Category: আন্তর্জাতিক

  • ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বুধবার ঘোষণা করেছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

    দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্তৃত্বের ঘোষণার পরও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, কারাকাসে কোনো বিদেশি শক্তি শাসন করছে না।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে আগে কখনো এমন সম্পর্কের কলঙ্ক দেখা যায়নি।’

    মাদুরোকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    গত শনিবার এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার শুরু হয়েছে।

    এ ঘটনাকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অঞ্চলে আধিপত্যের নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এই নীতিকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে উল্লেখ করেছেন।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করে দেবে।’
    ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুদের অধিকারী ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘পরিচালনা করবে’। যদিও দেশটিতে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন নেই।

    নৌ অবরোধ ও ভবিষ্যৎ সামরিক হুমকির মাধ্যমেই এটি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

    এদিকে কারাকাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং প্রায় একই সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, আহতদের মধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও রয়েছেন।

    তবে নিউইয়র্কে আদালতে হাজিরার সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে।

    হাভানার তথ্য মতে, নিহতদের মধ্যে কিউবার সেনাবাহিনীর ৩২ সদস্য রয়েছেন।

    সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের মতো মাদুরোও কিউবার বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈন্যদের দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করতেন।

    মাদুরো-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযথা এই পরিকল্পনা করছে না।’

    এ পর্যন্ত পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তি, যার আওতায় ভেনেজুয়েলা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র তা বিক্রি করবে।

    ট্রাম্প বলেন, এই তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনবে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে থাকবে কৃষিপণ্য, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি খাতের উপকরণ।

    রুবিও জানান, দ্বিতীয় ধাপের ‘পুনরুদ্ধার’ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করবে এবং একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, বিদ্যমান বাণিজ্যিক কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ চাইছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে মজুত থাকা তেল বাজারজাত করব এবং এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার উৎপাদিত তেল বিক্রি করব।’

    শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলার ভগ্নপ্রায় তেল অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ‘বিরাট সুযোগ’ রয়েছে, যদিও এখনো কোনো কোম্পানি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে উত্তর আটলান্টিক পর্যন্ত ধাওয়া করে একটি রুশ-সম্পৃক্ত ট্যাংকারসহ দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

    মস্কো এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

    হোয়াইট হাউস বলেছে, জাহাজটি ভুয়া পতাকা বহন করায় সেটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।  খবর বিবিসি’র।গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।  অভিযানের আগে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজটি দখল করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।  এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটি থামানোর সংকেত দিলেও সেটির ক্রুরা তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

    রাশিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।  রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং অন্য দেশে নিবন্ধিত কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই।

    তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।  মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত এই ট্যাঙ্কারটি মূলত ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিল যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিহত করা হবে।

    মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট এই অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও দাবি করেছেন, জাহাজটি ভেনিজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অবৈধভাবে তেল আনা-নেয়া করত।  নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ভেনিজুয়েলার জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসায় জাহাজটির ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি জানান।

    ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারের ওপর মার্কিন কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এই অভিযান মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

  • তুষারপাতের কারণে প্যারিসে ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল

    তুষারপাতের কারণে প্যারিসে ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল

    অনলাইন ডেস্ক:     তুষারপাত ও তীব্র শীতের কারণে বুধবার সকালে প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    পাশাপাশি ফ্রান্সের রাজধানীর অরলি বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে আরো ৪০টি ফ্লাইট। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মঙ্গলবার গভীর রাতেই এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো সিএনিউজ টেলিভিশনকে বলেন, বুধবার বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।

    সড়ক বরফে ঢেকে যাওয়ার কারণে প্যারিস ও আশপাশের উপশহরে বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে পরিবহন কর্মকর্তারা জানান। তবে, মেট্রো ও শহরতলির রেলব্যবস্থার বেশিরভাগই সচল রয়েছে।

    ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৩৮টি ভারী তুষারপাত ও বরফ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে তিন থেকে সাত সেন্টিমিটার তুষার জমেছে।

    সংস্থাটি জানায়, এই শৈত্যপ্রবাহ মৌসুমের তুলনায় ‘অস্বাভাবিকভাবে তীব্র।’ এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বুধবার প্যারিসের জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে ও সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করতে আগেই সতর্ক করেছে।

    চলতি মৌসুমে ইউরোপজুড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র এই শৈত্যপ্রবাহে ফ্রান্সে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে

    মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে

    অনলাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুরের ইনস্টিটিউট জান্তুং নেগারা (আইজেএন)-এ ভর্তি করা হয়।  ড. মাহাথিরের প্রেস সচিব সুফি ইউসুফ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপের ‘ড. এম মিডিয়া আপডেটস’ নামের সরকারি মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, ১০০ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আইজেএনে নেওয়া হয়।

