Category: প্রচ্ছদ

  • রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত ২১

    রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত ২১

    ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা জানান, রাশিয়ার হামলায় দনিপ্রোর একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এখনও পাঁচজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’

    গানঝা জানান, এখন পর্যন্ত ২১ জন আহত হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তার এক বার্তার সাথে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময়, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ব্যাগে ভরা একটি লাশ বের করে আনছেন।

    এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সারা দেশে রাতভর রুশ হামলায় মোট চার জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিটি হামলা আমাদের মিত্রদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত যে পরিস্থিতির জন্য অবিলম্বে ও কঠোর পদক্ষেপ এবং আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’

  • ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি

    ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি

    হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।

    ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ (সিএনআরএস)-এর প্রধান শাদি আবদাল্লাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে ১৭ হাজার ৭৫৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ও ৩২ হাজার ৬৬৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

    বৈরুত থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্ত করার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ইসরাইলি প্রান্ত থেকে এএফপির তোলা ছবি অনুসারে, শুক্রবার শুরু হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের যে সব শহর ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা ও উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

    আবদাল্লাহ বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম তিন দিনে ৪২৮টি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিএনআরএস-এর হিসাবে দেখা গেছে।

    লেবাননের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে।

    এর আগে, ২০২৩ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তা দুই মাসের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

    নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করা হয়।

    তবে আগের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যায় এবং সীমান্তের পাঁচটি স্থানে সেনা অবস্থান বজায় রাখে।

    লেবাননের পরিবেশ মন্ত্রী তামারা জেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই আগ্রাসন বাস্তবে থামেনি, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ রেখে গেছে।’

    তিনি আরও বলেন, এ সময়ে ‘২ লাখ ২০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।’

    জেইন বলেন, ইসরাইলি হামলায় আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো ও উপাসনালয়ও রেহাই পায়নি।

    এতে কৃষি জমি ও বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে নতুন দফার বৈঠকে বসছে ইসরাইল ও লেবানন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বৈরুত এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে।

    বৈঠকের আগে ইসরাইল জানায়, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর দ্বিমত’ নেই। একইসঙ্গে ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘একসঙ্গে কাজ’ করতে লেবাননকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার বাইরে রয়েছে এবং শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশ দুটি গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে প্রথম বৈঠকে বসে। ১৯৯৩ সালের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রথম বৈঠকের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, যার মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হতে যাচ্ছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৪৫৪ জন নিহত এবং ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    পূর্ববর্তী দফার মতো এবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে এএফপি-কে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

    যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও বুধবার লেবাননে ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলার’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের।

    লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানায়, বুধবার ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ পাওয়ার আগেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

    আমাল খলিলের কর্মস্থল লেবানিজ দৈনিক ‘আল-আখবার’ জানিয়েছে, হামলায় তাদের আরেক সাংবাদিক জয়নব ফারাজ আহত হয়েছেন।

    ওয়াশিংটনে লেবাননের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি’কে বলেন, ‘লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এক মাস বাড়ানোসহ ইসরাইলি বোমা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ এবং পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানাবে।’

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যোগাযোগ চলছে।

    প্রথম দফার বৈঠকের পর উভয় দেশ স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছিল। এই আলোচনার জন্য অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারামকে প্রধান করে একটি প্রতিনিধি দল নিয়োগ দিয়েছে বৈরুত। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বুধবার বলেন, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর বিরোধ’ নেই।

    গিডিওন সার বলেন, ‘শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে একমাত্র বাধা হলো হিজবুল্লাহ।’ উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।

    ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন গ্রামে অবস্থান করছে। তারা এই এলাকাটিকে ‘ইয়েলো লাইন’ বা ১০ কিলোমিটার গভীর একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় মঙ্গলবার তারা উত্তর ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর অন্যতম শর্ত হিসেবে তেহরান এই যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দুই দেশের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

  • নারী দলের পর পুরুষ দলেরও দাপুটে পারফরম্যান্স

    নারী দলের পর পুরুষ দলেরও দাপুটে পারফরম্যান্স

    এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডির প্রথম দিনেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছে বাংলাদেশ। চীনের সানিয়ায় অনুষ্ঠিত এই গেমসে আজ পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বড় জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে সিরিয়ার বিপক্ষে পুরুষ দলের বিশাল ব্যবধানের জয়টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে।

    সিরিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল। ৫৪-২৩ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে তারা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ ৩১ পয়েন্টের এক বিশাল লিড বজায় রেখে মাঠ ছাড়ে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই লড়াইয়ের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। বাংলাদেশ ২৯-৮ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সিরিয়ার ডিফেন্স লাইন ভেঙে একের পর এক পয়েন্ট আদায় করে নেন বাংলাদেশের রেইডাররা। অন্যদিকে রক্ষণভাগও ছিল শক্তিশালী, যা সিরিয়াকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।

