Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড়

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন সামনে রেখে  রোববার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ বিদায়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় তেহরানে লাখো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

    আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন।
    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম জাফর সোবহানি। ৯৭ বছর বয়সী এই আলেম পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান করেন।
    ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। জানাজার নামাজেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
    তবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অন্য তিন ছেলে মাসুদ, মোস্তফা ও মেইসাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
    রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনের শেষ দিকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স থেকে খামেনির মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।

    এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রোববার সকালে বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স এবং আশপাশের সড়ক শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

    তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যে ইরানের পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে যাওয়া শোকাহত মানুষদের খাবার ও পানীয় দেওয়া হয়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার ও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

    ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এবং তার কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনের পাশে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। তাদের মধ্যে তার এক শিশু নাতনিও ছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, তেহরানে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ১ কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে তারা আশা করছেন।

    মিত্রদের উপস্থিতি-
    টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো সময় আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

    জানুয়ারিতে যুদ্ধের আগে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কঠোর দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো মানুষ নিহত হন। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনির শেষকৃত্যকে সরকার কতটা জনসমর্থন পাচ্ছে, তারও একটি পরীক্ষা হিসেবে ইরানের বাইরে দেখা হচ্ছে।

    শনিবার দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আজ বিভিন্ন স্থানে মানুষের আবেগ, অশ্রু এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ইরানি জাতি ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে তার অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।’

    তিনি বিশেষ করে ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ বলে অভিযোগ করেন।
    তিনি আরও বলেন, ‘মুসলমানরা প্রমাণ করেছে, তারা নিপীড়ন ও দাদাগিরির কাছে মাথা নত করবে না।’

    খামেনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের নীতি অনুসরণ করেছেন। তেহরান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহও রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করেছে। শেষকৃত্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং হামাসের মিত্র ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সোমবারের শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার খামেনির কফিন কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

    রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

    আগামী কয়েক দিনে তেহরানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এ কারণে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে আয়োজকরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। শনিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে উপস্থিত জনতার ওপর পানি ছিটিয়ে তাদের শীতল রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

  • কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    শনিবার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ করল যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের মধ্যেই দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি। আর এ উপলক্ষকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেকে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।

    এবারের স্বাধীনতা দিবস এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন ভয়াবহ তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বড় ধরনের বা চরম তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে আয়োজিত প্যারেড, ব্লক পার্টি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান ব্যাহত হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    তবে, প্রচ- গরমও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করবেন।

    এ ছাড়াও, এ উপলক্ষে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকবে সামরিক যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনী এবং ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজন।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তাপমাত্রা প্রায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হবে। তারপরও আমি সেখানে যাব এবং অনেক দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দেবÑশুধু এটা দেখানোর জন্য যে, আমি সবকিছুই করতে পারি।’

    এর আগে শুক্রবার রাতে তিনি সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষণ দেন। সেখানে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী অর্জনের প্রশংসা করেন।

    ‘আমেরিকার পরিচয়ের ওপর নতুন আক্রমণ’

    ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থিদের’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আবারও কমিউনিস্ট হুমকির পুনরুত্থান ঘটছে।’

    সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সরকারবিরোধী অংশের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।

    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বামপন্থীদের উত্থানকে ‘কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি বলে দাবি করেন।

    শুক্রবারের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের ভেতর থেকে আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।’

    যদিও এ ভাষণে অতীতের কিছু বক্তব্যের মতো তীব্র অভিবাসীবিরোধী ভাষা তিনি ব্যবহার করেননি, তবে তার মূল বার্তা ছিল একই।

    তিনি বলেন, ‘আপনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে না-ও হতে পারে, কিন্তু আমরা যা গড়ে তুলেছি, সেটিকে অবশ্যই
    ভালোবাসতে হবে।’

  • বাবার জানাজায় থাকবেন না মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে যে কারণ

    বাবার জানাজায় থাকবেন না মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে যে কারণ

    নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ভারতে নিযুক্ত ইরানের বর্তমান নেতার প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসরাইলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

    তিনি জানান, সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ খামেনিকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকির জবাব ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার’ মাধ্যমে দেওয়া হবে।

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এ হিসাব বাস্তব হলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হবে, যার মধ্যে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি রয়েছে।

    ৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে, যেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে দাফন সম্পন্ন হবে।

  • স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স

    স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে বর্ণাঢ্য আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স।

    সোমবার ফ্রান্সের কনস্যুলেট এ তথ্য জানিয়েছে।

    ‘স্মরণীয় শিল্পসৃষ্টির’ এ আয়োজন আগেই ধারণ করা হবে। পরে ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবিসি নেটওয়ার্কের ২৫ ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সম্প্রচারের শুরুতেই এটি প্রচার করা হবে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ফরাসি কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে জানায়, ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হবে, যা আগে কখনও জনসাধারণ দেখেনি। এর প্রতীকী ও আবেগঘন তাৎপর্য আরও উজ্জ্বল করে তুলতেই এ বিশেষ মঞ্চায়নের আয়োজন করা হয়েছে।’

    নিউইয়র্কে ফ্রান্সের কনসাল সেডরিক ফুরসিকো এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বের ইতিহাস ২৫০ বছরের। সেই সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত দৃঢ় ও গভীর। তাই আমরা বিশেষ কিছু করতে চেয়েছি।’

    ফ্রান্স ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে নিউইয়র্ক বন্দরের এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি উপহার দেয়। এটি বর্তমানে দেশটির অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা।

    ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি মাসে ফ্রান্স তাদের বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিকস দলও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে।

    গত ৯ জুন ‘পাত্রুই দ্য ফ্রান্স’-এর আটটি আলফা জেট ম্যানহাটনের আকাশে ফরাসি জাতীয় পতাকার তিন রঙে আকাশ রাঙিয়ে তোলে। একই সঙ্গে তারা স্ট্যাচু অব লিবার্টির উপর দিয়ে উড়ে যায়।

  • ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন

    ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন

    শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর দেশটির জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউয়ান (১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তা পাঠাবে চীন।

    সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সমর্থন দিতে ভেনেজুয়েলাকে ‘জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে ত্রাণসামগ্রী’ দেবে চীন সরকার।

    বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জিয়াকুন বলেন, এসব ত্রাণসামগ্রী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ পাঠানো হবে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্যাটেলাইট চিত্রও কারাকাসকে দিচ্ছে বেইজিং।

    গুও বলেন, ‘পরিস্থিতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ভেনেজুয়েলাকে আরও সহায়তা দিতে চীন প্রস্তুত রয়েছে।’

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং শুক্রবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন সহায়তা দেবে।

    সোমবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত চীনের আট জন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

  • বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান

    বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান

    ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে রোববার ভোরে অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

    একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘বেশ কয়েকজন রাজনীতিককে’ আটক করতেই এ অভিযান চালানো হয়।
    গ্রিন জোনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর রয়েছে। এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের অনেকেই এ এলাকায় বসবাস করেন।

    বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামের স্থানীয় চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্যাংকসহ ভারী সামরিক যান নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রিন জোনে অবস্থান করছেন। কয়েকটি ভিডিওতে তাদের একটি কম্পাউন্ডের ভেতরে ও একটি ক্ষেত্রে বাড়ির ভেতরেও দেখা যায়।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘বিচার বিভাগের নির্দেশে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন রাজনীতিককে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে।’

    তিনি জানান, অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী ও সেনাবাহিনী অংশ নেয়।

    তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    ওই কর্মকর্তা আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ কয়েকজন ইরাকি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যেই ব্যাপক পরিসরে এ অভিযান চালানো হয়।

    এ ঘটনায় কয়েকজনের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি কয়েক দশক ধরে দেশটিকে পীড়িত করে আসা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন।