Category: আন্তর্জাতিক

  • এক সময়ের কুখ্যাত গ্যাংস্টার এখন গরিবের বন্ধু

    এক সময়ের কুখ্যাত গ্যাংস্টার এখন গরিবের বন্ধু

    এক সময় কুখ্যাত গ্যাংস্টার ছিলেন। আর এখন দিন কাটান গরিব মানুষজনের জন্য নুডলস বিলি করে।সেই ছোট বেলাতেই অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাইওয়ানের নিউ তাইপেই শহরের ইয়েন ওয়েই-শানের। যখন তার ১৫ বছর বয়স, একটি দলের সঙ্গে তীব্র গোলমালে জড়িয়ে পড়েন। হাতাহাতিও হয় তাদের সঙ্গে। আর সেখানেই মৃত্যু হয় একজনের।সেই ১৫ বছর বয়সেই অনিচ্ছাকৃত খুনের দায়ে জেল হয় ইয়েনের। সাড়ে চার বছর কারাবন্দি থাকতে হয়। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পর এক্কেবারে অপরাধ জগতেরই লোক বনে যান। গড়ে ওঠে নিজের বাহিনী।দীর্ঘ দিন চলছিল এভাবেই। টার্গেট হয়ে পড়েন পুলিশের। বছর আটেক আগে ধরা পড়ে যান ইয়েন। তবে আদালত থেকে এটাই শেষ সুযোগ বলে ক্ষমা করে দেয়া হয় ইয়েনকে।এর পরেই যেন দিনে দিনে অন্য স্বাধীনতার স্বাদ পেতে থাকছিলেন ইয়েন। তার কথায়, ওই সুযোগটাই যেন আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছিল। তখন থেকেই আমার পরিবার আর স্বাধীনতাকে আগলে রাখি আমি।-খবর আনন্দবাজারপত্রিকা অনলাইনের।নিউ তাইপেই শহরে একটি নুডলসের দোকান চালান ইয়েনের মা। নুডলস ছাড়াও সেই স্টলে পর্ক, চিংড়ি সঙ্গে বাঁধাকপিও মেলে। আর এই সব কিছুই সাধারণ খরিদ্দারদের জন্য মেলে ন্যায্য দামে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই?তাদের জন্য বিনামূল্যেই এই সব খাবারের বন্দোবস্ত করে থাকেন ইয়েন এবং তার মা। ইয়েন বলছিলেন, মাসে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ বাউল নুডলস ফ্রিতেই গরিব মানুষজনকে দেয়া হয়।চার বছর আগে মার সঙ্গে এই কাজে হাত দিয়েছিলেন ইয়েন। আর আজ পর্যন্ত প্রায় ৪০,০০০ বাউল নুডলস বিনামূল্যেই মানুষকে বিলি করেছেন বলে জানাচ্ছেন এক সময়ের গ্যাংস্টারের।ইয়েনের মতে, মূলত বৃদ্ধ মানুষজন আর বেকার যুবকেরাই বিনামূল্যে খাবারের জন্য আবেদন করে থাকেন।তবে শুধু নুডলসের দোকানেই দিন কাটে না ইয়েনের। জেলে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে রীতিমতো আলাপচারিতাও জমাতে যান ইয়েন।৬২ বছরের আর এক সাবেক গ্যাংস্টার ইয়েনের দোকানের প্রতিদিনের খরিদ্দার। পরিবারের সঙ্গেও সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করে ফেলেছেন সেই ব্যক্তি। ইয়েন বলছেন, আমি অনেক গ্যাংস্টারকেই দেখেছি, নিজের জীবনটা এই ভাবে শেষ করে ফেলতে। মাঝেমধ্যে আমারও ভেবে কষ্ট হয় যে, আমিও জীবনের কতটা সময় এই সব করেই নষ্ট করেছি।অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন সময়ে মনে হতো আমি যেন একটা দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করছি। কারণ যে কোনও মুহূর্তেই আমার জন্য একজন শত্রু অপেক্ষা করে রয়েছেন। আর এখন এমন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, যারা আমাকে দেখে সত্যিই খুব খুশি।

  • মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড

    মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্সের।

    এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক কো ওয়া লোন (৩২) ও কায়াও সোয়ে ও (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    রায় ঘোষণার সময় বিচারক ইয়ে লউইন বলেন, ওই দুই সাংবাদিক গোপনীয় নথি সংগ্রহ ও প্রাপ্তি উপনিবেশিক যুগের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন ভঙ্গ করেছিল। এ জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডিত করা হয়েছে।

    রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিয়ানমারের জন্য, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর জন্য এবং বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমের জন্য আজ একটি দুঃখের দিন।

    উল্লেখ্য, কো ওয়া লোন এবং কায়াও সোয়ে ও নামে এ দুই সাংবাদিককে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গনের উপকণ্ঠে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদেরকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

    রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিয়ে তারা কিছু দলিল জোগাড় করেছিলেন। সে জন্য তাদের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গ্রেফতার করা হয়। দুজনই মিয়ানমারের নাগরিক। দুই সাংবাদিক বলেছেন, তারা কোনো ভুল করেননি।

    রয়টার্স জানায়, তাদের দুই রিপোর্টারকে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ডিনারের কথা বলে ডেকে নিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এর পর তাদের বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টয়ের আওতায় অভিযোগ করা হয়।

    ১৯২৩ সালে প্রণীত ওই আইনের আওতায় আটক ব্যক্তি দোষি সাব্যস্ত হলে তার ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে।

  • জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    জঙ্গি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর পাকিস্তান সফরের আগে আগে এ ঘোষণা এল। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের জন্য প্রায় সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তা কাটছাঁট করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কন ফল্কনের বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অর্থ অন্য ‘জরুরি অগ্রাধিকারমূলক’ কাজে ব্যবহার করতে চায়।

    এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। বিভিন্ন দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সহায়তার বিষয়ে জানুয়ারি মাসে ঘোষিত বড়সড় কাটছাঁটের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের মৈত্রী রাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিজের ভূমিতে পাকিস্তান হাক্কানি নেটওয়ার্ক, আফগান তালেবানসহ জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

    গতকাল শনিবার কল ফল্কনের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো বাছবিচার না করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে পাকিস্তানকে অব্যাহতভাবে বলে যাচ্ছি আমরা।’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে ‘পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার অভাবে’ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা বাতিল করে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশের অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য পাকিস্তান তার ভূমিকে স্বর্গ বানিয়ে রেখেছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে আফগানিস্তানে হামলা চালাতে ওই জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সুযোগ দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দেশটিকে জঙ্গিদের নিরাপদ স্বর্গ বানিয়ে রেখেছে। তবে বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।

    এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জাতিসংঘ ত্রাণ ও কার্যক্রম সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) ‘অসংশোধনীয় ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে সংস্থাটির জন্য সব ধরনের অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে তারা।

    জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রতিবেশী রাষ্ট্র আফগানিস্তানকে লক্ষ্য করে তার জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে চালানো এসব হামলার ব্যাপারে পাকিস্তান কখনো প্রতিহত করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আফগান সরকারবিরোধী চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন আফগান তালেবানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আফগান তালেবানের সহযোগী পাকিস্তানি তালেবান সংগঠনগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও অনেক হামলা চালিয়ে থাকে। হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবান দুই সংগঠনের একাধিক হামলায় আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য ও মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।

    দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগান তালেবানকে ব্যবহার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত হামলার পর আইএসআই আফগান জঙ্গিদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা শুরু করে। আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ২০০১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর জন্য নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দেয় পাকিস্তান। পশ্চিমাঞ্চলে আল-কায়েদার মতো কিছু জঙ্গি সংগঠনের লড়াইয়েও পাকিস্তান সহায়তা করে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, আফগান বিদ্রোহীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। এই অঞ্চলে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের আফগানিস্তানের ওপর প্রভাব সীমিত রাখাই পাকিস্তানের লক্ষ্য।

  • মিয়ানমার উপকূলে রহস্যময় জাহাজ

    মিয়ানমার উপকূলে রহস্যময় জাহাজ

    মিয়ানমার উপকূলে একটি রহস্যময় ভুতুড়ে জাহাজ ভেসে এসেছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কাছে গত সপ্তাহে প্রথম জেলেদের চোখে পড়ে জাহাজটি। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর বিবিসির

    বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের নৌ বাহিনী জাহাজটিতে অনুসন্ধান চালায়। জাহাজটিতে কোনো নাবিক বা পণ্য নেই।

    ইয়াঙ্গুন পুলিশ জানায়, ৫৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল এই জাহাজের নাম ‘স্যাম রাতুলাঙ্গি পিবি ১৬০০’। ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি যে অনেক পুরনো তা এর গায়ে মরিচা পড়া দেখে বোঝা যায়।

    কীভাবে জাহাজটি ইয়াঙ্গুন উপকূলে ভেসে এলে, এর পিছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ইন্ডিপেনডেন্ট ফেডারেশন অব মিয়ানমার সিফারার্সের জেনারেল সেক্রেটারি আং কিউ লিন বলেন, জাহাজটি এখনও ব্যবহার উপযোগী। সম্প্রতি এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পিছনে কোনো কারণ থাকতে পারে।

    মেরিন ট্র্যাফিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০১১ সালে জাহাজটি নির্মিত হয়েছিল।

  • পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি

    পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি

    পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ন রাখতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকর্তারা সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দিয়েছে। ঘটনাটা ঘটেছে দক্ষিণ কাশ্মীরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কাশ্মীরে গত বুধবার এক ঘটনায় সন্ত্রাসবাদীরা পুলিশের চার কর্মীকে হত্যা করে। অপরাধীদের ধরতে দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় তল্লাশি চালানো হয়। সে সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং সন্ত্রাসীদের পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন হিজবুল মুজাহিদ্দিন গোষ্ঠীর স্বঘোষিত কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর বাবা আসাদুল্লাহ নাইকু। এর পাল্টা হিসেবে সন্ত্রাসবাদীরাও আটক করে পুলিশকর্মীদের পরিবারের কিছু সদস্যকে। বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতে এবং পুলিশের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়াতে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের পরিবারের আটক ১১জন সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক শীষপল বৈদ গত বছর বলেছিলেন, পুলিশকর্মীদের পরিবারের লোকজনের ওপর অত্যাচার করলে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারও ছাড় পাবে না। ওই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও সন্ত্রাসীদের ধরতে পরিবারের লোকজনকে আটক করা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই প্রথম পাল্টা চাল চেলে সন্ত্রাসবাদীরাও পুলিশ কর্মীদের পরিবারের লোকজনকে আটক করে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি আদায় করে নিল। এবং সেটা বলেকয়েই করা। হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ নাইকু ‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার পরেই অপহরণ করা হয় পুলিশ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের।

    কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের সূত্রপাতও ঘটেছিল এ ধরনের অপহরণের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৯ সালে কেন্দ্রে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন কাশ্মীরের সাবেক কংগ্রেস নেতা মুফতি মহম্মদ সঈদ। তাঁর কন্যা মেডিকেল ছাত্রী রুবাইয়াকে সন্ত্রাসবাদীরা অপহরণ করেছিল। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যে আটক চার সন্ত্রাসবাদী নেতার মুক্তি। মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে বাধ্য করা হয়েছিল সেই দাবি মানতে।

    কাশ্মীর ভারতের অঙ্গরাজ্য হলেও সংবিধান এই রাজ্যকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা ও মর্যাদা দিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারায় তা লিপিবদ্ধ। কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা কারা, সংবিধানের ৩৫ (ক) ধারা তা নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে রাজ্যের বিধানসভাকে। একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দারাই বিশেষ অধিকার পাওয়ার যোগ্য। ওই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন দিল্লির বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়। মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। প্রতিরোধ সর্বত্র। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিরা উপত্যকায় বিভিন্ন সময় বনধও পালন করেছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ভারত সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল এক আবেদনে বলেন, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট চলবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখা হোক। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের আর্জি মেনে নেন।

  • ভারতে যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ল

    ভারতে যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ল

    যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর ভারতের আদালত স্থগিতাদেশ আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এ-সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান।

