Category: প্রচ্ছদ

  • বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ব বাজারে ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ওষুধ ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    আজ (সোমবার) সচিবালয়ে মন্ত্রানালয়ের সম্মেলন কক্ষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির পরিসর আরও বাড়বে বলেও জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান হিসেবে দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্টোরে এক লাখ স্যালাইন মজুত রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে প্রয়োজন বাড়লে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

    আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দিতে আরও দু’দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এ সময়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তের হার কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    ডেঙ্গু  আক্রন্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • সম্পর্ক পর্যালোচনা, বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও রাশিয়া: মস্কো

    সম্পর্ক পর্যালোচনা, বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও রাশিয়া: মস্কো

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে মস্কোতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হবে।

    বৈঠকটি উভয়ের মধ্যে আজ মস্কোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    আজ ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচারিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের আমন্ত্রণে ড. খলিলুর রহমান ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়া অবস্থান করছেন। এ সফর তার বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর রাশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড. খলিলুর রহমান।

    বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হবে।

    রাশিয়া বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে চলেছে।

    সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ নিয়মিতভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে। রাশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার ও গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করে।

    বিবৃতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-কে দুই দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটও চলতি বছরের মধ্যেই উৎপাদনে আসতে পারে।

    মস্কোর মতে, কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

    রাশিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের ফেডারেল বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

    চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাতে চলমান বাজেট অধিবেশন, সংসদীয় কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংসদীয় ককাস গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এসময় চিফ হুইপ বলেন, দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের পর জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি কার্যকর সংসদ গঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ২৬০ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং এটি তাদের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

    মো. নূরুল ইসলাম বলেন, নতুন সদস্যরা সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালী আয়ত্ত করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। অতীতে জনগণের মধ্যে সংসদীয় কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বর্তমানে তারা নিয়মিত সংসদ অধিবেশন অনুসরণ করছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

    স্টুয়ার্ট জেমস বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংসদীয় ককাস গঠিত হলে দু’দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। তিনি জনগণের জন্য একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠায় চিফ হুইপের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোটচাঁদপুরে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খুলনা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ

    কোটচাঁদপুরে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খুলনা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ

    জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুরে মালবাহী ট্রেনের ৩টি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে খুলনার সাথে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে । আজ  ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর রেল স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    ‎‎
    সাফদারপুর স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রসুল নয়ন জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী তেলবাহী ট্রেনটি সাফদারপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে সকাল ৬ টার দিকে পেছনের ৩টি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় খুলনার সাথে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল।

    তিনি জানান, খুলনা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসেছে। উদ্ধার কাজ চলছে।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট; পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

    দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট; পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

    দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যালট পেপার সংকটে স্থানীয় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রোববার ভোররাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার নাগরিক।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গত বুধবারের নির্বাচন ছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতীয় ভোট। তিনি ২০২৪ সালের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত সামরিক শাসন জারির ঘটনায় রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

    নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্য পদে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছে লি’র ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী সিউলের মেয়র পদটি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    এদিকে, ব্যালট পেপার সংকট নিয়ে জনরোষের মুখে শুক্রবার পদত্যাগ করেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনইসি) চেয়ারম্যান নো তাই-আক। কমিশন জানিয়েছে, রাজধানী সিউলের ৩০টিসহ পুরো দেশের ৫০টি ভোটকেন্দ্রে এই সংকট দেখা দিয়েছিল।

    ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিউলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়। সেখানেই নির্বাচনের ব্যালট গণনা করা হচ্ছিল।

    এএফপির সাংবাদিক জানান, রোববার ভোর ২টা পর্যন্ত অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের বেশিরভাগের বয়সই ২০ থেকে ৩০-এর কোঠায়। তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ‘পুনর্নির্বাচন চাই, পুনর্নির্বাচন চাই’ স্লোগান দেন।

    তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা পানি, কফি ও চকলেট বিতরণ করেন। কেউ কেউ পোষা প্রাণী সঙ্গে এনেছিলেন, আবার অনেকে পিকনিক ম্যাটে বসে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাতভর অবস্থান করেন।

