Category: আন্তর্জাতিক

  • ‘রোহিঙ্গা নিধনকারীদের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হওয়া উচিত’

    ‘রোহিঙ্গা নিধনকারীদের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হওয়া উচিত’

    রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় জড়িতদের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান জেইদ রাদ-আল হুসেইন।

    জেনেভায় শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন এই জাতিসংঘ কর্মকর্তা।

    জেইদ রাদ-আল হুসেইন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিধনের অনেক পরীক্ষিত প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে হলে দেশটির উচিত তদন্ত দলকে সেখানে (রাখাইন) ঢুকতে দেয়া।’

    এসময় তিনি রাখাইনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেয়ার সুযোগ দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

    এর আগে জেনেভাতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন।

    বৃহস্পতিবার তিনি তার দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে সেসবের প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন সাংবাদিকদের।

    এর একদিন পরেই জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হওয়া হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করলেন।

    জাতিসংঘ রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টিকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, এপি

  • সৌদি-মিশরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের

    সৌদি-মিশরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের

    আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে ইরান- সৌদি আরব ও মিশরের করা এমন অভিযোগের একদিন পরই তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে এ অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সমস্যা সমাধানে সহায়তা করাকে ইরান তার পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আঞ্চলিক সংকট নিরসন করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করাই তেহরানের লক্ষ্য।’

    সম্প্রতি মিশরে ঐতিহাসিক সফর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান। যুবরাজের সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার দুই দেশের দেয়া যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের যৌথ বিবৃতি দেয়ার একদিন পরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা বিবৃতি দেয় ইরান।

    বিবৃতিতে কাসেমি বলেন, ‘তার দেশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গতানুগতিক, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কিছু সুনির্দিষ্ট দেশ নিজেদের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের শত্রু ও অমঙ্গলকামীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘ইতিহাস গড়তে’ চান কিম

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘ইতিহাস গড়তে’ চান কিম

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়তে চান বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ং সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএএনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলে ১০ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—দেশটির গোয়েন্দা প্রধান সুহ হুন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়ুই ইয়ং। দলটি দক্ষিণ কোরিয়া পৌঁছানোর পর সদস্যদের ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ জানান কিম। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।

    দুই দিনের এই সফরে দুদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পিয়ংইয়ং-এর মধ্যে আলোচনার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি যুক্তরাষ্ট্রও। এক্ষেত্রে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধের শর্ত দিয়েছে তারা। তবে মার্কিনিদের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন কিম।

    উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শেষে সপ্তাহ শেষেই যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবেন সুহ হুন ও ইয়ুই ইয়ং। সেখানে গিয়ে তারা উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আলোচনা করবেন।

    ২০১১ সালে কিম জং উন ক্ষমতায় বসার পর এটাই দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর করিয়ার রেষারেষির সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। সম্প্রতি পিয়ংইয়ং-এর ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও একের পর হুমকিতে দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হওয়ায় পিয়ংইয়ং-এর বিপক্ষে যায় দক্ষিণ কোরিয়াও। তবে গেল মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া উইন্টার অলিম্পিকের জের ধরে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

  • গ্যাস স্টেশনেও কাজ করবে সৌদি নারীরা

    গ্যাস স্টেশনেও কাজ করবে সৌদি নারীরা

    পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসছে সৌদি আরব।  নারীদের জন্য জারি করা কঠোর নিয়মকানুন এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে।  গত বছর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে চোখে পরার মতো পরিবর্তন দেখা যায়। সৌদিতে এখন নারীরা পারে জনসম্মুখে গাড়ি চালাতে, যাচ্ছে স্টেডিয়ামে, এমনকি গত সপ্তাহে তাদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগও দিয়েছে দেশটির সরকার।  এবার প্রথমবারের মতো গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলো সৌদি নারীদের। সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

