Category: প্রচ্ছদ

  • পানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

    পানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

    বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ পানি সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এশিয়ার সব দেশকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    আজ জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ডের (এএডব্লিউসি) জেনারেল সেক্রেটারি হা সাং জে এর নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

    স্পিকার বলেন, পানি সমস্যা এতটাই তীব্র যে, বাংলাদেশসহ কোনো কোনো দেশের জন্য এটি জীবন-মরণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে স্বাধীনতার পর থেকেই আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

    হা সাং জে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদেরকে এএডব্লিউসি’র সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে বৈশ্বিক পানি সংকট সমস্যা সমাধানে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন। ২০২৬ সালে লাওসে অনুষ্ঠেয় এএডব্লিউসি’র বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করার জন্য তিনি স্পিকারকে আমন্ত্রণ জানান।

    এএডব্লিউসি একটি আইনী কাঠামোর মাধ্যমে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৯ সাল থেকে যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সেজন্য সংগঠনটির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

    এএডব্লিউসি পানি সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর জাতীয় সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে যে লেজিসলেটিভ কার্যক্রম শুরু করেছে, সে উদ্যোগে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদেরকে যুক্ত হওয়ার জন্য স্পিকার সুপারিশ করবেন বলে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করা হয়। এছাড়া এএডব্লিউসি’র লাওসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থাকবে বলে স্পিকার প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন।

    উল্লেখ্য, এএডব্লিউসি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের একটি আন্তঃসংসদীয় প্ল্যাটফর্ম, যা পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আইনী ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করতে কাজ করে।

    সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

  • জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলা করবে : মির্জা ফখরুল

    জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলা করবে : মির্জা ফখরুল

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।

    আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্স মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম তদারকি করবে। টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রমকে আরো সমন্বিত ও কার্যকর করতে সম্প্রতি জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    * বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ।

    * স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা।

    * স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা।

    * ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা।

    * এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা।

    * নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি।

    * গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা।

    * ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

    * ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা।

    * ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

    সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।

    মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

    তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করবে।

    তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

    আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

    এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

  • পটুয়াখালীতে ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

    পটুয়াখালীতে ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

    জেলায় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড সহ বিভিন্ন আকস্মিক দুর্যোগে করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমিকম্প ও অগ্নিকা-ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাস্তবধর্মী মহড়া পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিরাপদে ভবন ত্যাগ, আহতদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে প্রদর্শন করা হয়। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

    ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজীব, নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার রেজওয়ান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জিয়াউর রহমান, উপাধ্যক্ষ আমান সাদিক, নির্বাহী সচিব মনজুরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ভীষ্মদেব বিশ্বাস, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু ইউসুফ এবং ভলান্টিয়ার টিম লিডার জহিরুল ইসলাম।

    বক্তারা বলেন, দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের মহড়া শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আয়োজকরা জানান, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে- ৪ উইকেটে ও ৭ রানে হেরেছে টাইগাররা।

    দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুুর রহমান ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

    দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশ নিয়েই বাংলাদেশ সফরের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া।

    এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ১৩বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। এরমধ্যে বাংলাদেশ চারবার ও অস্ট্রেলিয়া জিতেছে নয়বার।

    বাংলাদেশ একাদশ : তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

    অস্ট্রেলিয়া একাদশ : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জশ ইংলিস, কুপার কনোলি, ম্যাট রেনশ, টিম ডেভিড, নিখিল চৌধুরি, জোয়েল ডেভিস, অ্যারন হার্ডি, নাথান এলিস, অ্যাডাম জ্যাম্পা ও স্পেন্সার জনসন।

  • হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

    হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

    লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সদ্য হওয়া ভঙ্গুর সমঝোতা নতুন সংকটে পড়েছে।

    একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসতে রওনা হয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরাইলের চার সেনা নিহত হওয়ার পর, লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এরপর শুক্রবার ওয়াশিংটন নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এটি ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার একটি শর্ত।

    কিন্তু শনিবার আবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তি ভঙ্গ’ ও ‘দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ঘোষণা দেয়, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটও জাহাজগুলোকে ওই জলপথের কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করে।
    তারা জানায়, সেখানে গেলে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় এটি অবরুদ্ধ থাকে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান প্রণালীটি পুনরায় খুলতে রাজি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    তবে ইরানের নতুন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল এখনো বজায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী সেখানে উপস্থিত ও সতর্ক অবস্থানে আছে।

    পরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচকরা যদি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তাহলে ওয়াশিংটন নিজস্ব টোল আরোপ করতে পারে।

    ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত না হলে কোনো টোল থাকবে না।’

    -সুইজারল্যান্ডমুখী প্রতিনিধিদল-

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার বিকেলে একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রয়েছেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, সমঝোতায় অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানাবে ইরান।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে, পুরো সমঝোতাই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শনিবার বিকেলে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়েন।

    তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এক বা দুই দিনের বেশি থাকতে পারব না। আশা করছি, পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি হবে।’

    ভ্যান্স আরও বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়েও অগ্রগতি হবে। এ দুটিই আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়। ইরানও নিশ্চয়ই তাদের কিছু বিষয় তুলে ধরবে।

    তিনি বলেন, মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন। তারা কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন এবং তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।

    মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা হবে। এতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

    প্রাথমিক সমঝোতায় অমীমাংসিত থেকে যাওয়া বিষয়গুলো, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই মাসব্যাপী আলোচনার সূচনা করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।

    সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, বিদেশি প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে কাজ করছেন।

    -লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা-

    শনিবারও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যায়। দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষও অব্যাহত থাকে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা হওয়ার পর এটি পঞ্চম সেনা মৃত্যুর ঘটনা।

    পরে এক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধবিরতি মানতে বলা হয়েছে। বাহিনী কোনো আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে না। নিরাপত্তা অঞ্চলের ভেতরে শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

    অন্যদিকে হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইসরাইল নাবাতিয়েহ শহরের ওপর নজর রাখা কৌশলগত আলি তাহের পাহাড়ের দিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তাদের যোদ্ধারা ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ দিয়ে জবাব দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির প্রায় ২০টি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে।

    দেশটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাইদনের কাছে এক হামলায় আরও সাত জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

    চলমান সংঘাতে মোট মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

    হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, শত্রুপক্ষ হামলা চালালে, তার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার দাবি করেন যে যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইল শুধু সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করছে।

    তবে হিজবুল্লাহ বলেছে, ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলের।

    দক্ষিণ লেবাননের তাইর দেব্বা শহর থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাদি জায়াত বলেন, ‘পুরো দক্ষিণাঞ্চলে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

    ৫৩ বছর বয়সী এই বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা গ্রামে ফিরেছিলাম। কিন্তু আবার পালানোর জন্য ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত রেখেছি।’

    মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়ে। এর মধ্য দিয়েই সংগঠনটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

    এপ্রিল মাসে লেবাননে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন একটি যুদ্ধবিরতিও বাস্তবে কখনো কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের কথিত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে গেছে।