Category: আন্তর্জাতিক

  • আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের

    আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)’র পরবর্তী পরিচালক হিসেবে ওকলাহোমার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

    শনিবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ট্রাম্প বলেন, ল্যান্স শ্রয়ার একজন সাবেক স্টেট ট্রুপার ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর সদস্য। তিনি ‘সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধীদের গ্রেফতারে’ কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    শ্রয়ার আইসিই’র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ২০২৫ সালের মার্চে লায়ন্স এ দায়িত্ব পান। তবে তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার কয়েক সপ্তাহ পর গত মে মাসে তিনি পদ ছাড়েন।

    কয়েক মাস আগে ট্রাম্পের গণনির্বাসন অভিযান যখন সবচেয়ে দৃশ্যমান ও বিতর্কিত পর্যায়ে ছিল, তখন লায়ন্স, নোয়েম ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার কন্ট্রোলের সাবেক প্রধান গ্রেগরি বোভিনো ছিলেন এর প্রধান মুখ।

    নোয়েমের উত্তরসূরি মার্কওয়েন মুলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আইসিই’র প্রস্তাবিত নতুন প্রধান ইতোমধ্যেই এ অভিযান পরিচালনায় ভূমিকা রেখে আসছেন।

    তিনি বলেন, ‘ল্যান্স সরাসরি মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে আসছেন। সেখানে তিনি বৃহৎ পরিসরের অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং ওকলাহোমা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের সরিয়ে দিতে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করেছেন।’

    ফেডারেল সংস্থার প্রধান হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিদের সাধারণত সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার কথা। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে আইসিই’র কোনো পরিচালক সিনেটের অনুমোদন পাননি। এরপর থেকে সংস্থাটির প্রধানরা ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    মুলিন এক্স-এ লিখেছেন, ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া আইসিই পরিচালক নেই ১১ বছর ধরে। সিনেটের উচিত দ্রুত ল্যান্স শ্রয়ারকে অনুমোদন দেওয়া।’

    অনেক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মনে করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিনিয়াপোলিসে অভিযানবিরোধী বিক্ষোভের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার পর এ বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

    অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

    উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

    উত্তর কোরিয়ার এক সেনাকে আটক করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্ত অতিক্রম করে এ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের পর, তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ বুধবার এ তথ্য জানায়।

    ঘটনাটি পালানোর প্রচেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস- গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বার্তার এর উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়োনহাপ জানায়, ‘মঙ্গলবার রাতে মধ্যাঞ্চলীয় সীমান্ত ফ্রন্টে উত্তর কোরিয়ার এক সেনাকে নিরাপত্তা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।’

  • ইবোলার কেন্দ্রস্থলে জীবিকার তাগিদে খনি শ্রমিকদের সংগ্রাম

    ইবোলার কেন্দ্রস্থলে জীবিকার তাগিদে খনি শ্রমিকদের সংগ্রাম

    অনলাইন ডেস্ক:   ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মঙ্গবোয়ালুর খনিগুলোতে জীবিকার তাগিদে ভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সোনার খনির শ্রমিকরা।

    হস্তচালিত খনি শ্রমিক জাস্টিন ওকাউমে বলেন, ‘ইবোলা সত্যি এবং এটি আমাদের ভয় দেখায়। কিন্তু আমি যদি ঘরে বসে থাকি, তাহলে আমার সন্তানরা কী খাবে?’

    খনিজসমৃদ্ধ, কিন্তু অস্থির ইতুরি প্রদেশের মঙ্গবোয়ালুতে কয়েকজনের অজ্ঞাত কারণে মৃত্যুর পর, গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়।

    মধ্য আফ্রিকার বিশাল দেশটিতে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৫০ জনের বেশি মারা গেছেন। তবে সংকটের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা কঠিন।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গবোয়ালুতেই ২০৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮৯ জন মারা গেছেন।

    স্থানীয় হাসপাতালের প্রধান রিচার্ড লোকুদু এএফপিকে বলেন, মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন খনি শ্রমিকও রয়েছেন।

    আরেক খনি শ্রমিক জাস্টিন উকেতি বলেন, ‘তারা আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বলে। কিন্তু তা মেনে চলা কঠিন, কারণ আমাদের কাজই পরস্পরের সংস্পর্শে থাকতে বাধ্য করে।’

