Category: প্রচ্ছদ

  • আজ রাতে ইরানে কঠোর হামলা হবে : ট্রাম্প

    আজ রাতে ইরানে কঠোর হামলা হবে : ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে শিগগির নতুন ও ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, শিগগিরই মার্কিন বাহিনী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো দখল করবে।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘আজ রাতে ইরানে অত্যন্ত কঠোরভাবে হামলা চালাবে’।

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘খুব শিগগির আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো এলাকাগুলো দখল করব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেব, ঠিক যেমন আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি।’

  • নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

    নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়।

    দুপুর ১টার দিকে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।’ অর্থ বিলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের পর আজ বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

    তারেক রহমান সরকারের এটি সংসদে প্রথম বাজেট।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংসদ না থাকায় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় এবং সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় এবং জারির করার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

    জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় তখন সংসদের বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল।

    গত ২ জুন অন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় তার বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।

  • আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।

    প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

    আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

    বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ।

    একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১৯.৫ কেজি গাঁজা’সহ ০৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

    প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১৯.৫ কেজি গাঁজা’সহ ০৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

    বিশেষ প্রতিনিধি (ক্রাইম) সুমন শাহ্ : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্যের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যে র‌্যাবের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিপুল গাঁজা’সহ মাদক চক্রের ০৪ (চার) জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ০৯/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ১৯.৫০ ঘটিকার সময় ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর টু মাগুরাগামী মহাসড়কের উপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনপূর্বক সন্দেহজনক বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশী করে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ১০.৫ কেজি (দশ কেজি পাঁচশত গ্রাম) গাঁজা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩,১৫,০০০/- (তিন লক্ষ পনেরো টাকা), সহ ০২ (দুই) জন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম ১। মোস্তফা কামাল (২৭), পিতা- মৃত সেকান্দার আলী ও ২। মোঃ রাশেদুল ইসলাম (২৬), পিতা- আক্তার হোসেন উভয় সাং- উত্তর মিলনপুর, থানা- দিঘীনালা, জেলা- খাগড়াছড়ি বলে জানা যায়।

    অপর আরেকটি অভিযানে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ১০/০৬/২০২৬ তারিখ ভোর অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকায় ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানাধীন বেল্লাকান্দি এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে ০৯ (নয়) কেজি গাঁজা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২,৭০,০০০/- (দুই লক্ষ সত্তর হাজার), সহ ০২ (দুই) জন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম ১। মোঃ মনির হোসেন @ রুবেল (২৬), পিতা- মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও ২। মোঃ আমির হোসেন (২৪), পিতা- আব্দুল গনি, উভয় সাং-উত্তর মিলনপুর, থানা-দিঘীনালা, জেলা-খাগড়াছড়ি বলে জানা যায়।

    প্রকাশ থাকে যে, আটককৃত ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর ও মাগুরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মাদকসহ আটককৃত ব্যক্তিদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    মাদক সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ বিষফোঁড়া। এটি আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করছে, পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। র‌্যাব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। র‌্যাব-১০ মাদক নির্মূল অভিযানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হল ছয় জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল উৎসব

    বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হল ছয় জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল উৎসব

    পল্টনস্থ শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে আজ (বুধবার) বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হলো বয়সভিত্তিক পুরুষ আইএএইচএফ (আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন) ট্রফি। বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতা করছে পোলার আইসক্রিম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করেন আলিফ স্কোয়াড শিল্পীরা। এর আগে প্রতিটি দলের পতাকা সহযোগে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও ম্যানেজাররা হ্যান্ডবল কোর্টে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রতিটি দেশের বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান বাজতে থাকে।

    আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন দেখে মুগ্ধ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি দেশকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যারা অংশ নিয়েছে তাদের প্রত্যেককে স্বাগত জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি নিয়ে কাজ করছে এবং আমরা পাশের দেশসহ এশিয়া ইউরোপের সব দেশের সঙ্গে স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে আমাদের রিলেশন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে পারি। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে উঁচু জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।’

    আজ (বুধবার) দুপুর ১টায় মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে অ-১৮ প্রতিযোগিতা।

    অনূর্ধ্ব-২০ দলের বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ রয়েছে সন্ধ্যা ৭টায়। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।

    ভারত, নেপাল, ইয়েমেন, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ- এই ছয় জাতির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দলগুলো। ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ভারত, নেপাল ও ইয়েমেন। ‘বি’ গ্রুপে আছে- মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।

    দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলগুলো নিয়ে ১৩ জুন হবে সেমিফাইনাল এবং ১৪ জুন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

    অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগের ম্যাচগুলো রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হবে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দল হবে চ্যাম্পিয়ন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলম, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ঢাকা আইসক্রিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মাসুদ ইমাম।

  • ইআইআর প্রকল্পের বহুমুখী সুফল সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে

    ইআইআর প্রকল্পের বহুমুখী সুফল সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে

    সদ্য বাস্তবায়িত ইআইআর প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুরের মানুষ কৃষি ও অন্যান্য বিভিন্ন খাতে বহুমুখী সুফল পেতে শুরু করেছেন, যা সরকারের দেশব্যাপী চলমান খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

    এই প্রকল্পটি শুধু ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে পরিবেশের উন্নতি, বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, ভূপৃষ্ঠের পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণেও ভূমিকা রাখছে।

    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বিএমডিএ ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর (২০১৯-২০২৪) মেয়াদি ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ (ইআরপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

    বিএমডিএ কর্মকর্তারা জানান, ভূ-পৃষ্ঠের পানি সংরক্ষণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায় এবং সংরক্ষিত পানির ব্যবহার বৃহত্তর রংপুরের ৩৫টি উপজেলার ৩৩ হাজার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে বছরে ৪১৮ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪ টন ধান উৎপাদনে সহায়তা করছে।

    এই প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি বিলুপ্ত খালের ২৩০ কিলোমিটার, ১০টি বিল ও ৮৮টি পুকুর পুনঃখনন, ৩০টি সৌরশক্তি চালিত ও ১৮৩টি বিদ্যুৎ চালিত লো-লিফট পাম্প, ৫০টি সৌরশক্তি চালিত খননকৃত কূপ, ১৬টি ফুটওভার ব্রিজ এবং নয়টি ক্রস ড্যাম স্থাপন করা হয়েছে।

    এর ফলে, সংরক্ষিত ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে ১৩,৪০৫ হেক্টর জমিতে সেচ ও সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৩৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫২ টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে।

    বিলুপ্ত খাল ও জলাশয় খননের ফলে প্রকল্প এলাকায় আরও ১ হাজার হেক্টর জমি আংশিক জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর ১৫ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ৫ হাজার টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে।

    এছাড়া, ১ হাজার ১২২ মিটার ভূগর্ভস্থ পিভিসি পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী চর বিল, মিয়ার চর বিল এবং সবুজপাড়া বিলের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি প্রথমবারের মতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে।

    এর ফলে, স্থানীয় কৃষকরা এই তিনটি বিলের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তিনটি ফসল চাষ করছেন এবং বছরে ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের ১০ হাজহার ৯১২ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করছেন।

    বিএমডিএ’র সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার এবং ইআইআর প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান খান বিএসএসকে বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা ১৫ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিকে সেচ ও সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় এনে বছরে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।’

    এছাড়াও কৃষকরা পুনঃখনন করা খাল ও জলাশয়ের তীরেব ছরে ছয় কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৫০ টন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল ও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস এবং ৮০ টন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন করছেন।

    এছাড়াও, জেলেরা পুনঃখনন করা খাল, বিল ও পুকুরের সংরক্ষিত পানি থেকে বহু স্থানীয় ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ ধরছেন, অন্যদিকে মহিলারা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য হাঁস পালন করছেন এবং প্রতিদিন গৃহস্থালীর কাজে এই জল ব্যবহার করছেন।

    খান বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় বনভূমি ও সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের উন্নতি এবং বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আমরা পুনঃখনন করা খাল ও জলাশয়ের তীরে কাঠ, ঔষধি, শোভাবর্ধক ও ঔষধি গাছের ২.৩০ লক্ষ চারা রোপণ করেছি।’

    পুনঃখনন করা জলাশয়গুলির তীরে রঙিন ফুল, পাখি এবং গাছপালা একত্রিত হয়ে এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, যা প্রকৃতি ও মানুষের ভালোবাসার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং মানুষের মনকে বিস্ময়ে ভরিয়ে তোলে।

    তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে প্রকৃতিকে সবুজ রূপ দিতে বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পরিবেশের উন্নতি সাধনে ইআইআর প্রকল্পটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

    বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার সাঙ্খরপুর গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, বিলুপ্তপ্রায় মরা তিস্তা নদী পুনঃখননের ফলে কৃষকদের বিস্তীর্ণ জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং চার দশক পর তারা সেখানে প্রথমবারের মত আমন ধান চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন।

    তিনি বলেন, পুনঃখনন করা মরা তিস্তা নদীতে স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছ ধরছেন, যেখানে নদীর তীরে গাছের চারা রোপণের ফলে প্রকৃতি সবুজ হয়ে উঠেছে এবং বাস্তুতন্ত্রও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

    একই গ্রামের গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, মরা তিস্তা নদী পুনঃখননের পর স্থানীয় মহিলারা নদীর তীরে হাঁস পালন এবং কলা, শাকসবজি ও নেপিয়ার ঘাস চাষ করে তাদের জীবিকা উন্নত করছেন।

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর বেরুবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, বোয়ালেরদারা খাল পুনঃখননের ফলে বিশাল এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং চার দশক পর সেখানে বছরে তিনটি ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    ইঞ্জিনিয়ার খান মত প্রকাশ করেন, ‘ইআইআর প্রকল্পের মতো, দেশব্যাপী সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পুরো কৃষি-অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে পরিবর্তন করতে পারে এবং পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের উন্নতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারে।’