথা। আসল কথা হলো, অর্থনীতি ঝকমকে করতে গেলে কৃষিপ্রধান ভারতে গ্রামীণ মানুষের চাহিদা বাড়ানোই যে একমাত্র উপায়, অবশেষে তা স্বীকৃতি পাওয়া। সব মহলই এখন মনে করছে, চাহিদা না বাড়লে অর্থনীতি বল পাবে না। চাহিদা বাড়াতে গেলে গ্রামীণ মানুষের হাতে অর্থ জোগান দিতেই হবে। সেই জোগানের কথাই বলা হয়েছিল ‘ন্যায়’ প্রকল্পে। অতি দরিদ্রদের হাতে মাসে ছয় হাজার করে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কংগ্রেস। সেই একই কথা এখনো বলে চলেছেন অর্থনীতিবিদেরা, যাঁদের মধ্যে সরকারের কাছের মানুষজনও রয়েছেন।

    কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ছবি: রয়টার্সবিজেপির বিড়ম্বনা অভিজিৎ যতটা বাড়িয়েছেন, তার চেয়ে বেশি বাড়িয়েছেন মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের অর্থনীতিবিদ স্বামী পরকাল প্রভাকর। বেহাল অর্থনীতির কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো এক প্রবন্ধে (ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে) তিনি লিখেছেন, গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়ানো ভারতীয় অর্থনীতির উচিত নরসিংহ রাও-মনমোহন সিংয়ের দেখানো পথে হাঁটা। তাঁদের মডেল অনুসরণ করা। সেই মডেল অনুযায়ীই অভিজিতের পরামর্শে কংগ্রেস ‘ন্যায়’ প্রকল্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই মডেল অনুযায়ীই পরিত্রাণের নিদান বাতলেছেন রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন ও প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রাহ্মণ্যম। পরকাল প্রভাকরের দাওয়াইয়ের মোদ্দাকথাও সেই এক।

    অমর্ত্য সেনকে বিজেপির গালমন্দ হজম করতে হচ্ছে নিয়মিত। একই হাল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। কিন্তু খোদ অর্থমন্ত্রীর স্বামীর এই কিল-মারা প্রেসক্রিপশন নীরবে হজম করতে হচ্ছে মোদি-সরকারকে। অভিজিতের নোবেলপ্রাপ্তি নামক বোঝার ওপর প্রকাল প্রভাকর হয়ে উঠেছেন শাকের আঁটি!

    বিজেপি বিপুল সমর্থনে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা জিতে আগামী দিনে ঝাড়খন্ড ও দিল্লি দখলে মনোযোগী হবে। বোঝাতে চাইবে ‘অল ইজ ওয়েল’। সেই একপেশে লড়াইয়েও জাতীয়তাবাদ হাতিয়ার করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। কেননা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার বা মুডিজের মতো অর্থনৈতিক রেটিং এজেন্সিগুলো কেউই আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতির উত্তরমুখী হওয়ার ক্ষীণতম সম্ভাবনার ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি।

  • মেক্সিকোয় তাণ্ডবের মুখে গুজমানের ছেলেকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    মেক্সিকোয় তাণ্ডবের মুখে গুজমানের ছেলেকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক সংঘর্ষের পর কারাবন্দি মাদক সম্রাট হোয়াকিম গুজমানের ছেলেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির পুলিশ।

    ওভিদিও গুজমান লোপেজকে গ্রেফতার করা নিয়ে কুলিয়াকান নগরী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মাদকচক্র সিনালোয়ার সদস্যদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষের পর বাধ্য হয়ে পুলিশ ওভিদিওকে ছেড়ে দিয়েছে। খবর বিবিসির।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলফনসো দুরাজো বলেন, পুলিশের একটি টহল দল বৃহস্পতিবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওভিদিও গুজমানসহ চারজনকে খুঁজে পায় এবং তাদের গ্রেফতার করে।

    ওভিদিওকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিনালোয়া গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিশের টহল দলটিকে ঘিরে ফেলে গুলি বর্ষণ শুরু করে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো নগরী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তারা নগরী জুড়ে বেশ কয়েটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ বাধ্য হয়েই ওভিদিওকে ছেড়ে দেয়।

    দুরাজো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, নগরীতে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করে শান্তি ফেরাতে এবং বিশেষ করে আমাদের পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষা করতেই ওভিদিও গুজমানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

    মেক্সিকোর আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর এ ঘটনায় মন্ত্রিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।

    কুলিয়াকান সিনালোয়া মাদকচক্রের শক্তঘাঁটি। সিনালোয়াই যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করা সবচেয়ে বড় মাদক চক্র বলে জানান কর্মকর্তারা।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ৬২ বছরের গুজমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগারে আছেন। গুজমানকে সেখানে অত্যন্ত সুরক্ষিত কারাগারে অন্তত ৩০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

    যদিও ১৫ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুই দুইবার অভিনব কায়দায় মেক্সিকোর সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগার ভেঙে পালিয়েছিলেন গুজমান।

    দ্বিতীয়বার পালানোর ছয়মাস পর ২০১৬ সালে তাকে আবারও পাকড়াও করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরের বছর শুরুর দিকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি : অমিত শাহ

    সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি : অমিত শাহ

    ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে সম্প্রতি দেখা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি মনোনীত সৌরভ গাঙ্গুলী। তবে তাদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ।

    ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে সরগরম হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাঠ। এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি সভাপতি একথা বলেন।

    তবে অনেকেই বলছেন, ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে সৌরভ গাঙ্গুলীকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে উপস্থাপন করবে বিজেপি।

    এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি সভাপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদে কাউকে উপস্থাপন করে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। সৌরভ গাঙ্গুলী তার কাছে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।

    অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে বিজেপি। এই রাজ্যে তৃণমূলকে হটিয়ে সরকার গড়বে বিজেপি। কারণ, এই রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছেন আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তারা ভোট দেবে বিজেপিকে।

    এদিকে সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছেন, অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে যেভাবে রাজনীতির আসর গরম করা হচ্ছে, আসলে তেমন কোনো কথা হয়নি অমিত শাহর সঙ্গে।

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিসিসিআই’র সভাপতি মনোনীত হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। আর সচিব পদে নিযুক্ত হয়েছেন অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ। এরপরই সরগরম হয় রাজনীতির মাঠ।

    তবে বিজেপিতে সৌরভকে স্বাগত জানিয়ে দলটির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, সৌরভ বিজেপিতে এলে স্বাগত।

    অন্যদিকে তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘কটাক্ষ’ করেছেন। তিনি বলেছেন, ওরা এখন ‘দিবাস্বপ্ন’ দেখছেন। এই রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে না। ক্ষমতায় আনবে ফের মমতাকেই।

  • অস্ত্রবিরতির পরও কুর্দিশ অঞ্চলে মুহুর্মুহু গোলার আওয়াজ

    অস্ত্রবিরতির পরও কুর্দিশ অঞ্চলে মুহুর্মুহু গোলার আওয়াজ

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে চার ঘণ্টারও বেশি সময়ের বৈঠকে একটি অস্ত্রবিরতিতে সম্মতি হওয়ার পরও উত্তর সিরিয়ার রাস আল-আইন থেকে গোলাবর্ষণ ও বন্দুকযুদ্ধের মুহুর্মুহু ধ্বনি শোনা গেছে।

    কুর্দিশ বাহিনী ওই অঞ্চলটি থেকে প্রত্যাহারের শর্তে চুক্তিতে রাজি হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

    রাস আল-আইন থেকে তুরস্কের সিলাপিনার সীমান্ত থেকে মেশিনগানের গুলি ও গোলা নিক্ষেপের আওয়াজ আসছিল। সিরীয় শহরের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

    এরদোগানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অস্ত্রবিরতির কথা ঘোষণা করেন মাইক পেন্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির তারিফ করে বলেন, এতে লাখ লাখ মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে।

