Category: আন্তর্জাতিক

  • পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   পাকিস্তান সরকার গতকাল শনিবার বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে। বিরোধীদলগুলো বলেছে, সরকার বিলটি খুব দ্রুত পাস করাতে চাইছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর ব্যাপ্তি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।এক  প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য ডন।

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ২৬ পৃষ্ঠার এ বিল উপস্থাপন করেন। পাস হলে এটি ‘সংবিধান (২৭তম সংশোধনী) আইন, ২০২৫’ নামে পরিচিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সিনেটে তোলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করেন। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিয়ে আজারবাইজানের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশটিতে গেছেন তিনি।

    সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি বিলটিকে উচ্চকক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন, যেন তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে আলোচনা করে।

    বিলটিতে একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত গঠন, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সীমা বৃদ্ধি ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে গতকাল বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সিনেটের ওই অধিবেশন ডাকা হয়। তবে বিলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক প্রায় আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।সিনেট অধিবেশন চলাকালেই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির উভয় কক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটি যৌথভাবে একটি গোপন বৈঠক করে বিলটি পর্যালোচনা করে। বৈঠক বর্জন করেন কমিটির জেইউআই-এফ ও পিটিআইয়ের সদস্যরা।

    এদিকে খুবই বিরলভাবে আজ রোববার বিকেলেও সিনেটের অধিবেশন বসছে। একমাত্র আলোচ্য বিষয় হলো এ সংশোধনী বিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকার বিলটি দ্রুত পাস করাতে ব্যস্ত।

    এ বিষয়ে পিটিআইয়ের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা আলী জাফর বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতিতে এ বিল নিয়ে বিতর্ক অনুচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও তার মিত্ররা সংশোধনীটি তাড়াহুড়া করে পাস করাতে চাইছে। তিনি প্রস্তাব দেন, বিলের খসড়াটি আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।

    বিলের মূল বৈশিষ্ট্য

    বিলের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেছেন, ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত (এফসিসি) গঠনের ধারণা প্রথম আসে ২০০৬ সালের গণতন্ত্র সনদে। সনদটি পিপিপি ও পিএমএল–এন যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছিল। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের বিচারপতি থাকবেন। এটি শুধু সাংবিধানিক বিষয়ে রায় দেবেন, অন্যদিকে বর্তমান উচ্চ আদালতগুলো অন্যান্য মামলা দেখবেন।

    মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী নিয়ে আলাপ–আলোচনার সময় কিছু সদস্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরীক্ষা করা হোক। কিন্তু এসব বেঞ্চ মামলার জট কমাতে পারেনি, কারণ, বিচারপতিরা নিয়মিত মামলায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবে দেখা যায়, আদালতের মোট সময়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ মামলায়।’

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’। সেখানে কিছু নতুন ধারা যোগ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে। ‘এটি একটি উপাধি, কোনো নতুন পদ বা নিয়োগ নয়। সেনাপ্রধানের পদ পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত’, বলেন তিনি।

    এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বর্তমান চেয়ারম্যান অবসর নেওয়ার পর ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি)’ পদটি বিলুপ্ত হবে। এরপর কোনো নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে না। সেনাপ্রধানই প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    নতুন বিল অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ করবেন।

    বিল থেকে পড়ে শোনাতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেন, ‘যদি কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স বা অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট (পাঁচ তারকা পদ) পদে উন্নীত করে, তবে ওই কর্মকর্তা আজীবন এ পদ ও সুবিধা পাবেন এবং ইউনিফর্ম পরিধান করবেন।’

    মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রের স্বার্থে এমন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সরকার নির্ধারণ করবে।

    বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ২৪৮ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে প্রেসিডেন্টকে আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে গভর্নরদের ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা থাকবে শুধু তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর দুজনই শুধু মেয়াদকালে এমন সুরক্ষা পান।

    নাজির তারার আরও জানান, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সাংবিধানিক সীমা সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যার ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’

    মজলিস-ই-ওয়াহদাত–ই–মুসলিমিনের সিনেটর ও পিটিআই–মনোনীত বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এত বড় সংশোধনী এত তাড়াহুড়া করে আনা হচ্ছে কেন?

