Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিতের মামলায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ইউটিউব

    ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিতের মামলায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ইউটিউব

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা একটি মামলা সমাধানে ইউটিউব ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে দেওয়ায় ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

    সমাধানের অংশ হিসেবে, গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ইউটিউব ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ২২ মিলিয়ন ডলার ন্যাশনাল মল ট্রাস্ট-কে দান করবে। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা, যা হোয়াইট হাউসে একটি বলরুম নির্মাণের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছে। সোমবার একটি আদালতের নথিতে এটি দেখানো হয়েছে।

    মামলার বাকী ২.৫ মিলিয়ন ডলার অন্যান্য বাদীদের মধ্যে যাবে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন এবং আমেরিকান লেখিকা নাওমি উলফ, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস জেলা আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী।

    এছাড়াও, আদালতের নথি অনুযায়ী, ইউটিউব কোনো অপরাধ স্বীকার করেনি। এই সমঝোতা শুধু বিতর্কিত দাবি সমাধান এবং আরও বিচারব্যয়ের ঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।এই অর্থ প্রদান ইউটিউবের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশ অল্পই। কারণ শুধু ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

    এই বছরের শুরুতে মেটা প্ল্যাটফর্ম এবং এক্স একই ধরনের বহু-মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার পরে এই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন ৬ জানুয়ারি হামলার পরে তাকে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে সেন্সরড করা হয়েছে। ২০২০ সালে নির্বাচনে ট্রাম্প ‘জালিয়াতির’ অভিযোগ করলে তার সমর্থকরা সেদিন এ হামলা চালায়।

    তিন মামলার মামলাকারী এবং ট্রাম্পের সহযোগী জন পি. কোয়েল এ বিষয়ে বলেন, তিনি এই সমাধান নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং তিনি উল্লেখ করেন যে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য বাদীরাও সন্তুষ্ট।২০২০ সালের নির্বাচনের বিষয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা দাবির কারণে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কায় তাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদ দেওয়ার পর, বিগ টেক কোম্পানিগুলো তার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার প্রশাসনের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

    এই মাসের শুরুর দিকে, গুগলের সুন্দর পিচাই, মেটার মার্ক জুকারবার্গ এবং অ্যাপলের টিম কুকসহ টেক সিইওরা হোয়াইট হাউসের একটি ডিনার ইভেন্টে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং তার প্রশাসনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।অন্যান্য মিডিয়া কোম্পানিরাও ট্রাম্পের আইনি দাবির সমাধানে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে।

    গত জুলাইয়ে প্যারামাউন্ট গ্লোবাল জানিয়েছে, তারাও সমঝোতা করতে ১৬ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, সিবিএস নিউজের ৬০ মিনিটস প্রোগ্রাম সাক্ষাৎকারটি প্রতারণামূলকভাবে সম্পাদন করেছে। সেই সাক্ষাৎকারটি তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ছিল।

    গত ডিসেম্বরে এবিসি নিউজ ট্রাম্পকে ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল। সেসময় এবিসি নিউজের অ্যাঙ্কর জর্জ স্টেফানোপোলোসের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের পোস্টডক্টরাল গবেষক টিমোথি কোস্কি বলেছেন, ইউটিউবের এই সমঝোতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে ধারাবাহিকতার আশাকে আঘাত করেছে।কোস্কি আল জাজিরাকে বলেন, নিয়মভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায়, এই প্রশাসনের অনুকূলে থাকা যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মমাফিক এবং ধারাবাহিক আচরণের আশা করা যায় না।

    তিনি আরও বলেন, এতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত বিশাল সংখ্যক কোম্পানিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। সেন্সরশিপ সরানোর বদলে, এটি তা বিশেষভাবে এদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার একটি পথ বাতলে দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, উপরন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বজুড়ে অনেক সরকারের জন্য নজির স্থাপন করেছে।

  • হোয়াইট হাউসে বসছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

    হোয়াইট হাউসে বসছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন। চলতি বছরে এটি তাদের চতুর্থ বৈঠক। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরাইলের গণহত্যামূলক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ বড় অক্ষরে লেখা এক পোস্টে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে আসছে ‘মহান পরিবর্তন’। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বলেছেন, এই যুদ্ধের এখনই অবসান হওয়া উচিত।অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এই পরিকল্পনাকে কার্যকর করার চেষ্টা করছে।গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আরব ও মুসলিম নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এই ২১ দফা ‘ডে-আফটার’ যুদ্ধ পরিকল্পনা।

