Category: গণমাধ্যম

  • বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ।

    আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দেশের বন্ধ কারখানাগুলো চালুসহ নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

    বৈঠকে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মাজদা অয়েল কোং লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

    অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিটির ১৯তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিবিধ আলোচ্য সূচি হিসেবে এই ক্রয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।

    এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কমিটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডিজেল কেনার সুপারিশ করেছে।

    ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

    আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পন্ড হয়। ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করে দু’দল। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

    মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৩ ওভারে ২১ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন টাইগারদের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। চতুর্থ ওভারের শুরুতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ-হাতি স্পিনার জেডেন লেনক্স। ২টি চারে ১১ বলে ১৬ রান করা সাইফকে শিকার করেন লেনক্স।

    ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথ। তানজিদকে ৬ রানে এবং পারভেজ হোসেন ইমনকে খালি হাতে বিদায় দেন স্মিথ। ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি টাইগাররা।

    সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বৃষ্টিতে প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ থাকে খেলা। ফলে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নির্ধারিত হয়। বৃষ্টির কারনে বন্ধ হবার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান। এসময় অধিনায়ক লিটন দাস ২৫ ও তাওহিদ হৃদয় ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    খেলা পুনরায় শুরু হলে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন লিটন ও হৃদয়। কিন্তু নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিউজিল্যান্ড পেসার জশ ক্লার্কসনের বলে স্মিথকে ক্যাচ দেন লিটন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন টাইগার দলপতি। চতুর্থ উইকেটে ২২ বলে ২৮ রান যোগ করেন লিটন-হৃদয়।

    এরপর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও শামীম হোসেন। কিন্তু ১৯ বলে ২৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। দলীয় ৮৬ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে শামীম ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৮ বলে ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।

    দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক হৃদয়। তার ২৪ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল।

    ২ ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিং পারফরমেন্স করেছেন ক্লার্কসন। এছাড়া স্মিথ ও বেন সিয়ার্স ২টি করে উইকেট নেন।

    জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ পেসার শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পতন হওয়া ৩ উইকেটই নেন শরিফুল। কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারকে ১ রানে এবং টিম রবিনসনকে ২৩ রানে আউট করেন শরিফুল।

    পঞ্চম ওভারে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক নিক কেলিকে ১ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান স্পিনার মাহেদি হাসান। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন তারা।

    ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। তার সাথে ১৫ বলে ১৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফক্সক্রফট।

    শরিফুল ৩ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২০ রানে ১ উইকেট নেন মাহেদি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন জ্যাকবস এবং সিরিজ সেরা হয়েছেন হৃদয়।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর :
    বাংলাদেশ : ১০২/১০, ১৪.২ ওভার (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, ক্লার্কসন ৩/৯)।

    নিউজিল্যান্ড : ১০৪/৪, ১১.৪ ওভার (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, শরিফুল ৩/১৯)।

    ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।

    সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।

    ম্যাচ সেরা : বেভন জ্যাকবস (নিউজিল্যান্ড)।

    সিরিজ সেরা : তাওহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ)।

  • নেত্রকোণায় ভারতীয় ২১ বস্তা জিরাসহ ১ ব্যক্তি আটক

    নেত্রকোণায় ভারতীয় ২১ বস্তা জিরাসহ ১ ব্যক্তি আটক

    জেলার পূর্বধলা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২১ বস্তা ভারতীয় জিরাসহ শাহিন মিয়া (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

    পুলিশ জানায়, আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জারিয়া আনসার ক্যাম্পের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় আনুমানিক ৬০০ কেজি ওজনের ২১ বস্তা ভারতীয় জিরাসহ শাহিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জব্দকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    আটককৃত শাহিন মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সগড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

    পূর্বধলা থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাসস’কে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ এবং আটক আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

    ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

    ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    একই সময়ে তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নতুন করে সংঘাত শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    এই হতাশাজনক পূর্বাভাসটি এসেছে ইরানের তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনের পর, যেখানে বলা হয়েছে যে তেহরান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

    এতে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে বলে তাসনিম জানায়।

    ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যে পরিকল্পনাটি আমাদের পাঠিয়েছে, সেটি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। কারণ, গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।’

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করে, তা ৮ এপ্রিল থেকে স্থগিত রয়েছে। পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা ব্যর্থ হয়।

