Category: আন্তর্জাতিক

  • সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু : ইসরাইলি কর্মকর্তা

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু : ইসরাইলি কর্মকর্তা

    অনলাইন ডেস্ক:    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং পরদিন ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জেরুজালেমে এএফপিকে জানিয়েছেন।চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে এটি হবে নেতানিয়াহুর পঞ্চম বৈঠক।

    ট্রাম্প প্রশাসন ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা যখন গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তখনই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বড়দিনের ছুটিতে নেতানিয়াহু সম্ভবত ফ্লোরিডায় তার সঙ্গে দেখা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সময় নির্ধারিত হয়নি, তবে তিনি দেখা করতে আগ্রহী।’

    ইসরাইলের দৈনিক ইদিয়োথ আহরোনোথ বুধবার জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান, ইসরাইল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপসহ নানা আঞ্চলিক বিষয় উঠে আসতে পারে।

    ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যস্থতায় অক্টোবর মাসে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, তার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি এখনো ধীরগতির। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, আর মধ্যস্থতাকারীরা আশঙ্কা করছেন—ইসরাইল ও হামাস দু’পক্ষই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে।চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী, ইসরাইলকে গাজায় অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, হামাসের পরিবর্তে একটি অন্তর্র্বতী কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড শাসন করবে এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিধানও রয়েছে, যা বড় ধরনের জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকটি চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব গাজার জন্য প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ ঘোষণার আগ্রহ দেখাচ্ছে।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ‘নাজুক যুদ্ধবিরতি দুর্বল করা এবং শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির করার পদক্ষেপ নেওয়ায়’ নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।ইদিয়োথ আহরোনোথ জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে- এ আশঙ্কা নেতানিয়াহুর আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকতে পারে।

  • তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক

    তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক

    অনলাইন ডেস্ক:    দক্ষিণ কোরিয়ার ই-কমার্স কোম্পানি কুপাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিম বম-সুক আজ রোববার তথ্য ফাঁসের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তথ্য ফাঁসের এই ঘটনা ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহকের আস্থা কমেছে।কুপাং-এর গ্রাহকের তথ্য একজন প্রাক্তন কর্মচারী কর্তৃক ফাঁস হওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর, ক্ষমা চান কিম বম-সুক। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এই ঘটনার পর চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোম্পানিটিতে তল্লাশি চালানো হয়, আর সমালোচকদের মতে ঘটনাটি হালকা করে দেখানোর চেষ্টার কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদীয় শুনানিতে হাজির হতে কিমের বারবার অস্বীকৃতি জনমনে আরও হতাশা বাড়িয়েছে দেয়।

    ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এতে ক্ষতি হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।তবে কুপাং দাবি করেছে, মাত্র ৩ হাজার গ্রাহক এতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যদিও এই সংখ্যাটি এখনও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

    রোববার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম বলেন, ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কারণে আমরা আমাদের গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ ও ভোগান্তি সৃষ্টি করেছি। আমি সকলের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

    এক মাস আগে, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এটাই ছিল এ নিয়ে তার প্রথম সরাসরি মন্তব্য।কুপাং সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় সব ফাঁস হওয়া গ্রাহক তথ্য পুনরুদ্ধার সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।সিউল পুলিশ জানিয়েছে,  তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি জুন ২৪ থেকে নভেম্বর ৮ পর্যন্ত কুপাং-এর বিদেশী সার্ভারের মাধ্যমে ঘটেছে।

  • গ্রিসের উপকূলে উদ্ধার প্রায় ৪০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

    গ্রিসের উপকূলে উদ্ধার প্রায় ৪০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের উপকূলে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড।

    শুক্রবার গ্রিসের সংবাদ সংস্থা এএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি জানায়, ক্রিটের কাছে ছোট দ্বীপ গাভদোস থেকে প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পরিচালিত এক অভিযানে একটি মাছ ধরার নৌযান থেকে ৩৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।

    এ অভিযানে গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ, একটি ডেনিশ মালবাহী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার অংশ নেয় বলে জানিয়েছে এএনএ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এর আগে, একই এলাকার গাভদোস থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি নৌকায় প্রায় ৩০ জনকে স্থানান্তর করা হয়।

