Category: আন্তর্জাতিক

  • পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব

    পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব

    সৌদি আরবের কাছ থেকে ঋণ সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিজ দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ইমরান। সৌদি আরব ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে পাকিস্তানকে।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও বার্তায় নিজ দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে ইমরান খান বলেছেন, ‘আমাদের ওপর ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে অনেক দিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। আমাদের অনেক ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।’

    আর্থিক সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইমরান খান বলেন, সংকট উত্তরণে সৌদি আরব থেকে আমরা দারুণ প্যাকেজ পেয়েছি। যা আমাদের সংকট দূর করবে।

    দুটির বেশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র থেকে সরকার আর্থিক সহায়তার জন্য চেষ্টা করবে বলেও জানান সাবেক এই পাকিস্তানের ক্রিকেটার। ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মধ্যস্থকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পাকিস্তান চেষ্টা করবে বলে ঘোষণা দেন ইমরান খান। বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই- আমরা ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।

    গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনতে এক বছরের জন্য পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি সরকার। তেল আমদানি ও অন্যান্য বিষয়ে ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ইসলামাবাদকে এক বছরের বিলম্বিত পরিশোধ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে সৌদি সরকার।

    প্রসঙ্গত, ‘ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে রিয়াদ সফর করছেন ইমরান খান। সৌদি সাংবাদিক খাসোগি হত্যার পর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী অনেক ফোরাম সম্মেলনটি বর্জন করেছে। আর কেন তিনি সৌদি আরব সফর করছেন সেই কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। ইমরান জানান, তাঁর দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটে। তাঁদের সৌদি সরকারের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। যে কারণে অন্যদের পথ অনুসরণ না করে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।

  • পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা হুঁশিয়ারি রাশিয়ারও

    পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা হুঁশিয়ারি রাশিয়ারও

    রাশিয়া ও চীনকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে পারে। এমনটাই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    রাশিয়া ১৯৮৭ সালের ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ফের এমন অভিযোগ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানালেন, লোকজনের চেতনা ফিরে না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধি করবে। যদিও রাশিয়ার তরফে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।

    শীতল যুদ্ধকালীন সেই মার্কিন-রুশ চুক্তিটিতে পারমাণবিক অস্ত্রবহনে সক্ষম মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে শুরু করলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

    এর মধ্যে মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সেখানে আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রগুলোর জন্য ‘গুরুতর ধাক্কা’ হবে বলে বোল্টনকে সতর্ক করা হয়েছে।

    রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেছেন, আইএনএফের বিষয়ে ‘পারস্পরিক’ ক্ষোভ নিরসনে ক্রেমলিন আমেরিকার সঙ্গে কাজ করতে ‘প্রস্তুত’ আছে। বোল্টনের সফর শুরুর সময়ই মস্কো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে তারাও পদক্ষেপ নিতে পারে।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন, “এই ইস্যুতে আমেরিকান পক্ষের ব্যাখ্যা শোনা দরকার আমাদের। চুক্তিটি পরিত্যাক্ত হলে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে রাশিয়া।”

  • খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ জড়িত : ট্রাম্প

    খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ জড়িত : ট্রাম্প

    সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

    ট্রাম্প বলেন, খাশোগি হত্যার ঘটনায় আমি মোহাম্মদ বিন সালমানকে বারবার ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে প্রশ্ন করেছি। তাকে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল- এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনি কিছু জানতেন? জবাবে তিনি বলেছেন- তিনি কিছুই জানেন না। ‘তাকে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল- কোথা থেকে এটি শুরু হয়েছে? তখন তিনি বলেছেন- এটি খুবই নিম্নপর্যায় থেকে শুরু হয়েছে।’

    এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ সৌদি নাগরিকের মার্কিন ভিসা বাতিল কিংবা অযোগ্য ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদির বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

    উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর খাশোগি তুরস্কে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তুরস্ক ‘সৌদি গুপ্তচররা’ তাকে খুন করেছে বলে দাবি করে এসেছে। তবে সৌদি আরব প্রথমে তা অস্বীকার করে এবং ঘটনার ১৭ দিন পর খাশোগি খুন হওয়ার কথা স্বীকার করে।

     

  • মিশন সাকসেস’ প্রমাণ করতে খাসোগির আঙুল রিয়াদে পাঠানো হয়!

    মিশন সাকসেস’ প্রমাণ করতে খাসোগির আঙুল রিয়াদে পাঠানো হয়!

    সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার পর ‘মিশন সাকসেস’ প্রমাণে তার হাতের আঙুল কেটে রিয়াদে পাঠানো হয় খুনের নির্দেশদাতার কাছে। এই খবর জানিয়েছে ব্রিটেনের ডেইলি মেইল পত্রিকা। সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরেই খাসোগিকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে সৌদি আরবের ১৫ সদস্যের একটি ডেথ স্কোয়াড। অভিযোগ উঠেছে, এই হত্যার নির্দেশ দেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্বয়ং। যদিও সৌদি আরব এই ঘটনায় যুবরাজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
    তবে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ওই ঘাতক দলের প্রধান ব্যক্তি মুতরেব সেদিনকার হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত ১৫ বার কনস্যুলেটের ভেতর থেকে স্বদেশে ফোনে কথা বলেন। এর মধ্যে সাতবার ফোন করেন যুবরাজের কার্যালয়ে। এসব ফোনরেকর্ড উদ্ধার করার দাবি করেছে তুরস্ক। তবে স্বয়ং যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন নাকি অন্য কারো সঙ্গে তা প্রকাশ করা হয়নি।
    পাশ্চাত্যের মিডিয়া বলছে, খাসোগিকে হত্যায় দায়ী স্কোয়াডের নাম টাইগার স্কোয়াড। আরবিতে ‘ফিরকাত এল-নেমর’। এই স্কোয়াড সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক বছর আগে এই স্কোয়াড গঠন করা হয়। সৌদি আরবের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থার দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন ৫০ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হয়েছে স্কোয়াডটি। এদের প্রত্যেকেই যুবরাজের প্রতি অন্ধভাবে অনুগত।
    এই টাইগার স্কোয়াডের প্রধান কাজ হচ্ছে গোপনে সৌদি আরবের ভেতরে ও বাইরে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা করা। এমনভাবে হত্যা করা যেন তা সংবাদমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও রাজনীতিবিদদের মনোযোগ আকর্ষণ না করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হত্যা পরিকল্পনা করা হয় যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছাকাছি যেতে না হয়। আর তা যেন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা যায়। যেমন, গাড়ি দুর্ঘটনা বা বাড়িতে অগ্নিসংযোগে হত্যা।
  • সমালোচনার মধ্যেই সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে মার্কিন সচিবের সাক্ষাৎ