    এর আগে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সকালে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ নারী দল। শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৫১-৩৪ পয়েন্টে জয় পায় টাইগ্রেসরা। নারীদের এই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • আগামী মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের : মুখপাত্র

    আগামী মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের : মুখপাত্র

    আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এই তথ্য জানান।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব উম্মে রেহেনা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং চলছে। তবে আগামী মে মাসের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    যুগ্ম সচিব বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই মূলত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। আর এ সংকট নিরসনের জন্য গত ৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ সচিব একটা মিটিং করেছিলেন এবং মিটিংয়ে ডিপিডিসি এবং ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এমনিতেই প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয়। তবে এবার একটু বেশি হয়েছে, কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই সংকট হচ্ছে।

    তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আমরা জ্বালানি আমদানি করতে পারছি না। এ জন্য জ্বালানি বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আমাদেরকে দিচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, মূলত আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকি মোট পাঁচটি পদ্ধতির মাধ্যমে। প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, কয়লা, হাইড্রো, সৌর এবং বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি এবং কিছু বিদ্যুৎ আমরা আমদানিও করে থাকি।

    তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যম ছাড়াও  সবচেয়ে কম পয়সায় আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি হাইড্রো পাওয়ারের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী আমরা হাইড্রোতে উৎপাদন করে থাকি মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট। যেটা আমাদের মোট উৎপাদন ব্যবস্থার এক শতাংশ মাত্র।

    তিনি বলেন, এর পরেই হচ্ছে আমরা যদি আর্থিকভাবে ক্যালকুলেশন করি সেটা হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এত বেশি নেই। জ্বালানি সংকট রয়েছে এবং জ্বালানি বিভাগ থেকে এলএনজি আমদানি করে ফুয়েল মিক্স করে আমাদেরকে এটা সরবরাহ করে থাকে।

    তিনি বলেন, আমাদের যত পাওয়ার প্লান্ট আছে তার মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করে থাকি আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। এই ৪৩ শতাংশ বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট।

    উম্মে রেহানা বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে যদি আমরা উৎপাদন করতে যাই সেখানে আমাদের ২ হাজার এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতটা গ্যাস জ¦ালানি  বিভাগ থেকে আমাদেরকে সরবরাহ করতে পারছে না।

    তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদেরকেও গ্যাসটা দিতে হচ্ছে এবং সার উৎপাদন করতে হয় এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

    মুখপাত্র আরো বলেন, জ্বালানির এই সংকটের কারণে তারা যদি ১২০০ এমএম সিএফডি গ্যাসও আমাদেরকে দিতে পারতো তাহলেও অনেক কম পয়সায় আমরা ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস দিতে পারছে।

    তিনি বলেন, এত সংকটের মধ্যেও ঢাকা শহরকে আমরা লোডশেডিং এর বাইরে রাখার চেষ্টা করছি। যদিও ঢাকার বাইরে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তা আগামী মে মাসের মধ্যেই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রামে কিছুটা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

    যুগ্ম সচিব বলেন, গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। সুতরাং প্রায় ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং হয়েছে গতকাল। আজও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে।

    তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হবে, তখন সংকট কমবে, লোডশেডিং কমবে। ঘাটতির জন্য কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের ‘যৌক্তিক সমাধান’ খুঁজতে জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

    একইসঙ্গে বিরোধী দলকেও পাঁচজনের নাম দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কমিটির প্রধান হবেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু এবং এতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক পাঁচজন করে সদস্য থাকবে।

    এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের প্রস্তাব ও পরামর্শ এই কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাছে যাবে। সেখানে বাস্তবসম্মত কিছু থাকলে সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে।

    সংসদ নেতা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যার প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে সরকার যে কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সকল সময় দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোন আলোচনা যে কারো সাথে করতে প্রস্তুত রয়েছে।আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করছি। আমি আপনার মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করব উনারাও যদি পাঁচ জনের নাম দেন তাহলে এই ১০ জন ব্যক্তি বসে এই বিষয়গুলো আলোচনা করতে পারে।

    সংসদ নেতা আরও বলেন, কোন পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসলো এবং সরকার সেটার মধ্যে কোন বাস্তবতা থাকলে অবশ্যই সেটি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

    সরকারি দলের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাঁচ সদস্য হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মইনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

    পরে তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ যাতে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারে, সেজন্য জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সভাপতি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

    এর আগে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার প্রস্তাব দেন।

    তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কিছু পরামর্শ আছে, সেগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

    আজ বৃহস্পতিবার সেই প্রস্তাবের জবাবেই সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দলকে সমসংখ্যক সদস্য দিতে অনুরোধ জানান।

    সংসদ নেতার এই ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমাম বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাল্লাহ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা শীঘ্রই নামগুলা পেশ করব।

    জ্বালানি তেল, গ্যাস সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সংসদে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে বুধবার বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যৌথ আলোচনার প্রস্তাব আসে।

    এরপর বৃহস্পতিবার সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১০ সদস্যের কমিটির কাঠামো সামনে আনে।