    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে চলে যাবে এই সড়ক ধরে। এশিয়ান হাইওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ২০ হাজার ৫৫৭ কিলোমিটার। এ লক্ষ্যে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ও ভারত সরকার।

    গাছ কাটার বিরুদ্ধে আবেদনকারীদের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী গতকাল জানান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
    নির্দেশে বলা হয়, যেসব গাছ কাটার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রাচীন কি না এবং সেসব গাছ কোন এলাকায় অবস্থিত, তা বিস্তারিত জানাতে হবে ওই কমিশনকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, সব গাছই প্রাচীন। যদিও এদিন ডিভিশন বেঞ্চ প্রথমে জানিয়েছিলেন, যেসব গাছ কাটা হবে, সেখানে প্রতিটি গাছের জন্য পাঁচটি করে গাছ লাগাতে হবে। এরপর মামলার আবেদনকারীরা ফের এক আবেদনে জানান, ওই ৩৫৬টি গাছ কাটার ওপর দেওয়া হোক স্থগিতাদেশ। কারণ, ওই সব গাছও প্রাচীন। আইনজীবী এ কথাও জানান, এই নিয়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যেতে চান। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ আরও তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।

    বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের বুক চিরে চলে গেছে ঐতিহাসিক এই যশোর রোড। শুরু বাংলাদেশের যশোর জেলা থেকে। চলে এসেছে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল পেরিয়ে সোজা কলকাতায়। সেই যশোর রোড নিয়ে কত কথা, কত কাহিনি, কত ইতিহাস এখনো ঘুরে বেড়ায় এই উপমহাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যশোর রোড হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত ইতিহাস। এই রোড দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাড়ি দিয়েছেন শত্রুর মোকাবিলায়। এই রোডের পাশে কত মুক্তিযোদ্ধা আর শরণার্থীর ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল। এই রোড ঘুরেছেন সেদিন বিশ্বের তাবড় নেতা, কবি, সাহিত্যিকেরা। সেটার বিরাট ইতিহাস আজও জেগে রয়েছে।

    এখন সেই যশোর রোড চওড়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সড়কের মর্যাদা পেয়েছে। আজও যশোর রোডের দুপাশের শতবর্ষী বৃক্ষ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই বৃক্ষরাজিই আজ যশোর রোডের গর্ব। যশোর রোডের ইতিহাস।

    গাছ কেটে যশোর রোড চার লেনে প্রশস্ত করার সিদ্ধান্তের পর তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দুই দেশের পরিবেশবাদীরা। পেট্রাপোল (হরিদাসপুর) সীমান্ত থেকে কলকাতায় আসতে বারাসাত পর্যন্ত যশোর রোডের দীর্ঘ ৬১ কিলোমিটার পথে দাঁড়িয়ে থাকা এই শতবর্ষী বৃক্ষরাজিকে বাঁচাতে দুই দেশেই পৃথকভাবে আন্দোলন শুরু হয়।

    ভারত সরকার যশোর রোডকে চার লেনের সড়কে রূপান্তর করার জন্য এই রোডের ৪ হাজার ৩৬টি গাছ কাটার জন্য প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে পেট্রাপোল থেকে বারাসাত পর্যন্ত এই ৬১ কিলোমিটার সড়কের মাঝে থাকা রেললাইনের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য ৩৫৬টি শতবর্ষী গাছ কাটার প্রস্তাব দেয়। যাতে করে ওই ৩৫৬টি গাছ কাটা হলে রেললাইনের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ করা সহজ হয়।

    পরিবেশবাদীরা দাবি তোলেন, যশোর রোডের এক পাশের এই ঐতিহাসিক বৃক্ষকে সড়কের মাঝে রেখে দুদিকের রাস্তা চওড়া করতে হবে। যেমনটা হয়েছে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে কলকাতায় আসতে প্রথম দুই কিলোমিটার পথ। কলকাতা ও ঢাকার উচ্চ আদালতে গাছ কাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে মানবাধিকার সংস্থা ও পরিবেশবাদীরা। দুই দেশের মামলায় গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আদালত।

    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। ছবি: প্রথম আলো

    গত ২৭ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে শতবর্ষী ৩৫৬টি গাছ কাটার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হয় গতকাল। শুনানি শেষে আরও তিন সপ্তাহ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

