Category: আন্তর্জাতিক

  • আবার কথার লড়াই ট্রাম্প-হিলারির

    আবার কথার লড়াই ট্রাম্প-হিলারির

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারা মুখোমুখি হয়েছিলেন। একজন আরেকজনকে ঘায়েল করেছেন সে সময়। তারপর প্রায় এক বছর কেটে যাচ্ছে। এ সময়ে অনেকটা নীরবতা রক্ষা করেন ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা নিয়ে পরাজিত হিলারি ক্লিনটন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও পরে অনেক বিষয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে নিজের বৃত্তে বন্দি ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু কয়েকদিন হলো আবার দু’জনকে একই রকম রাজনৈতিক আক্রমণের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে। একজন আরেকজনকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। নতুন করে শুরু হয়েছে তাদের বাকযুদ্ধ।

    রোববার লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারে লন্ডন সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য রাখেন হিলারি ক্লিনটন। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে নিয়ে নিজের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বলেন, যেকোনো সময় পারমাণবিক হামলা শুরু করে দিতে পারেন ট্রাম্প। নিজের কৃতিত্ব বাড়ানোর জন্য তিনি উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধিয়ে বসতে পারেন।

    হিলারি আরো বলেছেন, এফবি আইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমির কারণে তিনি গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরেছেন। তা না হলে এখন তিনিই থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

    এসব কথা গোপন থাকে নি। সব চলে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কানে। তাই তিনি টুইট করেছেন। হিলারিকে তাই আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি টুইটে লিখেছেন, সম্প্রতি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি কি ২০২০ সালে ‘ক্রুকড’ হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে আবার নির্বাচনে যাচ্ছি কিনা? এ প্রশ্নে আমার জবাব হলো- আমি তো তাই আশা করি। ওদিকে গত সেপ্টেম্বরে সিবিএস টেলিভিশনকে একটি সাক্ষাতকার দেন হিলারি। তিনি তাতে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় থাকবেন। তিনি বিশ্বাস করেন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত স্থবির হয়ে আছে। এসব খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে হোয়াইট হাউজের দৌড়ে অংশ নিয়ে পরাজিত হন হিলারি। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে হেরে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি বেশির ভাগ সময়ই ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জনসমক্ষে আসা ধরেছেন। লিখেছেন নতুন একটি বই। নাম তার ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড’। এতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। তার সাম্প্রতিক কর্মকাকা- ও বক্তব্য দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

    এদিকে এ বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন আগুনে জবাব দেয়া হবে যা বিশ্ব কোনোদিন দেখেনি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা উত্তর কোরিয়ার হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও বর্তমানে এ ইস্যুতে দৃশ্যত অনড় অবস্থানে আছে। এ ছাড়া শুক্রবার তিনি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার ওপর জোর দেন। ইরানকে সার্টিফাই করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তিনি বলেন, চুক্তির সব শর্ত মেনে চলছে ইরান এমনটা বলা যাবে না। তাই তিনি এ চুক্তি বাতিল করার ওপর জোর দেন।

  • শুধু ঘরবাড়ি নয়, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ: সুচিকে রোহিঙ্গা যুবক

    শুধু ঘরবাড়ি নয়, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ: সুচিকে রোহিঙ্গা যুবক

    মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচিকেই রাখাইনের সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা। খোলা চিঠিতে বাংলাদেশে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ওই রোহিঙ্গা সু চিকে দায়ী করেছেন।
    কাতারভিত্তিক আল জাজিরার মাধ্যমে এক খোলা চিঠি ওই রোহিঙ্গা তার একসময়ের প্রিয় নেত্রী অং সান সুচিকে দেন। এই রোহিঙ্গা নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন পাঠাগার। কিন্তু সেনা সদস্যদের আগুনে সব হারিয়েছেন। তিনি এখন আছেন কুতুপালংয়ের আশ্রয় ক্যাম্পে।
    চিঠির শুরুতে অং সান সুচিকে ওই রোহিঙ্গা বলেন, আপনি যে বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, সে বছরেই আমার জন্ম। আপনার নোবেল প্রাপ্তি মিয়ানমারের মানুষের জন্য ছিল এক বিশাল গর্ব এবং সম্মানের ব্যাপার। রাখাইনের মংডু আমার এলাকা। ওই এলাকার প্রতিটি মানুষ আপনার নোবেল প্রাপ্তির আনন্দে ভেসে যায়। যেন এই আনন্দ শুধু আপনার একার নয়, এ বিজয় সমগ্র মিয়ানমারের। এ আনন্দের ঢেউ খেলে যায় আমাদের মাঝেও।
    সুচির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে আমরা রোহিঙ্গারা প্রথমবারের মতো গর্বের সঙ্গে অনুভব করি যে, আমরাও এ দেশের অংশ। কয়েক দশক ধরে সামরিক জান্তার হাতে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আপনার নোবেল প্রাপ্তি বয়ে এনেছিল আশার আলোকবর্তিকা। আমি ছোটবেলা থেকেই দাদার মুখে আপনার প্রশংসা ও গুণগান শুনেছি। আপনার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রতি আমার দাদু শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এ জন্য তিনি আপনার দলের নেতারা কখনো আমাদের এলাকায় কাজে এলে তাদের আপ্যায়নে নিজের গোয়ালের সবচেয়ে বড় ছাগল এবং গরু জবাই করতেন। তিনি তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাতেন। আমার বাবা এবং দাদা আপনার প্রতি এতই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তারা চাইতেন আমি আপনার পথ অনুসরণ করি। আমার মাও আপনার বক্তব্য এবং জীবনবোধের অনুসারী।
    চিঠিতে একপর্যায়ে বলা হয়, ২০১০ সাল আপনি (সুচি) যখন গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্তি পেলেন, সেদিন ছিল আমাদের এক আনন্দঘন দিন। কিন্তু এর সাত বছর পর, এখন আমরা রোহিঙ্গারা নৃশংসতার শিকার। আমরা জাতিগত নিধনের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। এবং এবার স্বয়ং আপনার ইন্ধনেই তা ঘটছে। ২০১৫ সালে মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর আপনি এনএলডি দল থেকে মুসলমান প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিলেন। এটা ছিল আপনার রাজনৈতিক ভীরু তার প্রথম পদক্ষেপ। এর কয়েক মাস পরেই আপনার প্রশাসন উত্তর রাখাইনে ‘নিধন অভিযান’ শুরু করল। এ সময়ে অসংখ্য রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হলো। হাজারো নারী গণধর্ষণের শিকার হলেন। আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার মুখে দাঁড়িয়ে আপনি সহিংসতার কথা অস্বীকার করলেন। আপনি আমাদের ঐতিহ্যবাহী রোহিঙ্গা পরিচয়কে অস্বীকার করলেন। শতকজুড়ে রাখাইনের থাকা রোহিঙ্গাদের আপনি বহিরাগত বললেন। গত ২৫ আগস্ট থেকে হত্যা, নির্যাতন, সহিংসতার শিকার হয়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে চলে গেছে। যারা এখনো মিয়ানমারে আটকে আছে, তারা মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর আমি ও আমার পরিবার বাধ্য হই দেশত্যাগ করি। তিন দিন-দুই রাতের দীর্ঘ যাত্রায় আমরা ছোট্ট একটি নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করি। পরবর্তীতে আমাদের ঠাঁই হয় কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে। এখানে আসা মাত্রই জানলাম যে রাখাইনে আমাদের আবাসস্থল আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    ওই রোহিঙ্গা চিঠিতে আরও বলেন, লোকে হয়তো বলবে, এ ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী সামরিক জান্তা কিংবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। আমি বলব, এ দায় কেবল আপনার। আপনি শুধু আমার ঘরই জ্বালিয়ে দেননি, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার বই। আপনি জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ। আমার স্বপ্ন ছিল সিতউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়ে একজন লেখক হওয়ার। কিন্তু সুচি, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গাদের পড়াশোনা করা নিষিদ্ধ। তাই আমি বাধ্য হয়ে বইপত্র এবং প্রবন্ধ পড়ে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করেছি। আপনি শুধু রোহিঙ্গাদের হত্যা করেননি, আপনি হত্যা করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শকে। আপনি হত্যা করেছেন মহাত্মা গান্ধীর দীক্ষাকে। আপনি হত্যা করেছেন মানবজাতির মূল অহংকার-মানবতাকে।

    সু চি একটি প্রশ্ন রেখে আপনার প্রতি আমার বাবার একটি প্রশ্ন আছে। সে প্রশ্নটি হলো, শান্তির নোবেল জয়ী, এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরও একটি বারের জন্য আপনি আমাদের নিপীড়িত রাখাইনদের দেখতে রাখাইন রাজ্যে অথবা বাংলাদেশে এলেন না কেন? আপনার আদৌ এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা আছে? আপনি আপনার পথ বেছে নিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গার রক্তের জন্য আপনার নাম পৃথিবীতে অবশ্যই অমর হয়ে থাকবে। তবে তা কি শান্তিতে নোবেলের জন্য, না কি আপনার নারকীয় নৃশংসতার জন্য এর ভবিষ্যতের কোনো এক সময় পাওয়া যাবে।

