Category: গণমাধ্যম

  • ক্রিমিয়ায় ২৯ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত রুশ বিমান, সবাই নিহত

    ক্রিমিয়ায় ২৯ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত রুশ বিমান, সবাই নিহত

    রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ল এএন-২৬ মডেলের একটি রাশিয়ার সেনা বিমান। এতে বিমানটির ছয় ক্রুসহ ২৯ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর তাস নিউজের।

    রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটি ২৯ আরোহী নিয়ে রুটিন মহড়ায় বেরিয়েছিল।

    ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পরই জানা যায়, বিমানটি ক্রিমিয়ার কাছে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়।

    এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি ইউক্রেনের কোনও হামলার শিকার হল রুশ সেনা বিমানটি? যদিও রুশ সেনাবাহিনীর তরফে, সেই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়ার দাবি, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই দুর্ঘটনা। তবে ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো কিছু বলতে পারছে না সেনাবাহিনী।

    সোভিয়েত জমানার এই বিমান মূলত সামরিক সরঞ্জাম এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। স্বল্প থেকে মাঝারি দূরত্বে সামরিক সরঞ্জাম বহনে এবং স্বল্প সংখ্যক যাত্রী বহনে সক্ষম এই বিমান।

    এএন-২৬ মডেলের এই বিমান এর আগেও বেশ কয়েক বার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০২০ সালে ইউক্রেনের খারকিভে ভেঙে পড়েছিল ২৮ জনকে নিয়ে।

    সেই দুর্ঘটনায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। ২০২২ সালে আরও একটি বিমান দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছিল।

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে আমিরাত

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে আমিরাত

    ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সামরিক অভিযানে সহায়তা করবে দেশটি।

    এছাড়া হরমুজ খুলতে সামরিক শক্তি ব্যবহারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সবুজ সংকেত খুঁজছে দেশটি।

    বুধবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। গত ২৮ ফেব্রুয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই ইরান আমিরাতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

    আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশকে মিলে জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। যেই জোট সামরিক উপায়ে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি খুলবে।

    হরমুজকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে কিভাবে মুক্ত করা যায় এবং আমিরাত এতে সামরিকভাবে কি অবদান রাখতে পারে এখন সেটিই দেখছে।

    এ ব্যাপারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রতিবেদনের তথ্যটি অস্বীকার করেনি। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে একটি ব্যাপক বৈশ্বিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর পরপরই হরমুজ বন্ধ করে দেয় তেহরান। এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। হরমুজ সবার জন্য উন্মুক্ত না থাকায় এখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সংকট তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • তরমুজে লবণ ছিটালে কী হয়!

    তরমুজে লবণ ছিটালে কী হয়!

    চলছে গ্রীষ্মকাল। শুরু হয়েছে ফলের ভরা মৌসুম। বাজারে এসেছে তরমুজ। তাজা তরমুজ খেতে কার না ভালো লাগে! মাঝেমধ্যে অনেকে তরমুজের ওপর লবণ ও চাটমসলা ছিটিয়ে খান। এভাবে তরমুজ খাওয়া কি ভালো? বাড়তি কোনো উপকারিতা মেলে কি? নাকি শুধুই স্বাদের জন্য লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খাওয়া? নানা রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

    তরমুজের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে লবণ। এক চিমটে লবণ এনে দেয় তরমুজের ভিন্ন স্বাদ। তরমুজ আরও মিষ্টি খেতে লাগে। কারণ লবণের মধ্যে থাকা ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদের রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এর জেরে মিষ্টি ভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। এককথায় লবণ তরমুজের প্রাকৃতিক মিষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

    আর ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মিটিয়ে দেয় তরমুজ। তরমুজ শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে। এতে ৯২ শতাংশ পানি রয়েছে। এমনকি পটাশিয়ামের মতো মিনারেলও রয়েছে। কিন্তু এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে। এই গরমে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তরমুজের ওপর লবণ ছড়াতেই হবে। কারণ লবণের মধ্যে থাকা সোডিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মিটিয়ে যায়।

    আর লবণ পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে তরমুজ দ্রুত হজম হয়ে যায়। যদিও তরমুজ সহজপাচ্য। তাও অনেকেরই তরমুজ খাওয়ার পর পেট ফাঁপে। এ সমস্যা অনায়াসে দূর হয়ে যায়, যদি লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খান।

    পরিমাণের দিকে নজর না দিয়ে তরমুজের ওপর লবণ বা চাটমসলা ছড়ালে চলবে না। তবে বেশি লবণ দেবেন, এতে তরমুজের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আপনার শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করে। এক বাটি তরমুজের ওপর এক চিমটে লবণ বা চাটমসলাই যথেষ্ট। লবণ ছাড়াও বিটলবণ কিংবা চাটমসলা এবং লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এতেও তরমুজের স্বাদ বাড়বে।

  • সরকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সরকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সোমবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক হার্ট ফেলিওর (হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা) বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, কেবল চিকিৎসা নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতেও সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা চিকিৎসকগণ এতে উপস্থিত ছিলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক ইমেজিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন কম খরচে হার্টের উন্নত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে আপনাদের মতো দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। তাহলে রোগীরাই চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে ভিড় করবে এবং এতে আপনারাও গর্বিত বোধ করবেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সরকার বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত গৌরবের।

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুব কঠিন পথে আছি। এদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি প্রধানত চিকিৎসকদের সহযোগিতা ছাড়া দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।’

    তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ কম খরচে হার্টের উন্নত চিকিৎসা পাবে।

    এ লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিকভাবে সেবামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সেশন, প্যানেল আলোচনা এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্যে বলা হয়, দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

  • ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সাথে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সাথে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি সাক্ষাৎ করেছেন।

    আজ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে চলমান অগ্রগতি, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

    রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রশংসা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।

    এ সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, ভুটান দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর জিগড্রেল ওয়াই শেরিং এবং বাণিজ্য বিষয়ক কাউন্সিলর দাবা শেরিং উপস্থিত ছিলেন।

  • চট্টগ্রাম বন্দরে ফের জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’, গতি বেড়েছে আমদানি-রপ্তানিতে

    চট্টগ্রাম বন্দরে ফের জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’, গতি বেড়েছে আমদানি-রপ্তানিতে

    দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। এখন আর কোনো জাহাজকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

    জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে না হওয়ায়, এখন জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমেছে ও আমদানি-রপ্তানির গতিও বেড়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ কমেছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরে জাহাজ জট তো নেই-ই, এখন কোনো জাহাজকে জেটিতে বার্থিং পেতে ১৫-২০ দিন বহির্নোঙরে (জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) বসে থাকতে হচ্ছে না। দিনে দিনেই মিলছে বার্থিং।

    বহির্নোঙরে এখন জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় শূন্য।

    সব জাহাজ সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করছে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এই অর্জন দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার বড় প্রমাণ। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।

    তিনি আরও বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতাতেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আর এর ফলে জাহাজ দ্রুত খালাস ও লোডিং করতে পারছে, টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমেছে ও পণ্য সরবরাহও আরও দ্রুত হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অর্জনের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা দৃশ্যমান হচ্ছে।

    তারা আরও জানায়, সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ ভবিষ্যতে স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর।

    এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ধারাবাহিকভাবে এ অবস্থা বজায় ছিল।

    তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ ভাগ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও কিছু জটিলতায় কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটে।

    পরবর্তী সময়ে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

    তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে।

    এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব।

    সৈয়দ রেফায়েত হামিম আরও বলেন, এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন।

    তিনি বলেন, লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব আরও বলেন, মূলত রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েটিং টাইম শূন্যে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ঈদের ছুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয় বলে জানান তিনি।