Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজায় নার্সকে গুলি করে মারল ইসরায়েলিরা

    গাজায় নার্সকে গুলি করে মারল ইসরায়েলিরা

    গাজায় আহত ফিলিস্তিনিদের সেবা দেয়ার সময় এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজা সিটির পূর্ব দিকে খান ইউনিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও রয়টার্স।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সি রাজান আল নাজ্জার নামের ওই সেচ্ছাসেবি নার্সের বুকে গুলি করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরফলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, ইসরায়েলের গুলিতে আহত হওয়া এক ব্যক্তি মাঠে পড়ে ছিল। তাকে উদ্ধার করা ও সেবা দেয়ার জন্য দৌড় দেন রাজান। তখনই তাকে গুলি করা হয়।

    ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, নার্সের সাদা ইউনিফর্ম পরা ছিল রাজানের। এছাড়া তিনি তার হাত উঁচু করেছিলেন। কিন্তু নার্সের পোশাক পরিধান এবং হাত উঁচু করা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তার বুকে গুলি করে।

    ফিলিস্তিনে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সংস্থার সূত্র দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি গুলির কারণে ৪০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

    গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

    এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দেয়।

  • অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়লেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

    অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়লেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় সংসদের অনাস্থা ভোটে হেরে পদচ্যুত হয়েছেন। স্পেনের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটে হারলেন। শুক্রবার এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    মারিয়ানো রাজয়ের দল পিপলস পার্টি (পিপি) বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন স্প্যানিশ স্যোশালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) নেতা পেদ্রো সানচেজ।তিনিই এখন স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন।

    শুক্রবার পার্লামেন্টে ভোটের আগে সানচেজ বলেছিলেন, ‘আমরা দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি।’

    ২০১১ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রক্ষণশীল পিপলস পার্টির নেতা রাজয়। শুক্রবার পার্লামেন্টে দ্বিতীয় দিনের মত বিতর্ক চলার সময়ই তিনি পরাজয়ের মুখে রয়েছেন বলে আভাস দিয়েছিলেন।

    তিনি সাংসদদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, ‘আরো উন্নত স্পেনের প্রত্যাশায় আমি পদ ছাড়তে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’

    বাস্ক ন্যাশনালিস্ট পার্টিসহ অনেকগুলো ছোট দলের সমর্থন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন স্যোশালিস্ট নেতা সানচেজ। ভোটাভুটিতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ১৮০ জন এমপি, বিপক্ষে পড়ে ১৬৯ ভোট এবং একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

  • সিরিয়া যুদ্ধে ৩০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস

    সিরিয়া যুদ্ধে ৩০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস

    সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস(এসএনএইচআর) জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে সিরিয়াতে চলা যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।

    মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব গৌতায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করা চালানো রুশ হামলায় শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে সিরিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া-সিরিয়া-ইরান জোট ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব গৌতায় সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়।

    সিরিয়ার সরকারি ও রুশ বাহিনী ব্যাপক ঘরাবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা করেছে। যুদ্ধের কোনো নিয়ম-কানুন না মেনেই অধিকাংশ বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

    এসএনএইচআর জানিয়েছে, সিরিয়াতে ৩০ লাখ বাড়িঘর আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কয়েক মিলিয়ন সিরীয় নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

  • টুইটের দাওয়াতে ছাত্রদের সঙ্গে সেহরিতে এরদোয়ান

    টুইটের দাওয়াতে ছাত্রদের সঙ্গে সেহরিতে এরদোয়ান

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সেহরি খেয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। টুইটারে এক ছাত্রের দেয়া দাওয়াত গ্রহণ করে শুক্রবার সেহরি খেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে হাজির হন তিনি। শিক্ষার্থীরা তার এমন কাজে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

    গুঞ্জোর আতাক নামে আঙ্কারার ইলিডিরিম বেয়াতিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্তচিকিৎসা অনুষদের  ওই ছাত্র শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৪.৪৭ মিনিটে এরদোয়ানকে সেহরি করার দাওয়াত দেন। তিনি টুইটে এরদোয়ানকে ট্যাগ করে লেখেন- প্রিয় রাষ্ট্রপতি, আপনি কি হুসেইন গাজি ডরমেটরিতে আমাদের অতিথি হতে পারেন, আমরা কি একসাথে সেহরি করতে পারি?