    রাজধানী রিয়াদ থেকে ৪০০ কি.মি. পূর্বে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন ৪৩ বছর বয়সী মেরভাত বুখারি।  চার সন্তানের জননী বুখারি প্রথম গ্যাস স্টেশনে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসেন।  তবে প্রতিদিন কাজ করার সময় তাকে বেশ কটূক্তি ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় বলে জানান তিনি।
    বুখারির গ্যাস স্টেশনে কাজ করা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তার ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।  অনেকেই তার নেকাব পরা ছবি নিয়ে ট্রল করেছেন।  এমনকি ‘সৌদি নারীরা গ্যাস স্টেশনে কাজ করতে পারবে না’ লিখে পোস্টও করেন।

  • সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় পিছু হটছে বিদ্রোহীরা

    সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় পিছু হটছে বিদ্রোহীরা

    সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় পিছু হটছে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের দমনে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর হামলার প্রেক্ষিতে হাজার হাজার মানুষ শহর ত্যাগ করছে। সন্ত্রাসবাদ উৎপাটনের আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা অনলাইন। সিরিয়ান অবসারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস রোববার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব ঘৌটার এক চতুর্থাংশ অঞ্চল অধিকৃত করেছে সরকারি বাহিনী। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ান বিমান বাহিনীর সহায়তায় বেশ কিছু গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে সরকারি বাহিনী। একটি সমর্থিত সেনাসুত্রে জানা গেছে যে, দামেস্কের আল নাসাইবিয়াহ এবং ওতায়াসহ বেশ কিছু অঞ্চলে বিদ্রোহীদের হটিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবসারভেটরি বলেছে, ঘৌটার মধ্যাঞ্চলের মেসরাবা শহরের সীমান্তে পৌঁছে গেছে সিরিয়ান বাহিনী। পূর্ব ঘৌটায় ভারী গোলাবারুদ ছুড়ে এবং আকাশপথে বিমান এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। ফলে বিদ্রোহীরা পিছু হটতে বাধ্য হলেও তারা পুনর্গঠিত হচ্ছে- এমনটিই জানিয়েছে বিদ্রোহীদের একটি দল ‘জাইস আল ইসলাম’। এক অডিওবার্তায় দলটির মুখপাত্র হামজা বিরকদার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, অধিকৃত অঞ্চল থেকে সরকারি বাহিনীকে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি বাহিনীকে মোকাবেলা করতে তারা দলের শক্তি বৃদ্ধি করছেন। উল্লেখ্য, পূর্ব ঘৌটায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। নিত্যদিনের বোমাবর্ষণ এবং হামলায় অঞ্চলটি একটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহেই ৬০০ এরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

  • চীনের সামরিক বাজেট ১৭৫ বিলিয়ন ডলার

    চীনের সামরিক বাজেট ১৭৫ বিলিয়ন ডলার

    ২০১৮ সালে চীনের সামরিক বাজেট হবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার। যা চীনের মুদ্রায় ১.১১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

    দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) চলমান বার্ষিক সভায় প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং সামরিক বাজেটের এ ঘোষণা দেন। এটি গত বছরের তুলনায় ৮.১ শতাংশ বেশি।

    ২০১৮ সালের জন্য চীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালে দেশটির অর্জিত প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯০ শতাংশ।

    ২০১৭ সালে চীনের সামরিক বাজেট বাড়ানো হয়েছিলো ৭ শতাংশ। যার পরিমাণ ছিলো ১৬৪.৬০ বিলিয়ন ডলার (১.০৪৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান)। যা প্রস্তাবিত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের এক চতুর্থাংশ।

    সামরিক বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক প্রশিক্ষণ, যুদ্ধ প্রস্তুতির সকল দিকে অগ্রসর হওয়া এবং দৃঢ়ভাবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এ বাজেট। জাতীয় নিরাপত্তার পরিবেশে গভীর পরিবর্তন এসেছে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীকে পাথরের মতো শক্ত হতে হবে।’

    বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, সামরিক বাজেট বৃদ্ধিকে দক্ষিণ চীন সাগর ও হিমালয়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে দেশটির কৌশলগত উচ্চাভিলাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রসহ চীনের প্রতিদ্বন্ধী দেশগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    এদিকে সি জিন পিংকে দুই বারের বেশি সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে রাখতে সাংবিধানিক বাধ্যকতাও এ বারের এনপিসি বৈঠকে সরিয়ে নেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, চীনের একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় কমিউনিস্ট পার্টির তিন হাজার সদস্য নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) গঠিত হয়।