Category: আন্তর্জাতিক

  • শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

    শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

    অন্তর্জাতিক ডেস্ক:  শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

    ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল জয়পুরা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) দূরে। এর গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার।হাওয়াইয়ের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।

    ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) ১৬ কিলোমিটার গভীরে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি রেকর্ড করেছে।সংস্থার ভূমিকম্প ও সুনামির পরিচালক দারিওনো এক বিবৃতিতে বলেন, এখনো কোনো আফটারশক রেকর্ড করা হয়নি।বিশাল দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থানের কারণে প্রায়ই দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।

  • প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার  নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদায় স্বর্ণের দামে রেকর্ড

    প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদায় স্বর্ণের দামে রেকর্ড

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার অতিক্রম করেছে।স্পট গোল্ড বুধবার গ্রিনউইচ মান সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ১.৫% বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২০৩.৭৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে এক পর্যায়ে দাম বেড়ে ৪,২১৭.৯৫ ডলারের রেকর্ড ছোঁয়। ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ১.৪% বেড়ে ৪,২২০.২০ ডলারে লেনদেন হয়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৫৮% বেড়েছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন— মার্কিন সুদহার কমার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি স্বর্ণ ক্রয়, ডলারের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের প্রবণতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।

    অ্যাকটিভট্রেডস বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘মার্কিন সরকারে চলমান অচলাবস্থা, ফেড কর্মকর্তাদের নরম মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে পারে। মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ৫,০০০ ডলার পৌঁছানো অসম্ভব নয়।’বুধবার ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মন্তব্যের পর ডলারের মান কমে যায়, যা বাজারে আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমানোর প্রত্যাশা জোরদার করেছে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে কিছু বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অচলাবস্থার কারণে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকেরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

    স্বর্ণ সাধারণত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয়। বিশ্লেষক সোনি কুমারির মতে, ‘স্বর্ণের বুলিশ প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।’প্রযুক্তিগতভাবে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (আরএসআই) ৮৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— বাজার বর্তমানে ‘ওভারবট’ অবস্থায় রয়েছে।

    অন্যদিকে, রুপার দাম ২.৩% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫২.৬৪ ডলার হয়েছে, যা মঙ্গলবারের ৫৩.৬০ ডলারের রেকর্ডের কাছাকাছি। প্লাটিনাম ১.২% বেড়ে ১,৬৫৭.০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৭% বেড়ে ১,৫৫১.১৮ ডলারে লেনদেন হয়।

  • রাজস্থানে চলন্ত বাসে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু

    রাজস্থানে চলন্ত বাসে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজস্থানে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যের জয়সালমীর থেকে যোধপুরগামী ওই বাসটি মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে।

    স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ৫৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি জয়সালমীর থেকে যোধপুরের পথে রওনা হয়। পথে হাইওয়েতে হঠাৎ বাসের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক দ্রুত বাস থামালেও মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগে কেনা হয়েছিল। আগুন লাগার পর কিছু যাত্রী বের হতে পারলেও বেশিরভাগই আগুনের তাপে আটকা পড়ে মারা যান।

    গুরুতর দগ্ধ ১৫ জনকে প্রথমে জয়সালমীরের জওহর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের যোধপুরে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য পুলিশ গ্রিন করিডর তৈরি করে আটটি অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের যোধপুরে পাঠায়।

    দুর্ঘটনার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জয়সালমীর জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিং জানান, “বাসটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে, এমনভাবে দেহগুলো পুড়েছে যে অনেকের পরিচয় চেনা সম্ভব হচ্ছে না।” যোধপুর থেকে ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার মতোই একই পদ্ধতিতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে, তারপর তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

