Category: গণমাধ্যম

  • ই-জুডিসিয়ারি উদ্যোগে বিচারব্যবস্থায় গতি: বাড়ছে স্বচ্ছতা, কমছে ভোগান্তি

    ই-জুডিসিয়ারি উদ্যোগে বিচারব্যবস্থায় গতি: বাড়ছে স্বচ্ছতা, কমছে ভোগান্তি

    দেশের বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কজলিস্ট, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনসহ একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    এসব উদ্যোগের সমন্বয়ে গঠিত ‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্প বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও এখনও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের পথে অনেক দূর যেতে হবে।

    তাদের দাবি, আদালতগুলোতে অডিও-ভিজ্যুয়াল ডিজিটাল রূপান্তরে বিচারব্যবস্থা; সময় ও খরচ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা; অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ; কেস ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা আরও বিস্তৃত হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং মামলা জটও হ্রাস পাবে।

    সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাসস’কে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আইনগতভাবে বিদ্যমান রয়েছে এবং প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের অনলাইনে সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা চালু হলে মামলা নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে।

    হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সশরীরে উপস্থিতি না থাকায় মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়। অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ চালু হলে সেই জটিলতা দূর হবে এবং বিচারকও সময় সাশ্রয় করতে পারবেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতে যদি পূর্ণাঙ্গ অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ডিং ব্যবস্থা চালু করা যায়, তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণ পুরোপুরি রেকর্ড থাকবে। ফলে তা পরবর্তীতে যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমবে। বিচারকের সময় সাক্ষ্য গ্রহণে ব্যয় না হয়ে রায় প্রস্তুতি ও আইনি বিশ্লেষণে ব্যয় করা সম্ভব হবে, যা বিচার মান উন্নত করবে।

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ দিতে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মামলা দায়ের, কেস ট্র্যাকিং, কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণসহ সব কার্যক্রম ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে।

    বর্তমানে দেশের নয়টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল সম্ভব হওয়ায় আইনজীবী, কারা প্রশাসন ও বিচারপ্রার্থীদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। এটি পর্যায়ক্রমে সব জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া দুটি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু হয়েছে, যেখানে পারিবারিক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে নারী ও শিশুদের জন্য বিচারপ্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

    অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইন হওয়ায় এখন মামলার তারিখ ও অবস্থা ঘরে বসেই জানা যাচ্ছে। দেশের সব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

    সেখানে বিচারপ্রার্থীরা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সহজে তথ্য পাচ্ছেন।

    বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জালিয়াতি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন বাসস’কে বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে বিশেষ করে ক্রিমিনাল মামলায় অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ একটি বড় পরিবর্তন এনেছে।

    এতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরা সহজে সাক্ষ্য দিতে পারছেন। এতে মামলার অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ই-বেইলবন্ড ও ই-ফ্যামিলি কোর্ট ব্যবস্থা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তবে অনেক প্রবীণ আইনজীবী এখনও অনলাইন ব্যবস্থায় পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারেননি, যা একটি চ্যালেঞ্জ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-জুডিসিয়ারি কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বিচারপ্রক্রিয়া হবে অনেক দ্রুত। এতে খরচ কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তি অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

  • বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

    বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হতে পারে। তবে সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে ১০ মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সময় লাগবে।

    আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    ব্রিফিংয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি শুরু হতে এ বছরের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে। তবে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে ১০ মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।’

    উপজেলা পরিষদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা খর্ব করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। বরং আইনগতভাবেই একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের জন্য অফিস রাখার মাধ্যমে পরিষদকে খাটো করা হয়েছে বলে মনে করার কারণ নেই।’

    ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সব ধরনের ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার যানবাহনে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ৫টি বিমানবন্দর ও ৪টি রেল স্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও জানান, হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টিসিবির জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম অয়েল এবং ২ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮৪৪ জন এবং ১৪,৩৬৯ জন যোদ্ধার তথ্য এমআইএস-ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত যোদ্ধাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’

    আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়। তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা এটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।’

    মন্ত্রি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার আলোকে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।’

    বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো খাতে ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাম্পিং করে; এ ধরনের অভিযোগও ভিত্তিহীন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ অধিকাংশ পণ্যই আমদানি করে। রপ্তানির মধ্যে প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প, যা কঠোর আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স মেনে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।

    চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তিতেই রয়েছে। তিনি একে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজ করছে সরকার: আহমেদ আযম খান

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজ করছে সরকার: আহমেদ আযম খান

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার।

    তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই অর্জনকে আমরা লালন করি এবং ধারণ করি। এই অর্জনকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

    আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধরে রাখতে এবং জাতির কাছে চিরদিনের জন্যে স্মরণীয় করে রাখার জন্যেই তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

    তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীনতার স্মৃতি সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অফিস না থাকায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সেশনটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রস্তাবনা নেই। তবে চলমান কার্যক্রমগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছি। সেগুলোর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধকে তার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে চাই।’

    তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বীর নিবাস প্রকল্পসহ প্রতিটি সেক্টরে যে দলীয়করণ ও দুর্নীতি হয়েছে, ডিসিরা সে বিষয়ক কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

    ইশরাক হোসেন জানান, বিগত সরকারের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে যাতে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে ।

  • হামের টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু; লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত: জাহেদ উর রহমান

    হামের টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু; লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত: জাহেদ উর রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

    আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আক্রান্ত শিশুরা যখন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে সরকার এই সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

    তিনি আরও জানান, শিশুদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করা হয়েছে।

    জাহেদ উর রহমান জানান, টিকা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইউনিসেফ ও গ্যাভির পক্ষ থেকে আরও ২২ লাখ মিক্সিং সিরিঞ্জ দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

    এর বাইরে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তরগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

    ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে উপদেষ্টা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

    শিক্ষা খাতে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সংকট কাটিয়ে ওঠার তথ্য দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। গত ২ মে তারিখের হিসাব অনুযায়ী, ২ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল মজুত আছে।

    তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম চলমান থাকবে যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।

    বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৮ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং করতে হয়নি। তবে সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে।

    তীব্র গরম পড়লে এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এলএনজি প্রাপ্তিতে সমস্যা হলে কিছুটা লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

  • মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলে হামলা চালানো হবে : হুঁশিয়ারি ইরানের

    মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলে হামলা চালানো হবে : হুঁশিয়ারি ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলে, তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরুদ্ধ জলপথ দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর, ইরানের সামরিক বাহিনী সোমবার এ হুঁশিয়ারি দেয়।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, ‘যে কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে আসে বা এতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে ও হামলা চালানো হবে।’

    তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিরাপত্তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো নিরাপদ যাতায়াত অবশ্যই আমাদের  বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।’