Category: প্রচ্ছদ

  • পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

    পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

    স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ (শনিবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই পরামর্শ দেন তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।

    প্রেস উইং জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। এলাকায় মাটি ও পরিবেশের ধরন অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হত, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন,  পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বৃক্ষরোপণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে করা হবে তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    আগামী ১৪ জুন সারাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের ডুলহাজরায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

  • সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

    সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

    অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে আমরা যেমন আশীর্বাদপুষ্ট, তেমনি সাইবার ঝুঁকিও (ডিজিটাল হ্যাজার্ড) আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) এখন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।’

    এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা (ই-সেফটি) নিশ্চিত করতে দেশের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    আজ রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলা: নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

    তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন সমাধানের সময় (টাইম ফর সলিউশন)। দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা দ্রুত একটি ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র খসড়া তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সরকার মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমের জটিলতাগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে বিশেষজ্ঞদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত করছে।

    বিশ্বব্যাপী মেটা (ফেসবুক), গুগল বা এক্স (টুইটার)-এর মতো টেক জায়ান্টদের জবাবদিহিতা ও রেগুলেশনের আওতায় আনার প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অনেক শ্রম দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে, অথচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা বিনা পয়সায় ব্যবহার করে আয় করছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আইন করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের রয়্যালটি দিতে বাধ্য করছে।’

    বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও এ্যাব-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।

    গোলটেবিল আলোচনায় অন্য বক্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া খবর চিহ্নিত করার আধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস ব্যবহারের ওপর জোর দেন। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লিটারেসি বা তথ্য সচেতনতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    গোলটেবিল আলোচনায় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস

    ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস

    সংখ্যা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গণনা, পরিমাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সংখ্যার ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিছু সংখ্যাকে ঘিরে বিশেষ বিশ্বাস ও কুসংস্কার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ১৩ সংখ্যা সবচেয়ে আলোচিত।

    বিশ্বের বহু দেশে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যদিও এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদিও ১৩ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস, এর ঐতিহাসিক উৎস, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং বাস্তবতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।

    ১৩ সংখ্যার প্রতি ভীতির ধারণা

    ১৩ সংখ্যাকে ভয় পাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় ট্রিস্কাইডেকাফোবিয়া (Triskaidekaphobia)। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা, যেখানে মানুষ ১৩ সংখ্যাকে দুর্ভাগ্য, বিপদ বা অমঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত করে। অনেক ক্ষেত্রে এই ভয় এতটাই প্রবল যে মানুষ ১৩ নম্বর ঘর, আসন বা তলা ব্যবহার করতেও অনীহা প্রকাশ করে।

    ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় উৎস

    ১. শেষ ভোজ : খ্রিস্টান ঐতিহ্যে একটি প্রচলিত বিশ্বাস হলো, যিশু খ্রিস্টের শেষ ভোজে মোট ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জুডাস ইসকারিয়ট, যিনি পরে যিশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। এই ঘটনার সঙ্গে ১৩ সংখ্যার অশুভ ধারণাকে যুক্ত করা হয়।

    ২. নর্স পুরাণ: উত্তর ইউরোপের নর্স পুরাণে একটি কাহিনিতে ১২ জন দেবতার ভোজসভায় অনাহূত ১৩তম অতিথি হিসেবে লকি (Loki) উপস্থিত হন। তার আগমনের পর সংঘটিত ঘটনায় দেবতা বাল্ডর (Baldr)-এর মৃত্যু ঘটে। অনেক গবেষক মনে করেন, এই গল্পও ১৩ সংখ্যার অশুভ ভাবমূর্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

    ৩. শুক্রবার ১৩ তারিখ: পাশ্চাত্য সমাজে “Friday the 13th” বিশেষভাবে অশুভ বলে বিবেচিত হয়। অনেকের ধারণা, এই দিনে দুর্ঘটনা, আর্থিক ক্ষতি বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা বেশি ঘটে। তবে পরিসংখ্যানগত গবেষণায় এমন কোনো ধারাবাহিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    সমাজে ১৩ সংখ্যার প্রভাব

    ১. ভবন নির্মাণ: বিশ্বের অনেক হোটেল, হাসপাতাল ও অফিস ভবনে ১৩তম তলার নম্বর ব্যবহার করা হয় না। লিফটে ১২-এর পর সরাসরি ১৪ নম্বর তলা দেখা যায়। যদিও বাস্তবে সেই তলা বিদ্যমান থাকে, কেবল নম্বর পরিবর্তন করা হয়।

    ২. বিমান ও পরিবহন ব্যবস্থা: কিছু বিমান সংস্থা ১৩ নম্বর সারি বা আসন এড়িয়ে চলে। একইভাবে কিছু দেশে ১৩ নম্বর বাড়ি বা কক্ষ নম্বরও ব্যবহার করা হয় না।

    ৩. ব্যবসা ও বিপণন: অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের মনস্তাত্ত্বিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ১৩ নম্বর ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। কারণ কিছু ক্রেতা ১৩ সংখ্যাযুক্ত পণ্য, ঠিকানা বা সেবা গ্রহণে অস্বস্তি বোধ করেন।

    বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যার ভিন্ন ব্যাখ্যা: সব সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ মনে করা হয় না। যেমন:

    ইহুদি সংস্কৃতি: ইহুদি ঐতিহ্যে ১৩ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ সংখ্যা। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

    প্রাচীন সভ্যতা: কিছু প্রাচীন সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যাকে পূর্ণতা, পরিবর্তন বা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।

    আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: আধুনিক গণিতের দৃষ্টিতে ১৩ একটি মৌলিক সংখ্যা (Prime Number)। এর বিশেষ গাণিতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কিন্তু সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে এর কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই।

    বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

    মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস মূলত নিশ্চিতকরণ পক্ষপাতের ফল। মানুষ যখন ১৩ সংখ্যার সঙ্গে কোনো নেতিবাচক ঘটনা দেখে, তখন সেটি সহজে মনে রাখে; কিন্তু ইতিবাচক বা সাধারণ ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে। ফলে অশুভ ধারণাটি আরও শক্তিশালী হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ সংখ্যার উপস্থিতি কোনো দুর্ঘটনা, রোগ, আর্থিক ক্ষতি বা দুর্ভাগ্যের কারণ নয়। এটি কেবল একটি সংখ্যা, যার ওপর মানুষের সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা আরোপিত হয়েছে।

    ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত। ধর্মীয় কাহিনি, লোকবিশ্বাস ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রভাবে এই ধারণার বিস্তার ঘটেছে। তবে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ১৩ অন্য যেকোনো সংখ্যার মতোই একটি সাধারণ সংখ্যা। এর সঙ্গে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তাই ১৩ সংখ্যাকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তি ও প্রমাণকে প্রাধান্য দেওয়াই অধিক গ্রহণযোগ্য।

  • চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের

    চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের

    সূর্যের অভ্যন্তরে সৃষ্ট শব্দতরঙ্গ বা কম্পন বিশ্লেষণ করে এর আচরণে একটি অপ্রত্যাশিত ও রহস্যময় পরিবর্তনের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, গত চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরীণ ছন্দে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, যা মহাকাশের আবহাওয়া এবং পরোক্ষভাবে পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্য সাধারণত ১১ বছরের একটি নির্দিষ্ট চক্র অনুসরণ করে। এ চক্রে কখনো সূর্য অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, আবার কখনো তুলনামূলক শান্ত অবস্থায় থাকে। সক্রিয় পর্যায়ে সূর্য থেকে শক্তিশালী সৌরশিখা ও উচ্চশক্তির কণার নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা পৃথিবীতে তীব্র সৌরঝড়ের কারণ হতে পারে।

    গবেষকরা সূর্যের ভেতরে সৃষ্ট অতি সূক্ষ্ম শব্দতরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করে নতুন এ তথ্য পেয়েছেন। তাদের মতে, এসব তরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের অভ্যন্তরীণ গঠন ও কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সূর্যের আচরণ কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা, সূর্য হয়তো ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ নতুন এক আচরণগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে। প্রচলিত ১১ বছরের সৌরচক্রের পাশাপাশি এর অভ্যন্তরে দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে সূর্যের সামগ্রিক কার্যপ্রণালীকে প্রভাবিত করতে পারে।

    গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, সূর্যের চৌম্বকীয় সক্রিয়তা এখন দৃশ্যমান পৃষ্ঠের নিচের একটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ স্তরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্তর আরও অগভীর হয়ে উঠছে।

    গবেষণার প্রধান লেখক, বিল চ্যাপলিন বলেছেন, সূর্যের নিজস্ব একটি ‘সক্রিয় জৈবিক ছন্দ’ রয়েছে, যা মহাকাশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী চৌম্বকীয় কার্যকলাপের উত্থান-পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সূর্যের পৃষ্ঠে পরিচালিত প্রচলিত পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

    তার ভাষায়, সূর্য সম্ভবত এমন একটি নতুন আচরণগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সৌর সক্রিয়তার চক্রে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি নতুন চক্রের সঙ্গে চৌম্বকীয় সক্রিয়তা সূর্যের পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি এবং আরও সীমিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

    গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ‘বাইসন’-এর তথ্য ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।

    এদিকে সর্বণী বসু বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি সৌরচক্রে সূর্যের অভ্যন্তরীণ কম্পন ও পৃষ্ঠের সক্রিয়তার মধ্যকার সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বদলে যেতে দেখা গেছে।

    তার মতে, এ পরিবর্তনকে শুধু চৌম্বক ক্ষেত্রের দুর্বলতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে সূর্যের অভ্যন্তরে চৌম্বকীয় শক্তি কীভাবে সঞ্চিত ও সংগঠিত হয়, সেই কাঠামোতেই বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটছে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের বর্তমান চক্র এবং এর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। কারণ এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে মহাকাশের আবহাওয়া, সৌরঝড়ের তীব্রতা এবং পৃথিবীর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত

    হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হজ ফেরত যাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেছেন, তদন্তে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো ধরনের চুরি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    আজ সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ হজ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বডি-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

    তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে বহন করা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে যাত্রীরা মৌখিকভাবে গ্রাউন্ড স্টাফদের জানিয়েছিলেন।

    তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের লাগেজ চুরি বা অসদাচরণের প্রমাণ মেলেনি বলে তিনি জানান।

    এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি ও সঠিকভাবে সিল না করা প্রসাধনী সামগ্রী বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    এ ধরনের সামগ্রী স্ক্রিনিংয়ের সময় শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বিধি অনুসারে লাগেজ খুলতে বা কেটে নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করার ক্ষমতা রাখে।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণাবিহীন নগদ অর্থ ও মানিব্যাগও চেক-ইন লাগেজে বহন করা যায় না।

    বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকতে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, ‘সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া উচিত।’
    রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি।

    এর আগে বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) যাত্রীদের মালামাল নিরাপদে ফেরত দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

    এছাড়া বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজ খানম ফোনে ঘটনাটির বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।