Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন

    যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাকে কারাকাসে আটক করার পর নিউইয়র্ক সিটিতে  স্থানান্তরিত করা হয়।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মার্কিন সরকারি বিমান থেকে নামার সময় এফবিআই এজেন্টরা মাদুরোকে ঘিরে ফেলে এবং ধীরে ধীরে নিউইয়র্ক রাজ্যের একটি ন্যাশনাল গার্ড রানওয়ে দিয়ে তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।

    এএফপির প্রকাশিত একটি ছবিতে  নিকোলাস মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

    সেখানে বিপুল সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য তার জন্য অপেক্ষা করছিল।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সী এই নেতা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর তাকে  ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল সুবিধা মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে।

    ডিটেনশন সেন্টারটি সেই একই কারাগার, যেখানে র‌্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকে গত বছর তার বিচারকালীন সময়ে রাখা হয়েছিল।

    মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউ ইয়র্কের একজন বিচারকের সামনে হাজির করা হবে।

    তাদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন আমদানি করেছেন।

    এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে স্বাধীন করার ঘোষণা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে স্বাধীন করার ঘোষণা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শুক্রবার দুই বছরের মধ্যে স্বাধীন করার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

    তবে একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ইয়েমেনজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযানের লাগাম টানতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্র জানায়, দুটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো বিমান হামলায় ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসময় একটি বিমানবন্দর ও আরও কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।

    এই বোমাবর্ষণ ও আকস্মিক স্বাধীনতা ঘোষণার পেছনে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা। বিশেষ করে, দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সাম্প্রতিক ভূখণ্ড দখল অভিযানকে কেন্দ্র করেই দুই মিত্র দেশের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠেছে।

    ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অংশে বিভক্ত ছিল।

    এসটিসি’র স্বাধীনতা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই বছরের মধ্যেই দেশটি আবার বিভক্ত হতে পারে। নতুন রাষ্ট্রের নাম হবে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’।

    এসটিসি’র প্রেসিডেন্ট আইদারোস আলজুবাইদি বলেন, এই রূপান্তরকালীন পর্যায়ে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংলাপ হবে, যা বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটেরও আয়োজন করা হবে।

    তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সংলাপ না হয় বা আবার দক্ষিণ ইয়েমেনে হামলা চালানো হয়, তাহলে এসটিসি ‘অবিলম্বে’ স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।

    টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আলজুবাইদি বলেন, ‘দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে কাউন্সিল।’

    গত মাসে এসটিসি বাহিনী তেমন কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সৌদি আরব সীমান্তঘেঁষা সম্পদ সমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশের বড় অংশ ও ওমান সীমান্তবর্তী মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে এসটিসি’র সাম্প্রতিক অভিযান রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দুই শক্তিকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করায়।

    টানা সতর্কতাবার্তা ও চলতি সপ্তাহে একটি কথিত ইউএই অস্ত্রবাহী চালানে বিমান হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শুক্রবার ব্যাপক হামলা শুরু করে।

    হাদরামাউত উপত্যকা ও মরুভূমি অঞ্চলে এসটিসি’র প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিক বলেন, আল-খাশা সামরিক শিবিরে সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

    এ ছাড়া ওই অঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনা এবং সাইয়ুন শহরের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে বলে এসটিসি’র সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছে।

    আল-খাশার কাছে একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস বলেন, ‘সৌদি বিমানগুলো এসটিসি যোদ্ধাদের তাড়া করছে। আমরা জানি না যে এগুলো কী ধরনের বিমান। শুধু আগুনের ঝলকানি আর বিস্ফোরণ দেখি। এগুলো চেকপয়েন্টে আঘাত করছে এবং (সৌদি-সমর্থিত) বাহিনীর অগ্রযাত্রার পথ পরিষ্কার করছে।’

    এসটিসি’র অভিযান শুরুর পর এটিই প্রথম সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা।

    বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তারা একটি ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ জড়িত।
    তিনি এটিকে উগ্র ইসলামবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন, আর এই উগ্র ইসলামবাদ দীর্ঘদিন ধরেই ইউএই’র একটি প্রধান উদ্বেগ।

    এই বিমান হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হয়, যখন সৌদি-সমর্থিত বাহিনী হাদরামাউতে সামরিক স্থাপনার ‘শান্তিপূর্ণ’ দখল নিতে অভিযান শুরু করে।