    আব্বাস বিলটিকে ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানান। তাঁর দাবি, বর্তমান আইনসভা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়, বরং ‘ফর্ম ৪৭–এর ফসল’। অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির ইঙ্গিত দেন তিনি। আরও বলেন, এ সংশোধনীগুলো বিচারব্যবস্থাকে ‘নিষ্ক্রিয় করার’ জন্য আনা হয়েছে।

    আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের ইচ্ছায় করা এ সংশোধনীর নাটক আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কিন্তু যাঁরা চরম দারিদ্র্যে বাস করছেন, তাঁদের জীবনের উন্নতির জন্য কোনো সংশোধনী আনা হয়েছে কি?’

    জেইউআই-এফ নেতা সিনেটর কামরান মুরতাজা বলেন, ‘মাত্র ১৩ মাস আগে পাস হওয়া ২৬তম সংশোধনী কার্যত এখন বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।’

    পিপিপি নেতা সিনেটর শেরি রেহমান বলেন, ‘যদি কেন্দ্র এখন ব্যয়ভার সামলাতে না পারে, তবে আমরা সবাই বসে দেখি, কোথায় অপচয় হচ্ছে; কিন্তু প্রদেশগুলোর বাজেট কেটে নয়।’

    এদিকে, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির প্রধান সিনেটর আইমাল ওয়ালি খান বলেন, তার দল জনগণের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবে।

    ওয়ালি খান বলেন, আইন প্রণয়ন করা সরকারের এখতিয়ার এবং বিরোধীদলগুলোকে আইনসভার কমিটিতে যোগ দিয়ে বিলের বিষয়ে ‘গঠনমূলক মতামত’ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

  • ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার অংশীদার দেশগুলোর কাছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে।

    যার মধ্যে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ওয়াশিংটনের মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্য ও কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদার দেশের সঙ্গে একটি খসড়ার কপি দিয়েছেন ।

    যুক্তরাষ্ট্র মিশনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, এই খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে মিসর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিদেরকেও খসড়ার কপি দেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা পরিষদের চলমান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক মহলে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমঝোতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন মিশনের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্যকে খসড়াটির কপি দিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদারও রয়েছে, যেমন— মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্ক।

    খসড়াটিতে ভোটের জন্য কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

    মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রস্তাবটি ‘শান্তি বোর্ডকে স্বাগত জানায়।’

    এটি শান্তি পরিকল্পনায় বর্ণিত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-কেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    কূটনৈতিক সূত্র অনুসারে, বেশ ক’টি দেশ আইএসএফ-এ অংশগ্রহণের জন্য তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের আগে নিরাপত্তা পরিষদের আদেশের ওপর জোর দিয়েছে।

    মার্কিন মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও জাতিসংঘে ফলাফল প্রদান করবে এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে না।

    আন্তর্জাতিক বাহিনী তৈরি করা চুক্তির একটি অংশ ছিল যা ৭ অক্টোবরের হামলার ফলে সৃষ্ট দুই বছরের ভয়াবহ সহিংসতার পর ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

  • বিটকয়েনের বাজারে বড় ধস

    বিটকয়েনের বাজারে বড় ধস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    বিশ্বের শীর্ষ ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন (Bitcoin) বুধবার (৫ নভেম্বর) এক ধাক্কায় ৬ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে। জুনের পর এই প্রথমবার ১ লাখ ডলারের নিচে নেমে গেছে এর দাম।বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝোঁক এই পতনের মূল কারণ।

    বিটকয়েনের দাম কোথায় দাঁড়িয়েছে

    গত কয়েক দিনে পতনের পর বিটকয়েনের দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লক্ষ ১ হাজার ৮২২ ডলারে। বুধবার সেই পর্যায় থেকে ৩.৭ শতাংশ পতনের জেরে প্রতি বিটকয়নের দাম হয় ৯৯ হাজার ১০ ডলার। এই পতনের জেরে বাংলাদেশি মুদ্রায় বিটকয়েনের দাম হয়েছে প্রায় ১২১ লাখ টাকা।

    কীভাবে বাড়ল, আবার কমল বিটকয়েনের দাম

    এ বছরের শুরু থেকেই বিটকয়েনের দামে রেকর্ড অঙ্কের উত্থান হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকেই বিটকয়েন-সহ একাধিক ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির জেরে অক্টোবর মাসে বিটকয়েনের দাম পৌঁছেছিল ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৮৬ ডলারে। সেই পর্যায় থেকে প্রায় ২০ শতাংশ দাম কমেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সির।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ নির্বাহীরা সম্ভাব্য বাজার সংশোধনের (মার্কেট কারেকশন) ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই এই পতন। বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টো ও প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে বিটকয়েনের পাশাপাশি অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদের দামও দ্রুত নিচে নামছে।

