Category: আন্তর্জাতিক

  • স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    কিউবার প্রধান ক্যান্সার হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী রোসা ভ্যালেন্তিনা পেরেজ। দুই বছর আগে তার স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

    সম্প্রতি দুই পায়ের চলাচলের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, ক্যান্সারটি মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে তার সিটি স্ক্যান করানো প্রয়োজন।

    কিন্তু হাভানায় বর্তমানে মাত্র একটি সচল সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, সেটিও শহরের নিউরোলজি হাসপাতালে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় আটকে আছেন পেরেজ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘এই যন্ত্রণা কতটা অসহনীয়, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। জানি, প্রতিটি দিন আমার জীবন থেকে সময় কেড়ে নিচ্ছে। অথচ হাসপাতাল থেকে শুধু বলা হচ্ছে, ‘দেখি, কবে আপনার স্ক্যান করা যায়।’

    পেরেজের জন্ম হয়েছিল সেই সময়ে, যখন ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসককে উৎখাত করে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বিপ্লবের অন্যতম বড় অর্জন ছিল সবার জন্য বিনামূল্যে ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।

    এক সময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল দেশটির গর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক পাঠিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যও তুলে ধরেছিল কাস্ত্রোর সরকার।

    তবে বর্তমানে সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গত ছয় মাসের জ্বালানি অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

    -নষ্ট ও অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম-

    দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধের তীব্র সংকট, কম বেতনের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে বা বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া এবং পুরোনো চিকিৎসা যন্ত্রপাতির একের পর এক বিকল হয়ে পড়াÑ সব মিলিয়ে কিউবার হাসপাতালগুলোতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

    অর্থ সংকটে থাকা সরকার ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও এসব বিভাগও এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অনকোলজি অ্যান্ড রেডিওবায়োলজি (আইএনওআর)-এ বর্তমানে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জনের বেশি।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লুইস এদুয়ার্দো মার্টিন এএফপিকে জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই পুরোনো, বিকল অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী।

    তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমরা রোগীকে ওষুধ দিচ্ছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারায়, নিশ্চিত হতে পারছি না যে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না। কারণ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপকরণ কিংবা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই।’

    -বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি-

    চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পাওয়া সত্ত্বেও এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে শিশুরা।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে শিশু ক্যান্সার রোগীদের বেঁচে থাকার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে।

    আইএনওআর-এর শিশু ক্যান্সার বিভাগের প্রধান মারিউস্কা ফোর্তেজা বলেন, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির অভাবে হাসপাতালগুলোর মধ্যে রক্তের নমুনা পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক জরুরি রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জানেন, শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। এটা চিকিৎসকদের জন্য ভীষণ কষ্টের।’

    এমন পরিস্থিতিতে কিউবার দীর্ঘদিনের নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

    মেরামতকর্মী আলেক্সিস আমাদো দোমিঙ্গেজ বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার জন্য আমাকে রাত ১২টা বা ২টায় হাসপাতালে এসে যন্ত্রপাতি মেরামত করতে হয়।’

    -হৃদরোগ চিকিৎসাও মারাত্মক সংকটে-

    হৃদরোগ চিকিৎসাও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির চিকিৎসক হোসে এস্তেবান আব্রেউ জানান, ২০১৮ সালে যেখানে বছরে ৪০০টির বেশি হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ১০০টিতে।

    এছাড়া প্রায় ১৩০ জন রোগী পেসমেকার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন, হার্ট মনিটরসহ অসংখ্য বিকল যন্ত্র মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে আছে। অনেক যন্ত্র আবার অন্য যন্ত্র সচল রাখতে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে খুলে নেওয়া হয়েছে।

    প্রযুক্তিবিদ লুইস আলেক্সিস ডানকান বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়। উদ্ভাবনী চিন্তা আর সীমিত সম্পদ দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

    চিকিৎসার সময় কমানো মানেই আয়ু কমে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

    হাভানার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত করা হয় যে কর্মশালায়, সেখানে বিকল ইনকিউবেটর ও নবজাতকের ভেন্টিলেটরের স্তূপ জমে আছে।

    অন্যদিকে জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অতি স্বল্প বেতন ও কিউবান মুদ্রা পেসোর মূল্যহ্রাসের কারণে বহু চিকিৎসক, নার্স ও প্রযুক্তিবিদ সরকারি চাকরি ছেড়ে বিদেশে বা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

    হাভানার বিখ্যাত হারমানোস আমেইহেইরাস হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটেও একই চিত্র।

  • টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায়, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির নেতা কিম জং উন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি পড়ে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

    পত্রিকাটি জানায়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।

    কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোডং সিনমুন জানায়, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েন।

    সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর, সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

    সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে।

    গত গ্রীষ্ম ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাস ছিল রেকর্ড উষ্ণ।

    এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই।

  • খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানে কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

    ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এ সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কয়েক দশকের বৈরী দুই দেশ পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে ইরান দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই খামেনি তার পরিবারের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যসহ নিহত হন।

    ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ও তার জন্মস্থান মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জনসমক্ষে এখনো না আসা তার ছেলে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি থাকে কি না, সেদিকে সবার নজর থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ‘অমানবিক’ ও ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: ইরান

    মাশহাদ থেকে এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় রেলসেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলাকে তারা ‘জঘন্য যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে ‘অমানবিক ও মানসিক বিকারগ্রস্ত’ উল্লেখ করে ‘অশালীনতা, মিথ্যাচার ও সামরিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ আনা হয়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে তিনজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবারের অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার।

    অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাহরাইনের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ বলে তারা জানিয়েছে।

    এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে।

    এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বৃহস্পতিবার সকালে তৃতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানোর সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাতের বেলায় ইরান হামলা চালিয়েছিল।

    যুদ্ধবিমান পাহারায় মাশহাদে খামেনির কফিন

    আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র রেলসেতুতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    তেহরান, কুম এবং ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় পাঁচ দিনের শেষকৃত্য শেষে খামেনির কফিনবাহী বিমান বৃহস্পতিবার সকালে মাশহাদে পৌঁছায়।

    সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ইরান শাসনকারী খামেনির শেষকৃত্য নতুন নেতৃত্বের ঐক্য প্রদর্শনের সুযোগ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একসঙ্গে থাকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় তিনিও আহত হন।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে খামেনির কফিনবাহী বিমানকে অন্তত একটি যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে মাশহাদে নিয়ে যায় বলে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে।

    যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’

    বুধবার হামলা-পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে তিনি আলোচনার পথও খোলা রাখেন এবং বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হবে।

    বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি এখনো বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন ইরান এ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।

    বুধবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান কিছুক্ষণ আগে যোগাযোগ করেছে এবং তারা ‘খুবই আগ্রহের সঙ্গে একটি সমঝোতা করতে চায়’। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের ‘কিছুটা উন্মাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।

    ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘হরমুজ প্রণালূ কেবল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার অধীনেই খুলে দেওয়া হবে।’

    তিনি এক্সে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো শেখেনি যে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি আছে। স্পষ্ট করে বলছি—আপনারা হামলা করলে, পাল্টা হামলার মুখে পড়বেন।’

    গত কয়েক দিনে ইরান অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক আকারে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।

    তবে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)-এর বিশ্লেষক এলি জেরানমায়ে বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে’, কারণ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।

    তার মতে, ‘তবু তেহরান ও ওয়াশিংটনের সামনে কূটনৈতিক পথ ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই, আর সেই পথই এমওইউয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।’

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    রাতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে।

    ন্যাটো সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বুধবার আঙ্কারায় মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সমর্থন না দেওয়া ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে তার যুদ্ধের প্রভাব এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনকে ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আঙ্কারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, তিনি এখনও গ্রিনল্যান্ড চান।

    এ বিষয়ে ইউরোপের বিরোধিতাকে তিনি ‘বড় সমস্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো যা করেছে, তাতে আমি খুবই অসন্তুষ্ট আর সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক ইরানের বিরুদ্ধে তারা আমাদের সাহায্য করতে চায়নি।’

    স্পেনকে বিশেষভাবে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘ন্যাটোর জন্য ভয়াবহ অংশীদার।’

    এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘স্পেন ব্যর্থ, কারণ আমরা আর স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না।’
    প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে চলমান বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে ‘সব বন্ধ করে দিতে’ বলেন।
    ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি নিজের আগ্রহ আবারও প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
    তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সুরক্ষার জন্য আমাদের এটি দরকার। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়। এটি ডেনমার্ককে সাহায্য করে না, কিন্তু আমাদের করে।’

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের আগের দিনের মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয়।’

    মার্কিন নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগে মিত্র দেশগুলো উদ্বেগে ছিল। তবে এর আগে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জোটের প্রতি ওয়াশিংটনের ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

    মঙ্গলবার তুরস্কে পৌঁছে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
    ৭৭ বছরের এই ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সম্মেলনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    ট্রাম্প সদস্য দেশগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইউরোপ থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে

    জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের পর জিম্বাবুয়ের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে রাজধানী হারারের কিছু এলাকায় এখনও সংযোগ পুনরায় চালুর কাজ চলছে।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংস্থা এ তথ্য জানায়।

    জিম্বাবুয়ে ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অথরিটি (জেসা) জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    বুলাওয়েও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জেসা জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার এসকমসহ চারটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রাত ১০টার মধ্যে দেশের অধিকাংশ প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে সফলভাবে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।’

    কম বৃষ্টিপাত এবং খরার কারণে জলাধারে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

  • চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে ৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১২

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে মঙ্গলবার ভূমিধসে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনও নিখোঁজ থাকা ১২ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গানসু প্রদেশের লংনান শহরের কাছে একটি গ্রামের এ ভূমিধসের ঘটনায় শুরুতে অন্তত ৩৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

    বেইজিং  থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, ‘উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ২১ জনকে খুঁজে বের করেছে। তাদের মধ্যে

    পাঁচজন জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও মারা গেছেন।’