    হাদরামাউতের গভর্নর এবং ওই প্রদেশের সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর প্রধান সালেম আল-খানবাশি বলেন, ‘এই অভিযান যুদ্ধ ঘোষণা নয়, কিংবা উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো চেষ্টা নয়।’

    সাবা নেট সংবাদ সংস্থার বরাতে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, সৌদি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে হামলাগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটই চালিয়েছে।

    এই জোট ২০১৫ সালে ইয়েমেনের উত্তরে হুতি বিদ্রোহীদের হটানোর লক্ষ্যে গঠিত হয়। যদিও সেই প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি।

    সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সতর্ক করে জানায়, ‘দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুটি প্রদেশ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত, হামলা বন্ধ করা হবে না।’

    ইরান-সমর্থিত হুতিদের উৎখাতের লক্ষ্যে গঠিত সামরিক জোটের মূল ভিত্তি ছিল উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলো।
    হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা দখল করে সরকারকে উৎখাত করে।

    তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পরও হুতিরা ক্ষমতায় টিকে আছে।

    অন্যদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

    ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর জোট, যার মধ্যে এসটিসিও রয়েছে।

    এরা সবাই হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধিতায় একত্রিত হলেও, নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

    ২০১৯ সালে ইয়েমেন থেকে অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহার করে নেয় ইউএই।

    চলতি সপ্তাহে মুকাল্লা বন্দরে কথিত অস্ত্রবাহী চালানে জোটের বিমান হামলার পর যদিও ইউএই এই চালানে অস্ত্র থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বাকি সেনাও প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

    শুক্রবার ইউএই সরকারের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, সব সেনা ইয়েমেন ছেড়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আবুধাবি ‘সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন ও আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শান্তির টেকসই পথ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

  • নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

    নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বামপন্থী মামদানি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির তরুণ মুখ জোহরান মামদানি বুধবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি নেন। তাঁর মেয়াদকাল জুড়ে  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েনের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাতে পৌঁছালে (গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার ০৫:০০ টায়), ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামদানি শপথ নেওয়ার কথা। পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে হবে শপথ অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্ব নেবেন তিনি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হচ্ছেন মামদানি।

    তাঁর দপ্তর জানায়, শপথের জন্য এই সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয় কর্মজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।

    বুধবার এক্সে মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কের মানুষের কথা শোনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রচারণা গড়ে উঠেছে। আমরা সেভাবেই শাসন করব। আগামীকাল থেকেই কাজে নেমে পড়ছি।’

    তবে এক বছর আগেও প্রায় অপরিচিত থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মসূচিতে ভাড়া স্থগিত, সবার জন্য শিশুযত্ন এবং বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন বাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

    নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকী বিষয়গুলোর গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। ফলাফল তখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

    মামদানির সিটি হলে আগমনকে ট্রাম্প কীভাবে নেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্কের এই রিপাবলিকান বারবার মামদানিকে সমালোচনা করেছেন। তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়।

    কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল বলেন, ওই বৈঠক ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে এর চেয়ে ভালো হতে পারত না।’ তবে তিনি সম্পর্ক দ্রুতই তিক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

    একটি সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যখন কঠোর অভিযান জোরদার করছেন, মামদানি তখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

    মধ্যরাতে চার বছরের মেয়াদ শুরু করতে মামদানির ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

    বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হবে। সেখানে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী মিত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ।

    সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার টিকিটধারী অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

    নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, শহরের ইতিহাসে এই প্রথম একাধিক কোরআন ব্যবহার করে মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন মামদানি। এর মধ্যে দুটি তাঁর পরিবারের ও একটি পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ লেখক আর্তুরো শোমবার্গের ব্যবহৃত কোরআন।

    নতুন দায়িত্বের সঙ্গে ঠিকানাও বদলাচ্ছেন তিনি। কুইন্সে নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে ম্যানহাটনের বিলাসবহুল মেয়র ভবনে উঠছেন। সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার পক্ষে প্রচারণা চালানোয় তিনি সেখানে উঠবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মামদানি বলেন, মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি সরকারি বাসভবনে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। অভিজাত পরিবেশে বড় হলেও রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন।

    অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি আগের মেয়র প্রশাসন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের অভিজ্ঞ সহকারীদের নিয়ে দল গড়েছেন।

    তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন।

  • ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

    ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

    অনলাইন ডেস্ক:   বুলগেরিয়া আজ বুধবার রাতে ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশটি ২১তম ইউরোজোন সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপের ফলে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বলকান দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    আজ বুধবার মধ্যরাতে বুলগেরিয়া ২০২৫ সাল এবং তার লেভ মুদ্রা উভয়কেই বিদায় জানাবে। লেভ মুদ্রা ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    ৬৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির একাধিক সরকার ইউরো মুদ্রায় যোগদানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে এই আশায় যে, এটি ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র সদস্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং রাশিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, কেউ কেউ এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

    গত ২০০৭ সালে ইইউতে যোগদানকারী বুলগেরিয়া অন্যান্য চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ, যা সম্প্রতি একটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে দেশটি পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টম নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

    বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি মনে করেন তার মন্ত্রিসভা একটি মাইলফলক অর্জন করেছে।

    তিনি একটি সরকারি সভার আগে বলেন, ‘বুলগেরিয়া বছর শেষ করছে ১১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং তিন শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে, যা আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশটির প্রায় ৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি মুদ্রাস্ফীতি, যা, ‘বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা’ এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিতএবং এটি ইউরোর প্রবর্তনের সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়।’

  • বিশ্ব নেতাদের মানুষ ও পৃথিবীর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের

    বিশ্ব নেতাদের মানুষ ও পৃথিবীর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের

    অনলাইন ডেস্ক:    বিশ্বব্যাপী বিরাজমান চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ২০২৬ সালকে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নতুন বছর উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিভেদ ও সংঘাত ভুলে মানুষ এবং পৃথিবীর সুরক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গুতেরেস বলেন, ‘নতুন বছরে বিশ্ব এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমাদের চারপাশে কেবল বিশৃঙ্খলা আর অনিশ্চয়তা। বিভাজন, সহিংসতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন আমাদের ঘিরে ধরেছে।’

    ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিশ্বনেতাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত— মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা।বিশ্বনেতাদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘এখনই সময় সচেতন হওয়ার। সংঘাতের বদলে মানুষ ও পৃথিবীকে বেছে নিন।’

    বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন সহায়তার তুলনায় সামরিক খাতে অত্যধিক ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
    গুতেরেস জানান, এ বছর বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অঙ্কটি উন্নয়ন খাতে বিশ্বের মোট ব্যয়ের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি এবং পুরো আফ্রিকার মোট জিডিপির সমান।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের যে ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।গুতেরেস বলেন, ‘আসুন নতুন বছরে আমরা আমাদের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করি। যুদ্ধ জয়ের চেয়ে দারিদ্র্য জয়ের পেছনে বিনিয়োগ বাড়ালেই পৃথিবী নিরাপদ হবে। যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’২০২৬ সাল হবে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে আন্তোনিও গুতেরেসের শেষ বছর।

  • ইকুয়েডরের সমুদ্র সৈকতের পাশে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬

    ইকুয়েডরের সমুদ্র সৈকতের পাশে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইকুয়েডরের দক্ষিণ-পশ্চিম সমুদ সৈকত সংলগ্ন এলাকায় একটি বোর্ডওয়াকে একাধিক বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণে ছয় জন নিহত এবং আরও তিন জন আহত হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির পুলিশ গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    দেশটির জনপ্রিয় তিমি পর্যবেক্ষণ পর্যটন কেন্দ্র পুয়ের্তো লোপেজে ওই হামলা হয়। একটি ভ্যান এবং দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ব্যক্তিরা বোর্ডওয়াকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গুলিবর্ষণে ৬ ব্যক্তি নিহত এবং আরও ৩ জন আহত হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এটি ছিল সপ্তাহান্তে শহরটিতে তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলা, যেখানে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জন।

    পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীদের অবস্থান এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এ হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

    ইকুয়েডর বিশ্বের কোকেনের শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থিত এবং মেক্সিকান ও কলম্বিয়ান কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংগুলোর সহিংসতা সেখানে বেড়ে গেছে।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার প্রণীত কঠোর নীতিগুলো সহিংসতার ঢেউ থামাতে এ পর্যন্ত খুব একটা কার্যকর হয়নি।

    জেনেভাভিত্তিক অর্গানাইজড ক্রাইম অবজারভেটরির তথ্যমতে, পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দেশটি বছর শেষে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যে হার সর্বোচ্চ রেকর্ড।