Category: আন্তর্জাতিক

  • পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    পাহাড় ধস ও বৃষ্টিতে সিকিম ও দার্জিলিং বিপর্যস্ত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ধসের কারণে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে সিকিম রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়েছিলেন, অনেকে এখন এলাকায় আটকে পড়েছেন।

    দার্জিলিংয়ের মিরিক ও সুখিয়াপোখরির মতো পাহাড়ি এলাকায় একাধিক স্থানে ধস নেমে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে, তবে টানা বৃষ্টির কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ ও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

    পাহাড় ধসে দার্জিলিং-সিলিগুড়ি মহাসড়ক এবং সিকিমের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষভাবে মিরিক ও দুধিয়া অঞ্চলের মধ্যে লোহার সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং আরেকটি সেতুর ক্ষয়ক্ষতির কারণে সিকিম ও কালিম্পং জেলার প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষের প্রাণহানি, সম্পত্তি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ঘটেছে। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য জরুরি সহায়তা হটলাইন চালু করেছে।

    গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দার্জিলিংয়ের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র যেমন টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ সব পর্যটন স্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিখ্যাত ‘টয় ট্রেন’ সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, সিলিগুড়ি ও কোচবিহারেও ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বেই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল। সিকিমে দুই দফা রেড ওয়ার্নিং জারি করা হয়েছে। বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে।

    পরিবেশগত কারণে হঠাৎ বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ভিডিওতে দেখা গেছে, সেতু ভেঙে গেছে, রাস্তা ভেসে গেছে এবং নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও একই আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে গত ৩৬ ঘণ্টায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “দার্জিলিংয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্র সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।” রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দার্জিলিং সফরে যাচ্ছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিরিক, সার্সালি ও মিরিক বাস্টি এলাকার ধসে অন্তত সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, দুজন এখনও নিখোঁজ। ত্রিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ধসের কারণে প্রধান সড়কগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।

  • ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর

    ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর

     আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সদস্য এরসিন সেলিক জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রশাসন গ্রেটা থুনবার্গের চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ইসরাইলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করেছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার এবং জল দেওয়া হয়নি৷ নাৎসিদের মতো আচরণ করেছে জায়নবাদীরা৷ বিধ্বস্ত গ্রেটাকে টানতে টানতে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ যেহেতু আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেটা সবচেয়ে পরিচিত মুখ, তাই তাকে টার্গেট করে হেনস্তা করেছে ইসরাইল।

    গ্রেটা এবং তার সঙ্গীদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার সহস্রগুণ বেশি অত্যাচার প্রতিদিন, প্রতিবেলায় সহ্য করতে হয় ফিলিস্তিনিদের৷ বছরের পর বছর। মাসের পর মাস৷ দশকের পর দশক। ইসরাইল এমনই এক রাষ্ট্র।

    বছর দুয়েক আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারার ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা এবং অফিস ম্যানেজার জিপি নাভোন ইসরাইলের সেনাবাহিনীর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের হত্যা না করে বাঁচিয়ে রেখে বাড়ি বাড়ি ঢুকে অত্যাচার করা হোক। আটক ফিলিস্তিনিদের জিভ যেন না কেটে ফেলা হয়। কারণ ইসরাইলিরা তাদের আর্তনাদ উপভোগ করতে চান। আটক আরবদের কান এবং চোখ যেন আস্ত রাখা হোক, যাতে তারা দেখতে এবং শুনতে পান তাদের নির্যাতিত হতে দেখে ইসরাইলিদের উল্লাস।

    গ্রেটার হেনস্তার কথা বলা জরুরি, কারণ ইসরাইল একজন আর্ন্তজাতিক সেলিব্রিটিকেও রেয়াত করে না। যারা দিনের পর দিন খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষারত নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে খুন করে, হাসপাতালে বোমা ফেলে, চিকিৎসকদের নির্যাতন করে হত্যা করে, হাজারে হাজারে শিশুকে গুলিতে, বোমায় এবং অনাহারে হত্যা করে, যারা জেলখানায় বন্দি ফিলিস্তিনিদের উপর কুকুর লেলিয়ে দেয়, তারা যে গ্রেটা থুনবার্গকেও হেনস্তা করবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

    ইসরাইলের এমন বিকৃত উল্লাস ২০২৩ সালে শুরু হয়নি। বছরের পর বছর এমন বিকৃত উল্লাসের দৃশ্য গোটা পৃথিবী দেখেছে। ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র জনতার ওপর যখন বোমা পড়ছে, রকেট বৃষ্টি হচ্ছে, ঝলসে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুর দল, সেই অপরূপ মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য তখন উঁচু পার্বত্য এলাকায় ইসরাইলিদের ভিড়। সোফায় বসে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার এবং পানীয় নিয়ে তারা ‘উপভোগ’ করছেন মারণ উৎসব। আন্তর্জাতিক মিডিয়া তখনই এই বীভৎসতার খবর করেছে। আমরা অনেকে হয়তো দেখিনি। আমাদের চোখ খুলতে এক লাখ মানুষকে মরে যেতে হয়।