    শনিবার ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।’

    ফার্স বার্তা সংস্থা তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ‘প্রমাণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি বা চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ নয়।’

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, ‘কূটনীতির পথ নেবে, নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে— এ সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের।’

    তিনি আরও বলেন, ইরান দুই পথের জন্যই প্রস্তুত।

    -‘ভণ্ডামির’ অভিযোগ-
    মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আবার আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জাতিসংঘে ইরানের মিশন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের কথা তুলে ধরে, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ তোলে।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল, গ্যাস ও সারের বড় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

    পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

    ইরানের পার্লামেন্টের ভাইসস্পিকার আলী নিকজাদ বলেন, জলপথ ব্যবস্থাপনার জন্য বিবেচনাধীন খসড়া আইনে আদায়কৃত টোলের ৩০ শতাংশ সামরিক অবকাঠামোতে ব্যয় হবে। বাকিটা ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে’ ব্যবহৃত হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

    এদিকে শনিবার লেবাননে লড়াই অব্যাহত ছিল। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলাদা যুদ্ধবিরতি থাকলেও, ইসরাইল সেখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায়।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের নয়টি গ্রামের জন্য সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতার পর তারা হিজবুল্লাহর বেশ ক’টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, এ সব হামলায় তিন জন নিহত হয়েছেন।

    হিজবুল্লাহ দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা পাল্টা কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।

    -ইরানের অর্থনৈতিক চাপ-
    যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার সময়সীমা ট্রাম্প অতিক্রম করেছেন কি না— ওয়াশিংটনে আইনপ্রণেতারা তা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

    প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের সময়সীমা স্থগিত ছিল। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এ দাবি মানছে না।

    ইরানে যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, তেল রপ্তানি কমেছে ও মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

  • জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

    জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

    জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

    তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং এর জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হবেন, তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই দুর্নীতি পরায়ণতা ও অপেশাদারীত্বের অন্যতম কারণ।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’

    আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

    সম্মেলন উদ্বোধনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানগণ, অন্যান্য উধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনারগণ এবং জেলা প্রশাসকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আসেন।

    এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান।

    ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।

    তিনি বলেন, আর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য পুরোটাই নির্ভর করছে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনপ্রশাসনের যারা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় যে প্রতিফলিত হয় সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন গত ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয় তাহলে কি হতে পারে সেটিও আমরা ১৪, ১৮ বা ২০২৪ সালে দেখেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আপনারা দেখেছেন বাচ্চাদের স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠান।   আপনারা দেখেছেন, বাচ্চাগুলোর কি স্পৃহা মনের মধ্যে, তারা এগিয়ে যেতে চায়। আমার মনে হয় আজকের এই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মেইন স্পৃহা বা মোটো হোক সেই বাচ্চাদের মোটোটা । অর্থাৎ সামনে এগিয়ে যাওয়া। এটাই হোক আজকে আমাদের অনুষ্ঠানের স্পিরিট।’

    এ সময় আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে।

    সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতির অনেকখানি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি এই আড়াই মাসে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহারাজত্ব কায়েম হয়েছিল। রাষ্ট্র ও জনগণকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে ভয়ানক ঋণের ফাঁদে। অপরদিকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোন দেশই রক্ষা পায়নি। বাংলাদেশও এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করছি কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টসের বিষয়টিসহ দেশে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদেরকেও প্রতিমাসে আমরা সম্মানীর ব্যবস্থা করেছি। আপনাদের মাধ্যমে এ কার্যক্রমগুলো শুরু হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করব, আপনারা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। ’

    একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যাতে জনগণ সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল সময়মতো লাভ করতে পারে।

    বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সবাই ওয়াকিবহাল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সময় মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে।

    চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগণ সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এটি এমন একটি পরিসর যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত।’

    তিনি বলেন, এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিয়ামক হিসেবে দেখা প্রয়োজন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর, নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করা প্রয়োজন।

    একইসঙ্গে সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে সেবা প্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার না হয় কিংবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হয় সে ব্যাপারে ডিসিদের কঠোর নজর রাখতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের যে কোন ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেগুলো আপনাদের সক্ষমতার মধ্যেই আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন-দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’

    চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।