Category: গণমাধ্যম

  • ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ জানালেন তারেক রহমান

    ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ জানালেন তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক:      দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নানা আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও ধৈর্য ও শান্তি বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

    রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সদস্যরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এই দায়িত্ব আজই গ্রহণ করতে হবে, যাতে আমরা শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক ভিতের ওপর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”

    বক্তব্যের শুরুতে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দোয়া ও আল্লাহর রহমতেই তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালে ছাত্র জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকার কথা। তাঁর ভাষায়, এসব লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কথা বলার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়াই তাঁর লক্ষ্য। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে স্বপ্ন একজন মা দেখেন,” বলেন তিনি, যেখানে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।

    মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’, আর আজ আমি বলছি ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

    গণসংবর্ধনার আবহ ছিল আবেগঘন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লাল সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠার পর চারপাশ গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

    বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। তিনি নতুন, স্বৈরাচারমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। বক্তব্য শেষে তিনি মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন রুমিন ফারহানা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন রুমিন ফারহানা

    অনলাইন ডেস্ক:   বহুল আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনেই নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়। দলীয় সূত্রে তখন ধারণা ছিল, শেষ পর্যন্ত এই আসনেই রুমিন ফারহানার নাম আসতে পারে। তবে আসন সমঝোতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি জানায়, আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে তারা নিজস্ব কোনো প্রার্থী দেবে না। একই সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের নাম ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কার্যত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েন রুমিন ফারহানা।

    দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, “দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব।” তিনি আরও জানান, মনোনয়নপত্র কেনার আগেই সম্মানের সঙ্গে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এবং দু’একদিনের মধ্যেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে কোনো সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, “আশা করি সেটা আমার সঙ্গে হবে না।” একই সঙ্গে তিনি এলাকার ভোটারদের প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “আশা করি এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা এখনো আমার সঙ্গে আছে। তারা এর জবাব ভোটের মাধ্যমেই দেবে।”

    এর আগেও এলাকায় এক কর্মসূচিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি যা বলি, আমি তা–ই করি। ভালো হইলে বা মন্দ হইলে, সেটা আমার দায়িত্ব। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা–ই হোক, নির্বাচন করব আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই।”

    এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আসন সমঝোতার মাধ্যমে কোনো শরিক দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার পর যদি বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পরও রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের রাজনীতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

  • অবকাঠামো থেকে জ্বালানি, একনেকে অনুমোদন পেল ২২ বড় উন্নয়ন প্রকল্প

    অবকাঠামো থেকে জ্বালানি, একনেকে অনুমোদন পেল ২২ বড় উন্নয়ন প্রকল্প

    অনলাইন ডেস্ক:    দেশজুড়ে অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে বড় পরিসরের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, একনেক। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন থেকে শুরু করে জলবায়ু সহনশীলতা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১৪টি, সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৩টি প্রকল্পের।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের বড় অংশ আসছে সরকারি তহবিল থেকে। সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে এক হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যুক্ত হবে ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮তম একনেক সভা।

    এবারের একনেক বৈঠকে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্ণফুলী টানেল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন, হিলি স্থলবন্দর থেকে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক উন্নীতকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং ঢাকা কাঁচপুর থেকে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পায়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটন রুটে যান চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় একাধিক প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে একনেক। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন, সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন উদ্যোগ। পাশাপাশি পটুয়াখালী ও সিলেট বিভাগের গ্রামীণ ও স্থানীয় সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে নতুন বিনিয়োগ। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের শিক্ষা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে তালিকায়।

    পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী নদী ও এর সংযুক্ত নদীগুলোর টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরমা কুশিয়ারা অববাহিকা উন্নয়ন প্রকল্প এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

    একনেক সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা উপদেষ্টার নিজস্ব ক্ষমতাবলে এরই মধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও চরাঞ্চলের অভিযোজন উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৩ এর সংশোধিত প্রকল্প।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

  • ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

    ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

    অনলাইন ডেস্ক:    ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।জানা গেছে, ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশর অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়।
    দেশটির ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বান্ধেও এসময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। পরে এই তলবের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়।
    তারা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও প্রণয় ভার্মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
    এ নিয়ে গত ১০ দিনে প্রণয় ভার্মাকে দ্বিতীয়বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত ছয়বার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।
  • মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আসিফ জানান, সরকারে দেড় বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান নির্বাচনি আসনের উন্নয়নে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের টার্গেট করা হচ্ছে এমন তথ্য আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে প্রাচারণা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ধানমন্ডি ১০ আসনে এরই মধ্যে পোস্টার ও নির্বাচনি বুথ বসিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান আসিফ।গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে  অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    এদিকে ঢাকা-১০ আসনে (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।

  • লুটের টাকায় কেনা টিভি-ফ্রিজ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, গ্রেপ্তার বেড়ে ৯

    লুটের টাকায় কেনা টিভি-ফ্রিজ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, গ্রেপ্তার বেড়ে ৯

    অনলাইন ডেস্ক:     রাজধানীতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মামলাও দায়ের হয়েছে, তদন্ত চলছে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পরিচয় যাচাই চলছে।

    ঘটনার পেছনের চিত্র উঠে এসেছে ভিডিও ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও বিশ্লেষণ করে অন্তত ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার ঘটনায়ও তিনজনকে ভিডিওতে শনাক্ত করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে কাশেম ফারুক বগুড়ার আল জামিয়া আল ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসার সাবেক ছাত্র এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমান। শেরপুরের রাকিব হোসেনকে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি থেকে ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করা হয় এবং উসকানিমূলক পোস্টের তথ্যও পাওয়া গেছে।

    তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে লুটের টাকা নিয়ে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কেনেন, যা ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকার একাধিক থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। রবিবার রাত ১২টার পরে প্রথম আলো কার্যালয়ের হেড অব সিকিউরিটি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সাজ্জাদুল কবির বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানাতে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম সেখানে ব্রিফ করবেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।