    যতদূর চোখ যায়, বিস্তৃত পিচ্ছিল ও কাদামাটির জমি। লালচে-হলুদ রঙের ভূদৃশ্যে অসংখ্য গর্ত। সেখানে কয়েক ডজন হস্তচালিত খনি শ্রমিক নিরলসভাবে খনন করে চলেছেন।

    কাদা মাখা নারী-পুরুষ পাথর ভাঙছেন। পরে সেগুলো গুঁড়ো করে সোনার কণা বের করা হচ্ছে।

    তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঘামে ভিজে কঠিন পরিশ্রম করছেন। সেখানকার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নাজুক।

    অনেকে পার্শ্ববর্তী প্রদেশ বা উগান্ডার মতো প্রতিবেশী দেশ থেকেও এসেছেন।

    তাদের আশা, সপ্তাহে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত আয় করা।

    এ ধরণের বড় মানুষের চলাচল অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ও শরীরের তরলের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়।

    ‘কে আক্রান্ত, আমরা জানি না’ –

    খোলা খনিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা সাত সন্তানের মা জেনেট আকেলো বলেন, খনি শ্রমিকদের কোনো উপায় নেই। বেঁচে থাকার জন্য তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
    বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের কারণে হয়েছে। এটির কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

    ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যে তৈরি বিদ্যমান ইবোলা টিকাগুলো শুধু জাইরে স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। এর আগের বড় ধরণের প্রাদুর্ভাবগুলোর জন্য এ স্ট্রেইন দায়ী ছিল।

    গ্রামীণ এলাকার পাহাড়গুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক পরা রেডক্রসের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। তারা লাশগুলো কাপড়ে মুড়িয়ে দিচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

    ভোরের আলো ফুটতেই খনির প্রথম শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। নিরক্ষীয় অঞ্চলের অসহনীয় গরম শুরু হওয়ার আগেই তারা কাজে নেমে পড়েন।

    ডিআর কঙ্গোতে সোনার বেশিরভাগ উৎপাদনই আসে হস্তচালিত খনি থেকে।

    দীর্ঘ সময় কাজ করার পর কেউ কেউ পাতা দিয়ে তৈরি ঝোলসহ এক প্লেট ভাত খেতে থামেন। আবার অনেকে সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে থাকেন।

    তারা খনি থেকে তোলা বাদামি রঙের উপাদানের সঙ্গে খালি হাতে পারদ মেশান। এতে তৈরি হয় ছোট, ধূসর, ভারী ও চকচকে একটি দলা, যা উত্তপ্ত করলে কাঁচা সোনায় পরিণত হয়।

    জ্যঁ-বাতিস্ত লিওয়াওয়ি বলেন, ‘কে আক্রান্ত আর কে নয়, আমরা জানি না। কাজ শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।’

    তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে তিনি আদা ও কিছু মিশ্রণ ব্যবহার করেন।

    প্রাদুর্ভাব শুরুর পর অনেক রোগী হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে সনাতন কবিরাজদের কাছে যেতে পছন্দ করছেন।

  • হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

    হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

    লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সদ্য হওয়া ভঙ্গুর সমঝোতা নতুন সংকটে পড়েছে।

    একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসতে রওনা হয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরাইলের চার সেনা নিহত হওয়ার পর, লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এরপর শুক্রবার ওয়াশিংটন নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এটি ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার একটি শর্ত।

    কিন্তু শনিবার আবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তি ভঙ্গ’ ও ‘দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ঘোষণা দেয়, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটও জাহাজগুলোকে ওই জলপথের কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করে।
    তারা জানায়, সেখানে গেলে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় এটি অবরুদ্ধ থাকে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান প্রণালীটি পুনরায় খুলতে রাজি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    তবে ইরানের নতুন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল এখনো বজায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী সেখানে উপস্থিত ও সতর্ক অবস্থানে আছে।

    পরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচকরা যদি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তাহলে ওয়াশিংটন নিজস্ব টোল আরোপ করতে পারে।

    ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত না হলে কোনো টোল থাকবে না।’

    -সুইজারল্যান্ডমুখী প্রতিনিধিদল-

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার বিকেলে একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রয়েছেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, সমঝোতায় অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানাবে ইরান।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে, পুরো সমঝোতাই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শনিবার বিকেলে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়েন।

    তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এক বা দুই দিনের বেশি থাকতে পারব না। আশা করছি, পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি হবে।’

