Category: আন্তর্জাতিক

  • সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    অনলাইন ডেস্ক:    সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালালে এতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

    পোর্ট সুদান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি খবর জানায়।

    সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা, খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। জাতীয় রাজধানীকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশলগত সড়কের পাশে নগরীটির অবস্থান।

    পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানের যুদ্ধকালীন ঘাঁটি থেকে প্রায় তিন বছর কার্যক্রম চালানোর পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা ঘটে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী এলাকা পুনর্দখল করার পর সিনজা দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের বাইরে ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনর্দখলে নেয় সেনাবাহিনী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতর লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

    সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময় সেনাবাহিনীর সদর দফতর লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়।

    রাজ্যের যোগাযোগ দফতর জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। দফতরটি জানায়, তাঁর দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধানও এতে নিহত হয়েছেন।

    সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন।

    সিন্নার অঞ্চলটি সর্বশেষ গত অক্টোবরে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাস্তুচ্যুত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ । এই সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন।

    তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।

    যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ।

    গত বছর সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।

    পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখন দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

    তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

    অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক হবে—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।

    একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় কোরদোফানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।

    জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।

  • ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে কোনো এবং সব বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক (আমদানি কর) দিতে হবে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এ ঘোষণার কথা জানান। খবর আলজাজিরার।

    তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই শুল্ক ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’। তবে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

    সোমবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সব ধরনের ব্যবসার ওপর ২৫% শুল্ক দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই আদেশ চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।’

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে দেশটি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

    সোমবার আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে। তবে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তার ভাষায়, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় ইরান এখন আগের চেয়ে কিছুটা শক্ত অবস্থানে আছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রধান জামাল আবদি জানান, ইরান এখন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বড় কোনো ছাড় দিতে রাজি নাও হতে পারে। তার মতে, সরকার রাস্তায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

    তবে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি। বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় সামনে আরও শোকানুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    আবদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মূল বিষয় হতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি (পরমাণু জ্বালানির প্রস্তুতি)। পাশাপাশি ইসরাইল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে আগ্রহী বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, সামরিক হামলা হলে এসব স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপ, হুমকি ও আলোচনার সম্ভাবনা—সবই একসঙ্গে চলছে। পরিস্থিতি কোন পথে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা চীনের

    ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা চীনের

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা করেছে চীন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

    বেইজিং থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এর আগে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ওই হুমকির পর সোমবার বেইজিং এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে সহায়ক এমন কাজ আরও বেশি করে করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন ৬৫ বছর বয়সি পাহলভি। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন পাহলভি। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করবো।

    পাহলভির ইরানে জনসমর্থন আছে?

    ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।

    তবে বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নির্দিষ্ট কোনো নেতার পক্ষে নন। তারা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে।

    উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সি আজাদেহ নামে এক তরুণী এক বার্তায় বলেন, রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের দেখেছি, এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের।

    ক্ষমতা গ্রহণে নিজেকে প্রস্তুত দাবি

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি একক কণ্ঠে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতৃত্ব নেই। এই শূন্যতায় পাহলভি নিজেকে একজন ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে সামনে আনছেন।

    ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবার রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহের শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন ও গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সেই সঙ্গে শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতিও জনগণের ক্ষোভ বাড়ায়।

    পাহলভি ইরান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি  ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকেও সমর্থন করেছিলেন।

    তবে পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও জানিয়েছেন, পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এখন ‘উপযুক্ত না-ও হতে পারে’।

  • ইরানে আবারও রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী

    ইরানে আবারও রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী

    অনলাইন ডেস্ক:    ইরানে টানা দুই রাতের বিক্ষোভের রেশ না কাটতেই শনিবার রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।

    লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের হেরাভি এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের পূর্বাঞ্চলীয় চিতগার এলাকাতেও, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

    বিক্ষোভের ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা নির্বাসিত শাহ শাসনের বিরোধিতার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধেও কড়া স্লোগান দিচ্ছেন। বিশেষ করে ‘গাজা নয়, লেবানন নয় আমার জীবন কেবল ইরানের জন্য’ এমন স্লোগান পুরো বিক্ষোভ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

    আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের চরম অর্থনৈতিক সংকট। তারা অভিযোগ করছেন, গাজার হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার, অথচ দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিদেশের লড়াইয়ে অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে সরকারের উচিত দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতির সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধানে মনোযোগী হওয়া। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, পশ্চিমা বিশ্ব একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তেহরানের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি আরোপ করায় পুরো ইরান জুড়ে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

  • যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প

    যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প

    অনলাইন ডেস্ক:  শুরুর দিকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে চাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন দ্বীপ অঞ্চলটি দখলের হুঁমকি দিয়েছেন। সহজ হোক বা কঠিন কোনো উপায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা আমেরিকার হোক। খবর বিবিসি’র

    শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, কিছু দেশের মালিকানা থাকতে হয় এবং মালিকানাই রক্ষা করা যায়—লিজ নয়। গ্রিনল্যান্ড আমাদের রক্ষা করতেই হবে।ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ খুব প্রয়োজন।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ‘সহজ উপায়ে’ অথবা ‘কঠিন উপায়ে’ বাস্তবায়ন করতে পারে।

    হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে। এমনকি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়নি।

    তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—দুই পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের অবসান ডেকে আনতে পারে।

    তবে শুক্রবার রাতে গ্রিনল্যান্ডের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিশও হতে চাই না—আমরা গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করবে।’

    বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নজরদারিতে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

    ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি বাড়ছে, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

    ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ট্রাম্প চান মালিকানা, ‘নয় বছর বা এমনকি ১০০ বছরের চুক্তিও যথেষ্ট নয়—মালিকানা থাকতে হবে।’ন্যাটোকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন ও রাশিয়ার জনগণকে আমি ভালোবাসি, কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে আমি তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না। ন্যাটোর বিষয়টি বুঝতে হবে।’

    ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা—ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ—ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। তারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তা মিত্রদের সম্মিলিত উদ্যোগেই করতে হবে এবং জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অমোঘতা নীতিকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।