Category: আন্তর্জাতিক

  • এবার খৎনা নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘উদ্ভট’ মন্তব্য, গবেষণা কী বলছে !

    এবার খৎনা নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘উদ্ভট’ মন্তব্য, গবেষণা কী বলছে !

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ব্যথানাশক (টাইলেনল) ব্যবহারের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা আরও জোরদার করেছেন।তিনি সম্প্রতি  নতুন সতর্কবার্তায় দাবি করেন, যেসব ছেলেশিশুর খৎনা করা হয়, তাদের পরবর্তী জীবনে অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

    বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেনেডি বলেন, ‘দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে যেসব ছেলেশিশুর খতনা করা হয়, তাদের অটিজমে আক্রান্তের হার দ্বিগুণ। এর প্রধান কারণ সম্ভবত খতনার পর তাদের শরীরে ব্যথানাশক টাইলেনল দেওয়া হয়।’এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর কেনেডি ও ট্রাম্প মিলে গর্ভবতী নারীদের টাইলেনল গ্রহণ না করার আহ্বান জানানোর পর বড় পরিসরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    তাদের দাবি ছিল, টাইলেনলের সক্রিয় উপাদান অ্যাসিটামিনোফেন অটিজমের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যদিও এই ঝুঁকির সপক্ষে কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।এই সুপারিশ এখনো ব্যাপকমাত্রায় বিতর্কিত। টাইলেনল প্রস্তুতকারক সংস্থা কেনভিউ জানিয়েছে, তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো মূল্যায়ন করছে।তবে তাদের গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারের সঙ্গে ভ্রূণের প্রত্যাশিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, অ্যাসিটামিনোফেন গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি ব্যথানাশক। ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ইতিমধ্যে গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর নারীদের আইবুপ্রোফেন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    অন্যদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে সোসাইটি ফর ম্যাটার্নাল-ফিটাল মেডিসিন এবং আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্টস উভয় সংস্থা গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি গর্ভবতী হলে টাইলেনল খাবেন না। আর শিশু জন্মগ্রহণ করলে তাকেও টাইলেনল দেবেন না।’খৎনার কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ইতিবাচক দিক রয়েছে। নিচে প্রধান কিছু উপকার তুলে ধরা হলো:মানুষের শরীরে সংক্রামক রোগ (এসটিআই) কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    আফ্রিকার র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালগুলোর তথ্য দেখায়, খৎনা করা পুরুষদের হিউম্যান ইমিউনডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) সংক্রমণের ঝুঁকি ৫১-৬০% পর্যন্ত কমে যায়। এইচএসভি-২ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    খৎনা করা নবজাতক ছেলেদের প্রথম বছরেই মুত্রনালীর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা (প্রায় ১০ গুণ) কমে যায়। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, মুত্রনালীর সংক্রমণ হ্রাসে খৎনার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। যদিও পেনাইল ক্যানসার বিরল, তবে খৎনা সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হয়।

  • যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ শেষ করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ভোররাত থেকে গাজা উপত্যকায় অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলের হামলা। গাজা সিটি ও খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান ও আর্টিলারির ব্যাপক গোলাবর্ষণে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকেও গাজা শহরের বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা ফেলা হয়েছে। রাতভর তীব্র বিস্ফোরণ ও আগুনে আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে।

    মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এদিকে ইসরাইলি ট্যাংকগুলো আল-রাশিদ সড়ক অবরোধ করে দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ফেরা ঠেকিয়ে দিয়েছে। সেনারা মাঝেমধ্যেই গুলি ও গোলা ছুড়ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইলি সেনারা যেখানে অবস্থান করছে—সেসব এলাকায় না যেতে।

    মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার সকালে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা আসে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানান, ‘উভয় পক্ষ প্রথম ধাপের এমন এক চুক্তিতে পৌঁছেছে যা যুদ্ধের অবসান, বন্দি বিনিময় ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সুগম করবে।’হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চুক্তির লক্ষ্য গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি, দখলদার বাহিনীর প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার প্রবেশ এবং বন্দি বিনিময় নিশ্চিত করা।’

    অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আজ ইসরাইলের জন্য এক মহান দিন।’ তিনি বন্দিমুক্তির প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।নেতানিয়াহু বলেন, বৃহস্পতিবারই তার মন্ত্রিসভা বৈঠক বসবে চুক্তি অনুমোদনের জন্য, যাতে ‘ইসরাইলি বন্দিদের ঘরে ফেরানো যায়।’মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।

    চুক্তির প্রথম ধাপে রোববার বা সোমবারের মধ্যে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে, এর বিনিময়ে ইসরাইল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে। চূড়ান্ত তালিকা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই প্রায় ৪০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বাড়ানো হবে।ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে সরে যাবে, তবে প্রথম ধাপে প্রত্যাহারের সীমানা কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।চুক্তির বাকি অংশ—যেমন ইসরাইলের পূর্ণ প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন ও অন্যান্য শর্ত—পরে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক অভিযানে ইসরাইলে আঘাত হানার পর শুরু হয় এ যুদ্ধ। হামাস জানায়, ইসরাইলের দখলনীতি, আল-আকসা মসজিদে ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘন, গাজায় মানবিক অবরোধ ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের জবাবেই তাদের এই অভিযান।

    প্রথম ঘণ্টাগুলোতেই ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড ভেঙে পড়ে, ফলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। হামাসের হামলায় অন্তত ১,১৮০ জন নিহত হয়, যাদের প্রায় অর্ধেকই বেসামরিক নাগরিক। পরবর্তী সংঘাতে আরও সাত শতাধিক ইসরাইলি নিহত হয়।