    বিভিন্ন ইসরাইলি ও পশ্চিমা গণমাধ্যমের তথ্যমতে, পরিকল্পনায় বলা হয়েছে—

    • হামাসকে দুই দিনের মধ্যে অবশিষ্ট ৪৮ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে (যার মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে)।
    • লড়াই ত্যাগ করলে বা আত্মসমর্পণ করলে হামাস যোদ্ধাদের গাজা ছাড়ার সুযোগ বা সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে।
    • দুর্ভিক্ষে ভুগতে থাকা গাজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
    • ইসরাইলি কারাগার থেকে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
    • ধীরে ধীরে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে।

    তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তারা কোনো নতুন প্রস্তাব পায়নি, যদিও উভয় দেশকে ট্রাম্প পরিকল্পনাটি দেওয়া হয়েছে বলে খবর রয়েছে।

    হামাস আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির নতুন কোনো প্রস্তাব পেলে তারা বিবেচনা করবে। এদিকে সংগঠনটির সামরিক শাখা আল–কাসাম ব্রিগেড জানায়, ইসরাইলি স্থল আক্রমণ ও বিমান হামলা তীব্র হওয়ায় গাজা শহরে দুই ইসরাইলি বন্দিকে ধরে রাখা দলগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ডজনখানেক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে এবং গাজার ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়ছে।

  • পাকিস্তানে সেনা অভিযানে বাংলাদেশি যুবক নিহত

    পাকিস্তানে সেনা অভিযানে বাংলাদেশি যুবক নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কারাকের দর্শখেলের শাহ সেলিম থানার কাছে সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানে ওই যুবক নিহত হন।  অভিযানে মোট ১৭ জনকে হত্যা করে পাক সেনাবাহিনী।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানি সেনারা যে  ১৭ জনকে হত্যা করেছেন, তার মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র, টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এরমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি বাংলাদেশি।আফগান সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার মাধ্যমে সেখানে বিদেশিদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এর আগেও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আরও দুই থেকে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তারা ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার অজুহাত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন এরপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেছে তারা।

    শনিবারের এ অভিযানের বিষয়ে পাক সেনাবাহিনী জানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (টিটিপি) ১৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে তারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাইবার পাখতুনখোয়া কারাক বিভাগে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এখন জানা গেল, ওই ১৭ জনের মধ্যে এক বাংলাদেশিও আছেন।

    নিরাপত্তাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জানতে পারেন দুর্গম ওই অঞ্চলে মোল্লা নাজির গ্রুপের সদস্যরা রয়েছেন। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইউনিট, স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি) এবং কাউন্টার টেররিজম বিভাগের (সিটিডি) সদস্যরা সেখানে যৌথ অভিযান চালান।

    এই অভিযানটি দুইদিনব্যাপী চলেছে। ওই সময় টিটিপির সদস্যদের পাহাড়ি এলাকায় ঘিরে ফেলা হয়। অভিযান শেষে ১৭ জন নিহত হওয়ার ব্যাপারে জানতে পারেন তারা। অপরদিকে ১০ জন আহত হয়। অভিযানে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্যও আহত হন।

  • গাজায় লাউডস্পিকারে সম্প্রচার হবে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণ

    গাজায় লাউডস্পিকারে সম্প্রচার হবে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ গাজায় লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সম্প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। এ নির্দেশ নিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে তীব্র আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ ও হা’রেৎজ জানায়, পুরো গাজা উপত্যকায় লাউডস্পিকার বসিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করতে সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী এ পরিকল্পনাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে, কারণ এর ফলে সেনাদের এমন এলাকায় প্রবেশ করতে হবে যেখান থেকে তারা হামাসের টার্গেটে পরিণত হতে পারে।

    একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হা’রেৎজকে বলেন, ‌‘এটা সম্পূর্ণ পাগলামি। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন পক্ষই বলছে, এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এর সামরিক লাভ কেউ খুঁজে পাচ্ছে না।’ সেনাবাহিনীর একটি সূত্র একে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ অমান্য করবে না। ইতোমধ্যে ৯৯তম ডিভিশনের সৈন্যরা গাজা সীমান্তে সামরিক গাড়ির ওপর লাউডস্পিকার বসিয়েছে বলে ইসরাইলি কান সম্প্রচার সংস্থার সামরিক প্রতিবেদক এক্স-এ একটি ছবি শেয়ার করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাষণ ইসরাইল সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা। এতে তিনি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ক্ষুব্ধ বন্দিদের পরিবার

    এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গাজায় হামাসের হাতে বন্দি ইসরাইলিদের পরিবারের সদস্যরা।

    লিশাই মিরান-লাভি, যার স্বামী ওমরি মিরান এখনও বন্দি, এক্সে লিখেছেন: ‘গাজাবাসীর বদলে আপনার উচিত সেইসব মানুষকে সম্বোধন করা যারা সত্যিকারের আশার প্রার্থনা করছে—বন্দিরা ও সেনারা। যদি লাউডস্পিকার বসান, তবে আমার রেকর্ডিং প্রচার করুন, যাতে ওমরি শুনতে পারে আমরা তাদের ফেরানোর জন্য লড়ছি।’

    আনাত আংগ্রেস্ট, যার ছেলে মাতান আংগ্রেস্ট বন্দি রয়েছে, লিখেছেন: ‘আমার ছেলে হয়তো আপনাকে শুনতে পাবে। কিন্তু ‘‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি বন্দিদের ফিরিয়ে আনার চুক্তি করতে’’—এই বাক্য ছাড়া আপনার প্রতিটি শব্দই তাদের জন্য মানসিক নির্যাতন হবে।’

    নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    এদিকে কয়েকজন বন্দির স্বজন ও মুক্তিপ্রাপ্তরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের বাইরে অবস্থান নিয়ে নেতানিয়াহুর ভাষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি—একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে সব বন্দিকে মুক্ত করতে হবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

    ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে গাজায় মোট ৪৮ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৬ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। জীবিতদের অধিকাংশই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় অপহৃত হয়েছিলেন।

  • মালয়েশিয়ায় ১৫০ বাংলাদেশিসহ ৬৬২ অভিবাসী আটক

    মালয়েশিয়ায় ১৫০ বাংলাদেশিসহ ৬৬২ অভিবাসী আটক

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের পুলাউ ইন্দাহ শিল্প এলাকায় বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শুরু হওয়া অভিযানে বিভিন্ন অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধে ৬৬২ জন বিদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ।

    সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদিন জানিয়েছেন, গত চার মাস ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিকল্পনা করা হয়। অভিযানে ১০০টিরও বেশি স্থাপনায় অভিযান চালানো হয় এবং ৯টি দোকান ঘিরে ফেলা হয়।

    সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়েল মালয়েশিয়ান পুলিশ, মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, এয়ার অপারেশনস ফোর্স, রয়েল ক্লাং সিটি কাউন্সিল, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ। মোট ২৪২ জন কর্মকর্তা ও কর্মী এই অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন।

    পরিচালক জানান, ১,১৩২ জনকে তল্লাশি করে যাদের মধ্যে ৬৬২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৪৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী, যাদের বয়স ১৬ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।আটকদের মধ্যে, ইন্দোনেশিয়া- ৪৩৭ জন, বাংলাদেশ- ১৫০ জন, পাকিস্তান- ৩৫ জন, মিয়ানমার- ৩৬ জন, নেপাল- ২৪ জন, ভারত- ১০ জন।

    আটককৃতদের প্রথমে সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য এবং পরে সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়।  পরিচালক আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, ভুয়া বা অচেনা কার্ড ব্যবহার। এছাড়া একটি অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদেশি শ্রমিকদের ডরমেটরি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পরবর্তী তদন্তের জন্য জনশক্তি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

    খাইরুল আমিনুস বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইন, ১৯৬৬ সালের পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন রেগুলেশন এবং ২০০৭ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আইন লঙ্ঘনের ধরন-