    অনেকে বলার চেষ্টা করেন এই তথাকথিত ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। হামাসের আক্রমণের মাধ্যমে। মিথ্যে কথা৷ এই সংঘাত শুরু হয়েছে ১৯৪৮ সালে। ফিলিস্তিনিদের নিজভূমে পরবাসী করে, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ‘৪৮ সালের সেই প্রথম ‘নকবা’ থেকেই শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই লড়াই চলছে। আগামীতেও চলবে। একজন ফিলিস্তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এই স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হবে না।

    এই মুক্তিযুদ্ধে কখনও ছায়া দিয়েছে আরাফতের পিএলও বা ফাতাহ্, কখনও হামাস। কোথাও কমিউনিস্ট পিএফএলপি। কোথাও মাওবাদীদের ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। কোথাও পিপিপি বা অন্য কেউ। জেনিন, নাবলুস, গাজায় অসংখ্য তরুণ কোনো মতাদর্শের তোয়াক্কা না করেই স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়তে হাতে তুলে নিয়েছেন বন্দুক বা পাথর। দশকের পর দশক ফিলিস্তিনকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ইসরাইল এখনও সেই যুদ্ধে জিততে পারেনি।

    বছরের পর বছর ঝাঁকে ঝাঁকে ফিলিস্তিনকে খুন করেছে ইসরাইল। খুব আগের কথা যদি বাদও দিই, কেবল ২০১৮ সালে ২৯৯ জন খুন হয়েছেন। ২০১৯ সালে ১৩৩ জন। ২০২১ সালে ৩১৩ জন। ২০২২ সালে ২০৪ জন। শয়ে শয়ে খুন। বছরের পর বছর। মৃতদের মধ্যে অসংখ্য শিশু। কাজেই ফিলিস্তিনিরা নয়, যুদ্ধের নামে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করেছে ইসরাইল। ক্ষুদিরাম বসু বা ভগৎ সিং যেমন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেননি। তাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী নিপীড়ন চাপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। তারা প্রতিরোধ করেছিলেন। মার খেতে খেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভারতবাসীর হয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন। অসম যুদ্ধে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও লড়ে গিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামীরাও তাই করছেন।

    এই অসম যুদ্ধ শুধু ফিলিস্তিনের নয়। গোটা বিশ্বের আপামর মুক্তিকামী জনতার। ফিলিস্তিনই আজকের ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামে যখন বৃষ্টির মতো নাপাম বোমা পড়ছিল, তখন লন্ডন, প্যারিস, নিউইয়র্ক, বার্লিন, কলকাতা ভেসে গিয়েছিল যুদ্ধবিরোধী জনস্রোতে। বহু দশক পরে আজ সেই একই দৃশ্য দেখছে পৃথিবী। ইতালির শ্রমিকরা ধর্মঘটে গোটা দেশ স্তব্ধ করে সংহতি জানাচ্ছেন ‘উন্মুক্ত কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ পরিণত হওয়া গাজাকে। এথেন্সের শ্রমিক ও ছাত্ররা বন্দর অবরোধ করে বলছেন, ইসরাইলে যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো যাবে না। লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে জনজোয়ার। বার্লিনে পুলিশের বীভৎস নির্যাতনের মুখে লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নামছেন৷ ফ্রান্সে ব্যারিকেড ফাইট হচ্ছে। জনস্রোতে ভেসে যাচ্ছে ব্রাসেলস থেকে ব্রাজিল, কিউবা থেকে কলম্বিয়া, মেক্সিকো থেকে মিলান।

    ফিলিস্তিনের লড়াই কেবল মুসলমানের নয়। এই লড়াই মজলুম জনতার। পৃথিবীর সব নিপীড়িত মানুষের। মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু, ইহুদি, বৌদ্ধ- সকলের। ফিলিস্তিনি গেরিলাদের পপুলার ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ হাবাস নিজে ছিলেন একজন খ্রিস্টান৷ জেরুজালেমের যে আস্তাবলে যিশুর জন্ম হয়েছিল বলে মনে করা হয়, সেখানে এখন একটি চার্চ আছে। সেই চার্চের ভিতরে একটি সুড়ঙ্গ। প্রতি বছর বড়দিনে সেই সুড়ঙ্গের মুখে একটি তারা আলো দিয়ে সাজানো হয়। মনে করা হয়, এই সুড়ঙ্গের পাশেই ছিল সেই প্রাচীন আস্তাবল, দুই হাজার বছর আগে যেখানে মা মেরির কোল আলো করে জন্মেছিলেন যিশু। গত দুই বছর বড়দিনে ওই চার্চে কোনো আলো জ্বলেনি। পাদ্রীরা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের শরিক তারাও, তাই গণহত্যার প্রতিবাদে আলো জ্বলবে না চার্চে। এই লড়াই ইহুদিদেরও। লন্ডনে আমি মিছিলে হাঁটি জায়নবাদ বিরোধী ইহুদিদের সঙ্গে। মিছিলে হাঁটি হিটলারের হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে জীবন কাটানো ইহুদি বাপমায়ের সন্তানদের সঙ্গে। তাদের হাতে থাকে প্যালেস্টাইনের পতাকা। গোটা পৃথিবীতে জায়নবাদবিরোধী ইহুদিরা পথে নামছেন ফিলিস্তিনের পক্ষে, গণহত্যার বিরুদ্ধে। তারা এই সংগ্রামের শরিক।