    এদিকে সিরিয়া সংকটে সামনে থেকে কাজ করা জেমস জেফরি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তুরস্কের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে কুর্দিরা সন্তুষ্ট নন। আর চুক্তিতে পৌঁছাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মুলা ঝুলিয়ে লাঠি দেখানোর নীতি অবলম্বন করেছে।

    ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ অঞ্চলে থাকবে বলেই আশা করেছিলেন ওয়াইপিজি যোদ্ধারা।

    যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, অভিযান শুরু হওয়ার পর তিন লাখ বেসামরিক লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় ঝাঁকুনি।

    সংস্থাটি জানায়, অন্তত ৫০০ লোক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে কয়েক ডজন বেসামরিক লোক রয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই কুর্দিশ।

    হামলা শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে তুরস্ক। ইউরোপীয় দেশগুলো আংকারার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    হামলা বন্ধে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার ব্রাসেলসে বৈঠক করেন ইউরোপীয় নেতারা।

    তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু বলেন, তুরস্ক হামলা স্থগিত করেছে। বন্ধ করেনি। এটি কোনো অস্ত্রবিরতি নয়। কেবল বৈধ দুটি পক্ষের মধ্যেই অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়ে থাকে।

    গত ৩৫ বছর ধরে তুরস্কের ভেতরে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহী চালিয়ে আসা কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি শাখা হিসেবে ওয়াইপিজিকে বিবেচনা করে আংকারা।

    পেন্সের সঙ্গে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের পর সই হওয়া এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে সভ্যতার একটি মহান দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • টরন্টোয় প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত

    টরন্টোয় প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত

    সমগ্র বিশ্বে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে গত ১৩ অক্টোবর (রবিবার) কানাডা’র অন্টারিও-তে অবস্থিত বাংলাদেশি বৌদ্ধ বিহার, টরন্টো বুড্ডিস্ট মনাস্ট্রি ও মেডিটেশন সেন্টারে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।

    বৌদ্ধ ধর্মীয় ভিক্ষুরা তিন মাস কঠোর বর্ষাবাসের শেষ দিনটিতে প্রবারণা পূর্ণিমা হিসেবে উদযাপন করেন। প্রবারণা হল অসত্য ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান।

    অনুষ্ঠানে বিহার প্রাঙ্গনে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল প্রদান, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান এবং দায়ক-দায়িকাগণকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়নসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশে মূল্যবান ধর্মীয় দেশনা দেন মিসিসাগা ওয়েস্ট এন্ড বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ, ‘কাইন্ডফুল কানাডা’ আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৌদ্ধভিক্ষু ড. শরণপালা থেরো।

    আরও ধর্ম দেশনা দেন টরন্টো বুড্ডিস্ট মনাস্ট্রি ও মেডিটেশন সেন্টারে বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষু ইন্দিপেরেরা ধম্মসিরি প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ এই প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে বুদ্ধের অহিংস নীতি মেনে চলে সকল প্রকার মিথ্যা দৃষ্টি পরিহার করে লোভ, হিংসা, মোহ সংঘাতসহ যাবতীয় খারাপ কাজ পরিহার করে সৎ পথে চলতে ও মৈত্রীপূর্ণ মনোভাব নিয়ে একে অপরের সাথে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার হিতোপদেশ প্রদান করেন

  • ফ্রান্সে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা বিনিময়

    ফ্রান্সে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা বিনিময়

    বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্যারিসে বসবাসরত প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সবান্ধবে উপস্থিত হওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
    রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ধর্ম যার যার-উৎসব সবার’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বাণী একদিকে যেমন পরধর্মসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে, অন্যদিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরার তার দৃঢ় সংকল্প আর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ।

    অনুষ্ঠানে বিশ্বনন্দিত মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফ্রান্সের উপদেষ্টা রজত রায় রাজু, সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ, সভাপতি সুশীল বণিকসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন পূজা উদযাপন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান