Category: প্রচ্ছদ

  • ইজিবাইক-ট্রলির সংঘর্ষে ২ মাস বয়সী শিশু নিহত

    ইজিবাইক-ট্রলির সংঘর্ষে ২ মাস বয়সী শিশু নিহত

    স্টাফ রিপোর্ট :   ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ধান বোঝাই ট্রলির ধাক্কায় ইজিবাইক থেকে ছিটকে পড়ে রুহুল আমিন নামে দুই মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় শিশুটির মা সাথী খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার চারাতলা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রুহুল আমিন উপজেলার ভালকি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

    নিহত শিশুর বাবা শাহাদাত হোসেন জানান, সাথী খাতুন শিশু সন্তানসহ তার বাবার বাড়ি থেকে ইজিবাইকে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চারাতলা বাজারে কাছাকাছি পৌঁছলে একটি ধান বোঝাই ট্রলি ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশু রুহুল আমিন সড়কে ছিটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

    ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আইভি জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

    হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ রউফ খান বলেন, এখনও এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। শনিবার (১০ মে) বিকেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর, ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ সময়, বিচক্ষণতা ও দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য উভয় দেশকে অভিনন্দনও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সাথে আপস না করে, সবসময় এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই স্থল, আকাশ ও সমুদ্রেপথে সকল ধরনের গুলিবর্ষণ এবং সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    এর আগে, কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এর জবাবে রাতেই পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে পাকিস্তান।

  • ইসলামে নারীর সম্মান ন্যায্য অধিকারেই নিশ্চিত করেছে

    ইসলামে নারীর সম্মান ন্যায্য অধিকারেই নিশ্চিত করেছে

    নিউজ ডেস্ক:  প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বের আরব… যখন কন্যা সন্তানের জন্ম মন খারাপের কারণ হতো পরিবারের। উৎসবের বদলে আয়োজন হতো জীবন্ত পুঁতে ফেলার। সেই আরবেই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ওপর নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। যাতে স্পষ্ট করা হয়েছে নারীর অধিকার ও মর্যাদা।

    তারপরও ইসলামে নারীর মর্যাদা কতটা এমন প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে নানা ঘটনায় ভর করে। এ যেমন এবার এসেছে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন ঘিরে। তাদের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী সংগঠনগুলো। বিতর্কে না গিয়ে বরং ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে শোনা যাক একজন নারীর মুখে।

    শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. নাসিমা হাসান বলেন, সূরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আমি নিশ্চিয়ই বনি আদমকে সম্মানিত করেছি। বনি আদম বলতে নারী-পুরুষ উভয়কে বুঝিয়েছে। কাজেই নারী-পুরুষ উভয়কেই আল্লাহতায়ালা সম্মানিত করেছেন। দ্বিতীয়ত, আধ্যাত্মিক বা স্পিরিচুয়াল যে মর্যাদা নারীকেও দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা…. সেটা আমরা জানি যে আল কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন যে, তারা অর্থাৎ সকল মুসলিম নারী ও পুরুষ যদি মুমিন, সত্যবাদী হয়, ধৈর্যশীল, রোজাদার, নামাজী, সদাকা দানকারী, চরিত্রের হেফাজতকারী হয় ইত্যাদি ইত্যাদি তাদের প্রতিদান সমান। কাজেই এসব জায়গাতেও কিন্তু আল্লাহতায়ালা সমান বলেছেন।

    কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে যেমন পুরুষদের চেয়েও নারীকে অধিক সম্মানিত করা হয়েছে, তেমনি ছয়টি মূল হাদিস গ্রন্থ বা সিয়াহ সিত্তায়ও নারীর মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন রাসুল (সঃ)।

    ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, কেউ যদি দুটি, কোনও বর্ণনায় তিনটি কন্যা সন্তানকে জন্ম দেয়ার পর তাদের সাথে সদাচরণ করে, বৈষম্য না করে উত্তম আচরণ করে সঠিক তারবিয়াহ তাদেরকে দেয় তাহলে সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে এবং নবী (সাঃ) এর সাথেই থাকবে। এই সুসংবাদ কিন্তু তিনটির জায়গায় ১০টি ছেলের সন্তান লালনপালন করার ক্ষেত্রেও বলা হয়নি। কোরআনে কারীমের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানে সুরাতুন নিসা অর্থাৎ নারীদের সংশ্লিষ্ট সূরা রয়েছে বিশাল বড় আয়তনের। অথচ পুরুষ সংশ্লিষ্ট কোনও সূরা আলাদা করে কোরআনে নাই। নারী হিসেবে জন্মগতভাবে, সৃষ্টিগতভাবে, মর্যাদাগতভাবে পুরুষের সাথে কোনও প্রকার তারতম্য ইসলাম করেনি। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে নারী হিসেবে তাদেরকে অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে।

    নারীর অধিকার-মর্যাদা প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সম্পত্তির বন্টন নিয়ে। বিজ্ঞজনরা বলছেন, সমতার প্রশ্নে অনেকক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে নারীরা। তাই নারীর ক্ষেত্রে সমতার চেয়ে নায্যতায় বেশি গুরুত্ব দেয় ইসলাম।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, সবাই বাবা-মায়ের সম্পদের সমান যেন অধিকার পায় বা সমান যেন হিস্যা পায় সে কথা বলে। তো ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এ রকম সমান হওয়ার কোনও দাবি করছে কি না? বাবার বা মায়ের সম্পদে ছেলে যা পায় মেয়ে তার অর্ধেক পায় ইসলামের সম্পদ বন্টনের হিসাবে। এই একটা জায়গা ধরে আমরা যদি বলি যে ইসলাম নারীর প্রতি বৈষম্য করেছে, তো এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও হাস্যকর হবে। একই সাথে এই কন্যা সন্তান আরও অনেক জায়গা থেকে সম্পদ পাচ্ছে এবং এমন অনেকগুলো জায়গা আছে, যেখানে মেয়ে পাচ্ছে, ছেলে পাচ্ছেই না। শুধুমাত্র একটা জায়গা দেখেছেন, এই নারী যখন স্ত্রী হবেন তখন কিন্তু স্বামী থেকে তিনি সম্পদ পাবেন। এই নারী যখন কারও মা হবেন তখন কিন্তু সন্তান থেকেও তিনি সম্পদ পাবেন। আবার তিনি যখন স্ত্রী হিসেবে কারও সাথে বৈবাহিক জীবন শুরু করবেন তখন কিন্তু মোহরানা পাবেন। ছেলে কিন্তু সেখানে কিছুই পাবে না।

    ড. নাসিমা হাসান বললেন, মেয়েরা ইদ্দতকালীন একটি খোরশ পায়। মানে তালাক হয়ে গেলে তিন মাসের জন্য সেটা সে পাবে এবং এটা কোরআনের নির্দেশ। আরেকটা ব্যাপার কী এটা অনেকেই আমরা খেয়াল করি না বা জানি না, কোরআনের সুরা বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াত পড়লে দেখা যায় যে ব্রেস্টফিডিংয়ের সময় যদি কোনও কারণে তালাক হয়ে থাকে এবং মা বাচ্চাকে ব্রেস্টফিডিং করছে তখন কিন্তু একটি পারিশ্রমিক আকারে কিছু একটা খরচ তাকে দিতে হবে। ওই বাচ্চার ভরণপোষণ সবসময়ই কিন্তু পিতার কাছেই থাকবে। পিতার ওপরই ন্যস্ত থাকবে বা তার পরিবারের ওপর। কাজেই এখান থেকেও কিন্তু সে পাচ্ছে।

    এ দুই ইসলামী চিন্তাবিদ বলছেন, ইসলাম সম্পর্কে পুরোপুরি জানার বদলে খণ্ডিত জ্ঞানে বিতর্ক বাড়ে বেশি।

    ড. নাসিমা হাসান বলেন, আমাদের সাংস্কৃতিক চিন্তা ও সামাজিক ভুল বুঝাবুঝির কারণে এবং কোরআনকে আমরা সেভাবে জানি না। এটাকে আমরা বাস্তবে যে প্রয়োগ করবো সেটাও বুঝি না। এই কারণে এবং ইসলামের জ্ঞানের অভাব কিন্তু আমাদের পূরণ করতে হবে। আমাদের কোরআন শুধু পড়লে হবে না, এটা অর্থসহ বুঝে ব্যাখ্যাগুলো পড়তে হবে। তাহলে কিন্তু আমাদের মধ্যে জ্ঞান ছড়াবে এবং আমি বলবো যে এখানে আমাদের আলেম সমাজ যাতে এগিয়ে আসে। ইসলামের এই যে নারী সংক্রান্ত বিষয়গুলো, সেগুলো যাতে আমরা বুঝতে পারি ভালোভাবে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, নারী অধিকার নিয়ে কথা বলাটা অনেকটা ফ্যাশনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যখন নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকবে কেউ তখন সমাজ, গণমাধ্যম, আজকের পৃথিবী, আজকের সভ্যতা তাকে ভালো চোখে দেখবে। অর্থাৎ একটা অনুকূল পরিবেশের মধ্যে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলছেন তিনি। আর আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) ইসলামের শুরুতে যখন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন, তখন কিন্তু নারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করাটাকে সমাজের মানুষ দোষনীয় মনে করতো, এটাকে মানুষ নিজের জন্য লজ্জাকর মনে করতো। সেই সমাজের ওপর দাঁড়িয়ে নবী (সাঃ) কিন্তু নারীর অধিকারকে সমুন্নত কেরছেন। অর্থাৎ বলা যায়, একটা সমাজে নারীর অধিকার যখন মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, নবী (সাঃ) সেটাকে তুলে এত উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে কোনও বাবার জন্য কন্যা সন্তানের পিতা হওয়া, কোনও মায়ের জন্য কন্যা সন্তানের মা হওয়াটা গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    ইসলামে নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে নারীদেরকেই আরও সোচ্চার হতে হবে বলে মনে করেন চিন্তাবিদরা।

  • আ. লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা না এলে ‘লং মার্চ টু যমুনা

    আ. লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা না এলে ‘লং মার্চ টু যমুনা

    নিউজ ডেস্ক:  এক ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা না এলে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

    রাজধানীর শাহবাগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে পূর্বঘোষিত গণজমায়েত থেকে শনিবার (১০ মে) রাত পৌনে আটটার দিকে তিনি এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এর আগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলা আন্দোলন জোরপূর্বক বা চাপের মুখে প্রত্যাহার করতে বলা হলেও তা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

    তিনি বলেছেন, ‘অগ্রিম ঘোষণা দিয়ে রাখলাম, যদি কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো শক্তি আমার কণ্ঠরোধ করতে চায়, তবুও আপনারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।’

    রাজধানীর শাহবাগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে পূর্বঘোষিত গণজমায়েতে শনিবার (১০ মে) বিকেলে এসব কথা বলেন এনিসিপির এ নেতা।

    হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগ থেকেই দেশে ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে, আর এই শাহবাগ থেকেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটবে। গত দু’দিন রাস্তায় থাকায় আমি যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। আগেই বলে রাখছি, কোনো ষড়যন্ত্রের চাপে পড়ে যদি কেউ আমার মুখ দিয়ে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ায় তা-ও আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চায় না, তারা ফ্যাসিবাদী; আর যারা নিষিদ্ধ করতে চায়, তারা প্রকৃত বাংলাদেশি শক্তি বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এ মুখ্য সংগঠক।

    প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের গণজমায়েত শুরু হয় বিকেলে। তিনটার দিকে প্রথমে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং কিছুক্ষণ পর হাসনাত আবদুল্লাহ শাহবাগে আসেন। কর্মসূচিতে এনসিপি, জামায়াতে ইসলাম, হেফাজত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে নিহত পরিবারের সদস্যসহ সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

    এই কর্মসূচির কারণে ওই এলাকা দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আশাপাশের এলাকায় যানজট দেখা দিয়েছে।

  • গলাচিপায় স্ত্রীর মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানার খবর পেয়ে স্ত্রীকে প্রান নাশের হুমকি

    গলাচিপায় স্ত্রীর মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানার খবর পেয়ে স্ত্রীকে প্রান নাশের হুমকি

    স্টাফ রিপোর্ট:  পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানার খবর পেয়ে পলাতক স্বামী স্ত্রীকে প্রান নাশের হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পৌর শহরের সাগরদী রোড ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় পৌর শহরের সাগরদী রোড ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হারুন গাজীর মেয়ে মোসা. শাবনুর আক্তার (২৪) এর দায়ের করা একটি মামলায় তার স্বামী মো. হাসান সিকদার (২৮) এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে বিজ্ঞ আদালত। গত ২৭ এপ্রিল/২০২৫ ইং তারিখে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিন চরখালী গ্রামের মো. মজিবর সিকদারের ছেলে মো. হাসান সিকদারের বিরুদ্ধে গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) আদালত চৌকি এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মো. আল মামুন। মামলা দায়েরের খবর পেয়ে আসামী মো. হাসান সিকদার তার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ঢাকা গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে এবং মোবাইল ফোনে বাদী (তার স্ত্রী) শাবনুর ও শ্বশুর মো. হারুন গাজী বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।