  • সীমান্ত সংঘর্ষে ২৩ পাক সেনা ও ২০০ তালেবান যোদ্ধা নিহত

    সীমান্ত সংঘর্ষে ২৩ পাক সেনা ও ২০০ তালেবান যোদ্ধা নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অভিযানে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও তাদের মিত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।  এছাড়া এই অভিযানে ২৩ জন পাক সেনাও নিহত হয়েছেন।  খবর সামাটিভির। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়া। তবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘সময়োপযোগী ও দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়ে হামলাটি প্রতিহত করেছে এবং তাদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তপারের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল একাধিক তালেবান পোস্ট, ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র।  এসব অভিযানে আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা ২১টি ঘাঁটি দখল করে ধ্বংস করা হয়েছে।  এতে  ২০০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, চলমান অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থিত সব সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, তালেবান সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়, যদি তারা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নির্মূল না করে, তবে পাকিস্তান আরও বেশি পালটা হামলা চালাবে। আইএসপিআর দাবি করেছে, এই হামলা ‘তালেবান সরকার ও ভারতের যোগসাজশে চালানো হয়েছে’।

    মুখপাত্র বলেন, ‘এই উসকানিমূলক ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূ  হামলা যখন হয় তখন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সফরে ছিলেন।’পাকিস্তান সরকার কাবুলের কাছে দাবি জানিয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি চায়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’

  • ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ইসরাইলের পার্লামেন্টে হট্টগোল

    ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ইসরাইলের পার্লামেন্টে হট্টগোল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেওয়ার সময় ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে হট্টগোল বেধে যায়। এতে বাধাগ্রস্ত হয় ট্রাম্পের ভাষণ। কিছুক্ষণ থেমেও থাকে। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র।টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি সাইনবোর্ড ধরে রাখেন হাদাশ-তা’আল পার্টির চেয়ারম্যান আয়মান ওদেহ। পরে তাকে নেসেট থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    বিবিসির খবরে বলা হয়, ওদেহ হাতে ব্যানার উঁচিয়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ তার দিকে ছুটে যান। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, তার সঙ্গে পার্লামেন্ট সদস্য ওফের কাসিফকেও বের করা হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার সময় বলেন, ‘কাজটা খুব দক্ষতার সঙ্গে হয়েছে।’নেসেটে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আজ একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ‘ঐতিহাসিক ভোর’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাকে ‘অসাধারণ সাহসী একজন মানুষ’ বলে অভিহিত করেন।

    এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যদের অনেকে নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। ট্রাম্প তখন বলেন, এখন ইসরায়েলের ‘স্বর্ণযুগ আসবে’ এবং এটি সমগ্র অঞ্চলের জন্যও ‘স্বর্ণযুগ’ হবে।

  • গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

    গাজায় ইসরাইলের গুলিবর্ষণ বন্ধ, বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শুক্রবার গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের বিধ্বস্ত ঘর-বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে, গাজা নগর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষের ফিরে আসার ঢল নেমেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    দুই বছরের নৃশংস যুদ্ধের পর গাজায় ইসরাইলের অবশিষ্ট জিম্মিদের পরিবারগুলোও আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় সই হওয়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। ট্রাম্প নিজেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘বহাল থাকবে’, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরাইল এবং হামাস ‘যুদ্ধে ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য’ তারা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (০৯০০ জিএমটি) গুলিবর্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন ঘন্টা পর, পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ ইসরাইল সম্পন্ন করেছে। ইসরাইলি বাহিনী এখনও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ দখলে রেখেছে।

    এই প্রত্যাহারের ফলে হামাসের জন্য একটি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হলো, যার মধ্যে তাদের গাজায় আটক থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। এদিকে, ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর তালিকা প্রকাশ করেছে যাদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাস ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে সর্বশেষ সংঘাত শুরু করার পর থেকে আটক ১ হাজার ৭শ’ জনকে মুক্তি দিবে।

    যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর, ফিলিস্তিনিরা, যারা দুই বছর ধরে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং জাতিসংঘের সতর্কতা  অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, খান ইউনিস থেকে তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার শুরু করেছে। ইতালি জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ অক্টোবর একটি পথচারী ক্রসিং পুনরায় চালু করবে।

    যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে, হামাস দুই বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলায় অপহৃত ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে ৪৭ জন জীবিত এবং মৃতকে হস্তান্তর করবে। ২০১৪ সাল থেকে গাজায় আটক এক জিম্মির মরদেহও ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

    ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সোমবার মিশরের এক সভায় ‘অনেক নেতা’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক শান্তির দিকে নিয়ে যাবে।