Category: প্রচ্ছদ

  • হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

    হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

    মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও  শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সহজ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মুন্সীগঞ্জ-হাতিমারা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্ত করণে ১৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্রগ্রাম এবং মোংলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে। এতে পণ্য পরিবহনসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দুয়ার খুলবে।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর ব্রীজ থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একনেকে পাশ হওয়া প্রায় ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সদর উপজেলার মুক্তারপুর থেকে হাতিমারা পর্যন্ত ৩.৪৬ কিলোমিটার রাস্তা করা হবে ৪ লেইনের। হাতিমারা থেকে পরবর্তী ছনবাড়ী পর্যন্ত ২০.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা হবে ২ লেনের ১০.৩ মিটার প্রশস্তের।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রকল্পটি একনেকে পাশ হবার পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগসহ প্রাথমিক জরিপ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আগামী ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, মুক্তারপুর থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন রাজধানী ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে চট্রগ্রাম থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনগুলোর যাতায়াতে সময় এবং খরচ দুটিই বাচবে। চট্রগ্রাম থেকে যানবাহন ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে এসে মদনপুর হয়ে শীতলক্ষা- ২ সেতু এবং মুক্তারপুর সেতু হয়ে হাতিমারা-ছনবাড়ী হয়ে পদ্মাসেতু দিয়ে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে চলে যেতে পারবে।

    এছাড়াও সড়ক প্রশস্তকরণে ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মৎস্য ও উৎপাদিত শিল্পপণ্য দ্রুততম সময়ে চট্রগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে পরিবহন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

    মুন্সীগঞ্জ নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং এ সব এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হবে এবং বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। এছাড়া সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এবং এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি গতিশীল হবে। মহাসড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শেষ হলে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্রগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে।

    দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন দ্রততম  সময়ে চট্রগ্রামমুখী সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে। আর এতে পণ্য পরিবহন আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দক্ষিণাঞ্চল ও চট্রগ্রামের মধ্যে পণ্য পরিবহনের একটি কার্যকর করিডোর হিসেবে গড়ে উঠবে হাতিমারা ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণের ফলে মুন্সীগঞ্জের শিল্প ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    মুন্সীগঞ্জ-বেতকা-ছনবাড়ী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। মুন্সীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে।

  • হরমুজ প্রণালীতে হামলায় আগুন লাগা জাহাজ থেকে সরেছে নাবিকরা

    হরমুজ প্রণালীতে হামলায় আগুন লাগা জাহাজ থেকে সরেছে নাবিকরা

    হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে নাবিকরা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাহাজটি একটি অজ্ঞাত ধরনের বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর নাবিকরা নিরাপদে জাহাজ ছেড়ে দেন এবং একটি টাগবোট তাদের উদ্ধার করে। জাহাজটিতে এখনো আগুন জ্বলছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে যাচ্ছে।’
    তবে এ ঘটনায় পরিবেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এর আগে ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, ওমানের কুমজার এলাকার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে একটি জাহাজে আগুন লেগেছে।

    এদিকে ইরানের  রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালীর নৌপথ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করত।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইরানকে ওমানের সঙ্গে কাজ করে এই জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আগের মতো থাকবে না।

    গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ওমানের উপকূলঘেঁষা একটি নৌপথ ব্যবহারকারী কয়েকটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি জাহাজগুলোকে নিজেদের জলসীমা দিয়ে চলাচল করতে এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

  • আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সকালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    সাক্ষাতের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

    এ সময়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই অবস্থায় আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। এ অর্জনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

    এছাড়া স্বল্পসময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন গিলবার্ট এফ. হোংবো।

    বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেন, শ্রমখাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

    বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করে। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমখাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।

    এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

  • গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

    গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

     গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে, এতে গাজায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে আছে।

    গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তারা হলেন তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা।

    সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’

    গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

    তিনি এএফপিকে বলেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। কেউ কিছু জানত না। এ সময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

    তিনি আরও বলেন,  ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’

    একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
    তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। নারী ও শিশু বয়স্কও নিহত হয়।

    ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের বড় অংশ ধসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

    এ সময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।

    সিভিল ডিফেন্স জানায়, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

    আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।

    গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।

    বাসসাল বলেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

    এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

    হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

  • নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক:    নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

    তিনি আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে এ আহ্বান জানান।

    পরিদর্শনকালে তিনি দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস প্রস্তুত, ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা প্রদান এবং জরুরি আবহাওয়া তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

    অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁকে আবহাওয়া পূর্বাভাস তৈরির বিভিন্ন ধাপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরেন।

    ছবি : আইএসপিআর

    ছবি : আইএসপিআর

    এ সময় ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস শুধু একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়। এটি মানুষের জীবন রক্ষা, কৃষি উৎপাদন, নদী ও সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’

    তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। পূর্বাভাসের মান উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন সতর্কবার্তার অর্থ সহজে বুঝতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশনা দেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া সেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগ- ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পূর্বাভাস, কৃষি আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণাগার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়ার্কশপ ও গবেষণাগার ঘুরে দেখেন।

    ছবি : আইএসপিআর

    ছবি : আইএসপিআর

    তিনি দায়িত্ব পালনরত আবহাওয়াবিদ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভাষায় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

    এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আয়োজিত ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য আলোচক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করতে হবে।

    বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে।

    সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ নিজেদের শাসক মনে না করে জনগণের সেবক হিসেবে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।’

    দেশে সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত রেজিমের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) সবখানেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় রূপান্তরিত করা দরকার।

    দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে ‘এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি’ বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতি বা পলিসি মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে প্রণীত হয়। ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও আইএমইডির তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা।

    তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। নির্বাচিত সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই আপনাদের মূল দায়িত্ব।’