    ধারা ৬(১)(সি): বৈধ পাস বা ভ্রমণ নথি না থাকা।

    ধারা ১৫(১)(সি): অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা।

    প্রবিধান ৩৯(বি): পাসের শর্ত ভঙ্গ।

    তিনি আরও বলেন, জনসাধারণ এবং নিয়োগকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, অবৈধ অভিবাসীদের রক্ষা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।তবে কিছু নিয়োগকর্তা তাদের কর্মীদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে সহায়তা করেছেন, যা প্রমাণ করে যে সবাই আইন ভঙ্গ করেননি।পরিচালক জানান, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তাদের অবশ্যই দেশের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বৈধভাবে কাজ করতে হবে।তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শুধু পুলাউ ইন্দাহ নয়, বরং সেলাঙ্গর জুড়েই এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

  • গাজা নিয়ে পোস্টের জেরে চাকরিচ্যুত সাংবাদিককে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

    গাজা নিয়ে পোস্টের জেরে চাকরিচ্যুত সাংবাদিককে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    গাজায় ইসরাইলি হামলার ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে চাকরিচ্যুত অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিককে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‘এবিসি’কে আজ বুধবার আদালত এই নির্দেশ দেন।সাংবাদিক অ্যানটুনেট লাটুফ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এবিসি’র সঙ্গে পাঁচ দিনের একটি চুক্তিভিত্তিক কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর তিন দিনের মাথায় তাকে বরখাস্ত করা হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেন।

    লাটুফের বরখাস্ত হওয়ার কারণ ছিল গাজা যুদ্ধ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর একটি ভিডিও প্রতিবেদন ইনস্টাগ্রামে পুনরায় পোস্ট করা। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন— ‘এইচআরডব্লিউ বলছে, তীব্র ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’এর আগে ফেডারেল কোর্টের বিচারক ড্যারিল রাংগিয়াহ বলেছিলেন, ‘গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক মতামত পোষণ করার’ কারণেই এবিসি লাটুফের চুক্তি বাতিল করে, যা কর্মসংস্থান আইনের লঙ্ঘন।

    রাংগিয়াহ আরো বলেন, এবিসি’র এই লঙ্ঘন লাটুফের জন্য ‘খুবই খারাপ পরিণতি’ বয়ে নিয়ে এসেছে।তিনি আরো বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষের কাছে চাকরি শুধু আয়ের উৎস নয় বরং এটি তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন, পরিচয় ও আত্ম-সম্মানবোধের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।’অনেক অস্ট্রেলীয়র কাছে নিরপেক্ষ সংবাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবিসি। আদালত এবিসিকে নির্দেশ দিয়েছে, ওই সাংবাদিককে ৯৮ হাজার ৯০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। এর আগে চলতি বছর ৪৬ হাজার ১০০ ডলার দেওয়ার রায় হয়েছিল।

    রাংগিয়াহ বলেন, এই পরিমাণ অর্থ লাটুফের ওপর হওয়া ক্ষতির জন্য ‘পর্যাপ্ত’। পুরো অর্থ আগামী ২৮ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।লাটুফ বলেন, এবিসি ‘আমার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ২০ লাখ ডলারেরও বেশি খরচ করে ফেলেছে।’মঙ্গলবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘জরিমানার পরিমাণ যাই হোক, আমার কাছে টাকাটা কখনোই মুখ্য ছিল না, এটা সবসময় জবাবদিহি এবং আমাদের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা যে তথ্য দেয় তার সততা নিয়ে ছিল।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি এবিসি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সততা ফিরিয়ে আনবে, কারণ আমাদের গণতন্ত্র একটি শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভের (গণমাধ্যম) ওপর নির্ভরশীল।’এবিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস বলেন, সম্প্রচার সংস্থাটি ‘আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা অব্যাহত রাখবে।’এবিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা এখনো ভাবছেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং এ থেকে শিক্ষা ও এর প্রভাব নিয়ে ভেবেছি। আমাদের আরো যত্নশীল হতে হবে।’এদিকে, গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকটের কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। গত মাসে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করে।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে অতর্কিত আক্রমণ করে। এরপর ইসরাইল পাল্টা হামলা শুরু করে, যা প্রায় দুই বছর ধরে চলমান। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের তদন্তকারীরা অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ সংঘটনের অভিযোগ আনেন।