Category: প্রচ্ছদ

  • উত্তর বাসাবো এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের দাবি: মেধা বিকাশ ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান

    উত্তর বাসাবো এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের দাবি: মেধা বিকাশ ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান

    কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মের মেধার বিকাশ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে একটি স্থায়ী লাইব্রেরি বা পাঠাগার স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চিত অধিকার আদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় পরিমণ্ডলে ‘#লাইব্রেরি_চাই’ আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছে।

    দীর্ঘ ২৫ বছরের সামাজিক অবদান
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০১ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২৫ বছর (২০২৬ সাল পর্যন্ত) উত্তর বাসাবো এলাকার নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই এলাকার যুবসমাজ ও পেশাজীবীরা কেবল স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সবুজবাগ থানা এলাকার মধ্যে উত্তর বাসাবো মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।

    নারীর ক্ষমতায়ন ও পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা
    এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পারস্পরিক সম্মান এবং সৃজনশীলতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে উত্তর বাসাবো এলাকার কিশোরী ও নারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন বছরব্যাপী কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন। তাদের এই মেধা ও সৃজনশীলতাকে আরও এগিয়ে নিতে এবং সংঘাত-সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট পাঠাগার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    বঞ্চনার অবসান চান এলাকাবাসী
    আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা আর মেধা ও মননশীলতার চর্চা থেকে সুবিধাবঞ্চিত থাকতে চাই না।” উত্তর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারের একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত স্থানে অবিলম্বে এই পাঠাগারটি চালু করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একটি উন্নত, নিরাপদ ও মানবিক বাসাবো তথা ঢাকা শহর গড়ে তুলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তারা।

  • বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

    বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

    বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)।

    সংস্থাটি অবকাঠামো, উৎপাদনশীল খাত, বাণিজ্য নীতি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে এই সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

    বাসস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিও’র উপ-মহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বলেন, বাণিজ্য সহায়তা উদ্যোগের  উল্লেখযোগ্য সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও অর্থনীতির সহনশীলতা জোরদারে বাংলাদেশ ও তার উন্নয়ন অংশীদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারই প্রতিফলন এটি।

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ক্রেডিটর রিপোর্টিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘এইড ফর ট্রেড’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে। উল্লেখিত সময়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই ছিল সর্বোচ্চ সহায়তা পাওয়া দেশ।

    ঝাং বলেন, এই সহায়তার প্রায় ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে অর্থনৈতিক অবকাঠামো খাতে। বিশেষ করে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে। কৃষি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাসহ উৎপাদনশীল খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় দুই শতাংশ ব্যয় হয়েছে বাণিজ্যনীতি ও নিয়ন্ত্রকমূলক কার্যক্রমে।

    তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে গুরুত্ব দেওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য সহায়তা প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব উদ্যোগ সরবরাহ-পক্ষের সীমাবদ্ধতা দূর করে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।’

    ডব্লিউটিওর এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতেও অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যনীতি, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তার মতে, বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়লে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল পরিবেশে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সক্ষম হবে।

    বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডব্লিউটিওর সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে ঝাং বলেন, সংস্থাটি বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ডব্লিউটিওর সমর্থনে দুটি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

    ডব্লিউটিওতে বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদন দাখিলসংক্রান্ত একটি কর্মসূচির পর বাণিজ্য আলোচনার দক্ষতা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

    ঝাং বলেন, ‘আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম আয়োজন করতে পারব।’

    তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক জানান, ই-লার্নিং কোর্স, উন্নত বাণিজ্যনীতি কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মশালা এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ ডব্লিউটিওর কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ২৮১ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।

    এছাড়া, ডব্লিউটিওর দীর্ঘমেয়াদি প্লেসমেন্ট কর্মসূচি ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাত তরুণ পেশাজীবী উপকৃত হয়েছেন। এটি ভবিষ্যতের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

    বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ঝাং বলেন, নতুন নতুন বাণিজ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং সেগুলোর সমন্বিত সমাধান খুঁজে বের করার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে ডব্লিউটিও।

    তিনি বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর চালু হওয়া ডব্লিউটিওর ‘ট্রেড মনিটরিং রিপোর্ট’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলা বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় সদস্য দেশগুলোর সাড়া দেওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ঝাং।

    তিনি বলেন, ব্যাপক বিপর্যয়ের মধ্যেও আন্তর্জাতিক কারণে জরুরি পণ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল।

    তিনি জানান, ২০২২ সালে মানবিক সহায়তার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কেনা খাদ্যপণ্যের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডব্লিউটিওর সদস্যরা। এটিকে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবেও বর্ণনা করেন।

    তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বলেও মন্তব্য করেন ঝাং। তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণেও দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে।

    ডব্লিউটিওতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতা ও নীতি বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে ফুটওয়্যার, ওষুধশিল্প, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হোম টেক্সটাইল, ক্ষুদ্র উৎপাদন খাত ও ডিজিটাল সেবায় নতুন সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

    ঝাংয়ের মতে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত  হতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নকশা দক্ষতা, মেধাস্বত্ব উন্নয়ন এবং বিপণন কৌশলে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