    ৩১ বছর বয়সী সিও জিন-হি এএফপিকে বলেন, ’রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, ভোট দিতে না পারা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন।’

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আগাম ভোটদানের কারণে বিপুল সংখ্যক ব্যালট অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় এবার মোট যোগ্য ভোটারের মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল।

    ফলে কিছু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী পার্ক সউন-ওক বলেন, ‘কমিশনের এই ব্যাখ্যা একজন সাধারণ নাগরিকের কাছেও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    তিনি এএফপিকে আরও বলেন, ‘আমার পছন্দের প্রার্থী জিতল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব কিছুর ঊর্ধ্বে, আমি মনে করি এই নির্বাচন অবশ্যই পুনরায় হওয়া উচিত।’

  • গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না, সঠিক চেহারা দেখাতে এর বস্তুনিষ্ঠতা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না, সঠিক চেহারা দেখাতে এর বস্তুনিষ্ঠতা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ এবং আধুনিক সভ্যতার এক অপরিহার্য আয়না। শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ করার পেছনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের এই আয়না বা সিস্টেমের ভেতরে যদি কোনো গুণগত ত্রুটি থাকে, তবে তা সঠিক প্রতিবিম্ব দেখাতে পারে না। তাই নিজের সঠিক চেহারা ও সমাজকে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের একমাত্র মানদ- ও শক্তি হতে হবে ‘বস্তুনিষ্ঠতা’। ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের মেকানিজম ছাড়া গণমাধ্যমের বিশ্বস্ততা অর্জন সম্ভব নয়।’

    আজ রোববার সকালে রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি আবুল কাশেম।

    সেমিনারে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ডেইলি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে বা সমাজ যদি ব্যর্থ হয়, তবে শুধু বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে একটি সুন্দর ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বিরাজ করবে- এটা আশা করা যায় না। এটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, রাষ্ট্র এবং সমাজের সুশাসনের প্যারামিটারের মাপেই ব্যাংকিং খাতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নির্ধারিত হবে।’

    রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের ওপর জোর দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বেই বলেছিলেন- ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তাঁর সেই দূরদর্শী কণ্ঠকে প্রতিধ্বনিত করে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যদি প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারি, তবে অর্থনীতির মূল প্রবাহ তথা ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কেন করব না? ব্যাংকিং খাতের ত্রুটি ও ক্ষতগুলো দূর করতে আমরা অবশ্যই ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠন করব।’

    অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য শুধু ব্যাংকের ওপর চাপ না বাড়িয়ে পুঁজিবাজার বা শেয়ার বাজারকে পুঁজির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের যে দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন, তা আজ বহুদূর বিস্তৃত। কিন্তু বর্তমানে এক শ্রেণীর ‘নন-পারফর্মার’ আমানতকারী ও শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ টার্গেট করে অনিয়ম করছে, যাদের কঠোর হস্তে দমন করা প্রয়োজন।

    সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের ওপর সাম্প্রতিক কড়াকড়ির প্রতি ইঙ্গিত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কে ব্যাংকের ফার্স্ট ফ্লোর, থার্ড ফ্লোর নাকি লাস্ট ফ্লোরে ঢুকলেন- সেটা আমার কাছে বড় প্রশ্ন নয়। আমার কাছে মূল প্রশ্ন হলো ‘এক্সেস টু ইনফরমেশন’ বা তথ্যের অবাধ প্রাপ্তি। তথ্য যেখানেই থাকুক, সাংবাদিকদের সেখানে পৌঁছানোর অধিকার থাকতে হবে। সব তথ্য যাতে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ থাকে, তা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম শর্ত।’

    তিনি অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের প্রশংসা করে বলেন, অর্থনৈতিক সাংবাদিকতাই ব্যাংকিং সুশাসনের একমাত্র পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে। মানুষের জানার অধিকার রক্ষা এবং নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়নে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী তৎপরতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

    সেমিনারে ইআরএফ-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।