Category: প্রচ্ছদ

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর  আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই।  সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি  জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।  সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম।   আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা  আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের  আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা  সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে  কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে  তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি  প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল।  পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের  ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।’

    পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে  চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের  গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি।’

    তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য  একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

    অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ( পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।

    পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।

  • কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার:  সফিকুর রহমান কিরণ এমপি

    কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি

    শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরণ বলেছেন, কৃষিকে সমৃদ্ধশালী করতে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল উদ্ধার ও খনন করে কৃষির অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যার অংশ হিসেবে শরীয়তপুরে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা তরান্বিত করে কৃষির অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলায় অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এর আওতায় সেলাই মেশিন ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় তিনি কৃষি কাজ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, ওসি আবুল বাশার, সখিপুর থানার ওসি মো. মোফাজ্জল হোসাইনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, আজ ১২০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম করে শাকসবজির বীজ, ৬৩০ জন কৃষককে ১০ গ্রাম করে মরিচ বীজ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ জন কৃষকের মাঝে পিয়াজ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে শীতকালীন পিয়াজ বীজ উৎপাদনে চাষের আওতায় আসবে ৪ একর জমি।

    অনুষ্ঠানে জনপ্রতি ডিএপি ১০ কেজি ও এমওপি ১০ কেজি সহ ৫ কেজি করে ১১৪৫ জন কৃষককে রোপা আমন ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। এর ফলে রোপা আমন চাষের আওতায় ৬৪ হেক্টর জমি বাড়বে।

    এ ছাড়া ৭ শ ১৬ জনকে ৫ টি করে মোট ৩ হাজার ৫শ ৮০টি ফলের চারা বিতরণ করা হয়।

    নারীদের স্বাবলম্বী করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৮ জন দুস্থ নারীর মাঝে ১৮ সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

  • কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প

    শনিবার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ করল যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের মধ্যেই দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি। আর এ উপলক্ষকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেকে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।

    এবারের স্বাধীনতা দিবস এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন ভয়াবহ তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বড় ধরনের বা চরম তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে আয়োজিত প্যারেড, ব্লক পার্টি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান ব্যাহত হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    তবে, প্রচ- গরমও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করবেন।

    এ ছাড়াও, এ উপলক্ষে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকবে সামরিক যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনী এবং ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজন।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তাপমাত্রা প্রায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হবে। তারপরও আমি সেখানে যাব এবং অনেক দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দেবÑশুধু এটা দেখানোর জন্য যে, আমি সবকিছুই করতে পারি।’

    এর আগে শুক্রবার রাতে তিনি সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষণ দেন। সেখানে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী অর্জনের প্রশংসা করেন।

    ‘আমেরিকার পরিচয়ের ওপর নতুন আক্রমণ’

    ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থিদের’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আবারও কমিউনিস্ট হুমকির পুনরুত্থান ঘটছে।’

    সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সরকারবিরোধী অংশের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।

    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বামপন্থীদের উত্থানকে ‘কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি বলে দাবি করেন।

    শুক্রবারের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের ভেতর থেকে আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।’

    যদিও এ ভাষণে অতীতের কিছু বক্তব্যের মতো তীব্র অভিবাসীবিরোধী ভাষা তিনি ব্যবহার করেননি, তবে তার মূল বার্তা ছিল একই।

    তিনি বলেন, ‘আপনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে না-ও হতে পারে, কিন্তু আমরা যা গড়ে তুলেছি, সেটিকে অবশ্যই
    ভালোবাসতে হবে।’

  • ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

    ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম তেহরানে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

    তেহরানের গ্রান্ড মাসাল্লায় আয়োজিত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে নিহত আলী খামেনির বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করার পাশাপাশি স্পিকার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষে শোকসন্তপ্ত ইরানি জাতির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন ও শোকবার্তা পৌঁছে দেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেখানে রাখা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

    এর আগে স্পিকার ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল তেহরান পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।

    বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

    স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে ইরানের স্পীকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

    পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালীর সাথে বৈঠক করেন যেখানে ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রী তাদের দেশে ক্রিকেট খেলার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা চান। এছাড়াও তিনি দুই দেশের মধ্যে খেলাধুলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার এই বার্তা বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেবেন বলে জানান।

    পরে স্পিকার ইরান রেডিও’র বাংলা বিভাগের সাথে এক সাক্ষাৎকার দেন যেখানে তিনি বাংলাদেশ-ইরানের দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেবার পাশাপাশি ইরানে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের সেবা বৃদ্ধি জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন বলে জানান।

  • জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহতদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

    আজ শনিবার সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

    শনিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

    তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মূহুর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নেই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মূহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’

    জুলাই শহীদদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেনো অবিচার না হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক তবুও অন্যায়কারীর যেনো সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করবো।’

    শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা। ছবি : পিএমও

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি তা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।’

    জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনারা আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন তা ঠিক হয়ে যাবে? না, ঠিক হয়ে যাবে না। তবে সবাই মিলে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন আপনার আপন জনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

    শনিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হাত নেড়ে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে আগত শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

    জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেয়া শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের বুকের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন। এ সময় সন্তান ও স্বজন হারানো শোকাতুর স্বজনদের চোখের পানি আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।

    সকাল সোয়া ১০ টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীতের পর জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    জাতীয় এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা। ছবি : পিএমও

    এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সকলের জন্যে রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

    পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেয়া হয়।

    জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জুলাই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

    এ ছাড়াও সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

    জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

    বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারের মধ্যকার ভালোবাসা, সম্মান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। আমাদের সমাজে বিয়ের সময় বর বা জামাইকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে স্বর্ণের আংটিও উপহার দিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে তিনি কি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

    জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ?

    ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরিধান করা হারাম। তবে স্বর্ণের মালিক হওয়া হারাম নয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষকে স্বর্ণ উপহার হিসেবে দেওয়া এবং তার সেই উপহার গ্রহণ করা বৈধ।

    সুতরাং বিয়ের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি যদি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে জামাইকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেন, তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে উপহার গ্রহণ করার পর জামাই নিজে সেই আংটি পরতে পারবেন না। তিনি চাইলে সেটি নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

    পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ?

    রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

    رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ

    ‘এক ব্যক্তি হাতে স্বর্ণের আংটি পরেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধারণ করতে চায়?’ (মুসলিম ২০৯০)

    আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ حَرِيرًا وَلَا ذَهَبًا

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে।’ (মুসনাদে আহমদ ২২২৪৮)

    বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহারের অনুমতি

    সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চিকিৎসাগত বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু ব্যতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে।

    সাহাবি হজরত আরফাজা ইবন আসআদ (রা.)-এর নাক যুদ্ধের সময় কেটে গেলে প্রথমে তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেন। পরে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহার করার অনুমতি দেন। (মুসনাদে আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২)

    বিয়ের সময় জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ পুরুষের জন্য স্বর্ণের মালিক হওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে তিনি নিজে সেই আংটি পরিধান করতে পারবেন না। চাইলে স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্যকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

    একজন মুসলিমের জন্য প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে নয়; বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা, তাকওয়া অর্জন করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। তাই বিয়ের উপহার নির্বাচন ও ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের উত্তম পরিচয়।