    জবাবে ইসরাইল গাজায় ভয়াবহ বিমান ও স্থল অভিযান চালায়, যা টানা দুই বছর ধরে চলে। অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায় গাজার প্রায় প্রতিটি স্থাপনা—বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ ও গির্জা।ফাঁস হওয়া ইসরাইলি সেনা তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক।এই সময় গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্র ইসরাইলের এ কর্মকাণ্ডকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

  • অবশেষে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পল কাপুর

    অবশেষে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পল কাপুর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   অবশেষে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পল কাপুরকে অনুমোদন দিল মার্কিন সিনেট। এর ফলে ডোনাল্ড লু’র স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি সামলাতে তাকেই এ অঞ্চলের নতুন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিল যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনৈতিক পদে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন তিনি। এর আগে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নিশা বিসওয়াল দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

    পল কাপুর ভারত ও পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুলে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউটে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কাজ করেছেন।ট্রাম্পের প্রথম দফায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পলিসি প্ল্যানিং বিভাগে যুক্ত ছিলেন।

    ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে তিনি বেশ কিছু বইও লিখেছেন। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে– ‘জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: ইসলামিস্ট মিলিট্যান্সি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড দ্য পাকিস্তানি স্টেট’, ‘ডেঞ্জারাস ডিটারেন্ট: নিউক্লিয়ার উইপনস প্রলিফারেশন অ্যান্ড কনফ্লিক্ট ইন সাউথ এশিয়া’।

    এছাড়া, সহ-লেখক হিসেবে লিখেছেন ‘ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড দ্য বোম্ব: ডিবেটিং নিউক্লিয়ার স্ট্যাবিলিটি ইন সাউথ এশিয়া’।

  • শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

    শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা ফ্রিডম ফ্লোটিলা নামের আন্তর্জাতিক নৌবহরটি আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম এই নৌবহরের একটি জাহাজে ছিলেন। আটক হওয়ার পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে “অপহরণ” করেছে এবং গাজায় প্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    বুধবার (৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানায়, গাজামুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজ ও যাত্রীদের আটক করে ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, “আইনি নৌ অবরোধ ভেঙে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। সব যাত্রী নিরাপদ আছেন এবং তাঁদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

    অন্যদিকে, ফ্রিডম ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের জাহাজগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে এবং গাজা উপত্যকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে।

    এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি ‘কনসেন্স’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন, যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের অংশ। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন,

    “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আপনি যদি এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে এতক্ষণে আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে। আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সহায়তায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। আমি আমার সকল বন্ধুদের ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    শহিদুল আলমের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, তাঁদের বহর বুধবার ভোর নাগাদ ‘রেড জোন’—অর্থাৎ বিপজ্জনক অঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছায়, যেখানে সম্প্রতি আরেকটি নৌবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’কে আটক করেছিল ইসরায়েল। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছি, কারণ ধীরগতির জাহাজগুলোকে পেছনে না ফেলতে আমরা অপেক্ষা করেছি। এখন আমরা রেড জোন থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে।”

    এর আগে, ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আরেকটি নৌবহরের ৪০টিরও বেশি জাহাজ ও যাত্রীকে আটক করেছিল ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৪৭৯ জনেরও বেশি সদস্যকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    ফ্রিডম ফ্লোটিলা মূলত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ছিল গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

    ইসরায়েলি বাহিনীর এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, গাজায় প্রবেশের যে কোনো মানবিক উদ্যোগ ইসরায়েল “নিরাপত্তা”র অজুহাতে বন্ধ করে দিচ্ছে।

    দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। এই সময়ে দেশটির হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই বন্দী রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রিডম ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলের এই হামলা কেবল মানবিক সাহায্যকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত।

  • সড়কে আছড়ে পড়ল হেলিকপ্টার

    সড়কে আছড়ে পড়ল হেলিকপ্টার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর একটি মেডিকেল হেলিকপ্টার আছড়ে পড়েছে। এতে হেলিকপ্টারে থাকা সবাই গুরুতর আহত হয়েছেন।

    রোববার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্যাক্রামেন্টো শহরের হাইওয়ে ৫০-এর অন্তর্গত ৫৯ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্যাক্রামেন্টো ফায়ার সার্ভিসের ক্যাপ্টেন জাস্টিন সিলভিয়া জানান, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি মার্কিন মেডিকেল পরিবহণ কোম্পানি রিচের মালিকানাধীন। দুর্ঘটনার সময় এতে ছিলেন পাইলট, এক ফ্লাইট নার্স এবং এক প্যারামেডিক; তবে কোনো রোগী ছিলেন না।

    ক্যাপ্টেন সিলভিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে হেলিকপ্টারটি সড়কে পড়লেও কোনো গাড়ি বা পথচারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। তারা আহতদের মধ্যে দুজনকে হেলিকপ্টার থেকে বের করে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তৃতীয় জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। এক বিবৃতিতে রিচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে এফএএ ও এনটিএসবির সঙ্গে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

  • ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

    ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে হবে ইউএফসি লড়াই

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) সংগঠন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি)। ২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হবে ইউএফসি লড়াই। হোয়াইট হাউসে এমন লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হতে যাচ্ছে।

    রোববার ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাটিতে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছে। নৌবাহিনির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আগামী ১৪ জুন আমরা হোয়াইট হাউসের মাঠে একটি বড় ইউএফসি লড়াই আয়োজন করব।

    এর আগে আগস্টে ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইট জানিয়েছিলেন, আগামী বছর ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে হোয়াইট হাউসে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী বছর ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনে এ লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছরের শুরু থেকেই ‘হোয়াইট হাউস কার্ড’ তৈরি শুরু করব। এটি ইউএফসি এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফাইট কার্ড হবে।

    জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্টস ইউএফসি লড়াই হয় আট কোণা রিং ‘অক্টাগন’-এ। এ খেলাটির সহিংস প্রকৃতি ও আঘাতের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।