Category: প্রচ্ছদ

  • দক্ষিণ লেবাননে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের দাবি হিজবুল্লাহর

    দক্ষিণ লেবাননে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের দাবি হিজবুল্লাহর

    হিজবুল্লাহ শুক্রবার দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের সংঘাত হয়েছে। এদিকে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি বাহিনী যখন মাজদাল জৌন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাদের যোদ্ধারা রকেট হামলা চালিয়েছে। এই এলাকা ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের পশ্চিম দিক থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হামলার ফলে ইসরাইলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে দাবি করে হিজবুল্লাহ।

    পরবর্তীতে শুক্রবার ওই এলাকায় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটি জানায়। এতে হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং রকেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর আরও হামলার কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ ।

    এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে একাধিক বিমান হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ইসরাইলের সতর্কতার আওতার বাইরে থাকা এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, নাবাতিয়েহ শহরের দক্ষিণে আলি তাহের পাহাড়ের আশপাশে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে।

    লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের বিশেষ প্রতিনিধির উদ্যোগে আয়োজিত একটি ত্রাণবাহী যানবাহন দক্ষিণাঞ্চলের খ্রিস্টান গ্রামগুলোর দিকে যাচ্ছিল। এই এলাকার বাসিন্দারা সংঘাত সত্ত্বেও অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী ত্রাণবাহী যানবাহনকে থামিয়ে দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। শুক্রবার এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন ত্রাণবহরের এক সদস্য।

    গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

    এর পর থেকে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। ইসরাইলি হামলার ফলে লেবাননে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি অংশ দখলে নিয়েছে ইসরাইল।

    এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে আলোচনা হলেও সহিংসতা থামেনি। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরাইল আলোচনার পর একটি শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

    হিজবুল্লাহ ওই শর্তযুক্ত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এতে ইসরাইলি হামলা বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

    ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যেকোনো সমঝোতা চুক্তিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

  • নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত, আহত ৫

    নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত, আহত ৫

    নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।

    কৃষি মৌসুম শুরুর পর কৃষকদের ওপর চলমান সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা এটি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা এএফপিকে এ তথ্য  জানিয়েছেন।

    নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদিপশু লুটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠী এখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের জন্যও কর আরোপ করে আসছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা নিজেদের সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জমিতে কাজ করা কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছে।

    মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা বলেন, ‘আজ সকালে গোরন নামায়ে এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে।’

    এই ধারাবাহিক হামলাকে তিনি ‘২০২৬ সালের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত নোংরা হামলা’ বলেও উল্লেখ করেন।

    স্থানীয় নেতা আবুবকর জারা বলেন, ‘আমরা নিহত ১৭ জনকে দাফন করেছি। আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জন্যে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

    গোরন নামায়ে এলাকার বাসিন্দা মানসির মুহাম্মদ একই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, হামলাকারীরা নিজেদের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল এবং কৃষকদের কাছে আসার পর তা বের করে গুলি চালায়।

    আরেক এক বাসিন্দা নুরা মুসা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে হামলার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ১৩ জন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেও এই হামলা হতে পারে।

    নাইজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

    একই জেলার অপর একটি গ্রামের ৩৯ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে রোববার অপহরণ করা হয়। কৃষিজমিতে চাষাবাদের অনুমতি পেতে একটি গ্যাং প্রধানের ক্যাম্পে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে বিস্তৃত নিরাপত্তাহীনতা সরকারি রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।

  • প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নের শুরু

    প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নের শুরু

    ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোল এবং জিও রেইনার দারুণ কার্লিং শটে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে দুর্দান্ত সূচনা করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষে তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায়।

    ৭০,৪৯২ দর্শকে পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা টম ক্রুস, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ও প্যারিস হিল্টন। মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনকারী যুক্তরাষ্ট্র পুরো ম্যাচজুড়ে দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিপক্ষের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালায়। ম্যাচের যোগ করা সময়ে রেইনা চতুর্থ গোলটি করেন, এর আগে মরিসিও প্যারাগুয়ের হয়ে একটি গোল শোধ করেন।

    এই বড় জয় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে পরবর্তী পর্বে ওঠার পথ মসৃন করেছে। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরষ্ক।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একমাত্র দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল বিরতির সময় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের মাঠ ছেড়ে যাওয়া। দলের এই আক্রমণভাগের প্রধান তারকার কাঁধেই দেশের বড় প্রত্যাশা, কারণ ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অনেক দুর যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে স্বাগতিকদের জন্য কাজ সহজ করে দেয়। সপ্তম মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনি মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে পুলিসিচকে পাস দেন। পুলিসিচ দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আবার বল ফেরত দেন ম্যাককেনিকে। এরপর তার পাস থেকে স্ট্রাইকার বালোগুনের দিকে যাওয় বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালে জড়িয়ে দেন ডামিয়ান ববাদিয়া। এই গোলে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে এবং শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ঝড়।

    স্বাগতিকরা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ম্যাককেনি ও টিলম্যান দুজনেই চমৎকার ব্যাকহিল পাসে সুযোগ তৈরি করেন। অধিনায়ক টিম রিম রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত লম্বা পাস দিয়ে খেলায় ছন্দ আনেন।

    ২৮তম মিনিটে বালোগুন একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। আক্রমণ কারর সময় পুলিসিচও অফসাইডে ছিলেন।

    তবে মাত্র তিন মিনিট পরই বালোগুন আবার জালে বল পাঠান। বাম প্রান্ত দিয়ে অ্যান্টনি রবিনসনের অসাধারণ পাস থেকে পুলিসিচ বল পান এবং তার ক্রস সামান্য ডিফ্লেকশন হয়ে বালোগুনের কাছে পৌঁছে যায়, যিনি সহজেই গোল করেন।

    প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় গোলও পেয়ে যায়। টিলম্যানের পাসে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে বালোগুন ওমার আলদেরেতের ট্যাকল এড়িয়ে যান, পরে গুস্তাভো গোমেজকে কাটিয়ে বাম দিকের ওপরের কোণায় নিখুঁত শটে বল জড়ান।

    স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত। ইনজুরি থেকে ফেরা ক্রিস রিচার্ডসের একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধে বলের দখল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ।

    দ্বিতীয়ার্ধে পুলিসিচকে ছাড়াই খেলতে হয় স্বাগতিকদের, ফলে তারা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। এ সময় প্যারাগুয়ে প্রথমবারের মতো আক্রমণাত্মক হুমকি তৈরি করে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও মাঠে নামা ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসো বক্সের সামনে বল পেয়ে বদলি খেলোয়াড় মরিসিওকে পাস দেন, যিনি একটি গোল শোধ করেন।

    তবে ম্যাচের শেষদিকে জিও রেইনা ডান পায়ের  অসাধারণ এক শট নেন, যা বাঁক খেয়ে দূরের পোস্টের ভেতর দিয়ে জালে জড়ায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয়।

  • যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

    যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

    তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কাজ শুরুর পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন।

    বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।’

    তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। যেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’

    দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।’

    উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?

    তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই,  সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

    এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,  এখানে  কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে  যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’

    তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

    কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।

  • বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

    বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

    রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের জন্য চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়। এবার আমরা ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছি। গত বছর ৮৮ হাজার কোটি টাকা ছিল। তবে তখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যয় একত্রে যুক্ত করা হয়েছিল, এবার তা করা হয়নি। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াবো।

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? একটি ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে আছি, সেটি শিক্ষা খাত। শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।’

    তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপও করেন তিনি।

    ড. মিলন জানান, দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি বলেন, ‘দেশকে সেবা করার জন্যই দেশে ফিরেছিলাম, দুর্নীতির জন্য নয়। দুর্নীতির জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিনি।’

    শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী।

  • অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেটে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

    অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেটে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

    রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর জাতীয় বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপ্রধান আজ বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে তাঁর কার্যালয়ে বাজেট দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয়।

    প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

    সংসদ সূত্র জানায়, এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব মো. আব্দুর রহমান খান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

    একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে  ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’।

    ২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। ওই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

    রাষ্ট্রপতি এ সময় জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।