Category: প্রচ্ছদ

  • দল নির্বাচনের জন্য পারফরমেন্সের উপর নির্ভর করা উচিত : মোমিনুল

    দল নির্বাচনের জন্য পারফরমেন্সের উপর নির্ভর করা উচিত : মোমিনুল

    অনলাইন ডেস্ক:    ব্যাট হাতে পারফরমেন্স করে সাদা বল বা ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের দলে সুযোগ পেতে চান বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ব্যাটার মোমিনুল হক।

    শুধুমাত্র টেস্ট খেলোয়াড়ের তকমা থাকায় সাদা বলের দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন মোমিনুল।

    টেস্ট বা লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোমিনুল। টেস্টে দেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। শুধুমাত্র লাল বলের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ তকমা থাকায় মোমিনুলের সাদা বলের ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব পড়েছে।

    বাংলাদেশের জার্সিতে ২৮ ওয়ানডে ও ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মোমিনুল। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে এবং ২০১৪ সালে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০১৩ সালে টেস্টে অভিষেকের পর ৭৫ ম্যাচে ১৩ সেঞ্চুরি ও ২৫ হাফ-সেঞ্চরিতে ৪৮৫৯ রান করেছেন মোমিনুল।

    টেস্ট বিশেষজ্ঞ খেলোয়ড়ের তকমা থাকায় প্রায়ই ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ঘরোয়া সাদা বলের টুর্নামেন্টে সুযোগ পান না মোমিনুল। গতকাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলছেন তিনি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন নর্থ জোনের বিপক্ষে ইস্ট জোনের হয়ে ৮২ বলে ৮৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মোমিনুল। তারপরও ঐ ম্যাচ ৫৪ রানে হারে ইস্ট জোন।

    ম্যাচ শেষে বগুড়ায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মোমিনুল জানান, যেকোন ফরম্যাটের দল নির্বাচনের জন্য পারফরমেন্সের উপর নির্ভর করা উচিত।

    তিনি বলেন, ‘যেকোন নির্বাচন পারফরমেন্সে উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। খেলোয়াড়দের অন্তত ঘরোয়া সাদা বলের টুর্নামেন্টে সুযোগ দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র লাল বলের ক্রিকেটের জন্য কাউকে প্রস্তুত করা হলে, সেটি লাল বলের ক্রিকেটের জন্য খারাপ উদাহরণ হিসেবে স্থাপিত হয়।’

    মোমিনুল আরও জানান, এই ধরনের প্রক্রিয়া তরুণ ক্রিকেটারদের টেস্ট বিশেষজ্ঞ হবার আকাঙ্খা থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    মোমিনুল বলেন, ‘যখন একজন খেলোয়াড় দেখেন তার সাথে টেস্ট তকমা আছে, তখন ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার সম্ভাবনাকে খারাপভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে যখন আর্থিক বিষয় জড়িত থাকে। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেটার হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।’

  • মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ২০

    মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ২০

    অনলাইন ডেস্ক:    কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালায়।

    অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    অপরদিকে, রাত ৩টায় অপারেশন কোরাল দ্বীপে নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ অপূর্ব বাংলা সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

    অনলাইন ডেস্ক:    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার পেরিয়ে পাঁচ বছরে গড়িয়েছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক লাখ সেনাও। যুদ্ধের আগ্রাসনে ইউক্রেনের লাখো মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ায় যুদ্ধের বিরোধিতা করা অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। অনেকে আবার দেশ ছেড়েছেন নিপীড়ন এড়াতে।

    আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি। রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পূর্তিতে চারজন মানুষের জীবনে যুদ্ধের গভীর প্রভাব তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    — একটি পরিবার ধ্বংস —
    কিরার বয়স তখন মাত্র তিন মাস। ২৮ বছরের মা ভ্যালেরিয়া আর ৫৪ বছরের দাদি লিউদমিলা। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল। ইউক্রেনের ওডেসা শহরে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায় তিন প্রজন্মের জীবন।

    কিরার বাবা ইউরি তখন বাজারে ছিলেন। হামলার পরের ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীর ও শিশুকন্যার জিনিসপত্র খুঁজতে তিনি ধ্বংসস্তূপে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

    আইনজীবী ইউরি পরে পেশা বদলে কৃষ্ণসাগর উপকূলের শহরের একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে বেকার (রুটি কারিগর) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক বছর পর তিনি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর। পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতের কাছে যুদ্ধে প্রাণ হারান হন তিনিও। এটি ছিল দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এলাকাগুলোর একটি।

    এ পরিবারটির গল্প এখন ইউক্রেনীয় বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ মূল্য চুকানোর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    ভ্যালেরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল্লা কোরোলিওভা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এএফপিকে বলেন, ‘এমন শত শত গল্প আছে পুরো দেশে।’

    তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু ছিল সূর্যের আলোর মত। ওডেসা, ইউক্রেনীয় সংস্কৃতি, অপেরা-সব ভালোবাসত। তার হাসি ছিল অসাধারণ। তাকে খুব মনে পড়ে।’

    মোবাইলে কিরার একটি ছবিও দেখান তিনি। আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়ই পেলাম না।’

    — আবার লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত —
    ভলোদিমিরের ৩২তম জন্মদিনেই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে।
    চার বছর পরও তিনি সেনাবাহিনীতে ফিরতে অস্থির। যদিও ড্রোন হামলায় হারিয়েছেন এক হাত ও এক পা।

    তার ডাকনাম ‘আর্খিপ’। ২০২৪ সালে রাশিয়ার এফপিভি ড্রোন তার ইউনিটের অবস্থানের ওপর আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    এর কয়েক মাস আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে তার সঙ্গে প্রথম কথা হয় এএফপি প্রতিনিধির। তখন তিনি জানান, ভালো পাইলট হলে ড্রোন ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও তিনি এএফপি সাংবাদিকের মুখোমুখি হন। তখন তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা বলেন। আবার যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান।

    আর্খিপ বলেন, ‘আমি শুয়ে ছিলাম। মাথা তুলে যখন পায়ের দিকে তাকালাম, দেখি লোকটা… আমার পা কেটে ফেলছে।’

    এক মাসে তার শরীরে মোট ২১টি অস্ত্রোপচার হয়। তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন অস্ত্রোপচার হত। শুধু শনিবার ছাড়া। কারণ অনেক চিকিৎসকের সেদিন ছুটি থাকে।’

    তার পরনে সামরিক পোশাক নেই এখন। কালো ট্র্যাকস্যুট পরা; কৃত্রিম অঙ্গ লাগানো। পাভলোগ্রাদ শহরের একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। আহত হওয়ার আগে তিনি সেখানে খেলতেন।

    পুনরায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন আর্খিপ। গত ১৮ মাস ধরে নিচ্ছেন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।

    তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল, সহযোদ্ধাদের কাছে ফিরব।’

    তবে এবার পেছনের সারির দায়িত্বে থাকতে চান। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম, ১৯৯১ সালের সীমান্তে ফিরতে পারব।’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যখন ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস পুরোপুরি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সে সময়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘কিন্তু এখন সেনাবাহিনীতে থেকে সবকিছু সরাসরি দেখে মনে হয়, ১৯৯১ সালের সীমান্তের মূল্য খুব বেশি হবে।’

    — যুদ্ধপন্থী কৌতুকশিল্পীর রুপান্তর —
    রাশিয়ার ৫৯ বছর বয়সি কৌতুকশিল্পী আন্দ্রেই বোচারভ। নব্বইয়ের দশকের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অদ্ভুত চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। ‘মায়ের আদরের ছেলে’ ধরনের সরল টাইপ চরিত্র ছিল তার।

    দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর নিজেকে রূপান্তর করেন যুদ্ধপন্থী কণ্ঠে। পশ্চিমাদের ‘অধঃপতন’ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে নিজের স্থবির ক্যারিয়ারে নতুন গতি নিয়ে আসেন।

    ‘বোচারিক’ নামে পরিচিত সাইবেরিয়ার এই শিল্পী রুশ সংস্কৃতির এক সংক্ষিপ্ত সোনালি সময়ের প্রতিনিধি ছিলেন। ‘৩৩ স্কয়ার মিটার’ নামের জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরবর্তী সময়ে একটি ঘিঞ্জি অ্যাপার্টমেন্টের ছোট ঘরে পারিবারিক জীবন কেমন ছিল, তা-ই হাস্যকরভাবে ফুটিয়ে তোলা হতো সেই ধারাবাহিকটিতে।

    তার নিষ্পাপ হাসি ও সহজ অভিব্যক্তি লাখো দর্শককে আকৃষ্ট করত।
    কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর তিনি কট্টর পশ্চিমবিরোধী হয়ে ওঠেন। পরিচিতি পান ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে।

    পডকাস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সবসময় ‘মাতৃভূমি ও শেকড়’-এর প্রতি অনুগত থাকার কথা বলেন। তিনি যেমন রুশ অভিযানের বিরোধিতাকারীদের নিন্দা জানাচ্ছেন, তেমনি যারা প্রতিবাদ হিসেবে কিংবা যুদ্ধে যাওয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, সেসব রাশিয়ানদেরও তীব্র ভাষায় বিদ্রুপ করছেন।

    রাশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতই যুদ্ধের আগে ইউরোপ ও পশ্চিমে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।

