Category: গণমাধ্যম

  • সাবেক আইজিপি বেনজিরকে ফেরাতে নথিপত্র পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক আইজিপি বেনজিরকে ফেরাতে নথিপত্র পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদকে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সব প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছে।

    আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সম্মাননাপ্রাপ্ত সাহসী ও মেধাবী পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

    বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত গতিতে কাজ করছে। চলতি মাসের ১২ জুন  আবুধাবি (ইউএই) সরকারের ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমাদের এনসিবিকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেফতার করেছে। আমাদের জারি করা রেড নোটিশের মাধ্যমে তারা বেনজীর আহমদকে গ্রেফতার করে। আমি সেদিন বিকেলেই জাতীয় সংসদে জাতিকে অবহিত করেছি। সেখানে বলেছি ই-মেইলে তারা অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে যেন আমাদের সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা ৩০ দিন নয় তার পরের দিনই কাগজপত্র পাঠিয়েছি। ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ অনেক কাগজ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবার আরবিতে অনুবাদ করতে হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ অফিসাররা সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪৪ পাতার কাগজপত্র তৈরির কাজ করেছে। রাত ১০টার সময় সংসদে বসে সেটি আমি সই করেছি। সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনঅফিশিয়াল কপি দিয়েছি। পরদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অফিশিয়ালি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করে। ওইদিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবিতে ট্রান্সলেট করে ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে এবং লোকাল ইউএই অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে।

    আশাকরি ইউএই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

    বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরাতে কাগজপত্র পাঠানোর পর তারা কোনো উত্তর দিয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখনো কিছু পাঠায়নি। তাদের দেশের আইন অনুসারে ফেরত পাঠানোর একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। শুক্র-শনিবার সেই দেশে হলিডে। আজকের দিন গেলে আগামীকাল রোববার অফিশিয়ালি খোঁজ নেব।’

    এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এনসিবি ও ইউএই ফেডারেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের ই-মেইলে অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে কাগজপত্র পাঠাতে। ইউএন চার্টার অনুসারে আমরা কিছু কিছু বিষয়ে স্বাক্ষরিত দেশ। সেখানে তারাও (ইউএই) সই করেছে। ইউএই’র সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) চুক্তি রয়েছে।’

    মন্ত্রী বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

    মন্ত্রী বলেন, আজকের এই স্বীকৃতি সেই অগ্রযাত্রারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমি বিশ্বাস করি, এই সম্মাননা শুধু ১৫ জন সদস্যকে উৎসাহিত করবে না, বরং বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।

  • জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ

    জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পানিনিরাপত্তাকে। নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল খনন এবং বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানি সম্পদ খাতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দের ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে দেশের নদী, সেচব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    প্রতিটি বিভাগে নদী দখলমুক্ত করার উদ্যোগ

    পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    চলমান সাতটি প্রকল্পের আওতায় ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মোগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বড়নাই- এই আটটি নদী থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় প্রতিবেশব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা

    তথ্যনির্ভর শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর জন্য ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (ডব্লিউকিউআই) বা পানির গুণগত মান সূচক প্রণয়ন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে নদীর গুণগত অবস্থা (রিভার হেলথ) আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপ লার্নিংভিত্তিক ভূগর্ভস্থ পানির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়া যাবে, যা পানি সংরক্ষণ ও টেকসই উত্তোলন বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এসব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

    এ উদ্যোগটি আগামী পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও ড্রেনেজ চ্যানেল খননের বৃহত্তর সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত।

    শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৬৮০ কিলোমিটার খাল, সেচখাল ও নিষ্কাশন খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া ‘বাংলাদেশের খাল শনাক্তকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং জিও-ইনফরমেটিক্স ডেটাবেজ উন্নয়ন’ নামে একটি বড় প্রকল্পের আওতায় দেশের সব খালের মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং জিআইএসভিত্তিক খাল নেটওয়ার্ক ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশের জলপথের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তালিকা তৈরি হবে।

    বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নৌপথের উন্নয়ন

    আগামী অর্থবছরে ব্যাপক বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এর আওতায় ৩০৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮৪ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি এবং ডুবোচর অপসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    অন্যদিকে সরকারের চলমান ‘বন্যা সুরক্ষায় ১৮০ দিনের কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ২৯২ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে।

    এসব উদ্যোগ মৌসুমি বন্যার ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পানি প্রবাহ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ

    পানি সম্পদ খাতের বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদ্য অনুমোদিত ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প।

    সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ আগামী জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।

    প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মার পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবনসহ পুরো পদ্মা অববাহিকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে।

    এছাড়া পাঁচটি শাখা ও উপনদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে। ২৮ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া যাবে। বছরে ধান উৎপাদন ২ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মাছ উৎপাদন ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন বাড়বে।

    সরকার আশা করছে, চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার বাসিন্দারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এ প্রকল্পের সুফল পাবেন। এতে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

    তিস্তা পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব

    বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা ও পদ্মা নদীর উজানে নির্মিত বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে কৃষি, সেচ, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে।

    উন্নত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও জীবিকা উন্নত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

    পানিকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা

    প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে পানিনিরাপত্তার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

    নদী দখলমুক্তকরণ, ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং পদ্মা ব্যারাজের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি, কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পরিবেশগত সহনশীলতা জোরদারের একটি সমন্বিত কৌশল তুলে ধরা হয়েছে এ বাজেটে।

  • গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী

    দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার।

    এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।’

    বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলÑ রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’

    তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

    স্বাগত বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ও সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় এবং সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রায় গণমাধ্যম কীভাবে সহযাত্রী ও সহযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রয়োজন। গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সরকার ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এমন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই যা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। এই কমিশনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।‘

    মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

    তথ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর কর্মশালার মূল অধিবেশনে উপদেষ্টার উপস্থাপিত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে উপস্থিত গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে স্ব-স্ব মতামত, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।

  • শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক)-এর মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

    আজ সকালে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    এছাড়া নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন।

    বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান।

    তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।

    জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসক মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।

    এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

  • স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ?