    সমালোচনার মধ্যেই সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে মার্কিন সচিবের সাক্ষাৎ

    ধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত থাকার অভিযোগ ক্রমেই জোড়ালো হচ্ছে। এর মধ্যেই মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার রিয়াদে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্টিভেন মুনচিন।

    এই সাক্ষাৎকার সম্পর্কে সৌদি আরবের রাষ্ট্রিয় সংবাদমাধ্যম বলছে, তাদের এই বৈঠকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোড়ালো হবে। তবে এই বৈঠক সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ধরনের মন্তব্য আসেনি।

    গত ২ অক্টোবরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছিল তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। তবে সৌদি আরব প্রথমে দাবি করেছিল, খাশোগি কাজ শেষে কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গেছেন।

    এর পর গত শুক্রবার সৌদি আরব স্বীকার করে, কনস্যুলেটের ভেতরেই নিহত হয়েছেন খাশোগি। হাতাহাতির ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়

  • অসচেতনতায় ৯ বছরেও কার্যকর হয়নি উচ্চ আদালতের রায়

    অসচেতনতায় ৯ বছরেও কার্যকর হয়নি উচ্চ আদালতের রায়

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানান, দুই বছর শেষ হলেও সে জানে না— তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো কমিটি আছে কি না। অথচ হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এটা অবশ্যই থাকতে হবে। সিটি কলেজের দুই শিক্ষার্থীর তাদের কাছে জানতে চাইলে একই উত্তর আসে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কলেজে এমন কোনো কমিটি আছে বলে তাদের জানা নেই। কলেজের বর্তমান প্রিন্সিপালকে পাওয়া না গেলেও সাবেক প্রিন্সিপাল মাহবুবা রহমান জানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার সময়ে এই কমিটি করা হয়নি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্মান শেষ করা এক শিক্ষার্থী জানান, তার ৪ বছর পড়া অবস্থায় দুটি অভিযোগ অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একবার অন্য এক অনুষদের এক নারী শিক্ষকের আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঐ অনুষদের চেয়ারম্যানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আর একবার একই অনুষদের এক শিক্ষার্থীর আনীত অভিযোগে এক শিক্ষকের চাকরি চলে যায়। পিআইবিতে কর্মরত এক নারী এবং বেশ ছিকু গণমাধ্যম কর্মী এবং বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত নারী কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো সেল আছে বলে জানা নেই।
    একাধিক বিজ্ঞজন বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার সাথে সাথে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে নির্দেশনা প্রণয়ন করে। তারা মনে করেন, আমাদের আইন না মানার মানসিকতার ফলে কার্যকর হচ্ছে না নিদের্শনা। ফলে নারীর যৌন হয়রানির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
    ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী-১৬৪ জন নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু ইত্তেফাককে বলেন, এটি শুধুই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রকাশ করা রিপোর্ট। কিন্তু আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা শাখা অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ব্ববিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজেরা গিয়ে এবং চিঠি দিয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন করতে বলছি। কিন্তু রায়টি নিয়ে সেভাবে প্রচারণা নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিদের্শনাটিকে আইন করাও জরুরি।
    ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: আইনের প্রয়োগ ও কার্যকারিতা’ নিয়ে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের চলতি বছর মে মাসে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৩০ শিক্ষার্থী ও ২০ জন পেশাজীবীর উপর করা গবেষণায় দেখা যায় ৮৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের দিকনির্দেশনা জানেন না। পেশাজীবীদের মধ্যে এই হার ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত নির্দেশনার বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও না মানার কারণে এই তারা জানে না বলে মনে করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর ফারাহ কবীর। ফারাহ কবীর বলেন, একটা ফাঁক রয়ে গেছে। শুরুর দিকে কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও পরে প্রচার-প্রসারের অভাবে আর অগ্রসর হয়নি। কি উদ্দেশ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনাটি যে আইনের মতো কাজ করবে তা জানানোর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক বলেন, এটি একটি নজিরবিহীন নির্দেশনা। নির্দেশনায় বলা হয়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যতদিন না একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন করা হবে, ততদিন পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ মতে এ নির্দেশনাই আইন হিসেবে কাজ করবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ের সব কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। আইন না মানলে যেমন শাস্তি হয়, তেমন এই নির্দেশনা না মানলেও শাস্তি হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত মানুষ আইনের প্রতি সংবেদনশীল নয় বলে আইন মানেন না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর জন্য করা আইন সমাজ সহজে মেনে নিতে চায় না।
    মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে এ বিষয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেত বলা হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানান হয়। কিন্তু এখনও মানুষ এ বিষয়ে সেভাবে সচেতন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের লোকবলের অভাব আছে। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই রায় কার্যকরভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।