Category: আন্তর্জাতিক

  • বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকটে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি

    বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকটে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি

    চলতি বছর জানুয়ারিতে সোলার প্যানেল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোলার প্যানেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন। পরে ৬ জুলাই ট্রাম্প ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয় এমন ৮০০ চীনা পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর জবাবে একই রকম ব্যবস্থা নেয় চীন। পরের মাসে উভয় দেশই ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানিতে পাল্টাপাল্টি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এসব পণ্যের মধ্যে আছে গাড়ি, উড়োজাহাজ, সয়াবিন, কৃষিপণ্য, ইস্পাত, এলুমিনিয়াম প্রভৃতি। প্রকৃতপক্ষে, গত জুলাইয়ে শুল্ক আরোপের শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ’১৮ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার চীনা পণ্যের উপর মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা হল। প্রতিশোধস্বরূপ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে চীন। চীনের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তদেশীয় অর্থনীতিতে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু করেছে।
    যুক্তরাষ্ট্রের সেবা খাতের মোট রপ্তানির ৩০ শতাংশই বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, চীন তাদের দেশ থেকে বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে গ্রহণ করে বিশ্বে অগ্রসর প্রযুক্তির নেতা হতে চাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। উল্লেখ্য, চীন দ্রুত তাদের বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদে অগ্রসর থাকার জন্য কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের কাছে বাজার খুলে দিয়ে আমেরিকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি এক হিসাব দিয়ে বলেন, ২০১৭ সালে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৮০০ বিলিয়ন বা আশি হাজার কোটি ডলার। আর এ ঘাটতির প্রধান কারণ চীনের সাথে বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা। চীন দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতির সুযোগে ‘অন্যায্য’ভাবে সুবিধা নিচ্ছে বলে তিনি বলেছেন।
    চীনের বিরুদ্ধে এ বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করার যেমন এটি একটি কারণ তেমন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০১৭ সালের নির্বাচনকালীন স্লোগান ‘আমেরিকাই প্রথম’ এই সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণের জন্য উত্সাহ যুগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দেড়শত বছর ধরে অর্থাৎ ১৮৭২ সাল থেকে বিশ্বে একচ্ছত্র অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। অনেকে মনে করছেন, বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার ধরে রাখার জন্য ট্রাম্প এ নীতি গ্রহণ করেছেন। কারণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্বাভাসে বলছে চীনের যে হারে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এতে খুব শিগগিরি চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাবে। সর্বশেষ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন-এইচএসবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয় বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে আগামী ২০৩০ সালে বর্তমানে শীর্ষ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন শীর্ষে উঠে আসবে।
    চীন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের এক নম্বর ও দুই নম্বর অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও ঋণের মাত্রার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি ও আগামী বছরে বৈশ্বিক পূর্বাভাস হ্রাস করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ায় চলতি ও আগামী বছরের জন্য বৈশ্বিক জিডিপির পুর্বাভাস দুই-দশমাংশ কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আগামী বছরের প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পাবে। আইএমএফের মতে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্নমুখী ঝুঁকি বেড়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বগতির সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। সংরক্ষণবাদী মনোভাব ক্রমেই বাস্তবতায় পরিণত হতে শুরু করায় ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনাকে বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত ও অন্যান্য পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক আরোপ রয়েছে।
    বাণিজ্য বিরোধের কারণে নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় বন্ধ বা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এতে বিনিয়োগ ও চাহিদা প্রবৃদ্ধি আরো মন্থর হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে সে সাথে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি দুটি পরস্পরের প্রতি বৈরি হয়ে উঠায় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে সবাইকে কষ্ট ভোগ করতে হতে পারে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছে আইএমএফ যা মন্থর হয়ে আগামী বছর ২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে চীনের প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আরও বাণিজ্য বাধা আরোপ করা হলে অর্থনীতি, ব্যবসা ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ব্যাপক আঘাত আসতে পারে। এর ফলে বাণিজ্য নীতির নেতিবাচক প্রভাব কোন কোন দেশের রাজনীতিতেও পড়বে। এ দুই দেশ কোন সমঝোতায় আসতে না পারলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যৌথভাবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ।
    গত ১১ অক্টোবর ২০১৮ ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে সংস্থা দুটির প্রধান এ উদ্বেগের কথা জানান। তারা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির বড় দুটি দেশ এভাবে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা আরো বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ দুই পরাশক্তি একটি খারাপ উদাহরণ তৈরি করেছে। আর সেটি হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।
    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বের বাণিজ্য পরিবেশে যে পরিবর্তন আনতে পারে সেসব পরিস্থিতির প্রতি বাংলাদেশকে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের একক বৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্র। রানা প্লাজা ধ্বসের পর থেকেই বাজারটিতে পোশাক রফতানি হ্রাস পায়। দীর্ঘ ১৫ মাস পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ বাজারে পোশাক রফতানি ঘুরে দাঁড়ায়। গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) বাজারটিতে ৩৬৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানি করে চীন। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চীন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১ হাজার ৭২৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ কম। রফতানি আয় কমার সঙ্গে চীনের বাজার হিস্যাও কমে ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ নেমে এসেছে।
  • ‘রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরলে যুদ্ধের আশংকা দেখা দেবে’