  • ব্যাঙের ছাতায় বিষণ্নতা কাটানোর উপাদান

    ব্যাঙের ছাতায় বিষণ্নতা কাটানোর উপাদান

    লন্ডন: যাদের মানসিক বিষণ্নতার নিরাময় কঠিন, বিজ্ঞানীরা বলছেন ম্যাজিক মাশরুম নামে পরিচিত একধরনের ব্যাঙের ছাতায় ঘোর সৃষ্টিকারী এক রাসায়নিক ব্যবহার করে তাদের চিকিৎসা করা সম্ভব হতে পারে বলে তারা আশাবাদী। খবর বিবিসির।

    সিলোসিবিন নামে এই রাসায়নিক উপাদান মানুষের মস্তিষ্কে একটা মাদকের ঘোর সৃষ্টি করতে পারে যা মস্তিষ্ককে আবার চাঙ্গা করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

    ১৯জন রোগীর ওপর এই উপাদান পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি ব্যবহারের পর অর্ধেক রোগীর মানসিক বিষণ্নতা কেটে গেছে এবং তারা মস্তিষ্কে একটা পরিবর্তন অনুভব করতে পেরেছেন যা প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়েছে। তবে লন্ডনে ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীরা রোগীদের ম্যাজিক মাশরুম দিয়ে নিজেদের ওপর চিকিৎসা চালানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা গবেষণায় দেখেছেন সিলোসিবিন রাসায়নিক পদার্থটি মস্তিষ্ককে হালকা করে দেয় এবং মানুষকে মানসিক বিষণ্নতার উপসর্গ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।

    তবে মস্তিষ্কের ভেতর এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে তা এখনও পরিস্কারভাবে জানা যায় নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা গবেষণায় দেখেছেন এই সিলোসিবিন মস্তিষ্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ করে।

    এই অংশ দুটি মস্তিষ্কের মধ্যে ভয় বা উদ্বেগের মত অনুভূতি কীভাবে কাজ করবে তার জন্য দায়ী ।

    তবে গবেষণা দলের প্রধান ড: রবিন কারহার্ট-হ্যারিস বলেছেন এখনো আরো বিস্তৃত পরিসরে এই গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।

    কিন্তু প্রাথমিক গবেষণার ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক এবং মানসিক বিষণ্নতার সফল চিকিৎসায় এই সিলোসিবিন কীভাবে ব্যবহার করা হবে সেটাই গবেষণার পরবর্তী ধাপে তারা পরীক্ষা করে দেখবেন।

  • রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ

    যশোর: যশোরের পুটখালী সীমান্তের ওপারে ভারতের আংরাইল সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ।

    শনিবার সন্ধ্যার পর তাদের ভারতের আংরাইল সীমান্তের ইছামতি নদীর তীরে রোহিঙ্গাদের একত্রিত করা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের বাংলাদেশে পাঠাবে।

    এদিকে রোহিঙ্গাদের যাতে বাংলাদেশে পাঠাতে না পারে সেজন্য পুটখালী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্য ইছামতি নদীর বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

    ২১ বিজিবির কমান্ডার তারিকুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভারতের আংরাইল সীমান্তে ইছামতি নদীর তীরে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে একত্রিত করা হয়েছে। তাদের মারধর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। রোহিঙ্গাদের যাতে বাংলাদেশে পাঠাতে না পারে সেজন্য পুটখালী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ইছামতি নদীর তীরে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

