Category: গণমাধ্যম

  • নাইজেরিয়ায় সহিংসতায় নিহত ২২

    নাইজেরিয়ায় সহিংসতায় নিহত ২২

    নাইজেরিয়ার অস্থির প্লেটো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জোসে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১২জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান কাবিরু সানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় জোস নর্থ জেলায় একটি পানশালায় কয়েকজন বন্দুকধারী মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি চালায়।
    নাইজেরিয়ার জোস থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
    প্লেটো অঙ্গরাজ্যের রেড ক্রসের সেক্রেটারি নুরুদ্দিন হুসাইনি মাগাজি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি নিহতের সংখ্যা ১২ বলে জানান।

    তিনি বলেন, ওই ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়।

    একজন স্থানীয় যুবনেতা  জানায়, গণপিটুনিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়।

    তবে সানি বলেন, এই ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ২৭ জন।

  • ৬ বছর বিরতির পর উ. কোরিয়ায় এয়ার চায়নার ফ্লাইট পুনরায় চালু

    ৬ বছর বিরতির পর উ. কোরিয়ায় এয়ার চায়নার ফ্লাইট পুনরায় চালু

    ছয় বছরের বিরতির পর আজ সোমবার এয়ার চায়না বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে।

    দুই রাজধানীর মধ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর পর বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া যে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হচ্ছে, এটি তারই আরেকটি লক্ষণ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চীন দেশটির মুমূর্ষু অর্থনীতির জন্য জীবনরেখা হিসেবে কাজ করেছে।

    উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশাধিকার বরাবরই ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ২০২০ সালে মহামারীর সময় দেশটি তার সীমান্ত বন্ধ করে দিলে, তা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    ফ্লাইটস্ট্যাটস-এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট সিএ১২১ বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্ট থেকে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে (রোববার ২৩৫৮ জিএমটি) যাত্রা শুরু করে এবং পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে (০১৩৭ জিএমটি) পৌঁছায়।

    সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইয়াজুন ও অন্যান্য চীনা কূটনীতিকরা বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাগত জানিয়েছেন।

  • ইরান চুক্তি ‘শিগগিরই’ হতে পারে: ট্রাম্প

    ইরান চুক্তি ‘শিগগিরই’ হতে পারে: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ ‘শাসন পরিবর্তন’ ঘটিয়েছে। তেহরানের সঙ্গে খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এদিকে ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার পর তেহরান ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই ইরান কুয়েত ও সৌদি আরবে হামলা চালায়।

    দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) জানায়, তাদের একটি অবস্থানে প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে এক শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।

    ইউএনআইএফআইএল জানায়, প্রজেক্টাইলটির উৎস জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

    এক মাসব্যাপী যুদ্ধে বহু ইরানি নেতা নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইতোমধ্যেই শাসন পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব ‘অনেক বেশি যুক্তিসংগত।’

    এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা শাসন পরিবর্তন দেখেছি। আমরা এখন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আগে যাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেনি, তারা এখন নেতৃত্বে। এটাকেই আমি শাসন পরিবর্তন বলব।’

    আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছি। এটি শিগগিরই হতে পারে।’

    এদিকে তেহরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ই আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে, এতে আমরা সন্তুষ্ট।’

    তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘কূটনীতিতে ধোঁয়াশা তৈরিকে
    কৌশল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

    সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনায় দেওয়া বিবৃতিতে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘শত্রু প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোকজন মার্কিন সেনাদের স্থলে আসার অপেক্ষায় আছে, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চূড়ান্তভাবে শাস্তি দেওয়া যায়।

    টানা কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে।

    তেহরানের এক শিল্পী এএফপিকে বলেন, ‘শান্তিতে ঘুমানোর রাতকে আমি মিস করি।’ তিনি জানান, রাতের হামলা এতটাই তীব্র যে মনে হয় পুরো তেহরান কেঁপে উঠছে।

    যুদ্ধটি এখন আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।

    কুয়েতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় ইরানি হামলায় একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হন। একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সোমবার জানায় দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

    সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বাহিনী পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে।

    ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, বিদ্যুৎ শিল্পের স্থাপনায় হামলার পর রোববার রাজধানী, আশপাশের অঞ্চল ও আলবোরজ প্রদেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়।

    এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনা না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। পরে তিনি এ বিষয়ে সময়সীমা একাধিকবার বাড়ান।

    ইরান জানিয়েছে, শত্রু দেশের জাহাজের জন্য তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো।

    যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড উঠেছে ১১৫ ডলারের ওপরে।

    ইসরাইলে পার্লামেন্ট ২০২৬ সালের বাজেট অনুমোদন করেছে। এতে সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়িয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও ওপরে করা হয়েছে।

    কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে। এই সংকট নিয়ে আলোচনায় ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন।

    ট্রাম্প বোরবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বলেছেন। তবে তেহরান এসব দাবি অস্বীকার করেছে।

    দার বলেন, সফররত মন্ত্রীরা কীভাবে ‘যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী অবসান ঘটানো যায়’ তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানের ওপর আস্থা রেখেছে। এ বিষয়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারাও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।

    কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ শেষ করতে ১৫ দফা প্রস্তাব দেওয়ার পরও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    শুক্রবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেরিন ও নাবিক বহনকারী উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

    ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযান পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অভিযানের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখনো কোনো মোতায়েনের অনুমোদন দেননি ট্রাম্প।

  • কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আপনারা কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না।

    তিনি বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না।

    ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’

    খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি।’

    সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।’

    আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’ ।’

    তিনি বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’— এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সার্বিক উদ্যোগ নিয়েছে।’

    ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারাম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলা সরকারি – বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ‘

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

    পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

    নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে। ‘

    দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।

    বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০শে এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

    এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রিড়াবিদের মোবাইলে এক লক্ষ টাকা পৌঁছে যায়।

    এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

  • ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজেই এ কথা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল সদরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রি-পাইলটিং প্রজেক্টের উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের হাতে তুলে দেবেন।’

    ১১টি উপজেলা হচ্ছে- টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লা আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।

    এছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

  • বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি নতুন সরকারের দূরদর্শী বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল, নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি ) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ  ও ইএফএ আলোচনা চলমান থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।

    মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপান এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইএফএ) সম্পন্ন করেছে এবং কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এফটিএ  ও ইএফএ  নিয়ে আলোচনা করছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

    বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সফলতা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী কোরীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত চলমান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ইএফএ চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে কোরীয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হলে বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তারা বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ মন্ত্রী পর্যায় ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

    বৈঠক শেষে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে।