Category: আন্তর্জাতিক

  • ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এলআর দলের প্রার্থী ব্রুনো রেতাইয়ো

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এলআর দলের প্রার্থী ব্রুনো রেতাইয়ো

    ফ্রান্সের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির আসন্ন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) ডানপন্থী রাজনৈতিক দল লে রিপাবলিক্যাঁ (এলআর)- এর অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি দলীয় মনোনয়ন অর্জন করেন।

    দলের বর্তমান সভাপতি এবং ফ্রান্সের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য রেতাইয়ো দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। অভ্যন্তরীণ এই নির্বাচনে প্রায় ৭৬ হাজার নিবন্ধিত সদস্য অংশ নেন, যেখানে তিনি প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এলআর দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেতাইয়োর এই প্রার্থিতা ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী ভোটব্যাংকের পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের প্রশ্নে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এলআর দলের ইতিহাসে সর্বশেষ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন নিকোলা সারকোজি, যিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দলটির নাম ছিল ইউনিয়ন ফর আ পপুলার মুভমেন্ট বা ইউএমপি।পরে ২০১৫ সালে দলটির পুনর্গঠন করে বর্তমান নাম লে রিপাবলিক্যাঁ রাখা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের নির্বাচনে রেতাইয়োকে শুধু বামপন্থী বা মধ্যপন্থী প্রার্থীদের সঙ্গেই নয়, বরং ডানপন্থী শিবিরের ভেতরেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে তার এই মনোনয়ন ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের জাহাজ

    মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের জাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামের এই জাহাজটির হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর দিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা তাসনিম নিউজের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে সমুদ্রযান চলাচল পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতেই অবস্থান করছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুজা ২-এর গন্তব্য ভারত।

  • ইরান যুদ্ধ চায় না, আত্মরক্ষা করছে: পেজেশকিয়ান

    ইরান যুদ্ধ চায় না, আত্মরক্ষা করছে: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে কেবল আত্মরক্ষার জন্যই তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশটির ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পেজেশকিয়ান এ কথা বলেন।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রমাণ।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ’কে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দেশকে আক্রমণ করিনি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও কোনো পক্ষকে আক্রমণের ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা কেবল বৈধভাবে আত্মরক্ষা করছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এমন ধারণা দেওয়া উচিত নয় যে, ইরান যুদ্ধ চাইছে। বরং আমরা শান্তিপ্রিয় এবং যা করছি তা বৈধ আত্মরক্ষা। যেমন একজন মানুষ আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তেমনি একটি জাতিও আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করে।’

  • এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথির

    এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথির

    ইয়েমেনের হুথি সরকারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেন আল-এজ্জি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে থাকেন, তাহলে হুথি বিদ্রোহীরা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।  খবর আল জাজিরার।

    বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘সানা যদি বাব আল-মান্দেব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সমগ্র মানবজাতি ও জিন কেউই তা খুলতে সক্ষম হবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তাই ট্রাম্প এবং যারা এতে জড়িত, তাদের উচিত দ্রুত এমন সব কার্যক্রম ও নীতি বন্ধ করা, যা শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে, এবং আমাদের জনগণ ও দেশের অধিকারকে সম্মান করা।’

    বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়েই জাহাজগুলো সুয়েজ খালের দিকে যায়।

    প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র প্রায় ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল) চওড়া, যার ফলে জাহাজ চলাচল দুটি আলাদা চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়—একটি প্রবেশের জন্য, অন্যটি বের হওয়ার জন্য।

    বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে তেল ও জ্বালানি পরিবহন এবং এশিয়ার দিকে বিভিন্ন পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনেক দূরে: ইরানি স্পিকার

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনেক দূরে: ইরানি স্পিকার

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি থেকে তারা অনেক দূরে রয়েছেন।

    জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনার কাছাকাছি নই। ‘

    তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে এবং কিছু মৌলিক বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।’

    গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।’

    ইরানি স্পিকার বলেন, ‘আমরা যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তাহলে তা শুধু এই কারণে যে তারা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষ তাদের ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, এবং এই ক্ষেত্রে আলোচনা (নেগোশিয়েশন) হচ্ছে সংগ্রামেরই একটি অংশ।’

    তথ্যসূত্র: দ্য ডন

  • যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ৫ শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ

    যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ৫ শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ

    লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবন্ধের লক্ষ্যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ। দেশটির প্রতিরোধ বাহিনীটির মহাসচিব শেখ নাইম কাশেম বলেছেন, তারা লেবানন সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি ইরানের সহায়তার প্রশংসা করেন এবং লেবাননে এই যুদ্ধবিরতিতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ‘অভূতপূর্ব পারফরম্যান্সের’ প্রশংসা করেন।

    কাশেম বলেন, সীমান্তে এক লাখ সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যারা ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিয়েছে—সেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ। ফ্রন্টলাইনে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না।

    তিনি জানান, প্রতিরোধ বাহিনী শত্রুর ওপর ভরসা করে না এবং যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে তারা যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। যুদ্ধবিরতির জন্য হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচটি শর্তও তুলে ধরেন বাহিনীটির প্রধান।

    প্রথমত: আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—সব জায়গায় লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত: ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত লাইনে ফিরে যেতে হবে।
    তৃতীয়ত: বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
    চতুর্থত: সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের তাদের শহর ও গ্রামে ফিরে যেতে দিতে হবে।
    পঞ্চমত: আন্তর্জাতিক ও আরব সহায়তায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং সেটি হবে জাতীয় দায়িত্বের ভিত্তিতে।
    কাশেম বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন কাঠামোর মধ্যে লেবানন সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতার জন্য হিজবুল্লাহ প্রস্তুত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ম্যাসব্যাপী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির শুরুতে আনন্দ মিছিল আর উদ্যাপনের শব্দ শোনা গেলেও সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় কাজ করছে।