    যশোর রোডের আরও ইতিহাস
    ইতিহাস বলছে, মূলত যশোর থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল-বনগাঁ-হাওড়া-বারাসাত পার হয়ে কলকাতার শ্যামবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ১২৫ কিলোমিটারের যশোর রোড। বাংলাদেশের অংশটুকু যশোর-বেনাপোল সড়ক নামে পরিচিত হলেও পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে একেবারে কলকাতা এয়ারপোর্ট ছাড়িয়ে নাগের বাজার হয়ে শ্যামবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়ককে যশোর রোড নামেই জানেন লোকজন। সাইনবোর্ডে কোথাও কোথাও লেখা চোখে পড়ে এই যশোর রোডের নাম। এই বিস্তৃত যশোর রোডের ৩৮ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে। বাকিটা পশ্চিমবঙ্গে। যশোর রোডের আশপাশের চাঁদপাড়া, ঠাকুরনগর, গোবরডাঙ্গা, মছলন্দপুর, হাবড়া, বাণীপুর, গাইঘাটা আর অশোকনগরে একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা লোকজনের ঠাঁই হয়েছিল বিভিন্ন রোডের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা শরণার্থীশিবিরে। মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ এই যশোর রোড দেখে ১৯৭১ সালে লিখেছিলেন কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর যশোরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত করতে যশোর রোড হয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন অস্থায়ী বাংলাদেশ প্রবাসী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ। তাই সেই যশোর রোড আজও ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

    যশোর রোডের আরও ইতিহাস জানতে একটু পেছনের দিনে ফেরা যাক। সম্রাট শের শাহ ১৫৪০ থেকে ১৫৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে আজকের পাকিস্তান পর্যন্ত তৈরি করেন গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড। যশোর-বেনাপোল-বনগাঁ-কলকাতা ছুঁয়ে লাহোর-পেশোয়ার অবধি চলে গেছে এই রোড। আবার ইংরেজদের বাংলা দখলের আগে সংস্কারের অভাবে এই রোড মেঠো পথে পরিণত হয়। তখন দস্যু-তস্করের হামলার ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়েই চলাচল করতেন রাজকর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা। তখন যশোর থেকে কলকাতায় যাওয়ার বিকল্প মাধ্যম ছিল নৌপথ। এরপর যশোর জেলা হওয়ার সুবাদে বেড়ে যায় যশোরের গুরুত্ব। প্রসার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্যের। তখন যশোরে গড়ে ওঠা উচ্চ ও মধ্য শ্রেণির প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু। হিন্দুদের কাছে তখনো গঙ্গাস্নান একটি পুণ্যের কাজ ছিল। সেই সময় যশোর থেকে বহু হিন্দু নারী গঙ্গাস্নানের জন্য নদীপথে কলকাতা যেতেন। আবার কেউ কেউ পালকিযোগেও যেতেন। তাঁরা যেতেন বনগাঁ হয়ে চাকদহের গঙ্গার ঘাটে। যশোর থেকে চাকদহের দূরত্ব ছিল ৮০ কিলোমিটার।

    সে সময় যশোর শহরের বকচরের জমিদার ছিলেন কালী প্রসাদ পোদ্দার। কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। নৌকার মাঝিদের অসহযোগিতার কারণে একবার জমিদারের মা গঙ্গাস্নানে যেতে না পারায় নিজেকে অপমানিত বোধ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে অনশনে বসেন। উদ্বিগ্ন পুত্র দরজা খোলার অনুরোধ জানালে মা শর্ত দেন, গঙ্গাস্নানের জন্য যশোর থেকে চাকদা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করে দিলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন। পুত্র কালী প্রসাদ মায়ের দাবি মেনে রাস্তা নির্মাণ করেন। ফলে এই রাস্তাকে অনেকে কালীবাবুর সড়ক বলেও অভিহিত করেন। ১৮৪৫ সালের দিকে ভারতের তৎকালীন গভর্নর অকল্যান্ডের সহযোগিতায় এই সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়। আর সেদিন এই সড়কের পাশে বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাগানো হয় প্রচুর শিশুগাছ। সেই গাছই আজ শতবর্ষী গাছের তকমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যশোর রোডজুড়ে