    সুফি ইউসুফ বলেন, ‘আজ ভোরে তিনি পড়ে যান। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতালে এনে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। জানা গেছে, বাড়ির বারান্দার এক অংশ থেকে বসার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি পড়ে যান।’

    তিনি আরও জানান, আইজেএনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ড. মাহাথিরের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার চতুর্থ ও সপ্তম প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ গত বছরের ১৩ জুলাই অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে আইজেএনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

  • পা খুঁড়িয়ে চলা মাদুরোকে হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়

    পা খুঁড়িয়ে চলা মাদুরোকে হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়

    অনলাইন ডেস্ক:    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় আদালতে নেওয়া হয়েছে। তাকে এরআগে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টার থেকে হেলিকপ্টারে করে আনা হয়। এরপর তোলা হয় একটি সাঁজোয়া যানে। সেটিতে করেই সশস্ত্রীক আদালতে তোলা হয় তাদের।

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে মাদুরোক হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হচ্ছে। ওই সময় তার হাতে হাতকড়া ছিল। ফলে তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামতে পারছিলেন না। ফলে তাকে অনেকটা টেনে নামানো হয়।

    সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার করবেন ৯২ বছর বয়সি বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টেইন।

    এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছিলেন, মাদক সন্ত্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার দায়ে তার বিচার করা হবে।

    তিনি ওইদিন বলেন, নিউইয়র্কের দক্ষিণ ডিস্ট্রিক আদালতে ইতোমধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    পাম বোন্ডি এক্সে বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম (ডিভাইস) রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    বোন্ডি আরও বলেন, খুব শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, মার্কিন আদালতে আমেরিকান কঠোর বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

    তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

  • ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আবারও আলোচনায় এনেছে—কোন কোন বিশ্বনেতাকে সরাসরি বন্দি করেছে ওয়াশিংটন। অতীতেও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র; তবে প্রতিটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    মাদুরোর এই ঘটনা তাকে এমন একটি তালিকায় যুক্ত করেছে, যেখানে আগে থেকেই আছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং পানামার সাবেক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার মতো নেতারা; যাদের গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেন যে, নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ব্যাপক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

    ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষমতাসীন বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি আটক করেছে। তবে সেগুলোর প্রতিটিই সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দিয়েছে।

    ম্যানুয়েল নরিয়েগা: এক সময়ের মিত্র থেকে বন্দি

    যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আগ্রাসন চালায়। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখায়— পানামায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা।

    পানামায় হামলার আগেই, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ামিতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা করে। ঠিক যেমনটি তারা নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রেও করেছে।

    নরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন এবং অভিযানের আগে দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবকে সমর্থন দেন।

    পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান সে সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হয়।

    জেনারেল নরিয়েগা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলের প্রতি আগের মতো অনুগত না থাকার লক্ষণ দেখাতে শুরু করলে ওয়াশিংটন তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরে অভিযানে চালিয়ে তাকের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে মিয়ামিতে দায়ের করা মামলায় বিচার করা হয়। তিনি সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে আরেকটি মামলার বিচারের জন্য ফ্রান্সে প্রত্যর্পণ করা হয়। এক বছর পর ফ্রান্স তাকে আবার পানামায় পাঠিয়ে দেয়। পানামার কারাগারেই ২০১৭ সালে নরিয়েগার মৃত্যু হয়।

    সাদ্দাম হোসেন: যুদ্ধের পরিণতি ও ফাঁসি

    ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা গ্রেফতার করে। এর ঠিক নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব শুরু হয়; যার পেছনে যুক্তি হিসেবে বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) থাকার অভিযোগ তোলা হয়। যে অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

    নরিয়েগার মতোই সাদ্দামও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮০– এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়; যে যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় তিনি ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছিলেন।

    ২০০৩ সালের যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করে— সাদ্দাম আল-কায়েদার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতেন। যদিও এই অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি ছিলো না।

    মার্কিন আগ্রাসনের নয় মাস পর ধরা পড়েন সাদ্দাম হোসেন। তিনি নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হন। পরবর্তীতে তাকে ইরাকের একটি আদালতে বিচার করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

    হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ: গ্রেফতার থেকে ক্ষমা

    হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতামূলক আচরণের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক পর্যবেক্ষক।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় রাজধানী তেগুসিগালপায় নিজ বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট ও হন্ডুরাসের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে হার্নান্দেজকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাকে দুর্নীতি ও অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। একই বছরের জুনে একটি মার্কিন আদালত তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে নাটকীয়ভাবে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন।

    এর কয়েক দিনের মধ্যেই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সাবেক এই নেতাকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে ওঠে।