    খুব দ্রুত এর জবাব দিয়ে এরদোয়ান লিখেন, আমি আসছি যদি তোমাদের চা প্রস্তুত থাকে। এরপর সেখানে হাজির হয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সেহরিতে অংশ নেন। তারপরই স্থানীয় সময় ৫.৪৭ মিনিটে তিনি ছাত্রদের সঙ্গে ডরমেটরিতে অংশ নেয়ার ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেন।

    গত এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোয়ান। সে অনুযায়ী চলতি মাসের ২৪ তারিখে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রচারণা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। আর নির্বাচনের আগে এমন কাজকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ বলে অভিহিত করেছেন এরদোয়ান বিরোধীরা।

  • সৌদির কাছে পরমাণু তথ্য বিক্রি করছে ইসরায়েল

    সৌদির কাছে পরমাণু তথ্য বিক্রি করছে ইসরায়েল

    সৌদি আরবের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির তথ্য বিক্রি করছে ইসরায়েল। এ পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র বানাতে সক্ষম হবে। ইসরায়েলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের পরমাণু বিশ্লেষক এ তথ্য ফাঁস করেছেন। খবর প্রেস টিভির।

    অ্যামি দোর-অন নামে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পরমাণু বিশ্লেষক জানান,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ সহযোগিতা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, এ পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

    ইসরায়েলি বিশ্লেষকের মতে, শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকতে পারে তা জানা সত্ত্বেও ইসরায়েল রিয়াদকে পরমাণু তথ্য দেবে এই কারণে যে, যাতে সৌদি আরব পাকিস্তানের মতো দেশের কাছে না যায়।

    ইসরায়েল-সৌদি বেড়ে চলা সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অ্যামি দোর বলেন, ‘সৌদি আরব যাতে সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে এ জন্য ইসরায়েল রিয়াদকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে সাহায্য করতে চায়।’

    সৌদি আরব ইতোমধ্যে পরমাণু কর্মসূচি চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে।

  • ডলফিনের ‘সুখ’ পরিমাপ করছেন বিজ্ঞানীরা

    ডলফিনের ‘সুখ’ পরিমাপ করছেন বিজ্ঞানীরা

    মেরিন পার্কে ডলফিন।বন্দিদশায় প্রাণীদের কেমন লাগে, তা জানতে কাজ করেছেন ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানী। আপাতত তাঁরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে একটি মেরিন পার্কে ডলফিনের ওপর গবেষণা করছেন। এই বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য, বন্দিদশায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা পছন্দের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে কতটা খুশি হয়, তা পরিমাপ করা।

    ফ্রান্সের ওই বিজ্ঞানীদের দাবি, তিন বছরের গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা চেনা মানুষের দেখা পেতে গভীরভাবে অপেক্ষা করে। অ্যাপ্লায়েড অ্যানিমেল বিহেভিয়ার সায়েন্স সাময়িকী এ-বিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের পার্ক অ্যাসটেরিক্স নামের থিম পার্কের গবেষক ইসাবেলা ক্লেগের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালনা করছেন প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী আচরণ গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা।

    ইসাবেলা ক্লেগ বলেন, গবেষণার সময় ডলফিনের আচরণ বোঝার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। গবেষণায় চমকপ্রদ ফলাফল পেয়েছেন। বেশির ভাগ ডলফিনই চেনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে উদ্‌গ্রীব হয়ে থাকে। পানিপৃষ্ঠের ওপর থেকে ডলফিনের প্রশিক্ষকদের গতিপ্রকৃতি এবং তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডলফিনগুলোর শারীরিক অভিব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন, চেনা মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই ডলফিন অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    প্রাণীকে বন্দিদশায় রাখা ঠিক না বেঠিক, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই যুক্তিতর্ক চলছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে এই বিতর্কটা বেশি। বন্দিদশায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননের ওপর নিষেধাজ্ঞার একটি প্রস্তাব সম্প্রতি ফরাসি সরকার বাতিল করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে পার্ক অ্যাসটেরিক্সের ডলফিন সংরক্ষণাগারের পরিচালক ব্রিজত মারসেরা বলেন, বন্যেরা বনে সুন্দর। তবে বন্দিদশায় জন্ম নেওয়া ডলফিনেরা সামুদ্রিক জীবনের চেয়ে বন্দিদশাই বেশি পছন্দ করে। তাঁর মতে, ‘বন্দিদশায় জন্ম নেওয়া ডলফিনদের জীবনের গণ্ডি বন্দিদশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’

    তবে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক প্রাণীর সামাজিক আচরণ বিশেষজ্ঞ সুসান শুলজ অনেকাংশেই ফ্রান্সের ওই গবেষকদের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, বন্দিদশায় যতটা সুখী থাকে ডলফিন, মুক্ত অবস্থায় নিঃসন্দেহে তার চেয়ে বেশিই সুখী হবে। গবেষণায় প্রাপ্ত বন্দিদশায় ডলফিনদের মানুষের সঙ্গ প্রত্যাশা করার তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলে বিষয়টা এমন নয় যে ডলফিনকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দিলে তা সে নেবে না।

    যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা হোয়েল অ্যান্ড ডলফিন কনজারভেশনের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে ৫০টি দেশে অন্তত তিন হাজার ‘দাঁতওয়ালা তিমি’ পরিবারের সদস্য বন্দিদশায় রয়েছে। ডলফিন এই পরিবারের সদস্য। তবে ইসাবেলা ক্লেগ সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই মনে করেন। তাঁর মতে, প্রাণিজগতের ওই পরিবারের আরও অন্তত ৫০০০ অনিবন্ধিত সদস্য বন্দিদশায় রয়েছে।