    পরে তাদের ক্রিটে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এছাড়া বৃহস্পতিবার ক্রিটের ঠিক দক্ষিণে একটি রাবারের ডিঙ্গি নৌকা থেকে আরও ৩৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে গ্রিস ও লিবিয়া হয়ে গ্রিসগামী সমুদ্রপথগুলো ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য অত্যন্ত ব্যবহৃত রুট।

    তবে এ সব পথে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

    চলতি মাসে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের বেশিরভাগই মিসর ও সুদানের নাগরিক। একই ঘটনায় আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত

    তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাবাহিনী প্রধান মোহাম্মদ আলি আহমদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় বিমানটিতে থাকা আরও চার আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    লিবিয়ার জাতিসংঘ স্বীকৃত ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আব্দুলহামিদ দ্বেইবাহ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আঙ্কারায় একটি সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে তিনি দেশের জন্য এবং সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে জানানো হয়, বিধ্বস্ত বিমানটিতে সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদের সঙ্গে ছিলেন লিবিয়ার গ্রাউন্ড ফোর্সেসের প্রধান, প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পের পরিচালক, সেনাপ্রধানের একজন উপদেষ্টা এবং তাঁর দপ্তরের একজন ফটোগ্রাফার। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই নিহত হন।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানান, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে থাকা তিনজন ক্রুও প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী ফ্যালকন ৫০ মডেলের জেটটি আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সংযোগ হারিয়ে যায়। পরে আঙ্কারার হায়মানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের কাছে এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

    এ ঘটনায় তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইলমাজ তুনচ জানিয়েছেন, আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটর অফিস ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আল জাজিরাকে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ঠিক আগের দিনই তুরস্কের পার্লামেন্ট লিবিয়ায় নিজেদের সেনা মোতায়েনের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে আঙ্কারার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    লিবিয়ার সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা আল-হাদ্দাদ পশ্চিম লিবিয়ায় একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় সামরিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

  • নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা

    নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:     ময়মনসিংহে সম্প্রতি ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামে একজন পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে আজ মঙ্গলবার বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র তথ্যনুযায়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তবে তা সত্ত্বেও, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ব্যারিকেড ভেঙে কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে।

    জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কমপক্ষে দুটি স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড ধরে দূতাবাসে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, বিক্ষোভের খবরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভবনের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।প্রতিবেদন অনুসারে, এলাকাটি তিন স্তরের ব্যারিকেডিং দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করা হয়। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

  • দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিক্ষোভ, হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি

    দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিক্ষোভ, হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ঢুকে একদল উগ্র হিন্দুর বিক্ষোভ ও হুমকির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষায়, দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল চার থেকে পাঁচটি গাড়িতে করে সব নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে চানক্যপুরীর বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে হাজির হয়। সেখানে তারা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন চিৎকার করে হাইকমিশনারের উদ্দেশে বলেন, “শালাকে গুলি করে মার।”

    ঘটনার সময় বাংলাদেশ হাউসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উগ্রবাদী দলটি দীর্ঘ সময় ধরে স্লোগান দেওয়ার পর কোনো বাধা ছাড়াই এলাকা ত্যাগ করে। ওই সময় হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ হাউসেই অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় তারা পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ছিলেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, চানক্যপুরীর মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত কূটনৈতিক এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের বিক্ষোভ কীভাবে সম্ভব হলো, তা বড় প্রশ্ন। সাধারণভাবে এই এলাকায় প্রবেশ ও সমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।

    এ বিষয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশ ভবনের গেটের সামনে এসে চিৎকার করেন। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, “তারা ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে’ এবং ‘হাইকমিশনারকে ধরো’ জাতীয় স্লোগান দেয়। কোনো শারীরিক হামলা বা ভাঙচুর হয়নি, তবে হুমকিমূলক কথা বলা হয়েছে।”

    ঘটনার পরপরই হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে হাইকমিশনের ডিফেন্স উইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডিফেন্স উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীরা কিছুক্ষণ চিৎকার করে চলে গেছে এবং অতিরিক্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। নীতিনির্ধারক সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়লে অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০৪ সালে সম্পর্কের অবনতির সময় উগ্রবাদী হিন্দু গোষ্ঠী বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পুলিশ দূরেই তাদের প্রতিহত করে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে আগরতলায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেই প্রেক্ষাপটেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এই বিক্ষোভ ও হুমকির ঘটনা ঘটল। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।