    এখন তিনি পশ্চিমাদের ‘রাশিয়াবিরোধী’ এজেন্ডা ও অতিরিক্ত উদারনীতির সমালোচনা করেন। ক্রেমলিনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় তার কথায়। টেলিগ্রাম ও রাশিয়ার সামাজিক মাধ্যম ভিকে-তে তার অনুসারী প্রায় ৪ লাখ।

    রাষ্ট্রীয় বেতার স্পুটনিক-এ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন তিনি।
    সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা এক নম্বর। কারণ আমাদের আত্মা আছে, শুধু টাকা নয়। সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া আমাদের ছেলেরা প্রতিদিন তা প্রমাণ করছে।’

    তিনি প্রায়ই বলেন, ‘রাশিয়া সবসময় জেতে। আমরা রাশিয়ান। আর বোরশ্চ আমাদের সঙ্গে আছে!’ বোরশচ একধরনের উজ্জ্বল লাল বিটের স্যুপ- যা ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়েই নিজেদের জাতীয় খাবার বলে দাবি করে- সেটির প্রতিই ইঙ্গিত করেন তিনি।

    — নীরব বিরোধী —
    রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কোতে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে যান ভারভারা। পরে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আবেদনে স্বাক্ষর করায় চাকরি হারান।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হতে পারি- এ কথা প্রিয়জনদের জানিয়েছিলাম। অতিরিক্ত চাবিও রেখে গিয়েছি। ভেবেছি, আমি না থাকলে আমার বিড়াল না খেয়ে মরবে।’

    নিরাপত্তার কারণে নাম পরিবর্তন করে বলা হয়েছে তার গল্প। তিনি বড় আকারের বিক্ষোভ দমন অভিযানে ধরা পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। পরবর্তী দিনগুলোতে রাশিয়া কঠোর সামরিক সেন্সর আইন পাস করে। এতে তার অনেক বন্ধু দেশ ছেড়ে যান।

    তিনি বলেন, ‘আমারও মনে হয়েছিল, হয়তো আমাকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে, কোথায়, কী দিয়ে বাঁচব- বুঝতে পারিনি।’

    মুখোশধারী পুলিশ যেকোনো সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে- সারাক্ষণ এমন একটি আতঙ্কে থাকতেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই ঘটেনি; বরং একটি অলাভজনক সংস্থায় নতুন চাকরি পেয়েছেন তিনি।

    তিনি বলেন, নিজের দেশের চালিয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতেন তিনি। এসবকিছু ঝেড়ে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এবং একটু সুখের দেখা পেতে তার দীর্ঘ দুই বছর সময় লেগেছে।

    আগের স্ত্রীর একটি সন্তান রয়েছে-এমন এক পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাই। কিন্তু নিজের এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য আর নেই।’

    রাশিয়ায় এখনও থাকা অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী মানুষের কাছে নীরব থাকাই কারাগার এড়ানোর একমাত্র পথ।

    তবুও যুদ্ধ তার জীবনের সবখানে প্রভাব ফেলেছে। এমনকি বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও।
    তার বাবা রুশ নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। নিয়মিত আর্থিক সহায়তাও দিতে চান।

    তিনি বলেন, ‘তিনি আমার বাবা। আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু এই টাকা নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।’

    রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসনব্যবস্থা বদলানো সম্ভব বলে মনে করি না। নিচ থেকে যেকোনো প্রতিরোধ দমন করা হবে। আমি শুধু আশা করি, আমরা অন্তত শারীরিকভাবে বেঁচে থাকতে পারব।’

  • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ক সভা

    প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ক সভা

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন,  নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

  • রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরো ১,২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরো ১,২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ বছর যাবৎ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরো এক হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পরই এসব

    মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়টি সংসদে নির্ধারিত হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

    দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়টি সংসদে নির্ধারিত হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক:    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ থেকে নির্ধারিত হবে।

    আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে ছয় সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকদের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী জানান, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সচল করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের আয়োজন করবে সরকার।

    রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সেবা নিশ্চিত করতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে তারা জনদূর্ভোগ লাঘবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিটি করপোরেশনের মধ্যে যেটির মেয়াদ আগে শেষ হবে, সেখানে আগে নির্বাচন হবে।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করতেই রাজনৈতিক প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে দায়িত্ব নিয়ে ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার মশা নিধন, যানজট নিরসন ও রাস্তাঘাট মেরামতের মত জনগুরুত্বপূর্ণ কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। দ্রুত ফলাফল নিশ্চিত করতে ৬০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি বা ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নিয়ে কাজ শুরু করবেন বলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে জানিয়েছেন প্রশাসকরা।

    এসময় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।