    ফিলিস্তিন এই সময়ের কষ্টিপাথর। গোটা পৃথিবী আড়াআড়ি দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে। হয় গণহত্যার বিরুদ্ধে, অথবা পক্ষে। মাঝামাঝি কিছু নেই৷ এই কষ্টিপাথর মানুষ চেনার আমোঘ হাতিয়ার। আমি যে মতাদর্শের কথাই বলি না কেন, আমার হাতে যে রঙের নিশানই থাকুক, আমি কি ফিলিস্তিনের পক্ষে? আমি কি গণহত্যার বিরুদ্ধে? এই চেয়ে জরুরি রাজনৈতিক প্রশ্ন আর কিছু নেই।

  • ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় নিহত অন্তত ৭০, ট্রাম্পের আহ্বানও উপেক্ষিত

    ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় নিহত অন্তত ৭০, ট্রাম্পের আহ্বানও উপেক্ষিত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় শনিবার (৪ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের আংশিক সম্মতির পরও ইসরায়েল হামলা বন্ধ করেনি। আল জাজিরা জানিয়েছে, এদিনের হামলায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

    গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন দুর্ভিক্ষকবলিত গাজা সিটির বাসিন্দা। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল গোলাবর্ষণে শহরটির তুফাহ এলাকায় একটি বেসামরিক বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সেই হামলায় ১৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। আশপাশের ভবনগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই বাড়িতে নিহতদের মধ্যে সাত শিশু ছিল। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র দুই মাস, আর সবচেয়ে বড়টির আট বছর।

    এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায়—যা ইসরায়েল নিজেই ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল—সেই বাস্তুচ্যুতদের শিবিরেও হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এতে দুই শিশু নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। যদিও ইসরায়েলি সেনারা দীর্ঘদিন ধরেই গাজার অন্যান্য অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে এই এলাকাতে আশ্রয় নিতে বলেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলই পরিণত হয়েছে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে।

    মধ্য গাজার আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরসহ একাধিক স্থানে এদিন আরও বিমান হামলা চালানো হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারি জানিয়েছেন, গাজার হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল কোনোভাবে চালু থাকলেও তারা আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

    দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এবং তীব্র খাদ্য ও ওষুধ সংকটে গোটা অঞ্চল দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

  • হামাস শান্তিতে রাজি, ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

    হামাস শান্তিতে রাজি, ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, হামাস যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী জিম্মিদের মুক্তি ও আরও কিছু শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণসহ জটিল ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, হামাসের প্রতিক্রিয়ার পর তারা ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ – অর্থাৎ জিম্মি বিনিময় – “তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের”প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সামরিক বাহিনীকে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার বার্তা সংস্থা রয়াটার্স এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।

    বোমাবর্ষণ চলছেই

    ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গাজা সিটির তালাতিনি স্ট্রিটে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ ও আকাশপথে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। রিমাল এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। খান ইউনুসেও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    হামাস এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা পরিকল্পনায় সাড়া দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দি বিনিময়, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন আন্তর্জাতিক প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

    ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে, যাতে জিম্মিদের দ্রুত ও নিরাপদে মুক্ত করা যায়। এটি শুধু গাজার বিষয় নয়, এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনের প্রতীক্ষিত শান্তির সূচনা।”

    নেতানিয়াহুর চাপের মুখে অবস্থান

    দেশের ভেতরে নেতানিয়াহু ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। জিম্মিদের পরিবার ও যুদ্ধক্লান্ত জনসাধারণ দ্রুত যুদ্ধের ইতি টানার আহ্বান জানালেও তার জোটের কট্টর-ডানপন্থীরা গাজায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নেতৃত্বাধীন আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরায়েলের হিসাবে এখনো ৪৮ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।

    গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসেবে, ইসরায়েলের দীর্ঘ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

    জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এবং একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের কার্যক্রমকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহুর সরকার দাবি করছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকারেই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    হামাসের শর্ত

    হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা জিম্মিদের মুক্তি দিতে এবং গাজায় আন্তর্জাতিক সাহায্য ঢ়ুকতে দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি একটি ‘প্রযুক্তিবিদ ও স্বাধীন ব্যক্তিদের’ সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাতে গাজার দায়িত্ব হস্তান্তরেও তারা রাজি। তবে ইসরায়েলের ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার এবং নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নিয়ে এখনও মতানৈক্য রয়ে গেছে।

    এদিকে কাতার জানিয়েছে, তারা মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • সুমুদ ফ্লোটিলায় আটক অ্যাক্টিভিস্টদের নেওয়া হচ্ছে ইসরাইলে

    সুমুদ ফ্লোটিলায় আটক অ্যাক্টিভিস্টদের নেওয়া হচ্ছে ইসরাইলে

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।  এ সময় নৌযানগুলোতে থাকা সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টদের আটক করা হয়। তাদের ইসরাইলের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনী।

    এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে,  ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক অধিকারকর্মীদের ছবি প্রকাশ করেছে।  তাদেরকে ইসরাইলের আসদোদ বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আরও প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাবে— অর্থাৎ ইসরাইলের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে।

    ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ইউরোপে পাঠাতে ‘ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া’ শুরু করা হবে।তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়াতে অনেক সময় লাগবে, সম্ভবত পুরো দিনই লেগে যেতে পারে ।এদিকে, প্রথম দফার কর্মীরা পৌঁছানো শুরু করলেও ইসরাইলি নৌবাহিনী এখনো ফ্লোটিলার বাকি নৌযানগুলো আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বর্তমানে এসব নৌযানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। কারণ, তারা যতই ইসরাইলি জাহাজের কাছাকাছি যাচ্ছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা ততই বাড়ছে। কখনো কখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়ে যায়, আবার কখনো কর্মীরা নিজেরাই মোবাইল ফোন ফেলে দেন, যাতে আটক বা হয়রানি এড়ানো যায়।

    এরইমধ্যে ফিলিস্তিনের গাজার জলসীমায় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি জাহাজ প্রবেশ করেছে। এছাড়া অন্তত ২৩টি ত্রাণবাহী নৌযান গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ ইতোমধ্যে গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে সেটি ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছে কিনা- তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এই নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এই বহরে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও কিছু নৌযান ত্রাণ নিয়ে বহরে যুক্ত হয়। বর্তমানে বহরটিতে ৪০টি বেশি নৌযান রয়েছে।

    এই নৌবহরের ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরাইল। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা। যাত্রাপথে কোনো বাধা না পেলে নৌবহরটির স্থানীয় সময় আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

  • মার্কিনদের ইসরাইলবিরোধী মনোভাব সর্বকালের সর্বোচ্চ

    মার্কিনদের ইসরাইলবিরোধী মনোভাব সর্বকালের সর্বোচ্চ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:      গাজায় ইসরাইলের নির্বিচার হামলার প্রায় দুই বছর পর ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রতি মার্কিনদের সমর্থনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ভোটার এই সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন।মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ মার্কিনি এখন ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি অর্থ ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর এমন জনমত প্রকাশ্যে এলো।এতে আরও বলা হয়, প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার বিরোধিতা করছেন মার্কিন ভোটাররা। তারা সংঘাত দূর করতে ইসরাইলি সরকারের ভূমিকার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

    মার্কিন জনমনে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তুঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের বহু পুরোনো এই সংঘাতে মার্কিনিদের সহানুভূতি এখন ইসরাইলিদের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি। ১৯৯৮ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে জরিপ শুরুর পর এই প্রথম মার্কিনিদের মনে এমন বিপরীত ভাবনা দেখা গেল।প্রতিবেদন অনুসারে—৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মার্কিন ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। সেসময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ছিল ২০ শতাংশ।নতুন জরিপে দেখা গেছে—৩৪ শতাংশ মার্কিনি ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানালেও ৩৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি। এ ছাড়াও, এই জরিপে ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা কারও প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেননি।

    গত ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৩১৩ জন অংশ নিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অধিকাংশ মার্কিন ভোটার ইসরাইলে অতিরিক্ত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধী। প্রতি ১০ ভোটারের ছয়জন বলছেন—ইসরাইলের উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা। এমনকি, সব জিম্মি মুক্তি না পেলেও অথবা হামাসকে নির্মূল করা না গেলেও।প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করছেন, ইসরাইল ইচ্ছা করেই গাজায় বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই মনোভাবের মানুষের সংখ্যা এখন দ্বিগুণ।প্রধান মিত্র ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পূর্ণ সমর্থন দিলেও ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের এমন মনোভাব হয়ত অনেককেই বিস্মিত করছে।