    মোসা. শাবনুর আক্তার বাদী হয়ে তার স্বামী মো. হাসান সিকদারের বিরুদ্ধে গত ০২ জানুয়ারী-২০২৫ ইং তারিখ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। যার সি.আর মোকদ্দমা নং-০২/২০২৫। মামলার এজাহার সূত্রে ও মামলার বাদী শাবনুর আক্তারের কাছ থেকে জানা যায়, গত ২০/০৫/২০১৫ ইং তারিখে ইসলামী শরা শরীয়ত মোতাবেক মো. হাসান সিকদারের সহিত মোসা. শাবনুর আক্তারের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় শাবনুর আক্তারের পিত্রালয় থেকে মেয়ের সুখের জন্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকার অধিক স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র উপহার দেন। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই ব্যবসা করার অযুহাতে শাবনুর আক্তারের পিত্রালয় থেকে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য শাবনুর আক্তারেরকে চাপ প্রয়োগ করলে শাবনুর আক্তারের বাবা হারুন গাজী তারা মেয়ের জামাই হাসান সিকদারকে ব্যবসা করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেন।

    কিন্তু কিছুদিন যাইতে না যাইতেই পুনরায় যৌতুকের জন্য শাবনুর আক্তারেরকে মানষিক ও শারীরিক ভাবে নির্মম নির্যাতন করতে থাকে স্বামী হাসান সিকদার ও তার পরিবারের লোকজন। অবশেষে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে শাবনুর আক্তারেরকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি হাসান সিকদার। শাবনুর আক্তারের পিত্রালয়ে এসে যৌতুকের জন্য ফের মারধোর করে তাকে নিয়ে ঘর সংসার করবেনা বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় হাসান সিকদার।

    এর পর থেকে স্ত্রীর কোন খোঁজখবর নেয়নি এমনকি ভরণ পোষনের জন্য কোন খরচও পাঠাননি হাসান সিকদার। শাবনুর আক্তার তার স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে বিজ্ঞ আদালত সহ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও কোন ফল না পাওয়ায় তার পিত্রালয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে গ্রেফতারী পরোয়ানার খবর জানতে পেরে হাসান সিকদার ঢাকা গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে শাবনুর আক্তার ও তার বাবাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসছে।

    মামলা তুলে না নিলে শাবনুর আক্তারের শিশু সন্তানকে অপহরণ করে উল্টো অপহরণ মামলায় শাবনুর আক্তার ও তার বাবাকে ফাঁসাবে বলে হুমকি দেয়। শাবনুর আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাবা গরিব মানুষ। প্রতিদিন যা উপার্জন করে তা দিয়ে কোন মতে চলে সংসার। আমার স্বামীকে খুজে বের করার মত অর্থ আমার বাবার নাই। পুলিশের আইজিপি, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার সহ সকলের কাছে আমি সহযোগিতা কামনা সহ গ্রেফতারী পরোয়ানা এরিয়ে আসামী হাসান সিকদার বাংলাদেশের যেই প্রান্তেই থাকুক না কেন তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

  • মদনে রাতের আঁধারে শিং মাছের ফিসারি বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতি

    মদনে রাতের আঁধারে শিং মাছের ফিসারি বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতি

    মদন প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মদনে রাতের আধারে মাছের ফিসারি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে অন্তত ৬০ লাখ টাকার মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে।

    বুধবার (৭ মে) দিবাগত রাত ৩ টার সময় উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বাঁশরী দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মহসিন মিয়ার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনাটি ঘটেছে।

    এ ঘটনায় বুধবার রাতে মদন থানায় ভুক্তভোগী মহসিন মিয়া বাদী হয়ে একটি অজ্ঞাতনামা ৫/৬ কে আসামি করে লিখিত এক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    ভুক্তভোগী ফিসারি মালিক মহসিন মিয়া
    উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহসিন মিয়ার শিং মাছের ফিশারি পুকুরে পরিকল্পিতভাবে কেবা কারা রাতের আধারে বিষ প্রয়োগ করে ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধক করে।

    এ ঘটনা মহসিন মিয়া জানান প্রতিদিনের ন্যায় আমি রাত ২ টা পর্যন্ত আমি মাছের খাবার দিয়ে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে যাই।

    রাত ৩ টার আমার ফিশারি দায়িত্বে থাকা কামাল আমাকে মোবাইল ফোন করে জানায় ফিসারী সমস্ত শিং মাছ মরে ভেসে উঠছে আমি সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে বিষয়টা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানাই। আমার ফিশারির আট বছরের ট্রেনিং অভিজ্ঞতা থাকার পরও
    মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে নতুন করে গ্যাস প্রয়োগ করেও পুকুরে মাছগুলো বাঁচাতে পারিনি।

    ফিসারি সমস্ত মাছ মরে আমার প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

    এ ব্যাপারে মদন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাঈম মোহাম্মদ নাহিদ হাসান বলেন, শিং মাছের ফিশারি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ অলিদুজ্জামান বলেন, কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি আমরা শুনেছি, আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার জন্য চেষ্টা করছি।