Category: প্রচ্ছদ

  • উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে উন্নত বিশ্বের আদলে সাজাতে এবং উদ্ভাবনী মেধাসম্পদ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যম না বানিয়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’

    আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট’।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সূচকে আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা যেন অন্য দেশে গিয়ে নিবন্ধিত না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে।’

    তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধাস্বত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন।

    শিক্ষামন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মেধাবীদের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই ‘ব্রেন ড্রেইন’ বন্ধ করে ‘রিভার্স ব্রেন’ পলিসি নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এখনও অনেকে বিদেশ থেকে ফিরছেন, কিন্তু সেই পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।’

    শিক্ষামন্ত্রী কারিকুলামের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ বা শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যা ইচ্ছে তাই সাবজেক্ট বা কোর্স চালু করা হচ্ছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে আসছে না। আমাদের কোর্স কারিকুলাম অবশ্যই ‘মার্কেট ডিপেন্ডেন্ট’ বা বাজারমুখী হতে হবে।’

    তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে গবেষণার বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে কাজ চলছে।

    উচ্চশিক্ষায় সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে। ইউজিসি-কে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বসে একটি ‘ইউনিফর্ম’ ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাবে আমাদের তরুণদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সময় অপচয় বন্ধ করতে হবে।’

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। ইউজিসি-কে এ বিষয়ে নিবিড় তদারকি করতে হবে যাতে কোনো বাধা ছাড়াই তারা উচ্চশিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।’

    তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও নৈতিকতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মহিদুস সামাদ খান। অনুষ্ঠানের মূল আলোচকের বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।

    অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তির বিশ্বে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা জরুরি।

    তিনি বলেন, এটি কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়; বরং এক্ষেত্রে সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

    আজ (রোববার) সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন। নিজ দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    এ সময় উভয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

    তথ্যমন্ত্রী গত মার্চে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ‘স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট’-এ তার অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে চমৎকার আয়োজনের জন্য তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সামিটকে অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

    তুরস্ক সফরের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের পরিচালক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) প্রফেসর বুরহানউত্তীন দুরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান বিনিময় এবং তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    সাক্ষাতকালে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাবের কপি তথ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

    মন্ত্রী সরকারি পর্যায়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলছে সরকার : মাহদী আমিন

    প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলছে সরকার : মাহদী আমিন

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

    তিনি বলেন, ‘একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের অপতৎপরতা রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

    আজ (রোববার) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

    মাহদী আমিন জানান, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত কয়েক দিনে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

    তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছিল। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

    উপদেষ্টা বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁসের যে বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু সেটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নয় বরং সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণা।

    চক্রটি প্রথমে টাকা নেয় এবং পরে নানা অজুহাত দিয়ে উধাও হয়ে যায়। এমনকি পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছিল বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলে।

    তিনি আরও জানান, সত্যিকারের প্রমাণ না থাকায় এবং প্রতিবেদনে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটি নিজ দায়িত্বেই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিয়েছে।

    বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস ও মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যেই বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার ‘আন্দোলনময় শিক্ষা’র যে সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, তা প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

    তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন।

  • তারেক রহমানের আমন্ত্রণে ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিল গেটস: সালেহ শিবলী

    তারেক রহমানের আমন্ত্রণে ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিল গেটস: সালেহ শিবলী

    তারেক রহমানের আমন্ত্রণে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ২০০৪ সালে ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিল গেটসের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিল গেটস ঝটিকা সফরে এখানে এসেছিলেন।’

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি ক্লাবে ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন : টেলিকম, ডেটা ও সাইবার সুরক্ষা বিল ২০২৬’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিআইএসএ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

    প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চেয়েছি। কিন্তু গত কয়েক দিন অনলাইনে যেসব ভাষা ব্যবহার করে একটি দল সমালোচনা করছে; সেগুলো মানুষের ভাষা নয়। গালিগালাজ কখনও বাকস্বাধীনতা হতে পারে না।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    বিআইএসএ সভাপতি ফয়সাল আলিমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং বিআইএসএ-এর প্রধান উপদেষ্টা মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক ।

    এছাড়া, সংলাপে আইসিটি খাতের উদ্যোক্তা, আইন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • একনেক সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

    একনেক সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে।

    আজ (রোববার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম এ সভায় সভাপতিত্ব করছেন তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

    জানা যায়, বৈঠকে মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

  • ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে বাস্তবসম্মত ‘রোডম্যাপ’ তৈরির তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

    ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে বাস্তবসম্মত ‘রোডম্যাপ’ তৈরির তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নতুন প্রজন্মের দক্ষ জনশক্তিকে ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে একটি বাস্তবসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই প্রবাহ বাড়াতে এবং প্রবাসে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    আজ (শনিবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি: মাস্টারপ্ল্যান (২০২৬-২০৩১) উপস্থাপন এবং প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ইতালবাংলা সমন্বয় উন্নয়ন সমিতি এবং বাংলাদেশের প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে আমরা ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ঋণের বিশাল বোঝা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি।

    তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে রেমিট্যান্স আয়ের পরিধি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

    বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান ক্ষেত্র মূলত দুটি: তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত ও রেমিট্যান্স। প্রতি বছর আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে প্রায় ৪০-৪২ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করি। কিন্তু আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে কেবল এই দুই খাতের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না।’

    এসময় তথ্যমন্ত্রী রপ্তানি পণ্যের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিতে প্রবাসে কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ রফতানি বাজারকে আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প বাজার হিসেবে দেশের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি কুয়াকাটা বা কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো ও পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদেশি পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসবেন। এভাবেই পর্যটন আমাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি শক্তিশালী বিকল্প ক্ষেত্র হতে পারে।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সময়ে অবস্থান করছে। আমাদের এই বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে কেবল শ্রমিক হিসেবে নয়, বরং উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে বিশ্ববাজারে পাঠাতে হবে।

    প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে আমাদের কর্মীরা যাতে কর্মস্থল ত্যাগ করে ‘পালিয়ে যাওয়া’ বা নিয়মভঙ্গের মতো কাজ না করেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। তাই দক্ষতা ও ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি তাদের নীতি-নৈতিকতা ও আচরণগত মোটিভেশন প্রদান করা জরুরি।’

    তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    সেমিনারে ইউরোপের বাজারে আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির একটি মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ডাটাবেজ তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।

    এছাড়া সেমিনারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করা এবং  জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনেরও দাবি জানানো হয়।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন এবং উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে আমাদের কর্মীদের ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতায় সেরা হতে হবে। বিশেষ করে কর্মস্থলে টিকে থাকার মানসিকতা তৈরি করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিএনপির সর্ব ইউরোপিয়ান শাখার আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করেন ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মোহাম্মাদ তাইফুর রহমান ছোটন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউরোপের বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা।