Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল ২৫০ জন দণ্ডিত ফিলিস্তিনি বন্দির পাশাপাশি গাজার ভেতর থেকে আটক করা আরও প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন গাজাবাসীকে মুক্তি দিয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল এবং দীর্ঘ মাস ধরে কোনো বিচার ছাড়াই কারাগারে রেখেছিল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ।

    ইসরাইল দাবি করেছে, এই আটক ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজায় নির্বিচারে অভিযান চালিয়ে অনেক সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গেছে তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, যাদের অনেকেরই কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না।

    মুক্তি পাওয়া বহু বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত মারধর, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের।


    কারা এসব আটক ব্যক্তি?

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিপুল সংখ্যক গাজাবাসীকে আটক করে।

    ২০০২ সালের ‘অবৈধ যোদ্ধাদের আটক আইন’-এর আওতায় আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী) ও শিন বেত (ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা) গাজার ভেতর থেকে এসব মানুষকে আটক করে এবং বিভিন্ন কারাগারে পাঠায়।

    তাদের অনেককে আটক করা হয় হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী হামাসের উপস্থিতির অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসিক ভবন, রাস্তার চেকপয়েন্ট ও চলাচলের সময়ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আটক অবস্থার শর্ত

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি কারাগারে ‘অবৈধ যোদ্ধা আইন’-এর আওতায় আটক গাজাবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৭৩। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, সামরিক আটক কেন্দ্রে আরও কয়েকশ মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

    আটক ব্যক্তিদের সাধারণত ছয় মাস মেয়াদে আটকাদেশ দেওয়া হয়, যা নিয়মিত নবায়ন করা হয় জেলা আদালতের মাধ্যমে। এসব শুনানি ভিডিও কনফারেন্সে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়।

    বন্দিদের অধিকাংশই জানতেন না কেন তাদের আটক করা হয়েছে; তারা কোনো প্রমাণ দেখতে পাননি, এমনকি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও পাননি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকেও ইসরাইল তাদের কাছে যেতে দেয়নি। পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগেরও অনুমতি ছিল না।

    ২০২৪ সালের মে মাসে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর চাপে সেনাবাহিনী বন্দিদের সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা চালু করে। তবে কেবল যারা হামোকেদ বা অনুরূপ মানবাধিকার সংগঠনের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন, তারাই যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। হামোকেদের নির্বাহী পরিচালক জেসিকা মন্টেল জানান, তাদের সংগঠন মাত্র ৫০ জন বন্দির আইনজীবী সাক্ষাৎ নিশ্চিত করতে পেরেছে।

    নির্যাতনের অভিযোগ

    মুক্তি পাওয়া অনেক বন্দি জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    একজন ২৩ বছর বয়সি ট্রাকচালক জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজার একটি চেকপয়েন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকে মারধর করা হয়, হামাস সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ৪৫ দিনের জন্য সামরিক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে ‘ডিস্কো রুমে’ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচণ্ড শব্দে গান শোনানো হয় এবং ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয়। তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তার স্ক্যাবিস রোগ হয় এবং বিশ্রাম নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    আরেক বন্দি জানান, খান ইউনুসে তার বাসা থেকে তাকে ধরে নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, হাতকড়া ও চোখ বেঁধে রাখা হয়, পরে একটি বাসে তোলা হয় এবং আবারও মারধর করা হয়। তাকে ৯৬ দিন ধরে স্দে তেইমান কারাগারে হাতকড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়, এমনকি ঘুমানোর সময় বা বাথরুমে যাওয়ার সময়ও হাতকড়া খোলা হয়নি।

    এরপর তাকে ওফের কারাগারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। সেখানে দিনে হাতকড়া পরতে হতো, কিন্তু রাতে খুলে দেওয়া হতো। তবে সেখানেও বন্দিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানের বদলে মেঝে পরিষ্কারের তরল দেওয়া হতো।

    মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন গাজাবন্দির কাছ থেকে একই ধরনের নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে তারা।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কঠোর নীতিমালা আরোপ করেছেন।

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্দে তেইমান আটক কেন্দ্রে চোখ বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের মারধরের দায়ে এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মাসে আরও পাঁচজন রিজার্ভ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়।

  • ‘কিং ট্রাম্প’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রে

    ‘কিং ট্রাম্প’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রে

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাকে মুকুট পরা অবস্থায় দেখা যায় এবং ‘কিং ট্রাম্প’ লেখা একটি জেটে উড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় সেই বিমান থেকে প্রতিবাদকারীদের ওপর বাদামী তরল (মলের মতো) ফেলা হচ্ছে।

    ভিডিওটিতে কেনি লগিনসের জনপ্রিয় গান ‘ডেনজার জোন’ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে, আর তাতে দেখা যায় ট্রাম্পের জেটটি শহরে প্রতিবাদকারীদের মাথায় বাদামী তরল ঢালছে।

    শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে রাজকীয় মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। পোস্টে লেখা হয়, ‘সকলকে শুভ রাত্রি।’ এর পর একটি মুকুটের ইমোজি দেওয়া হয়।

    ট্রাম্প নিয়মিতভাবে এআই-নির্মিত ও বিকৃত ছবি বা মিম পোস্ট করে থাকেন। গত মাসে তিনি এক ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসকে মিথ্যা গোঁফ ও সেমব্রেরো (মেক্সিকান টুপি) পরানো অবস্থায় দেখানো হয় এবং তাতে মারিয়াচি সংগীত বাজানো হয়। আফ্রিকান-আমেরিকান এই রাজনীতিক জেফরিস বলেন, ভিডিওটি  ‘বর্ণবাদী ও ঘৃণাপূর্ণ’।

    ‘নো কিংস’ আন্দোলনটি গত জুনের বিশাল প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা, যেখানে আনুমানিক ৫০ লাখ মানুষ প্রায় দুই হাজার স্থানে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও বিক্ষোভ আয়োজন করেছে প্রগতিশীল জোট ইন্ডিভিজিবল, মুভঅন, এবং স্থানীয় সংগঠন ৫০৫০১। রিপাবলিকান নেতারা এই বিক্ষোভের সমালোচনা করে বলেন, এটি সরকারের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করছে এবং একে ‘হেইট আমেরিকা র্যালি’ (আমেরিকা-বিরোধী সমাবেশ) আখ্যা দেন তারা।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন ইমেইলে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘কে পরোয়া করে?’রোববার (১৯ অক্টোবর) সম্প্রচারিত ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা আমাকে রাজা বলছে। আমি রাজা নই।’

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

    রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

    হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

    এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

    তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

    গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

  • গাজায় ফের ইসরাইলের বিমান হামলা শুরু

    গাজায় ফের ইসরাইলের বিমান হামলা শুরু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরাইল। রোববার (১৯ অক্টোবর) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জায়নিস্ট বাহিনী এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো রাফা ও দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর দিচ্ছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এবং সেনা কর্মকর্তারা এক ফোনালাপে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘গোলাগুলি বিনিময়’-এর পর এই হামলা চালানো হয়।

    ইসরাইলি মিডিয়ার দাবি, দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, রাফায় সামরিক যান বিস্ফোরণে ইসরাইলের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ‘আসন্ন হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে।

    বিবৃতিতে হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলি দখলদারদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায় এবং এটি ইসরাইলের চলমান সংগঠিত অপরাধ ও আগ্রাসনের জন্য রাজনৈতিক আড়াল তৈরি করে।

    হামাসের দাবি, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা অভিযোগ করে, ইসরাইল নিজেরাই সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী গঠন, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করছে—যারা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যা, অপহরণ, ত্রাণবাহী ট্রাক লুট ও সম্পদ চুরিতে জড়িত।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অপরাধে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিজস্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

    হামাস জানায়, গাজার পুলিশ বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অপরাধী চক্রকে শনাক্ত ও বিচার করার কাজ চলছে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

    সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়, ইসরাইলি দখলদারদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধে তেলআবিবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।বিবৃতির শেষে হামাস পুনর্ব্যক্ত করে, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা ও সংগঠিত আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩ শিশুসহ ১১

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৩ শিশুসহ ১১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র আট দিন পরই ইসরাইল চুক্তি লঙ্ঘনের এ ঘটনা ঘটালো। রোববার (১৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির জায়তুন এলাকায় আবু শাহবান পরিবারের বেসামরিক একটি গাড়িতে ইসরাইলি বাহিনীর ট্যাংকের গোলা আঘাত হানে। গাড়িটিতে করে তারা তাদের নিজ বাড়ির অবস্থা দেখতে যাচ্ছিলেন।সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী।

    তিনি বলেন, ‘তাদের সতর্ক করা যেত বা অন্যভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু যা ঘটেছে, তা প্রমাণ করে দখলদার বাহিনী এখনো রক্তপিপাসু এবং নিরীহ বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।’সংস্থাটি এক পৃথক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) সহায়তায় তারা এখন পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে। তবে দুটি শিশুর মরদেহ এখনো নিখোঁজ, কারণ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে তাদের দেহাবশেষ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।হামাস এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই ওই পরিবারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন ইসরাইলকে  যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে চাপ দেওয়া হয়।

    এদিকে চলমান বন্দি বিনিময় চুক্তির মধ্যেই শনিবার পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ৩৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস। খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা প্রবাহও কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

  • ৫০ ধরনের ক্যান্সার শনাক্তে রক্ত পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফল

    ৫০ ধরনের ক্যান্সার শনাক্তে রক্ত পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  একটি রক্ত পরীক্ষা যা ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে — এমন এক বিপ্লবী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে উত্তর আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায়।গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরীক্ষা ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরই কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে—যেখানে চিকিৎসা সহজ এবং নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি। খবর বিবিসির।

    গ্যালেরি টেস্ট নামে পরিচিত এই রক্ত পরীক্ষা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্রেইল। এটি ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএর ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত করতে পারে, যা টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তে ভাসতে থাকে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস এই পরীক্ষাটি ট্রায়াল হিসেবে পরিচালনা করছে।

    গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ আসে এবং এই কেসগুলোর ৬২ শতাংশেই পরবর্তীতে ক্যানসার নিশ্চিত হয়।

    গবেষণার প্রধান ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির রেডিয়েশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিমা নবাভিজাদেহ বলেছেন, ‘এই রক্ত পরীক্ষা ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ধারণা আমূল বদলে দিতে পারে।’ ওরেগন আরও বলেন, ‘এই প্রযুক্তি এমন অনেক ধরনের ক্যান্সার আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে, যখন চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে।’গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের পরীক্ষায় ক্যানসার পাওয়া যায়নি, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি সঠিকভাবে ক্যানসার বাদ দিতে পেরেছে।

    ব্রেস্ট, বাওয়েল ও সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে এই রক্ত পরীক্ষাকে যুক্ত করলে ক্যানসার শনাক্তের হার সাতগুণ বৃদ্ধি পাবে।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো— শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের তিন-চতুর্থাংশ এমন ধরনের, যেগুলোর জন্য কোনো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই; যেমন ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার।পরীক্ষাটি ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের উৎসও সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে।

    গবেষণায় সরাসরি যুক্ত না থাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরীক্ষা ক্যানসারে মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম কিনা—তা প্রমাণে আরও সময় ও তথ্য প্রয়োজন।লন্ডনের ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক ক্লেয়ার টার্নবুল বলেন, ‘র‍্যান্ডমাইজড স্টাডি থেকে মৃত্যুহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া না গেলে, এই পরীক্ষার প্রকৃত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’এই গবেষণার সারসংক্ষেপ শনিবার (১৮ অক্টােবর) বার্লিনে ইউরোপীয় সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজি কংগ্রেস-এ উপস্থাপিত হবে, যদিও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

    পরবর্তী বড় পরীক্ষা হিসেবে ইংল্যান্ডে এনএইচএস-এর তিন বছর মেয়াদি ট্রায়ালে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। ফলাফল প্রকাশ পাবে আগামী বছর। যদি সফল হয়, তাহলে পরীক্ষাটি আরও ১০ লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হবে বলে এনএইচএস জানিয়েছে।গ্রেইল-এর বায়োফার্মা বিভাগের সভাপতি স্যার হারপাল কুমার বলেন, ‘ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

    হারপাল বিবিসিকে বলেন, ‘এই প্রযুক্তি আমাদের আরও অনেক আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যানসারও প্রাথমিক পর্যায়ে খুঁজে বের করার সুযোগ দিচ্ছে—যখন চিকিৎসা বেশি কার্যকর ও নিরাময় সম্ভব।’তবে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-এর নাসের তুরাবি সতর্ক করে বলেন, ‘অতিরিক্ত রোগ নির্ণয় এড়াতে আরও গবেষণা প্রয়োজন—কারণ কিছু ক্যানসার হয়তো কখনোই প্রকৃত ক্ষতি করত না।’তুরাবি যোগ করেন, ‘এই পরীক্ষাগুলো এনএইচএস গ্রহণ করবে কিনা, তা নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্ক্রিনিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’