    ‘রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরলে যুদ্ধের আশংকা দেখা দেবে’

    সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে করা পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে যুদ্ধের আশংকা দেখা দিতে পারে।
    তিনি মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক নিবন্ধে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি আশা করেন, সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তিটি বহাল রাখা হবে।
    এদিকে চুক্তি থেকে সরে না আসতে সামরিক জোট ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ন্যাটোর ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তি থেকে সরে না আসার পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। বরং রাশিয়াকে কিভাবে চুক্তিটি মানতে বাধ্য করা যায় সেই চেষ্টা করতে বলেছেন।-রয়টার্স।
  • মানববিহীন যুদ্ধ হেলিকপ্টার

    মানববিহীন যুদ্ধ হেলিকপ্টার

    বিদেশের বাজারে বিক্রির জন্য তাদের প্রথম মানববিহীন যুদ্ধ হেলিকপ্টার প্রকাশ্যে আনল চীন। চীনের উত্তর-পূর্বের তাইজিং প্রদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া চতুর্থ চায়না হেলিকপ্টার এক্সপোতে প্রথম বারের মতো প্রদর্শিত হল হেলিকপ্টার এভি৫০০ইব্লিউ। এই হেলিকপ্টারটি তৈরি করেছে অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পস অফ চায়না। জানা গেছে, মানববিহীন যুদ্ধ কপ্টারটির দৈর্ঘ্য ৭.২ মিটার, ওজন ৪৫০ কিলোগ্রাম ও গতিবেগ ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার। সূত্রের খবর, ১২০ কিলোগ্রাম ওজনের অস্ত্র ও মালপত্র বহনে সক্ষম এই কপ্টার। চীনা মিডিয়া সূত্রে খবর, মধ্য-প্রাচ্যের যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে মূলত তাদের কাছেই এই কপ্টার বিক্রি করতে চায় চীন। এর অন্যতম নির্মাণকর্তা জিয়াং তাইয়ু জানিয়েছেন, গত আগস্ট মাসে প্রথম পরীক্ষায় সফল হয়েছে এই কপ্টার। এমনকি যেকোন স্থান ও পরিবেশে ওঠা-নামা করতেও সক্ষম এটি। চলতি বছরের মধ্যে কপ্টারটির চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করতে চায় চীন। ২০১৯ থেকে শুরু হবে বিদেশে বিক্রি। এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে শুধুমাত্র রয়েছে মানবহীন যুদ্ধ হেলিকপ্টার। সেই তালিকায় নতুন সহযোজন চীন। সিনহুয়া।

  • নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

    নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

    রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর এখনও মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের তদন্তকারী কমিটির প্রধান। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান তিনি। তবে, জাতিসংঘের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি। এর আগে বুধবার রাশিয়ার সমর্থনে ভোটের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বাতিলের চেষ্টা করে চীন। রাশিয়া, চীন এবং ইথিওপিয়া বৈঠক বাতিলের পক্ষে ভোট দিলেও, এর বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ নয়টি দেশ। মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতনের মুখে গত এক বছরে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা এখনো অব্যাহত আছে। মিয়ানমার সরকারের সম্পূর্ণরূপে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো আগ্রহ নেই। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান জানান, ‘মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে এখনো রোহিঙ্গা নিধন করা হচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন ও গণহত্যা অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গারা এখনো পালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মারজুকি দারুসমান। এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ দো সুয়ান ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক’ অভিহিত করে বলেন, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্য’ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তকারী ইয়াংহি লি বলেন, তিনি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই আশা করেছিলেন, মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে দেশটির পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক আলাদা হবে; কিন্তু বাস্তবে এটি অতীতের চেয়ে বেশি আলাদা হয়নি। লি আরো বলেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী, সাবেক রাজনৈতিক বন্দি এবং বর্তমানে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া সু চি রোহিঙ্গাদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন এবং তাদের গ্রাম পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ‘পুরোপুরি অস্বীকার’ করেছেন। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ‘মিয়ানমার সরকার ক্রমশ দেখিয়েছে যে তাদের সম্পূর্ণরূপে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো আগ্রহ নেই, যেখানে সব মানুষ সমভাবে তাদের সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে। দেশটির সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনকে সমর্থন করে না,’ বলেন লি। ‘এ রকম চলতে থাকলে মানুষ নিরপেক্ষভাবে ন্যায্য বিচার পাবে না, দোষী সাব্যস্ত করা হবে না এবং আইন নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হবে না,’ যোগ করেন তিনি। দারুসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের কঠোর অবস্থান এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাধা। তাদের অব্যাহত অস্বীকার, জাতীয় সার্বভৌমত্বের আচ্ছাদনে নিজেদের রক্ষা করার প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সা¤প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ৪৪৪ পৃষ্ঠার বিবরণী প্রত্যাখ্যানের কারণে মিয়ানমারের কাছ থেকে জবাবদিহি কোনোভাবেই আশা করা যায় না।’ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন দারুসমান এবং লি। মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, আইভরি কোস্ট, কুয়েত, পেরু এবং পোল্যান্ড রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়। চীন, রাশিয়া ও বলিভিয়া ‘না’ ভোট দিয়েছে এবং গিনি, ইথিওপিয়া ও কাজাখস্তান ভোট দেয়নি। এপি,