  • ব্রিটিশ সাবমেরিনে যৌন সম্পর্ক

    ব্রিটিশ সাবমেরিনে যৌন সম্পর্ক

    সমুদ্রে গভীর পানির নিচে ডুবন্ত সাবমেরিন। পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ সাবমেরিনের ভিতর তখন শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে গেছেন দু’জন নারী সদস্য ও দু’জন পুরুষ সদস্য। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় চলছে বৃটেনে। ওই সাবমেরিনে ছিলেন এমন পাঁচজন কর্মকর্তা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। বলা হয়েছে, এমন শারীরিক সম্পর্কে জড়িত থাকা একজন নারী অফিসারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি সাব-লেফটেন্যান্ড রেবেকা এডওয়ার্ড বলে জানাচ্ছে বৃটিশ মিডিয়া। এতে আরো বলা হয়, এইচএমএস ভিজিল্যান্ট সাবমেরিন যখন উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবন্ত অবস্থায় তখন এর ভিতরের দু’জন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ওই দুই নারীর দেহ ভোগ করেছেন। কিন্তু একই সাবমেরিনের ভিতরকার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক গড়া নিষিদ্ধ। রিপোর্টে আরো বলা হচ্ছে স্টুয়ার্ট আর্মস্ট্রং (৪১) নামের কমান্ডিং অফিসার একজন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়েছিলেন। গ্লাসগোর কাছে ফসালেনে এই সাবমেরিনের ঘাঁটিতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি জানান ওই সাবমেরিনের একজন সদস্য। তারপরই ঘটনা প্রকাশ পায়। ওই সময় থেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে আর্মস্ট্রংকে। একই অভিযোগে সামরিক বরখাস্ত করা হয়েছে আর্মস্ট্রংয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাইকেল সিল’কে। উল্লেখ্য, বৃটেনের হাতে এখন মাত্র চারটি পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ ভ্যাবগার্ড ব্রান্ডের সাবমেরিন আছে। তার অন্যতম এইচএমএস ভিজিল্যান্ট। এটি টহলে সক্রিয় রয়েছে। বৃটেনকে কোনো পারমাণবিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয় এই সাবমেরিন। বৃটেনের নৌবাহিনীর একটি সূত্র বলেছেন, এইচএমএস ভিজিল্যান্ট সাবমেরিক যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার পর পরই এর কর্মকর্তারা পদত্যাগের হুমকি দেন। তারপরই এর সিও এবং একও’কে তাদের কমান্ড থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের এমন কর্মকা- কমান্ডিংয়ে যারা আছেন তাদের ক্ষতি করেছে। তাদেরকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তার অধীনে ছিল এ জাতীয় শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ রাখা। রাজকীয় নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, ওই ঘটনায় সাবমেরিনটির কর্মতৎপরতায় কোনো প্রভাব ফেলে নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, এখন থেকে ছয় বছর আগে একজন নারী অফিসারের বিরুদ্ধে সাবমেরিনে দায়িত্ব পালনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

  • রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেই হবে মিয়ানমারকে: কফি আনান

    রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেই হবে মিয়ানমারকে: কফি আনান

    ডেস্ক: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট এর চেয়ারম্যান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, মিয়ানমারকে তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেই হবে।
    তিনি ৩টি শর্ত উল্লেখ করে বলেন, সেখানে সামরিক বাহিনীর অপারেশন বন্ধ করতে হবে, রোহিঙ্গাদের বাধাহীনভাবে মানবিক সাহায্যের সুযোগ দিতে হবে ও রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের তাদের মূল ভূখন্ডে নিরাপদে অবশ্যই মর্যাদার সাথে প্রর্ত্যাবর্তনের টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে মিয়ানমারকে।
    কফি আনান তার বক্তব্যে জানান, ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নতুন পুরানো সব মিলিয়ে বাংলাদেশে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়নে নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বক্তব্যের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। কফি আনান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশকৃত ‘এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট’ এর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। রাখাইন প্রদেশের জনগণের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও চলমান সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার তাঁর কমিশন প্রণীত রিপোর্টের সুপারিশমালার আশু বাস্তবায়ন করবে মর্মে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
    কফি আনান রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কফি আনান তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে। কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্ত:সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন “এই ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের জনগণের কল্যাণে মিয়ানমার সরকার রাখাইন জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যমত্য হয়ে কাজ না করে”। নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যই এ সংকট সমাধানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এটিকে মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ। আমরা এটি আর গ্রহণ করতে পারছি না। আমরা মিয়ানমার সিকিউরিটি ফোর্সের এই হীন কাজের নিন্দা জানাই”। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি অনতিবিলম্বে মানবিক সহযোগিতা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি, সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও নিশ্চয়তার সাথে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনসহ কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। প্রায় একই ভাষায় কথা বলে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ। তারা বাস্তুচ্যুত ও অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক সাহায্য প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রসংশা করেন। সকলেই সহিংসতা বন্ধ, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন এবং উদ্বাস্তু প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণের বাইরে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এর প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অফিস অব দ্যা হাই কমিশন অব হিউম্যান রাইটস্্, অফিস ফর দ্যা কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়াস্্, ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি, ওআইসি এবং ইউরোপিও ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।