    স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ?

    বর্তমান বিশ্বে অসংখ্য মুসলিম শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা পারিবারিক কারণে অমুসলিম দেশে বসবাস করছেন। কেউ অস্থায়ীভাবে, আবার কেউ স্থায়ীভাবে। এমন বাস্তবতায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কি বৈধ? এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

    ইসলামী শিক্ষার আলোকে দেখা যায়, একজন মুসলিম যেখানেই থাকুক না কেন, তার প্রথম পরিচয় হলো সে আল্লাহর বান্দা এবং ইসলামের একজন প্রতিনিধি। তাই অমুসলিম দেশে বসবাসের প্রশ্নটি শুধু নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টের বিষয় নয়; বরং ইমান, চরিত্র, দাওয়াহ এবং ইসলামি পরিচয় রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

    অমুসলিম দেশে বসবাসের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    অমুসলিম দেশে ব্যবসা করতে যাবেন, কোনো অসুবিধা নেই; চাকরি করতে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই; অস্থায়ীভাবে থাকতে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই; পড়াশোনার জন্য যাবেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু স্থায়ীভাবে যদি কোনো অমুসলিম দেশের পাসপোর্ট নিয়ে থাকতে হয় বা বসবাস করতে হয় তবে তাকে অবশ্যই দাওয়াতের নিয়তে থাকতে হবে। এ ছাড়া অমুসলিম দেশে বসবাস করা বৈধ নয়। কেননা অমুসলিম দেশে বসবাসকারীদের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে কঠোর বাণী ঘোষণা করেছেন—

    أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ

    ‘আমি ঐ মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যারা মুশরিকদের মধ্যে বসবাস করে।’ (আবু দাউদ ২৬৪৫, তিরমিজি ১৬০৪)

    দাওয়াহর দায়িত্ব ও মুসলিম পরিচয়

    অমুসলিম দেশে বা সমাজে বসবাসকারী একজন মুসলিম কেবল একজন সাধারণ নাগরিক নন; তিনি ইসলামের একজন প্রতিনিধি। মুসলিমদের আচরণ, কথা, লেনদেন, সততা ও চরিত্র দেখে অনেক মানুষ ইসলাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

    ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা আন-নাহল: আয়াত ১২৫)

    অতএব, একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো নিজের উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরা। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, অমুসলিম দেশে যদি কোনো মুসলিমত বসবাস করতে চায় তবে তাকে দাওয়াতের নিয়তে থাকতে হবে।

    ইসলামকে উপস্থাপন করার সর্বোত্তম মাধ্যম

    অনেক সময় মানুষ ইসলামের বই পড়ে নয়, বরং মুসলমানদের দেখে ইসলামকে বিচার করে। তাই একজন মুসলিম যদি মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন মানুষ শুধু তাকে নয়, ইসলামের অনুসারীদের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ

    ‘আমি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসনাদে আহমদ ৮৯৫২)

    তাই অমুসলিম সমাজে বসবাসকারী মুসলিমের প্রথম দাওয়াহ হলো তার চরিত্র, সততা ও আমল।

    আগে নিজে ইসলাম মানতে হবে

    মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার আগে নিজেকে ইসলামের শিক্ষার আলোকে গড়ে তোলা জরুরি। নিজের জীবনে নামাজ, সততা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়া প্রতিষ্ঠিত না হলে দাওয়াহর প্রভাবও দুর্বল হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ۝ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা করো না? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।’ (সুরা আস-সাফ: আয়াত ২-৩)

    এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের দাওয়াহ শুরু হয় নিজের জীবন থেকেই।

    একজন মুসলিমের প্রকৃত মিশন

    যেখানেই একজন মুসলিম বসবাস করুক, তার লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং মানুষের কাছে ইসলামের সত্য ও সৌন্দর্য পৌঁছে দেওয়া। এটি কেবল বক্তৃতার মাধ্যমে নয়; বরং সুন্দর ব্যবহার, সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবসেবার মাধ্যমেও সম্ভব।

    অমুসলিম দেশে বসবাসের বিষয়টি ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম আলোচনা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— একজন মুসলিম যেখানেই থাকুক না কেন, তাকে নিজের ইমান, ইবাদত ও ইসলামী পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে উত্তম চরিত্র, সততা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

    মনে রাখতে হবে, একজন মুসলিমের জীবনই ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয়পত্র। তাই আমরা যেন নিজেদের আমল, চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন ।

    তিনি আজ দুপুর ১টা ৩ মিনিটে শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছান ।

    প্রধানমন্ত্রী এর আগে সকাল ৯ টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন।

    আকাশপথে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০টা ২০ মিনিটে এসে পৌঁছানোর পর সিলেট বিভাগের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিলেটের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।

    প্রধানমন্ত্রী এরপর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদ্দেশে সড়কপথে যাত্রা করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌঁছে দুপুর একটায় ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মসূচি শুরু করবেন।

    শ্রীমঙ্গলের কর্মসূচি শেষ করে দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজারের উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।

    সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী দুসাই রিসোর্টে দলের নেতাদের সভায় অংশ নেবেন। এরপর বিকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে সিলেটে রওনা করবেন।

    দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডন থাকার পরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রচাররাভিযানে মৌলভীবাজার এসেছিলেন তিনি। নির্বাচনে  বিএনপি সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জন শেষে সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী সফরে মৌলভীবাজারে এলেন তারেক রহমান।