  • চীনের সাগর সেতুতে শুরু যান চলাচল

    চীনের সাগর সেতুতে শুরু যান চলাচল

    বিশ্বের দীর্ঘতম সাগর সেতুতে গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। চীনের এই সেতু দেশটির মূল ভূখন্ডের সঙ্গে হংকং ও ম্যাকাওয়ের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার চীনের হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও সেতু উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গতকাল সর্বসাধারণের জন্য তা খুলে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে যাত্রী ও ভ্রমণকারীরা হংকংয়ের আন্তঃসীমান্ত বাস টার্মিনালে জড়ো হন। এ সময় বাস পরিচালকেরা তাদের বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করেন।
    ৫৮ বছর বয়সী অ্যাংগি চেং এসেছেন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে। ম্যাকাও যেতে বাসে উঠেছেন তিনি। বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘আমি বাসে চড়তে চাই আর দেখতে চাই, এটা কতটা সুবিধাজনক। বাইরের মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করতে চাই আমি। হাজার হলেও এটি ঐতিহাসিক প্রকৌশল প্রকল্প।’
    এই সেতু দিয়ে ম্যাকাও ও হংকংয়ের যাত্রী আর যানবাহনগুলো সরাসরি বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। চীনের নদী পার্ল রিভারের ওপর দিয়ে সেতুটি সমুদ্র পার হয়ে চলে গেছে ওপারে। হংকং থেকে ম্যাকাওয়ে সড়কপথে যাতায়াতে তৈরি এ সেতু ৫৫ কিলোমিটার (৩৪ মাইল) দীর্ঘ। যাত্রাপথে সেতুটি আরও ১১টি বড় শহরকে যুক্ত করেছে। দক্ষিণ চীনের ৫৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এ সেতুর সুবিধা পাবে। এ সেতু চালু হওয়ায় হংকং ও ম্যাকাওয়ের মধ্যে দূরত্ব আড়াই ঘণ্টা কমে এসেছে। আগের তিন ঘণ্টার পথ এখন আধা ঘণ্টায় যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া ঝুহাই যেতে সময় লাগবে ৪৫ মিনিট, আগে যেখানে ৪ ঘণ্টা লাগত। হংকং থেকে ঝুহাই যেতে মাত্র ১০ হাজার ব্যক্তিগত গাড়িকে সেতু পারাপারের লাইসেন্স দেওয়া হবে। বাকিরা বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। সেতুর দুই পাশে কাস্টমস পার হয়ে যেতে হবে পর্যটকদের।
    সমর্থকেরা এই সেতুকে বিশ্বের প্রকৌশল খাতের বিজয় বলে আখ্যায়িত করলেও সমালোচনাও কম হচ্ছে না। সমালোচকেরা বলছেন, রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্যই এই ব্যয়বহুল ‘সাদা হাতি’ তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা এর মাধ্যমে আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকংকে মূলভূমিতে যুক্ত করা।

  • রাশিয়াকে বাহুবল দেখাল ন্যাটো

    রাশিয়াকে বাহুবল দেখাল ন্যাটো

    স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো। । আজ বৃহস্পতিবার নরওয়েতে চলছে এ সামরিক মহড়া। প্রায় ৫০ হাজার সেনা, ১০ হাজার সামরিক যান, ৬৫টি যুদ্ধজাহাজ, ২৫০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে শুরু যাওয়া ‘ট্রাইডেন্ট জাঙ্কচার ১৮’ নামের এ মহড়াটি চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩১টি দেশ এ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। নরওয়েতে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার দূরে মহড়াটির আয়োজন করা হয়েছে।

    আসলে এ মহড়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে বাহুবল দেখাচ্ছে ন্যাটো। গত মাসে চীন-মঙ্গোলিয়াকে নিয়ে তিন লাখ সেনার অংশগ্রহণে সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া দেয় রাশিয়া। সেনাসদস্য ছাড়াও ৩৬ হাজার সামরিক যান, ১ হাজার যুদ্ধবিমান ও ৮০টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয় ওই মহড়ায়। ‘ভোস্তক-২০১৮ (প্রাচ্য-২০১৮)’ নামের ওই মহড়ায় রাশিয়া তাদের শক্তি প্রদর্শন করে। ওই মহড়ার পর ন্যাটোর শক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সন্দেহ প্রকাশ করেন। সবার মুখে ছাই দিয়ে এবার বিশাল এ মহড়ার আয়োজন করল ন্যাটো।

    স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে ন্যাটোগতকাল বুধবার নরওয়েতে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে নষ্ট হয়েছে। ট্রাইডেন্ট জাঙ্কচার ১৮ আমাদের জোটভুক্ত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাবে। ন্যাটো মুখোমুখি সংঘর্ষে যাচ্ছে না, তবে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে পুরো জোট রক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত।’

    এদিকে অসলোতে রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাইডেন্ট জাঙ্কচারকে তাঁরা রাশিয়াবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ মহড়া উসকানিমূলক। স্টোলটেনবার্গের আশা, রাশিয়া ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলবে।