Category: আন্তর্জাতিক

  • সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    অনলাইন ডেস্ক:   সৌদি আরবের অধিকাংশ এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ও ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। শিগগিরই যদি আবহওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, সেক্ষেত্রে অনেক এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)।

    গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির মক্কা, মদিনায়, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এছাড়া মৃদু থেকে মাঝারি বর্ষণ চলছে হাইল, তাবুক, আল জৌফ এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে চলছে ব্যাপক কুয়াশা।

    মরু আবহাওয়ার দেশ সৌদিতে ঝড়-বৃষ্টি বেশ বিরল। গত দু’তিন বছরে অবশ্য বেশ কয়েকবার ঝড় ও ভারি বর্ষণ হয়েছে দেশটিতে।

    এনসিএমের তথ্য অনুসারে, সৌদির এমন আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য দায়ী লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। এক বিবৃতিতে এনসিএম জানিয়েছে, লোহিত সাগর থেকে সৌদির বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বয়ে যাচ্ছে ঝেড়ো হওয়া। বাতাসের এই গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে পারস্য উপসাগরেও। বর্তমানে সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হওয়া বয়ে যাচ্ছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুধবার বিশ্বব্যাপী প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সসহ জনপ্রিয় বহু অ্যাপ ও ওয়েবসাইটকে ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীদের সরিয়ে না ফেললে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে।

    দেশটি জানায়, প্রযুক্তি জায়ান্টদের কাছ থেকে ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার’ এখনই সময়। সিডনি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধেও এভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া বিশ্বের প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি হল অস্ট্রেলিয়া—যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আরো অনেক দেশ।

    ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

    তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলোর একটি। আমরা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেব।’

    সরকার জানায়, শিশুদের ফোন স্ক্রিনে বুলিং, যৌনতা আর সহিংসতার ভিডিও-এর দিকে ঠেলে দেওয়া ‘শিকারী অ্যালগরিদম” থেকে রক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

    আইনটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    এর ফলে লাখো কিশোর-তরুণ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেছে তারা আর আগের মতো অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারছে না।

    মাত্র ১০ বছর বয়সী বিআঙ্কা নাভারো এখন থেকে কত বছর পর ইউটিউবে ফিরতে পারবে, সেকথাই ভাবছে।

    সে এএফপিকে বলেছে, ‘অনেক খারাপ লাগবে, কারণ আমাকে ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে,’ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বা ধরে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও টুইচও সরকারের কালো তালিকায়। একই তালিকায় রয়েছে থ্রেডস ও এক্স।

    ফোনে বুঁদ হয়ে থাকা সন্তানদের দেখে ক্লান্ত অভিভাবকদের কাছে এ নিষেধাজ্ঞা যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

    মিয়া ব্যানিস্টার জানান, অনলাইন বুলিংয়ের কারণে তার কিশোর ছেলে অলির মৃত্যু হয় গত বছর। তিনি বলেন, ওজন কমানোর ভিডিওর অন্তহীন স্রোতও তার সন্তানের খাদ্যাভ্যাসে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।

    অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অনলাইন সময় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোন ব্যবহারের প্রভাবকে অন্যান্য জীবনযাত্রার কারণ থেকে আলাদা করা কঠিন।

    পাঁচ সন্তানের বাবা দানি এলাচি বলেন, এ সীমাবদ্ধতা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লাগাম টানার সময় এখনই।

  • থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে উত্তেজনা, থাই বিমানবাহিনীর হামলা

    থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে উত্তেজনা, থাই বিমানবাহিনীর হামলা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় থাইল্যান্ড সোমবার বিমান হামলা চালিয়েছে। থাই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোলাগুলিতে দেশটির এক সেনা নিহত হয়েছেন। দু’দেশই পরস্পরকে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করছে। বাংকক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    সোমবার ভোরে উবন রাচাথানি প্রদেশে কম্বোডীয় সেনারা থাই বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র উইন্থাই সুভারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সহযোগী ভারী অস্ত্রের আঘাতে আমাদের একজন সৈন্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।’

    উইন্থাই আরো জানান, কম্বোডীয় বাহিনীর হামলা ঠেকাতে থাইল্যান্ড ‘বিমান ব্যবহার করে কয়েকটি এলাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা শুরু করেছে।’

    অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেয়াতা অভিযোগ করেন, সোমবার ভোরে প্রেহ ভিহেয়ার ও ওদ্দার মিনচে প্রদেশে থাই বাহিনী তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায়। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড ‘ট্যাংক দিয়ে তামোন থম মন্দির ও প্রেহ ভিহেয়ার মন্দিরের আশপাশে একাধিক গোলা ছোড়ে।’

    কম্বোডিয়া পাল্টা হামলা চালায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

    ওদ্দার মিনচে প্রাদেশিক প্রশাসনের মুখপাত্র মেট মিয়াসফিয়াকদে জানান, শতবর্ষী তামোন থম ও তা ক্রাবেই মন্দিরের এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সীমান্তের কাছে থাকা বহু গ্রামবাসী নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    থাইল্যান্ডের সেকেন্ড আর্মি রিজিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন করে লড়াই শুরুর পর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    থাই সেনাবাহিনী আরো অভিযোগ করেছে, কম্বোডীয় বাহিনী বুরি রাম প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় বিএম-২১ রকেট নিক্ষেপ করেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

    রোববার দুই দেশের মাঝে স্বল্প সময়ের একটি সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। থাই সেনাবাহিনী জানায়, ওই ঘটনায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছে।

    চলতি বছরের গ্রীষ্মে পাঁচ দিনের তীব্র সংঘর্ষে দুই দেশে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। বাস্তুচ্যুত হয় প্রায় তিন লাখ মানুষ। পরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আসিয়ানের চেয়ার মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।

    অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করেন। নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাও আসে। দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    তবে গত মাসে থাইল্যান্ড ওই চুক্তি স্থগিত করে। সেনাদের আহত করার অভিযোগে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণকে তারা দায়ী করে। এরপরই দুই দেশ আবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে নতুন সংঘর্ষের অভিযোগ তোলে। কম্বোডিয়া জানায়, এসব ঘটনায় তাদের এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

    দুই দেশের বিরোধের মূল বিষয় শত বছরের পুরোনো সীমান্ত মানচিত্র। ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি মানচিত্র নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনও রয়ে গেছে। সীমান্ত এলাকার কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের ওপর উভয় দেশের দাবি এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে।

  • ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দুই দেশ

    ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দুই দেশ

    অনলাইন ডেস্ক: ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্থানীয় শনিবার বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা এপিসেন্টার হলো যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার ইউকন প্রদেশের সীমান্তবর্তী এবং প্রত্যন্ত একটি এলাকা। আলাস্কার জুনেউ শহর থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে এবং ইউকনের রাজধানী হোয়াইটহর্স থেকে এটি ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান এই এপিসেন্টারের।

    এপিসেন্টার ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এপিসেন্টারটির অবস্থান ছিল বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস।

    কানাডার রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ হোয়াইটহর্স শাখার সার্জেন্ট ক্যালিস্টা ম্যাকলিওড এএফপিকে বলেছেন, “ভূমিকম্পটি বেশ শক্তিশালী ছিল এবং বহু মানুষ সেটির কম্পন অনুভব করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পোস্ট করেছে। তবে আমরা এখনও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাইনি।

  • সুদানে আরএসএফের ভয়াবহ হামলায় ৪৩ শিশুসহ নিহত ৭৯

    সুদানে আরএসএফের ভয়াবহ হামলায় ৪৩ শিশুসহ নিহত ৭৯

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)- এর ড্রোন হামলায় ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনা। হামলার শিকার হয়েছেন ৪৩জন শিশু। একই সঙ্গে হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জন। এ ঘটনায় আহতও হয়েছেন ৩৮ জন।

    এক বিবৃতিতে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

    দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুদানের কালোগি শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন নারীও রয়েছেন। আরএসএফের ড্রোন থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় যা একটি কিন্ডারগার্টেন (শিশু বিদ্যালয়), একটি হাসপাতাল এবং শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। রাজ্য সরকার এই ঘটনাকে আরএসএফ-সমর্থিত সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ দ্বারা সংঘটিত একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    প্রথমদিকে রাজ্য সরকার জানায়, হামলায় ছয় শিশু ও একজন শিক্ষকসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। তবে পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯ জনে পৌঁছায়।

    এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এক বিবৃতিতে হামলাটিকে শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ইউনিসেফ জানায়, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সি ১০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদান সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ ইতোমধ্যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ হাজার মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

  • ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর

    ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রুয়ান্ডা এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) নেতাদের এক বৈঠকে মুখোমুখি করছেন। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সহিংসতা অব্যাহত থাকলেও তিনি এ উদ্যোগকে তাঁর সাম্প্রতিক শান্তি অর্জনের আরেকটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে যাচ্ছেন।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    পূর্ব ডিআর কঙ্গোর অস্থিতিশীল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বৈদ্যুতিক গাড়িসহ আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক খনিজই পাওয়া যায় এলাকাটিতে।

    রুয়ান্ডার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট পল কাগামে অশান্ত প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে বর্তমানে সংঘাতের মাঠে সামরিকভাবে স্পষ্ট এগিয়ে আছেন। ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির সঙ্গে ট্রাম্পের যৌথ বৈঠক হবে নতুন নামে চালু হওয়া ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসে। সরকারি ব্যয় কমাতে প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পই একসময় বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা একটি শান্তিচুক্তি সই করবেন। পাঁচ মাস আগে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে আরেকটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    বৈঠকের আগের দিনও পূর্ব কঙ্গোতে তীব্র লড়াই চলেছে। রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র দল এম২৩ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কঙ্গোর সরকারি বাহিনীর ওপর দাপট দেখিয়ে অবস্থান আরো মজবুত করেছে।

    কাজিবার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেনে চুবাকা কালেমবিরে জানান, ‘অনেক ঘরবাড়ি বোমায় ধ্বংস হয়েছে, বহু মানুষ নিহত হয়েছে।’

    জানুয়ারির শেষের দিকে, এম২৩ গোমা ও বুকাভুর মতো  প্রধান নগরীগুলো দখল করায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নতুন করে উত্তেজিত হয়।

    জুনের চুক্তির পর কাতারের মধ্যস্থতায় এম২৩ ও কিনশাসা সরকার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে উভয়পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভাঙার অভিযোগ তোলে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ডিআর কঙ্গোসহ বহু সংঘাত তিনি বন্ধ করেছেন। দেশটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া যুদ্ধের মধ্যে ছিল।

    এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কঙ্গোর খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র এখানে প্রবেশ করতে না পারলে চীনসহ অন্য দেশ এই সম্পদে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

    বিশ্বের অধিকাংশ কোবাল্টের মজুত ডিআর কঙ্গোতে। কোবাল্ট বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির অন্যতম প্রধান উপাদান। পাশাপাশি তামাসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে সেখানে।

    ডিআর কঙ্গো জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে শান্তি, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমন্বয় ও প্রাকৃতিক সম্পদে কৌশলগত অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    কঙ্গোর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র টিনা সালামা বলেন, অর্থনৈতিক ধাপের আগে শান্তি স্থাপন নিয়েই তাদের জোর ছিল।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রে কাছে খনিজ বিক্রি করে দেওয়া নয়।‘ এটা খনিজের বিনিময়ে শান্তি এমন কথাও সত্য নয়।’

    রুয়ান্ডা বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের শর্ত হলো কঙ্গোকে অবশ্যই এফডিএলআরকে নিস্ক্রিয় করতে হবে। এফডিএলআর দলটি ১৯৯৪ সালের গণহত্যায় জড়িত হুতু গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি সশস্ত্র সংগঠন।

    গত সপ্তাহে কাগামে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, চুক্তি স্বাক্ষর বিলম্বিত করছে ডিআর কঙ্গো।

    অন্যদিকে কঙ্গোর যোগাযোগমন্ত্রী প্যাট্রিক মুয়ায়া বলেন, মাঠের চলমান লড়াইই প্রমাণ করে রুয়ান্ডার সদিচ্ছা নেই।

    তিনি বলেন, ‘এটাই দেখায়, রোয়ান্ডা এটা চায় না।’

    উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিবাসন সংক্রান্ত আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্প ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান চালাচ্ছেন। অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের অন্য দেশে পাঠানো তাঁর অগ্রাধিকার।

    রুয়ান্ডা আগে ব্রিটেনের অভিবাসী গ্রহণ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।