    বিটকয়েনের এই পতনে গত কয়েক মাসের অর্জিত বেশিরভাগ লাভ প্রায় শেষের পথে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি-সম্পর্কিত বিনিয়োগের উত্সাহে সাম্প্রতিক সময়ে যে উর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন থেমে গেছে।

    বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারে প্রভাব

    নিরাপদ সম্পদের দিকে বৈশ্বিক ঝোঁকের কারণে মার্কিন ডলার ইউরোর বিপরীতে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ট্রেজারি বন্ডের আয় কমেছে। ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ৪.০৮৭%-এ নেমে গেছে। ইউরো টানা পঞ্চম দিনে কমে ১.১৪৮ এ নেমে গেছে। যা আগস্ট ১ তারিখের পর সর্বনিম্ন। ব্রিটিশ পাউন্ডও ০.৭২% কমে ১.৩০ ডলারে নেমেছে।

    ক্রিপ্টোর পতনের প্রভাব তেলবাজারেও

    ক্রিপ্টোর পতনের ধাক্কা লেগেছে তেল বাজারেও। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পণ্যের দামেও প্রভাব পড়েছে। মার্কিন ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ৪৯ সেন্ট কমে ৬০.৫৬ ডলারে নেমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ৪৫ সেন্ট কমে ৬৪.৪৪ ডলারে নেমেছে।

  • উ.কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মারা গেছেন

    উ.কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মারা গেছেন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইয়ং নাম মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে না রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

    সিউল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, কিম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রেসিডিয়ামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় তাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতীকী ভূমিকা প্রদানে নিযুক্ত করা হয়। তবে, আসল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছিল নেতা কিম জং ইল ও, তার ছেলে কিম জং উনের হাতে। কিম জং ইল ২০১১ সালে মারা যান।

    কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন তার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে তার শবযাত্রায় যান। সরকারি কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, কিম ইয়ং নামের একাধিক অর্গান অকেজো হয়ে তিনি মারা যান।

    একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিম জং উন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে, মৃত কিং ইযং ন্যামের কাচের কফিনে শায়িত অবস্থায় তার শবযাত্রার সামনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ২০১৮ সালে, কিম ইয়ং ন্যাম দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

    তিনি ওই সফরে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিলেও দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম ব্যা জানায়, কিম ইয়ং ন্যাম দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় কিম জং উনের বোন কিম ইয়ং জংকে সম্মানের আসন প্রদান করেছিলেন।

    এই পদক্ষেপের ফলে জল্পনা শুরু হয় যে, কিম ইয়ং নাম কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে উত্তর কোরিয়ার নির্মূল-প্রবণ রাজনৈতিক দৃশ্যে অবস্থান ধরে রেখেছেন। সিউলের একত্রিকরণ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়টি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সিউলের সম্পর্ক পরিচালনা করে থাকে।

    মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং বলেন, ২০০৫ ও ২০১৮ সালে পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির বিষয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা করেছিলেন। চুং আরো বলেন, ২০১৮ সালে পিয়ংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য কিমের দক্ষিণে সফর ‘আন্তঃকোরীয় সংলাপের দরজা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে’ অবদান রেখেছিল।

  • ট্রাম্পের চেয়ে বড় অপরাধী দেখিনি : হ্যারিসন ফোর্ড

    ট্রাম্পের চেয়ে বড় অপরাধী দেখিনি : হ্যারিসন ফোর্ড

    বিনোদন ডেস্ক: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে অবহেলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিরস্কার করেছেন মার্কিন অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড। বলেছেন, ‘আমি ইতিহাসে ট্রাম্পের চেয়ে বড় অপরাধী দেখিনি; তার আচরণ আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।’ শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামে পরিবেশ সুরক্ষা পুরস্কার গ্রহণের আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিসন ফোর্ড বলেন, ট্রাম্প অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন এবং আগের সরকারের পরিবেশনীতি ধ্বংস করে দিয়েছেন।

    ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ খ্যাত বর্ষিয়ান এই মার্কিন অভিনেতা বলেন, ‘ট্রাম্পের কোনো নীতি নেই; তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো চলেন, আর সেটাই আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়। অজ্ঞতা, অহংকার, মিথ্যা, বিশ্বাসঘাতকতা-সব মিলিয়ে তিনি জানেন যে, তিনি কেবল বর্তমান ব্যবস্থার এক হাতিয়ার, যে শুধু টাকাই কামাচ্ছে, অথচ পৃথিবীকে ধীরে ধীরে নরকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি ইতিহাসে তার চেয়ে বড় অপরাধী দেখিনি।’ ‘স্টার ওয়ার্স’ ও ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’-খ্যাত এই অভিনেতা ট্রাম্পের সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘তিনি নিজের অবস্থান হারাচ্ছেন, কারণ যা বলেন সবই মিথ্যা। আমি নিশ্চিত, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে পারব-যদি আমাদের আচরণ বদলাই, নতুন প্রযুক্তি উন্নয়ন করি এবং বাস্তব পদক্ষেপ নিই। তবে এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নতুন সমাধান খোঁজার মানসিকতা দরকার।’

    ৮৩ বছর বয়সি এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমি এখন অনেক কিছুতেই আমেরিকা নিয়ে হতাশ। ট্রাম্প আমাদের চার বছরের জন্য একে অপরের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন, অথচ বিশ্বের একনায়ক আর স্বৈরশাসকদের বুকে টেনে নিয়েছেন। আমাদের ‘আমেরিকাকে আবার মহান’ করার দরকার নেই; আমাদের দরকার আবার একসঙ্গে কাজ করা। আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন যে আমাদের সকলের জন্য আবার কাজ করবে।’ গত মাসে জাতিসংঘে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারণা। এই সবুজ প্রতারণা থেকে যদি বের না হন, তাহলে আপনার দেশ ধ্বংস হবে। আবার শক্তিশালী হতে চাইলে, শক্ত সীমান্ত ও ঐতিহ্যবাহী জ্বালানি উৎসে ফিরতে হবে।’ ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্বচ্ছ জলবায়ু সুরক্ষা নীতিমালা বাতিল করেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্প স্থগিত করেছেন এবং তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন- যা পৃথিবীকে আরও দ্রুত উষ্ণ করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ১৫০ বার পৃথিবীকে উড়িয়ে দেওয়ার মতো পারমানবিক আছে

    যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ১৫০ বার পৃথিবীকে উড়িয়ে দেওয়ার মতো পারমানবিক আছে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র আছে, যা দিয়ে পৃথিবীকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    সিএবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই দাবি করেন।

    রাশিয়া ও চীনও গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। যদিও দেশ দুটি তা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

    সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়, ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়া একমাত্র দেশ নয় যারা পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। রাশিয়া ও চীনও তা করছে, কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু বলছে না। রোববার সিএবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া পরীক্ষা চালাচ্ছে, চীনও চালাচ্ছে- কিন্তু তারা এসব নিয়ে কিছু বলে না।”

    সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা নোরা ও’ডনেল তাকে বলেন, বর্তমানে কেবল উত্তর কোরিয়াই পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করছে। তখনই ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করে এই দাবি করেন। মূলত কয়েকদিন আগেই ৩০ বছরের বেশি সময় পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “অন্য দেশগুলো পরীক্ষা চালাচ্ছে। আমরাই একমাত্র দেশ যারা এই পরীক্ষা করি না। আমি চাই না যে আমরা একমাত্র দেশ হয়ে থাকি যারা পরীক্ষা চালায় না। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তা পরীক্ষা না করা বাস্তবসম্মত নয়। ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, “আপনি অস্ত্র বানালেন, কিন্তু পরীক্ষা করলেন না- তাহলে জানবেন কীভাবে এটা কাজ করে কিনা?”

    যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

    তিনি বলেন, “আমাদের কাছে বিশাল পারমাণবিক শক্তি আছে- যা আর কোনো দেশের নেই। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, আর চীন অনেক পিছিয়ে। তবে পাঁচ বছরের মধ্যে তারা সমান পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আমাদের পর্যাপ্ত পারমাণবিক অস্ত্র আছে, যা পৃথিবীকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়ার মতো। রাশিয়ারও অনেক আছে, আর চীনও দ্রুত এগোচ্ছে।”