    ভ্যান্স আরও বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়েও অগ্রগতি হবে। এ দুটিই আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়। ইরানও নিশ্চয়ই তাদের কিছু বিষয় তুলে ধরবে।

    তিনি বলেন, মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন। তারা কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন এবং তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।

    মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা হবে। এতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

    প্রাথমিক সমঝোতায় অমীমাংসিত থেকে যাওয়া বিষয়গুলো, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই মাসব্যাপী আলোচনার সূচনা করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।

    সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, বিদেশি প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে কাজ করছেন।

    -লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা-

    শনিবারও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যায়। দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষও অব্যাহত থাকে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা হওয়ার পর এটি পঞ্চম সেনা মৃত্যুর ঘটনা।

    পরে এক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধবিরতি মানতে বলা হয়েছে। বাহিনী কোনো আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে না। নিরাপত্তা অঞ্চলের ভেতরে শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

    অন্যদিকে হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইসরাইল নাবাতিয়েহ শহরের ওপর নজর রাখা কৌশলগত আলি তাহের পাহাড়ের দিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তাদের যোদ্ধারা ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ দিয়ে জবাব দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির প্রায় ২০টি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে।

    দেশটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাইদনের কাছে এক হামলায় আরও সাত জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

    চলমান সংঘাতে মোট মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

    হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, শত্রুপক্ষ হামলা চালালে, তার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার দাবি করেন যে যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইল শুধু সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করছে।

    তবে হিজবুল্লাহ বলেছে, ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলের।

    দক্ষিণ লেবাননের তাইর দেব্বা শহর থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাদি জায়াত বলেন, ‘পুরো দক্ষিণাঞ্চলে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

    ৫৩ বছর বয়সী এই বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা গ্রামে ফিরেছিলাম। কিন্তু আবার পালানোর জন্য ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত রেখেছি।’

    মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়ে। এর মধ্য দিয়েই সংগঠনটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

    এপ্রিল মাসে লেবাননে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন একটি যুদ্ধবিরতিও বাস্তবে কখনো কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের কথিত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে গেছে।

  • ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়লেন ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়লেন ভ্যান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন।

    তিনি জানান, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

    ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি হবে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি নিয়েও অগ্রগতি হবে। এ দুটি বিষয়েই মূলত আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।’

    এ সময় তিনি আরও জানান, তিনি মাত্র ‘এক বা দুই দিন’ আলোচনায় থাকতে পারবেন।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। কারণ, চার জন ইসরাইলি সেনা যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর ইসরাইল লেবাননে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালায়।

    পরবর্তীতে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয় এবং ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই একে অপরকে নতুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে।

    এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতার অংশ ছিল।

    ভ্যান্স বলেন, লেবাননের পরিস্থিতি ‘আসলে উন্নতির দিকে যাচ্ছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা আমাদের নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে করে ইসরাইল ও লেবানন উভয়ই নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকে।’

    তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো, কেউ একজন গুলি চালায়, তারপর অন্যজন পাল্টা জবাব দেয়। এখানে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য গুলিবর্ষণ বন্ধ রাখতে হবে।’

  • লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা

    লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা

    ইসরাইলি বাহিনী বুধবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য  জানিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে হওয়া শান্তি চুক্তির মধ্যেও এ হামলার ঘটনা ঘটে। শান্তি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা ও এর পাশের শহর কফর তেবনিতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকণ্ঠ লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

    এছাড়া দক্ষিণের জাহরানি অঞ্চলের আনসারিয়েহ শহরেও একটি ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানায় এনএনএ।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি ঘোষণার পর থেকে লেবাননে সহিংসতা কিছুটা কমেছে। তবে ওই চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে।

    সহিংসতা কিছুটা কমে আসায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু বাসিন্দা তাদের গ্রাম ও শহরে ফিরে  যেতে শুরু করেছেন। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে, স্থানীয়দের এখনই ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মার্চের শুরুতে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে লেবাননকে জড়িয়ে ফেলে। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মঙ্গলবার বলেন, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননসহ দখলকৃত অঞ্চল থেকে সরে না গেলে, সংঘাতের পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়।

    অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাবে ও মোতায়েন থাকবে।

    হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কোনো নতুন দাবি করেনি। সংগঠনের নেতা নাইম কাসেম বুধবার টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    মঙ্গলবার তিনি ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইরান ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮২৬ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও লাশ উদ্ধার করছেন।