    প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খলের কিছু অংশে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ উচ্চ মজুরির কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার সক্ষমতার প্রমাণ দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আরও বহুমুখী উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’

    ডব্লিউটিও’র এই উপ-মহাপরিচালক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়েও আশা প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং নীতিগত সক্ষমতায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

  • কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা

    কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা

    কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক কর্মশালা আজ জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায় নেত্রকোণা জেলায় রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খামারবাড়ি, নেত্রকোণার উদ্যোগে জেলা শহরের খামারবাড়িস্থ ডিএই সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)কৃষিবিদ সালমা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল।

    কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নেত্রকোণা জেলায় রোপা আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। উপস্থিত অংশীজনরা আগামী মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে নিজ নিজ ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, নেত্রকোণার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম। অতিথিবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ সৈয়দা তানজীন, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মাকসুদুল হক এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ফারুক আহমেদ।

    কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে জেলার ১০টি উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর বিজ্ঞানী ও গবেষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অন্যান্য সরকারি দপ্তরের মধ্যে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বারটান ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কৃষক প্রতিনিধিরা এই দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেন।

  • ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, সুনামি সতর্কতা জারি

    ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, সুনামি সতর্কতা জারি

    ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ তীব্রতার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে ও অঞ্চলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার শহর জেনারেল সান্তোসের দক্ষিণে সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর, ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে,  ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে একের পর এক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, জেনারেল সান্তোস শহরের একটি শপিং সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি স্কুল ভবন ধসে পড়েছে।

    যদিও  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবনটি তখন খালি ছিল।

    দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মিন্ডানাও দ্বীপের সোকসারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। এছাড়া দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

    তবে এই হিসাবের বাইরে জেনারেল সান্তোসের কাছের আলাবেল এলাকায় দেয়াল ধসে চাপা পড়ে আরও দুই জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পুলিশ।

    ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। অপেক্ষা করবেন না। আপনার জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।’

    ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কিয়াম্বায় প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা ইতোমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে গেছেন।

    আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান আগ্রিপিনো দাসেরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ উঁচু স্থানে চলে গেছে।’

    তিনি আরও জানান, উপকূলবর্তী সব বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত, জেনারেল সান্তোস বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সোমবারের ভূমিকম্পের কারণে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জাকার্তার আবহাওয়া সংস্থা সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে সুনামি ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে এবারের ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৪ ও ৬.৭ তীব্রতার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হন।

    সরকারি তথ্যমতে, এর কয়েকদিন আগেই ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় সেবু প্রদেশে ৬.৯ তীব্রতার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • জেরুজালেমের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণ, ফের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি ইসরাইলের

    জেরুজালেমের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণ, ফের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি ইসরাইলের

    ইরান থেকে ছোড়া নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে ইসরাইল। এএফপি’র সাংবাদিকরা জেরুজালেমের আকাশে সোমবার অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, তারা ‘ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে’ এবং এ হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে।

    জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জেরুজালেমে অবস্থানরত এএফপি’র এক সাংবাদিক অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। একই সময় শহরটির বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যেতে দেখা যায়।

    ইসরাইলের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    রোববার সন্ধ্যা থেকে ইরান একাধিক দফায় ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপে পড়েছে।

  • মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতন নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

    মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতন নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

    সরকারি চাকরির বাইরে থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারণ করেছে সরকার।

    প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জানায়, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব এবং উপমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একান্ত সচিবদের মূল বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের ৮ম ধাপে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে মতামত ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    সম্প্রতি (২১ মে) অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি শাখা-১ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ নাহিদুল করিম প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব ও একান্ত সচিবদের মূল বেতন ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হবে।

    এর মধ্যে অন্যতম হলো, নির্ধারিত মূল বেতনের ওপর কোনো ধরনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ চাকরির মেয়াদকালে তাদের মূল বেতন অপরিবর্তিত থাকবে।

    তবে বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা তারা ভোগ করতে পারবেন।

    সরকারি চাকরির প্রচলিত বিধান অনুযায়ী বাসাভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বা অন্যান্য অনুমোদিত ভাতা প্রযোজ্য হলে, তা তারা পাবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোনো ধরনের পেনশন, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) কিংবা ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) সুবিধা পাবেন না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

    অর্থ বিভাগ বলেছে, যেহেতু তারা সরকারি চাকরির স্থায়ী কর্মচারী নন এবং বাইরে থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত, তাই অবসর-পরবর্তী এ সব আর্থিক সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত এই বেতন কাঠামো কেবলমাত্র সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    অর্থাৎ কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রেষণ, সংযুক্তি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এ সব পদে দায়িত্ব পালন করলে তাদের ক্ষেত্রে এই বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হবে না।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতন ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল।

    নতুন এই নির্দেশনার ফলে বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব ও একান্ত সচিবদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সুস্পষ্ট হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

    অর্থ বিভাগের জারি করা এই সিদ্ধান্ত সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    বিশেষ করে রাজনৈতিক নির্বাহীদের দপ্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেতন ও সুবিধা বিষয়ে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করতে এ নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।