Category: আন্তর্জাতিক

  • রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমার দেশটির সেনাবাহিনী দায়ী: যুক্তরাষ্ট্র

    রোহিঙ্গা নির্যাতনে মিয়ানমার দেশটির সেনাবাহিনী দায়ী: যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কাছে নিজ দেশের অবস্থানের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এমন বাস্তবতায় দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি টিলারসন।

    ‘ওই এলাকায় (রাখাইন) সংঘটিত নৃশংসতা নীরব দর্শকের মতো দেখতে পারে না বিশ্ব’, বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এদিকে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তা ও নৃশংসতায় জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে কংগ্রেসেরন নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই সদস্যরা বলেন, রাখাইনে যা ঘটেছে তা দৃশ্যত অস্বীকারের চেষ্টা করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা রাজ্যটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানান।

    আগস্টের শেষের দিকে রোহিঙ্গাদের ওপর লোমহর্ষক নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। তারা নির্বিচারে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন বয়সী নারীদের ধর্ষণ করছে। এমন বাস্তবতায় নজিরবিহীন সংকটে পড়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিনই ছুটে আসছে বাংলাদেশে।

    টিলারসন বলেন, ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে, মিয়ানমারে জঙ্গি সমস্যা রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীকে নিয়মতান্ত্রিক ও সংযত উপায়ে সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় প্রবেশ উন্মুক্ত করতে হবে যাতে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায়।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই খবরগুলো (নৃশংসতা) সত্যি হলে এর জন্য দায়ী হবে একটি পক্ষ (সেনাবাহিনী)। মিয়ানমার আগামী দিনগুলোতে নিজেদের কোন দিকে চালিত করবে, তা দেশটির সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।’

    টিলারসন বলেন, মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রোহিঙ্গা সংকট সেনাদের সঙ্গে ক্ষমতা বিনিময় করা মিয়ানমার সরকারের জন্য একটি পরীক্ষা বলে মনে করছেন তিনি।

  • রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম স্বচক্ষে দেখেছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি

    রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম স্বচক্ষে দেখেছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি

    ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর পুড়িয়ে দেয়া বেশকিছু গ্রাম স্বচক্ষে দেখেছেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ফেল্টম্যান। একইসঙ্গে তিনি রাখাইনের রাজধানী সিত্তুয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

    জাতিসংঘের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর মিয়ানমারে পাঁচ দিনের সফর শেষ করেন জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা।

    সফর শেষে তিনি রাখাইনের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেকার অনাস্থা ও ভীতি দূর করতে জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীন আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন।

    আকাশপথে রাখাইনের পরিস্থিতি দেখা জাতিসংঘের এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সকল গোষ্ঠীর জনগণকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

    তিনি রাখাইন রাজ্যের জন্য গঠিত আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এক্ষেত্রে মিয়ানমার চাইলে জাতিসংঘ সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

    মিয়ানমার সফরকালে তিনি স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি, সেনাপ্রধান মিন অং হেইংসহ মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি এসব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা ও সংকটকে তুলে ধরেছেন। তিনি রাখাইনে ত্রাণ সরবরাহকারীদের প্রবেশের পাশাপাশি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: ইউএন নিউজ।

  • কানাডার কুইবেকে নিষিদ্ধ হলো নিকাব

    ঢাকা: কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের জন্য নিকাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি আইন পাশ হয়েছে। কুইবেকে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা আইনটি বহু সমালোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আইনটিই পাশ করেছে কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে তাদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এই আইনটি পাশের মাধ্যমে।

    কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ‘বিল সিক্সটি-টু’ নামের এই আইনটি পাশ হয় ৬৬-৫১ ভোটে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লিবারেলরা দুবছর আগেই এই বিলটি উত্থাপন করেছিল।

    আর এখন এটি পাশ হবার কারণে-প্রদেশের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, বাস চালক, ডাক্তার, মিডওয়াইভ এবং দাঁতের ডাক্তারসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মুখ অনাবৃত থাকতে হবে।

    এছাড়া প্রদেশের যেসব শিশুকেন্দ্রে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে-এই আইনে এমনটাই বলা হচ্ছে।
    তবে কুইবেকের এই আইনটিতে কোথাও মুসলিমদের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ নেই।

    সরকার বলছে, কোনো ধরনের আচ্ছাদন বা আবরণ মুখে থাকবেনা এমনটাই আইনে বলা হচ্ছে, তার অর্থ এই নয় যে মুসলিমদের টার্গেট করে এমনটা করা হয়েছে।

    তবে এই আইনের প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপরেই সবচেয়ে বেশি পড়বে। সরকার বলছে, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে মাথায় রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    তবে সমালোচকেরা বলছেন, এটি মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। কুইবেকে কত নারী নিকাব পড়ে সেই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে। সূত্র: বিবিসি

  • কায়রো কেনও মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক শহর?

    কায়রো কেনও মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক শহর?

    ঢাকা: মিশরের রাজধানী কায়রোকে বলা হচ্ছে মেয়েদের জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ শহর। আর নারীদের জন্য খারাপ মহানগরীর মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে, তবে যৌন সহিংসতার দিক থেকে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ।

    মেগাসিটি বা বড় শহরগুলোর ওপর টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

    বিশ্বজুড়ে ১৯টি মেগাসিটিতে পরিচালিত এই জরিপে নারী ইস্যুতে বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে যৌন সহিংসতা থেকে মেয়েরা ঠিক কতোটা সুরক্ষিত।

    জরিপে দেখায় বড় শহরের মধ্যে লন্ডন সবচেয়ে বেশি নারী বান্ধব, এরপরেই রয়েছে টোকিও ও প্যারিস।

    আর কায়রোর নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, দেশটির পুরনো প্রচলিত প্রথাগুলোই নারীদের প্রতি বৈষম্যের জন্য বেশি দায়ী এবং নারীদের জন্য প্রগতিশীল কোনও পদক্ষেপ নেয়াও সেখানে কঠিন।

    তাদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, অর্থ ও শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতেও নারীর জন্য সুযোগ কম।

    মিশরের সুপরিচিত সাংবাদিক শাহিরা আমিন বলছেন, শহরের সবকিছুই নারীর জন্য কঠিন। এমনকি রাস্তায় হাঁটতে গেলেও বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে পারে একজন নারী।

    নারীদের জন্য বিপজ্জনক মেগাসিটির তালিকায় কায়রোর পরেই আছে পাকিস্তানের করাচী এবং কঙ্গোর কিনসাসা।

    আর যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের জন্য সবচেয়ে খারাপ শহর হলো ভারতের দিল্লী ও এরপরেই আছে ব্রাজিলের সাও পাওলো।

  • ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল আদালত

    ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল আদালত

    ছয়টি মুসলিম দেশসহ মোট আটটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তা আদালতের আদেশে আটকে গেছে।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাটি বুধবারই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার কয়েক ঘণ্টা আগেই হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেরিক ওয়াটসন নামের একজন বিচারক ট্রাম্পের ওই আদেশ আটকে দিয়েছেন।

    এ আদেশ জারি করার সময় এখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অভিবাসী আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
    বিচারক ডেরিক ওয়াটসন এও বলেন, ১৫০ মিলিয়ন জাতীয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে যে কথা বলা হয়েছে কেবল এই ছয়টি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণাদি নেই।

    গত মাসে যে ঘোষণা দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল, এই ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকেরা। দেশগুলো হলো: সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া, ইয়েমেন, চাদ। এছাড়াও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভেনেজুয়ালা এবং দক্ষিণ কোরিয়াও ছিল।

    তবে আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়ায়। সংশিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আদালতের দেওয়া এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

  • রাখাইনে ২৮৮ রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে এইচআরডব্লিউ

    রাখাইনে ২৮৮ রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে এইচআরডব্লিউ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর এক মাসেই ২৮৮টি রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এছাড়া হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি সংস্থাটি।
    স্যাটেলাইটে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ২৮৮টি গ্রামের হাজার হাজার বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়েছে।
    এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে দুটি বিষয় তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।
    প্রথমত, সেনা অভিযানের মধ্যে এই জ্বালাও-পোড়াওয়ের মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের গ্রাম। স্যাটেলাইট ছবিতে এমন অনেক জায়গা দেখা গেছে, যেখানে রোহিঙ্গা গ্রামের ধ্বংসাবশেষের পাশেই রাখাইনের বৌদ্ধদের গ্রাম রয়েছে অক্ষত।

    দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার সরকার সেনা অভিযান বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করলেও তারপরও নতুন নতুন গ্রাম জ্বলতে দেখা গেছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
    মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভাষণ দিতে এসে দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে আর কোনো দমন অভিযান চালানো হয়নি। কিন্তু এইচআরডব্লিউ বলছে, ৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৬৬টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ তাদের হাতে থাকা স্যাটেলাইট ছবিতে রয়েছে।
    এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বিবৃতিতে বলেন, রাখাইনের সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেন পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, ওই স্যাটেলাইট ছবিতেই তা স্পষ্ট।
    তিনি বলেন, ‘বার্মিজ মিলিটারি শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে; হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
    এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের মংডু, রাথেডং ও বুচিডং এলাকার স্যাটেলাইট ছবি থেকে ৮৬৬টি গ্রামের তথ্য তারা বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মংডু এলাকা। ওই এলাকার ৬২ শতাংশ গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়েছে অভিযানের এক মাসের মধ্যে। মংডুর দক্ষিণাঞ্চলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৯০ শতাংশ গ্রাম।
    কোনো কোনো স্যাটেলাইট ছবিতে বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন জ্বলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। কোনো কোনো এলাকা জ্বলতে দেখা গেছে বেশ কয়েক দিন ধরে।
    এইচআরডব্লিউ বলছে, মিয়ানমার সরকার গ্রামে গ্রামে এই নাশকতার জন্য বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দায়ী করে এলেও ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ কখনও দেখায়নি। পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গার সাক্ষাতকার নেওয়ার কথা জানিয়ে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পেছনে রোহিঙ্গাদের দায়ী করেননি ওই সাক্ষাৎকারদাতাদের কেউ।
    এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত মিয়ানমার সরকার করেনি, কাউকে বিচারের মুখোমুখিও করা হয়নি। এই অবস্থায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে রাখাইনে তদন্ত করার সুযোগ দেয়। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর অবিলম্বে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে মিয়ানমারের যে সেনা কর্মকর্তারা রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নিতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাও বন্ধ করতে হবে জাতিসংঘের সদস্য সব রাষ্ট্রকে।’
    ফিল রবার্টসন বলেন, ‘বার্মায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা একই মুদ্রার দুই পিঠ। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে, সেই সঙ্গে সবার কাছে যেন জরুরি সহায়তা পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
    গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে কথিত হামলার পর থেকে নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘ এই দমন অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দমন অভিযান থেকে বাঁচতে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে গত দুই দিনেই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া, অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তে আটকে রয়েছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।